রেজাউল করিম খোকন
অনেক প্রত্যাশার ডালি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বছর ২০২৬। সবার আশা, নতুন বছরটি সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে। কিন্তু বছরের শুরুতেই সাধারণ মানুষ প্রচন্ড ধাক্কা খেয়েছে। ছয় মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমানো হয়েছে।
এর ফলে বিদায়ী বছরের তুলনায় চলতি বছরে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতি মাসে মুনাফা কমবে ১১০ টাকা। গত বছর পরিবার সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে পেত ৯৪৪ টাকা। নতুন বছরের চলতি মাস থেকে বিনিয়োগ করলে পাওয়া যাবে ৮৩৪ টাকা। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ওপর চাপ পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার ঘোষণা করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০.৫৯% এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার হবে ৮.৭৪%। গত জুলাই মাসেও মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হয়।
দেখা যাচ্ছে, কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার তুলনামূলক বেশি। বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কম। এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই পরিমাণ বা এর কম হলে মুনাফার হার বেশি হবে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে। আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সরকার নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করে থাকে।
দেশে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন যত ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র। ১ জুলাই ২০২৫ তারিখের আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ইস্যুকালীন মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনর্বিনিয়োগের তারিখের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। ছয় মাস পর মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক মূলত দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বিপদের সময় সঞ্চয়পত্র ভেঙে তা সামাল দেন। প্রতি মাসের সংসার খরচের একটি অংশও আসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে।
জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা ৮-৯ শতাংশের ঘরেই আছে। নতুন বছরের শুরু থেকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ থেকেই যাচ্ছে। মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে যাদের পারিবারিক খরচের বড় অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আসে, তারা আরও চাপে পড়বেন।
পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ: একীভূত হওয়ার পর পাঁচ ব্যাংকের সাইনবোর্ড বদলানো হয়েছে। পাশাপাশি আগের সাইনবোর্ডও রাখা হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই পাঁচ ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হয়েছে। ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারছেন। আগের ব্যাংকের চেক দিয়েই এসব লেনদেন করার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বছরের প্রথম দিনে পাঁচ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ একাধিক শাখায় একীভূত হওয়া ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে। এখন আগের ব্যাংকের পাশাপাশি নতুন ব্যাংকের সাইনবোর্ড থাকবে। ধীরে ধীরে পুরনো সাইনবোর্ড সরিয়ে নেয়া হবে। তখন শুধু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামেই পরিচিতি পাবে।
এই ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখায় চলতি সঞ্চয়ী হিসাবে যাদের টাকা জমা আছে ও যারা নতুন করে জমা করবেন, তারা বাজারভিত্তিক হারে মুনাফা পাবেন। ভবিষ্যতে ব্যাংক পাঁচটি শুধু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামে পরিচিতি পাবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের মধ্যে যে অস্বস্তি, অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা ছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। তবে যাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আমানত হিসেবে রয়েছে, তাদের টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
সরকারি সিদ্ধান্তে বেসরকারি যে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠিত হচ্ছে, সেগুলো হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এই পাঁচ ব্যাংকের দায়, সম্পদ ও জনবল অধিগ্রহণ করছে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। একীভূত প্রক্রিয়া শেষে ধীরে ধীরে পাঁচ ব্যাংক বিলুপ্ত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন ব্যাংক গঠনের বিস্তারিত স্কিম প্রকাশ করেছে।
প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা: সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি মার্কিন ডলার। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ছিল ৩২৯ কোটি ডলার, গত বছরের মার্চে। ডিসেম্বরের প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধি প্রধানত আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে হয়েছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে দেশে প্রবাসী আয় ছিল ৩,২৮২ কোটি ডলার।
ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বছরজুড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩,৩১৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ২,৮৫১ কোটি ডলার।
শেয়ারবাজারের সূচক: নতুন বছরটি শেয়ারবাজারে শুরু হয়েছে সূচক ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। ঢাকার স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বছরের প্রথম দিনে ৪৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মন্দার বছর ছিল; বছরের শেষে সূচক কমে দাঁড়িয়েছিল ৪,৮৬২ পয়েন্টে, যা ৩৫৬ পয়েন্ট বা সোয়া ৭% কম। নতুন বছরের সূচক বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য আশার আলো ছড়াচ্ছে।
নতুন বছরের প্রত্যাশা: নতুন বছরে আশা করা হচ্ছে দেশে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। ২০২৫ সালে অর্থনীতি কঠিন সময় পার করেছে। নতুন বছরে নির্বাচন হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা সরকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে গতি আনবে। শিল্পায়নের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লজিস্টিকস খাতে ব্যয় কমানো ও বন্দরের অবকাঠামোর আধুনিকায়নও জরুরি।
এমন আশা কি করা যায় যে, আগামী দিনগুলোতে এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে আরও সক্ষম দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে? এতে রপ্তানিনির্ভর খাত, বিশেষ করে পোশাক ও ওষুধ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে। আশা করা যায়, নতুন বছর অর্থনীতিতে সুখকর হবে এবং বিদ্যমান হতাশা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দেশ পূর্ণ উদ্যমে এগোবে।
[লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
রেজাউল করিম খোকন
সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬
অনেক প্রত্যাশার ডালি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বছর ২০২৬। সবার আশা, নতুন বছরটি সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে। কিন্তু বছরের শুরুতেই সাধারণ মানুষ প্রচন্ড ধাক্কা খেয়েছে। ছয় মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমানো হয়েছে।
এর ফলে বিদায়ী বছরের তুলনায় চলতি বছরে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতি মাসে মুনাফা কমবে ১১০ টাকা। গত বছর পরিবার সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে পেত ৯৪৪ টাকা। নতুন বছরের চলতি মাস থেকে বিনিয়োগ করলে পাওয়া যাবে ৮৩৪ টাকা। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ওপর চাপ পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার ঘোষণা করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মুনাফার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০.৫৯% এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার হবে ৮.৭৪%। গত জুলাই মাসেও মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হয়।
দেখা যাচ্ছে, কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার তুলনামূলক বেশি। বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কম। এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই পরিমাণ বা এর কম হলে মুনাফার হার বেশি হবে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে। আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সরকার নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করে থাকে।
দেশে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন যত ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র। ১ জুলাই ২০২৫ তারিখের আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ইস্যুকালীন মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনর্বিনিয়োগের তারিখের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। ছয় মাস পর মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক মূলত দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বিপদের সময় সঞ্চয়পত্র ভেঙে তা সামাল দেন। প্রতি মাসের সংসার খরচের একটি অংশও আসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে।
জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা ৮-৯ শতাংশের ঘরেই আছে। নতুন বছরের শুরু থেকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ থেকেই যাচ্ছে। মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে যাদের পারিবারিক খরচের বড় অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আসে, তারা আরও চাপে পড়বেন।
পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ: একীভূত হওয়ার পর পাঁচ ব্যাংকের সাইনবোর্ড বদলানো হয়েছে। পাশাপাশি আগের সাইনবোর্ডও রাখা হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই পাঁচ ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হয়েছে। ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারছেন। আগের ব্যাংকের চেক দিয়েই এসব লেনদেন করার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বছরের প্রথম দিনে পাঁচ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ একাধিক শাখায় একীভূত হওয়া ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে। এখন আগের ব্যাংকের পাশাপাশি নতুন ব্যাংকের সাইনবোর্ড থাকবে। ধীরে ধীরে পুরনো সাইনবোর্ড সরিয়ে নেয়া হবে। তখন শুধু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামেই পরিচিতি পাবে।
এই ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখায় চলতি সঞ্চয়ী হিসাবে যাদের টাকা জমা আছে ও যারা নতুন করে জমা করবেন, তারা বাজারভিত্তিক হারে মুনাফা পাবেন। ভবিষ্যতে ব্যাংক পাঁচটি শুধু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামে পরিচিতি পাবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের মধ্যে যে অস্বস্তি, অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা ছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। তবে যাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আমানত হিসেবে রয়েছে, তাদের টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
সরকারি সিদ্ধান্তে বেসরকারি যে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠিত হচ্ছে, সেগুলো হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এই পাঁচ ব্যাংকের দায়, সম্পদ ও জনবল অধিগ্রহণ করছে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। একীভূত প্রক্রিয়া শেষে ধীরে ধীরে পাঁচ ব্যাংক বিলুপ্ত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন ব্যাংক গঠনের বিস্তারিত স্কিম প্রকাশ করেছে।
প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা: সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি মার্কিন ডলার। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ছিল ৩২৯ কোটি ডলার, গত বছরের মার্চে। ডিসেম্বরের প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধি প্রধানত আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে হয়েছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে দেশে প্রবাসী আয় ছিল ৩,২৮২ কোটি ডলার।
ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বছরজুড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩,৩১৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ২,৮৫১ কোটি ডলার।
শেয়ারবাজারের সূচক: নতুন বছরটি শেয়ারবাজারে শুরু হয়েছে সূচক ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। ঢাকার স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বছরের প্রথম দিনে ৪৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মন্দার বছর ছিল; বছরের শেষে সূচক কমে দাঁড়িয়েছিল ৪,৮৬২ পয়েন্টে, যা ৩৫৬ পয়েন্ট বা সোয়া ৭% কম। নতুন বছরের সূচক বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য আশার আলো ছড়াচ্ছে।
নতুন বছরের প্রত্যাশা: নতুন বছরে আশা করা হচ্ছে দেশে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। ২০২৫ সালে অর্থনীতি কঠিন সময় পার করেছে। নতুন বছরে নির্বাচন হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা সরকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে গতি আনবে। শিল্পায়নের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লজিস্টিকস খাতে ব্যয় কমানো ও বন্দরের অবকাঠামোর আধুনিকায়নও জরুরি।
এমন আশা কি করা যায় যে, আগামী দিনগুলোতে এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে আরও সক্ষম দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে? এতে রপ্তানিনির্ভর খাত, বিশেষ করে পোশাক ও ওষুধ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে। আশা করা যায়, নতুন বছর অর্থনীতিতে সুখকর হবে এবং বিদ্যমান হতাশা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দেশ পূর্ণ উদ্যমে এগোবে।
[লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার]