alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

হৃদয়ে বাংলাদেশ

রহমান মৃধা

: মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশ। ভাষা বাংলা, দেশও বাংলা। কী চমৎকার! আমার নাম বাংলাদেশ। এ নাম আমি পেয়েছিলাম আমার পূর্বপুরুষদের থেকে। আমি গর্বের সঙ্গে যুগ যুগ ধরে বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমার কোলে জন্ম নেয়া আমার পূর্বের সন্তানেরা আমাকে খুব ভালোবাসত। আমার ওপর পরপর কয়েকবার বড় ঝড় এসেছে। কিন্তু আমার সন্তানরা আমাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষাও করেছে। একবার আমার নামও বদলে দিয়েছিল। কিন্তু বহিঃশত্রুকে তাড়িয়ে আমার সন্তানরা আমাকে মুক্ত করেছে। আমার অনেক সন্তান আমার জন্য জীবনও দিয়েছে। তারা আমার বুকে আশ্রিত আমার ভালোবাসায়। আমাকে তারা ভালোবাসা দিয়ে মুগ্ধ করেছে। ভেবেছিলাম বাকি জীবনটা আমার সন্তানদের নিয়ে সুখে কাটাব। কারণ আমার তো সবই আছে। আমাকে আমার সন্তানেরা স্বাধীন করেছে, তাই তাদের জন্য আমি সব উজাড় করে দিয়েছি। আমার ভূমিতে তারা যা রোপণ করছে তাতেই ফলছে প্রচুর ফসল এবং আমিই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে যে যা ইচ্ছে তাই ফলাতে পারে। সবাই বলে আমি নাকি সোনার বাংলা। আমাকে সব দেশের রাণী বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আমি অনেক আশা-ভরসা নিয়ে শুরু করেছিলাম এক উন্নত সমাজ গঠনের এই যাত্রা। আমি চেয়েছিলাম আমার সন্তানদের নিয়ে সারাবিশ্বের বুকে গর্বের সঙ্গে বসবাস করব। কিন্তু কী চেয়েছিলাম আর কী হতে চলেছে! আজ ৫৩ বছর কেটে গেল কিন্তু কোথায় সেই উন্নত সমাজ? আমি তো আর পারছি না এই পশ্চাদপদতা সহ্য করতে! কী অন্যায় আমি করেছি যে আমার নিজের সন্তানরা আজ আমার বুকে ঢালছে বিষাক্ত বিষ? আমার উর্বরতাকে করছে ধ্বংস? আমার কর্মক্ষমতা করছে নষ্ট? আমার ভূমিতে বাস করা নানা জাতিসত্তার মধ্যে সৃষ্টি করছে বিভেদ? ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের করছে বিতাড়িত? অথচ সবাই আমার সন্তান। তারা নিজেদের মধ্যে ঘৃনার বিষবাষ্প ছড়িয়ে একে অপরকে শেষ করছে। তারা আমার নামের ওপর কলঙ্কের ছাপ ফেলছে। এইগুলো নিয়ে আমাকে গোটা বিশ্বের সবাই ঠাট্টা করছে! আমাকে সবাই কলঙ্কিনী বলছে! আমাকে অনেকে বলেছে আমার সন্তানেরা অনেকেই দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর। কিন্তু কেন? কী অন্যায় আমি করেছি যে আমার সন্তানরা আমাকে সারাবিশ্বের কাছে এত ছোট করছে? ছোটই যদি করবে তবে কেন তারা আমাকে বহিঃশত্রু তাড়িয়ে স্বাধীন করেছিল? আমি তো আর সহ্য করতে পারছি না! তারা দিনের পর দিন অন্ধকার আর অধঃপতনের দিকেই কি চলবে? তারা নৈতিকতা এবং সুশিক্ষা বিসর্জন দিতে চলেছে। তারা কুশিক্ষার বীজ বপন করতে শুরু করছে। পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক বড় বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট, উত্তম পাঠ্যপুস্তকের অভাব এবং অতি অবশ্যই ভালো শিক্ষকের অভাব খুব লক্ষণীয়। কিন্তু তারা এখনও ভালো শিক্ষক তৈরির কোন ভিত গড় তুলতে পারেনি এবং এটা নিয়ে কেউ ভাবতেও চায় না। চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম না চালিয়ে শুধু লাখ লাখ সার্টিফিকেটধারী গ্র্যাজুয়েট বের করে তারা আমার সংকট আরও ঘনীভূত করছে যেটা কেউ মানতে নারাজ। চাহিদাভিত্তিক, জ্ঞাননির্ভর, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন যে সত্যিকারের মানবসম্পদ তৈরির সেরা উপায় সেটাও তারা স্বীকার করছে না। তাই সারাদেশে স্কুল-কলেজে ছেয়ে গেলেও মানসম্পন্ন সুশিক্ষা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছে না। যাদের শিক্ষার কারিগর বলে আমি গর্ব করতাম তারাও এখন উঠে পড়ে লেগেছে আমার মুখে চুনকালি মাখাতে। তারা শুধু দায়িত্ব-কর্তব্য অবহেলাই নয়, সক্রিয়ভাবে পরীক্ষায় নকল করাকে সাহায্য করছে যাতে করে প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে না হয় পরীক্ষার খারাপ ফলাফলের কারণে। তারা আমাকে পৃথিবীর নিম্নমানের সারিতে ফেলতে চেষ্টা করছে। আমার ১৭ কোটি সন্তানের মধ্যে কেউ কি নেই যে এর প্রতিবাদ করতে পারে? আমার এই দুর্দিনে কি কেউ নেই যে সত্যি আমাকে সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে? সব মানুষকে একতাবদ্ধ করতে পারে? কেন এত নিশ্চুপ তারা? কেন? আমার ভালোবাসা তো তাদের জন্য কখনও কমেনি! আমার যা আছে তা যদি তারা মিলেমিশে দেখাশোনা করে রাখে তাদের তো কষ্টে থাকার কথা নয়। আমাকে তারা সোনার বাংলা করার স্বপ্ন দেখিয়েছে। তারা প্রতিদিন শপথগ্রহণ করে আমাকে ভালোবাসে বলে, অথচ তার পরেও কীভাবে তারা পারে আমাকে এভাবে কষ্ট দিতে? আমার গর্ব, আমার বিশ্বাস, আমার আশা, আমার ভরসা তারা কি ফিরিয়ে আনতে পারবে না আমার বুকে? আমাকে তারা কি সুশিক্ষিত জাতি গড়ে দিতে সক্ষম হবে না? আমি তো কলঙ্কিনী মা হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না! আমি ভালোবাসার সোনার বাংলা হয়ে তাদের মাঝে থাকতে চাই। আমাকে তারা সোনার বাংলা করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমি চাই তা তারা প্রতিটি পদক্ষেপে পালন করুক। তারা গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি, বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করুক এবং ভ-ামি ও অনৈতিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশ ও জাতির খেদমত করতে চেষ্টা করুক। সুশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বের মাঝে আমাকে মর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলুক। আমার প্রত্যেকটি সন্তান গর্বের সঙ্গে মনে-প্রাণে ও ধ্যানে বলুক ‘সব দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি’।

