জাঁ-নেসার ওসমান
“কী মিয়া ভাই,‘ফিজ-না-ফিজ’ এইডা কী? আমিতো ভাবলাম যা ঠান্ডা পড়ছে, আপনে বুঝি ফ্রিজ-না-ফ্রিজ, মানে ঠান্ডায় জইম্মা বরফ হয়া, চ্যেয়াগা হুতি পড়ছেন।”
“ধ্যাৎ ব্যাটা কাঠ বাঙাল, কথা নেই বার্তা নেই ঠান্ডা, ওই খচ্চর, শাখামৃগ, শীতকালে ঠান্ডা পড়বে নাতো কি গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা অনুভূত হবে??”
“না কোই কি এইবারের ঠান্ডা ইকটু বেশি লাগতাছে।”
“এ্যঁহ্, ঠান্ডা না পড়লে বৈশ্বয়িক ওর্য়ামিং! আবার ঠান্ডা পড়লে, তোর ভাষায় চ্যেগায়া থাকো! তো আমি
যাবো কোথায়?”
“যাউগ্গা খামখা অতো প্যাঁচাল পাড়নের কাম নাই, তয় আপনি এইডা কী লিকচেন যে, ‘ফিজ-না-ফিজ’ এইডার মাজেজা কী?”
“ওম্মা সারা দুনিয়া ফিজ কে নিয়ে লড়ে যাচ্ছে আর তুমি বসে আঙুল চুষছো ! ফিজ মানে তোমার ঠান্ডা লাগে, যত্তোসব অশিক্ষিত বাঙাল ??”
“ও মাইরে মা, আন্নেকি আমগো কাটার মাস্টার, সাতক্ষীরার চিংড়ি ঘেরের পাশের বাড়ির পোলা মোস্তাফিজের কতা কন নি?”
“জ্বি, আমি বলছিলাম আমাদের তারকা ক্ষ্যাত বোলার মোস্তাফিজুর রহমানের কথা। ভাবতে পারিস সাতক্ষীরার চিংড়ি ঘেরের পাশের বাড়ির সন্তানটি মোস্তাফিজের প্রতি ভারতীয় অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সারা ক্রিকেট বিশ্ব সোচ্চার!”
“হেঁ হেঁ কি যে কন। অহনও পৃথিবীতে চাঁদ-সূর্য উঠের, তয় অন্যায়ের প্রতিবাদ মাইনষে করব না ক্যান? আন্নে কী মনে করেন, সারা পৃথিবীটা আপনের মাট্টিভূমি বাংলাদেশের লাই কুনো অন্যায়ের প্রতিবাদ কোরবো না? কী কন, পৃথিবীতে প্রচুর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ আছেন, তারা ঠিকই অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। সেটা সাতক্ষীরার পোলা মোস্তাফিজের হোক বা অন্য কারো হোক।”
“শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ আছেন যারা যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন!! “...হাহা পায় যে হাসি, ভগবান পরবে ফাঁসি শিখায় এ-হীন, তথ্য কে রে?”
“মানে কি! আপনে কি বলতে চান যে, পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ আছেন তারা কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না??”
“হেঁ হেঁ, পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ? ওই মর্কট, যদি তোর পৃথিবীতে শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ থাকে তাহলে কি করে প্যালেস্টাইনের নিরীহ শিশুদের ওপর বোমা বর্ষণ করিস! ওই খাচ্চার তাহলে তুই কী করে অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করিস!! সেন্টমার্টিনে যেতে কেন তোর ভিসা লাগবে?? এই কি তোর পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গের কাজ!! বল ব্যাটা বাঙাল, এই কি তোর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক দেশের কান্ড!! তোর লজ্জা করে না শালা, তুই আবার বলিস পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ!! কোথায় চেংগিস...”
“ভাই না ভালা, উত্তেজিত হয়েন না যে, সোয়ামী বিবেকানন্দ বলেচেন, কারো কাছ থেকে কিছু আশাকরা অন্যায়।
তাই আপনে খামাখায় পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ ইনাদের দোষারোপ করচেন যে। বুজতে পারচেন না, বর্তমান জেন-জি, মানে জেনারেশন জীর যুগ। ওসমান হাদীরে ম্ধাসঢ়;ইরবো, দ্যেহেন সামনে আবার নি কারে ফ্যালায়া দ্যেয়। অহনকার যুগে আন্নেরে এইসব মাইন্নাই চলতে হবে যে।”
“জোর যার মুলুক তার, এই যদি তোর জেন-জি’র নীতি হয়, সেই যদি আবার জাঙ্গাল ল’ মেনে চলিস, তাহলে কী দরকার স্কুল কলেজের!! লেখাপড়া নৈতিকতা, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সব উড়িয়ে দিয়ে চল আবার জঙ্গলে ফিরে যাই। তাহলে কিসের তোর পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ, দাও ফিরে সে অরণ্য...”
“আন্নে খালি ফাঁৎ করি চেতি উডেন। আছিলেন আঁরার কাটার মাস্টার, সাতক্ষীরার চিংড়ি ঘেরের পাশের বাড়ির পোলা মোস্তাফিজ লই, এহান থে আন্নে মুদিজির পলিটিক্স লোই কথা কোইবেন। তা না আন্নে গেছেন বিশ্ব লই টান দিবার লাই। আরে বিশ্ব লোই টান দেওনের শক্তি আন্নের আছেনি?? আন্নে মিয়া আন্নের ঘরের কব্বর থন তুলি আনি লাশ পুড়ার এইগুলা সামলাইতে পারেন না, আন্নে নি মুদিজিরে, সামলাইবেন!! আন্নে বিশ্ব বিবেকরে নাড়া দিবেন!! হিঁ হিঁ.. হাসায়েন না মিয়া।”
“আমি কি বিশ্ব বিবেকের কথা বলেছি, তুই না বললি পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ আছেন যারা যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন!! তাহলে এখন তারা কোথায়, কোন গহিনে বাস করছেন!! তাদের আর একবার বেরিয়ে আসতে বল, আর একবার ফরাসী বিপ্লবের গর্জে উঠতে বল...”
