জাহিদুল ইসলাম
প্রযুক্তি একটি যন্ত্র, হাতিয়ার বা কোনো পদ্ধতি যা বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়তই আমাদের কাজে লাগে। এই প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোকে সহজে, দ্রুত এবং ভালোভাবে করতে সাহায্য করে থাকে। এর ফলশ্রুতিতে আমাদের জীবন আজ সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তি মানুষের জীবনমান উন্নত, সহজ ও গতিময় করতে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, কম্পিউটার, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে আজকের পৃথিবী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।
বর্তমান প্রযুক্তির এই আশীর্বাদ মানবজাতির জন্য শুধু উন্নয়নই করছে না বরং এটি বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপ্লব। প্রযুক্তির উৎকর্ষ এখন আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়। এটি এখন ব্যবসার ধরন ও মানুষের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফল অর্জনে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আগামী দিনের প্রযুক্তি পৃথিবীতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে হাজির হবে। সায়েন্স ফিকশনকেও যেন হার মানাবে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। এরফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান হবে আরো উন্নত ও সহজ।
নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে মেডিক্যাল, যোগাযোগসহ দৈনন্দিন সব ক্ষেত্রে। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যাঁরা পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে এবং নতুন সুযোগগুলোকে আলিঙ্গন করতে পারবে, তাঁরাই সফল ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন। অপরদিকে আমরা যদি প্রযুক্তিবিহীন বিশ্ব কল্পনা করি তাহলে সেটা হবে ধীরগতির, আদিম এবং কঠোর পরিশ্রমনির্ভর। প্রযুক্তিবিহীন পৃথিবী যেখানে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, দ্রুত পরিবহন বা আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা কিছুই থাকবে না । জীবনধারণ সম্পূর্ণ দৈহিক পরিশ্রম, কৃষি এবং প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে চিঠি বা সরাসরি সাক্ষাতে এবং সময় কাটবে মূলত বেঁচে থাকার লড়াইয়ে জন্য।
অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় প্রযুক্তিবিহীন বিশ্ব হবে অনেক বেশি শান্ত কিন্তু টিকে থাকার জন্য সংগ্রামপূর্ণ। আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র এমনভাবে ডেভেলপমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে যা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ভবিষ্যতেও আরও বিস্ময়কর উদ্ভাবন ঘটবে, এমন আশাবাদী প্রত্যাশাও তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তির উদ্ভাবন বিজ্ঞানের এক অনন্য আবিষ্কার। প্রযুক্তি চোখের পলকে আমাদের শিকার থেকে শিকারিতে পরিণত করেছে, গুহা থেকে নিয়ে এসেছে মহাকাশে। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি যেভাবে বাড়ছে ও পরিবর্তিত হচ্ছে তা আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত। পরবর্তী ১০০ বছরে পৃথিবীর চেহারায় যে পরিবর্তন আসবে, তার মূল চালিকাশক্তি হবে প্রযুক্তি।
ভবিষ্যতের পৃথিবী কেমন হবে তা বর্তমান প্রযুক্তিগত প্রবণতাগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। যেমন - কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি, ক্লাইমেট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্পেস টেকনোলজি এই রূপান্তরের মূল স্তম্ভ হয়ে উঠবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ফলে সামনে এমন সব প্রযুক্তি আসছে, যা শুধু আমাদের জীবনধারা নয়, গোটা পৃথিবীর ভবিষ্যৎকেই পাল্টে দেবে। প্রতিটি প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নৈতিকতা, দায়িত্ব এবং ঝুঁকি। সঠিক ব্যবহার হলে এগুলো মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ হবে। আবার ভুল পথে গেলে হুমকিও হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ একদিকে আশার আলো, অন্যদিকে সতর্কতার সংকেত। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমাদের হাতে। আমরা চাইলে এই প্রযুক্তিকে সভ্যতার অগ্রগতির হাতিয়ার বানাতে পারি, আবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটিকে ভয়ংকর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এদিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রযুক্তির প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ধনী ও দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টির সম্ভাবনা পূর্বের চেয়ে বর্তমানে আরো প্রবল হচ্ছে। যা গত কয়েক দশকে অর্জিত বিশ্বব্যাপী বৈষম্য হ্রাসের অগ্রগতিকে উল্টে দিতে পারে।
বিগত প্রায় ৫০ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর মধ্যে যে সাম্যবস্থা তৈরি হচ্ছিল প্রযুক্তির ব্যবহারগত বৈষম্যের কারণে এই সাম্যবস্থা হ্রাস পেয়ে ভবিষ্যতে নতুন আরেকটি কঠিন বৈষম্যের যুগের সূচনা হতে পারে। যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বিভাজনকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সম্পদ, দক্ষতা এবং ডিজিটাল অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেবে। যদি প্রযুক্তির এই অগ্রগতির বিপ্লবে দরিদ্র দেশগুলো পিছিয়ে পড়ে, তবে ধনী দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৈষম্য বাড়তে থাকলে নিরাপত্তার বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করতে হবে। সম্প্রতি বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের প্রেক্ষাপট এখন কেবল একটি ধারণাই নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাত আজ এক বিশাল অগ্রযাত্রার সাক্ষী। প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষ প্রতিনিয়ত অজানা সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বেড়ায়। আর এই অজানাকে জানার জন্য খুঁজে বেড়ানোর পথ ধরেই প্রযুক্তি মানুষকে নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখায়।
প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন জীবনকে সহজ করে, তেমনি এর অপব্যবহারে দুর্বিষহও হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য আইনি কাঠামো যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করা উচিত। প্রযুক্তির সুবিধা ও অসুবিধা দুটি পক্ষেই আছে। প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবনে অসীম সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। যদি সঠিকভাবে এবং নিরাপদভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি আমাদের জীবনকে আরও সহজ, দক্ষ, এবং দ্রুততর করে তুলবে। এর পাশাপাশি প্রযুক্তির এর সঙ্গে আসা চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করতে হবে। যাতে এর ফলে মানবজাতির মঙ্গল হয়।
[লেখক: নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
জাহিদুল ইসলাম
মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬
প্রযুক্তি একটি যন্ত্র, হাতিয়ার বা কোনো পদ্ধতি যা বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়তই আমাদের কাজে লাগে। এই প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোকে সহজে, দ্রুত এবং ভালোভাবে করতে সাহায্য করে থাকে। এর ফলশ্রুতিতে আমাদের জীবন আজ সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তি মানুষের জীবনমান উন্নত, সহজ ও গতিময় করতে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, কম্পিউটার, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে আজকের পৃথিবী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।
বর্তমান প্রযুক্তির এই আশীর্বাদ মানবজাতির জন্য শুধু উন্নয়নই করছে না বরং এটি বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপ্লব। প্রযুক্তির উৎকর্ষ এখন আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়। এটি এখন ব্যবসার ধরন ও মানুষের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফল অর্জনে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আগামী দিনের প্রযুক্তি পৃথিবীতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে হাজির হবে। সায়েন্স ফিকশনকেও যেন হার মানাবে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। এরফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান হবে আরো উন্নত ও সহজ।
নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে মেডিক্যাল, যোগাযোগসহ দৈনন্দিন সব ক্ষেত্রে। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যাঁরা পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে এবং নতুন সুযোগগুলোকে আলিঙ্গন করতে পারবে, তাঁরাই সফল ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন। অপরদিকে আমরা যদি প্রযুক্তিবিহীন বিশ্ব কল্পনা করি তাহলে সেটা হবে ধীরগতির, আদিম এবং কঠোর পরিশ্রমনির্ভর। প্রযুক্তিবিহীন পৃথিবী যেখানে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, দ্রুত পরিবহন বা আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা কিছুই থাকবে না । জীবনধারণ সম্পূর্ণ দৈহিক পরিশ্রম, কৃষি এবং প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে চিঠি বা সরাসরি সাক্ষাতে এবং সময় কাটবে মূলত বেঁচে থাকার লড়াইয়ে জন্য।
অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় প্রযুক্তিবিহীন বিশ্ব হবে অনেক বেশি শান্ত কিন্তু টিকে থাকার জন্য সংগ্রামপূর্ণ। আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র এমনভাবে ডেভেলপমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে যা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ভবিষ্যতেও আরও বিস্ময়কর উদ্ভাবন ঘটবে, এমন আশাবাদী প্রত্যাশাও তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তির উদ্ভাবন বিজ্ঞানের এক অনন্য আবিষ্কার। প্রযুক্তি চোখের পলকে আমাদের শিকার থেকে শিকারিতে পরিণত করেছে, গুহা থেকে নিয়ে এসেছে মহাকাশে। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি যেভাবে বাড়ছে ও পরিবর্তিত হচ্ছে তা আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত। পরবর্তী ১০০ বছরে পৃথিবীর চেহারায় যে পরিবর্তন আসবে, তার মূল চালিকাশক্তি হবে প্রযুক্তি।
ভবিষ্যতের পৃথিবী কেমন হবে তা বর্তমান প্রযুক্তিগত প্রবণতাগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। যেমন - কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি, ক্লাইমেট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্পেস টেকনোলজি এই রূপান্তরের মূল স্তম্ভ হয়ে উঠবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ফলে সামনে এমন সব প্রযুক্তি আসছে, যা শুধু আমাদের জীবনধারা নয়, গোটা পৃথিবীর ভবিষ্যৎকেই পাল্টে দেবে। প্রতিটি প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নৈতিকতা, দায়িত্ব এবং ঝুঁকি। সঠিক ব্যবহার হলে এগুলো মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ হবে। আবার ভুল পথে গেলে হুমকিও হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ একদিকে আশার আলো, অন্যদিকে সতর্কতার সংকেত। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমাদের হাতে। আমরা চাইলে এই প্রযুক্তিকে সভ্যতার অগ্রগতির হাতিয়ার বানাতে পারি, আবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটিকে ভয়ংকর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এদিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রযুক্তির প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ধনী ও দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টির সম্ভাবনা পূর্বের চেয়ে বর্তমানে আরো প্রবল হচ্ছে। যা গত কয়েক দশকে অর্জিত বিশ্বব্যাপী বৈষম্য হ্রাসের অগ্রগতিকে উল্টে দিতে পারে।
বিগত প্রায় ৫০ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর মধ্যে যে সাম্যবস্থা তৈরি হচ্ছিল প্রযুক্তির ব্যবহারগত বৈষম্যের কারণে এই সাম্যবস্থা হ্রাস পেয়ে ভবিষ্যতে নতুন আরেকটি কঠিন বৈষম্যের যুগের সূচনা হতে পারে। যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বিভাজনকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সম্পদ, দক্ষতা এবং ডিজিটাল অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেবে। যদি প্রযুক্তির এই অগ্রগতির বিপ্লবে দরিদ্র দেশগুলো পিছিয়ে পড়ে, তবে ধনী দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৈষম্য বাড়তে থাকলে নিরাপত্তার বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করতে হবে। সম্প্রতি বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের প্রেক্ষাপট এখন কেবল একটি ধারণাই নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাত আজ এক বিশাল অগ্রযাত্রার সাক্ষী। প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষ প্রতিনিয়ত অজানা সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বেড়ায়। আর এই অজানাকে জানার জন্য খুঁজে বেড়ানোর পথ ধরেই প্রযুক্তি মানুষকে নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখায়।
প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন জীবনকে সহজ করে, তেমনি এর অপব্যবহারে দুর্বিষহও হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য আইনি কাঠামো যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করা উচিত। প্রযুক্তির সুবিধা ও অসুবিধা দুটি পক্ষেই আছে। প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবনে অসীম সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। যদি সঠিকভাবে এবং নিরাপদভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি আমাদের জীবনকে আরও সহজ, দক্ষ, এবং দ্রুততর করে তুলবে। এর পাশাপাশি প্রযুক্তির এর সঙ্গে আসা চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করতে হবে। যাতে এর ফলে মানবজাতির মঙ্গল হয়।
[লেখক: নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]