[লেখক : সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন]

নিরাপদ সড়কের দাবি

ভাষা, স্বাধীনতা ও সাহিত্য : ইতিহাস থেকে সমকাল

অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী ও শান্তিচুক্তি

ছবি

মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন!

চেকের মামলায় ভুল ঠিকানায় নোটিস

শান্তির স্বপ্ন বনাম বাস্তবের দোলাচল

ছবি

ভাষা আন্দোলন বাঙালির বিপ্লব ও আন্দোলনের ভ্যানগার্ড

বিয়ে রেজিস্ট্রি কেন জরুরি

ভাষা নিয়ে ভাসাভাসা কথা

বিএনপি পাস, জামায়াতও পাস

ব্যালট থেকে বাস্তবতায় বিএনপি

ছবি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: একুশের ইতিহাস, বিশ্বস্বীকৃতি ও আমাদের দায়িত্ব

ফুলের নিচে চাপা পড়া ভাষার আর্তনাদ

নতুন সরকারের কাছে পার্বত্যবাসীর প্রত্যাশা

ছবি

আন্দ্রে বেতেই : মানবিক সমাজবোধের অনন্য উত্তরাধিকারী

‘নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস’

মহাকাশ অর্থনীতি

কুষ্ঠ : নতুন সরকার ও একটি জাতীয় বিষয়ে প্রত্যাশা

বাংলাদেশের খাদ্যশিল্প

ভাষার রাজনীতি এবং রাজনীতির ভাষা

ছবি

দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী

ছবি

মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষায় সমতা নিশ্চিতের আহ্বান

কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খলে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন

ছবি

নির্বাচনে জোট, নাকি সরকারে

রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার

মানুষ কি বদলেছে, নাকি শুধু রং বদলিয়েছে?

সময় জীবনে চলার পথ দেখিয়ে দেয়

কালো ও সবুজ চা : জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব

বাঙালিরা ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়

অন্তর্বর্তী সরকার জাতিকে কী দিল

ভালোবাসা, সচেতনতা ও জনস্বাস্থ্য বাস্তবতা

ভালোবাসার দিনে সুন্দরবন: উদযাপনের আড়ালে অস্তিত্বের সংকট

ছবি

তিরাশির সেই দিন

অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নতুন সরকারকে

সবুজ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: সম্ভাবনা, সংকট ও করণীয়

গণতন্ত্র: একটি দার্শনিক জিজ্ঞাসা

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

হৃদয়ে বাংলাদেশ

রহমান মৃধা

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশ। ভাষা বাংলা, দেশও বাংলা। কী চমৎকার! আমার নাম বাংলাদেশ। এ নাম আমি পেয়েছিলাম আমার পূর্বপুরুষদের থেকে। আমি গর্বের সঙ্গে যুগ যুগ ধরে বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমার কোলে জন্ম নেয়া আমার পূর্বের সন্তানেরা আমাকে খুব ভালোবাসত। আমার ওপর পরপর কয়েকবার বড় ঝড় এসেছে। কিন্তু আমার সন্তানরা আমাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষাও করেছে। একবার আমার নামও বদলে দিয়েছিল। কিন্তু বহিঃশত্রুকে তাড়িয়ে আমার সন্তানরা আমাকে মুক্ত করেছে। আমার অনেক সন্তান আমার জন্য জীবনও দিয়েছে। তারা আমার বুকে আশ্রিত আমার ভালোবাসায়। আমাকে তারা ভালোবাসা দিয়ে মুগ্ধ করেছে। ভেবেছিলাম বাকি জীবনটা আমার সন্তানদের নিয়ে সুখে কাটাব। কারণ আমার তো সবই আছে। আমাকে আমার সন্তানেরা স্বাধীন করেছে, তাই তাদের জন্য আমি সব উজাড় করে দিয়েছি। আমার ভূমিতে তারা যা রোপণ করছে তাতেই ফলছে প্রচুর ফসল এবং আমিই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে যে যা ইচ্ছে তাই ফলাতে পারে। সবাই বলে আমি নাকি সোনার বাংলা। আমাকে সব দেশের রাণী বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আমি অনেক আশা-ভরসা নিয়ে শুরু করেছিলাম এক উন্নত সমাজ গঠনের এই যাত্রা। আমি চেয়েছিলাম আমার সন্তানদের নিয়ে সারাবিশ্বের বুকে গর্বের সঙ্গে বসবাস করব। কিন্তু কী চেয়েছিলাম আর কী হতে চলেছে! আজ ৫৩ বছর কেটে গেল কিন্তু কোথায় সেই উন্নত সমাজ? আমি তো আর পারছি না এই পশ্চাদপদতা সহ্য করতে! কী অন্যায় আমি করেছি যে আমার নিজের সন্তানরা আজ আমার বুকে ঢালছে বিষাক্ত বিষ? আমার উর্বরতাকে করছে ধ্বংস? আমার কর্মক্ষমতা করছে নষ্ট? আমার ভূমিতে বাস করা নানা জাতিসত্তার মধ্যে সৃষ্টি করছে বিভেদ? ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের করছে বিতাড়িত? অথচ সবাই আমার সন্তান। তারা নিজেদের মধ্যে ঘৃনার বিষবাষ্প ছড়িয়ে একে অপরকে শেষ করছে। তারা আমার নামের ওপর কলঙ্কের ছাপ ফেলছে। এইগুলো নিয়ে আমাকে গোটা বিশ্বের সবাই ঠাট্টা করছে! আমাকে সবাই কলঙ্কিনী বলছে! আমাকে অনেকে বলেছে আমার সন্তানেরা অনেকেই দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর। কিন্তু কেন? কী অন্যায় আমি করেছি যে আমার সন্তানরা আমাকে সারাবিশ্বের কাছে এত ছোট করছে? ছোটই যদি করবে তবে কেন তারা আমাকে বহিঃশত্রু তাড়িয়ে স্বাধীন করেছিল? আমি তো আর সহ্য করতে পারছি না! তারা দিনের পর দিন অন্ধকার আর অধঃপতনের দিকেই কি চলবে? তারা নৈতিকতা এবং সুশিক্ষা বিসর্জন দিতে চলেছে। তারা কুশিক্ষার বীজ বপন করতে শুরু করছে। পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক বড় বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট, উত্তম পাঠ্যপুস্তকের অভাব এবং অতি অবশ্যই ভালো শিক্ষকের অভাব খুব লক্ষণীয়। কিন্তু তারা এখনও ভালো শিক্ষক তৈরির কোন ভিত গড় তুলতে পারেনি এবং এটা নিয়ে কেউ ভাবতেও চায় না। চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম না চালিয়ে শুধু লাখ লাখ সার্টিফিকেটধারী গ্র্যাজুয়েট বের করে তারা আমার সংকট আরও ঘনীভূত করছে যেটা কেউ মানতে নারাজ। চাহিদাভিত্তিক, জ্ঞাননির্ভর, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন যে সত্যিকারের মানবসম্পদ তৈরির সেরা উপায় সেটাও তারা স্বীকার করছে না। তাই সারাদেশে স্কুল-কলেজে ছেয়ে গেলেও মানসম্পন্ন সুশিক্ষা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছে না। যাদের শিক্ষার কারিগর বলে আমি গর্ব করতাম তারাও এখন উঠে পড়ে লেগেছে আমার মুখে চুনকালি মাখাতে। তারা শুধু দায়িত্ব-কর্তব্য অবহেলাই নয়, সক্রিয়ভাবে পরীক্ষায় নকল করাকে সাহায্য করছে যাতে করে প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে না হয় পরীক্ষার খারাপ ফলাফলের কারণে। তারা আমাকে পৃথিবীর নিম্নমানের সারিতে ফেলতে চেষ্টা করছে। আমার ১৭ কোটি সন্তানের মধ্যে কেউ কি নেই যে এর প্রতিবাদ করতে পারে? আমার এই দুর্দিনে কি কেউ নেই যে সত্যি আমাকে সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে? সব মানুষকে একতাবদ্ধ করতে পারে? কেন এত নিশ্চুপ তারা? কেন? আমার ভালোবাসা তো তাদের জন্য কখনও কমেনি! আমার যা আছে তা যদি তারা মিলেমিশে দেখাশোনা করে রাখে তাদের তো কষ্টে থাকার কথা নয়। আমাকে তারা সোনার বাংলা করার স্বপ্ন দেখিয়েছে। তারা প্রতিদিন শপথগ্রহণ করে আমাকে ভালোবাসে বলে, অথচ তার পরেও কীভাবে তারা পারে আমাকে এভাবে কষ্ট দিতে? আমার গর্ব, আমার বিশ্বাস, আমার আশা, আমার ভরসা তারা কি ফিরিয়ে আনতে পারবে না আমার বুকে? আমাকে তারা কি সুশিক্ষিত জাতি গড়ে দিতে সক্ষম হবে না? আমি তো কলঙ্কিনী মা হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না! আমি ভালোবাসার সোনার বাংলা হয়ে তাদের মাঝে থাকতে চাই। আমাকে তারা সোনার বাংলা করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমি চাই তা তারা প্রতিটি পদক্ষেপে পালন করুক। তারা গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি, বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করুক এবং ভ-ামি ও অনৈতিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশ ও জাতির খেদমত করতে চেষ্টা করুক। সুশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বের মাঝে আমাকে মর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলুক। আমার প্রত্যেকটি সন্তান গর্বের সঙ্গে মনে-প্রাণে ও ধ্যানে বলুক ‘সব দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি’।

[লেখক : সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন]

back to top