“ভাই না ভালা, আন্নে আর বল বল কোইরন না, মোস্তাফিজের বল খেলতে পাওে না বইল্লাই মুদিজি হ্যেতারে বাদ দিছে। হেইডা মাইন্নানেন। ভারত আন্নেরে কত বড় সন্মান দিচে” “ভারত আমাদের সন্মান করছে??”
“সন্মান দিচে না তো কী?? একশ চল্লিশ কুটির ভারত আমাগো কাটার মাস্টার, সাতক্ষীরার চিংড়ি ঘেরের পাশের বাড়ির পোলা মোস্তাফিজের বল খেলনের মতুন কুনো ব্যাটসম্যান নাই, কুনো ব্যাটার, ব্যাটে এ্যতো জোর নাই যে হ্যেরা মুস্তাফিজের বল খেলতে পারে, তাই কোইছে তুমরা আমাগো মাপ করো, প্লিজ মুস্তাফিজরে দলে রাইখো না। আমরা তুমাগো স্বাধীনতার সুময় সাহায্য করছি। আমাগো এই অন্যায় আব্দার মাইন্না নাও। তাছাড়া সামনে ভারতীয় নির্বাচন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এই সব কয়া দুইটা ভুট বেশি পামু। তাই কোই তুমরা মুস্তাফিজরে বাদ দাও।”
“আচ্ছা দ্যেখ ভারতীয় সন্মান পাবার জন্য বিসিবি কী করে?”
“ধৈর্যং শরণং গচ্ছামি... ধৈর্যং শরণং গচ্ছামি... ধৈর্যং শরণং গচ্ছামি...”
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
জাঁ-নেসার ওসমান
বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
“কী মিয়া ভাই,‘ফিজ-না-ফিজ’ এইডা কী? আমিতো ভাবলাম যা ঠান্ডা পড়ছে, আপনে বুঝি ফ্রিজ-না-ফ্রিজ, মানে ঠান্ডায় জইম্মা বরফ হয়া, চ্যেয়াগা হুতি পড়ছেন।”
“ধ্যাৎ ব্যাটা কাঠ বাঙাল, কথা নেই বার্তা নেই ঠান্ডা, ওই খচ্চর, শাখামৃগ, শীতকালে ঠান্ডা পড়বে নাতো কি গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা অনুভূত হবে??”
“না কোই কি এইবারের ঠান্ডা ইকটু বেশি লাগতাছে।”
“এ্যঁহ্, ঠান্ডা না পড়লে বৈশ্বয়িক ওর্য়ামিং! আবার ঠান্ডা পড়লে, তোর ভাষায় চ্যেগায়া থাকো! তো আমি
যাবো কোথায়?”
“যাউগ্গা খামখা অতো প্যাঁচাল পাড়নের কাম নাই, তয় আপনি এইডা কী লিকচেন যে, ‘ফিজ-না-ফিজ’ এইডার মাজেজা কী?”
“ওম্মা সারা দুনিয়া ফিজ কে নিয়ে লড়ে যাচ্ছে আর তুমি বসে আঙুল চুষছো ! ফিজ মানে তোমার ঠান্ডা লাগে, যত্তোসব অশিক্ষিত বাঙাল ??”
“ও মাইরে মা, আন্নেকি আমগো কাটার মাস্টার, সাতক্ষীরার চিংড়ি ঘেরের পাশের বাড়ির পোলা মোস্তাফিজের কতা কন নি?”
“জ্বি, আমি বলছিলাম আমাদের তারকা ক্ষ্যাত বোলার মোস্তাফিজুর রহমানের কথা। ভাবতে পারিস সাতক্ষীরার চিংড়ি ঘেরের পাশের বাড়ির সন্তানটি মোস্তাফিজের প্রতি ভারতীয় অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সারা ক্রিকেট বিশ্ব সোচ্চার!”
“হেঁ হেঁ কি যে কন। অহনও পৃথিবীতে চাঁদ-সূর্য উঠের, তয় অন্যায়ের প্রতিবাদ মাইনষে করব না ক্যান? আন্নে কী মনে করেন, সারা পৃথিবীটা আপনের মাট্টিভূমি বাংলাদেশের লাই কুনো অন্যায়ের প্রতিবাদ কোরবো না? কী কন, পৃথিবীতে প্রচুর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ আছেন, তারা ঠিকই অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। সেটা সাতক্ষীরার পোলা মোস্তাফিজের হোক বা অন্য কারো হোক।”
“শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ আছেন যারা যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন!! “...হাহা পায় যে হাসি, ভগবান পরবে ফাঁসি শিখায় এ-হীন, তথ্য কে রে?”
“মানে কি! আপনে কি বলতে চান যে, পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ আছেন তারা কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না??”
“হেঁ হেঁ, পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ? ওই মর্কট, যদি তোর পৃথিবীতে শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ থাকে তাহলে কি করে প্যালেস্টাইনের নিরীহ শিশুদের ওপর বোমা বর্ষণ করিস! ওই খাচ্চার তাহলে তুই কী করে অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করিস!! সেন্টমার্টিনে যেতে কেন তোর ভিসা লাগবে?? এই কি তোর পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গের কাজ!! বল ব্যাটা বাঙাল, এই কি তোর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক দেশের কান্ড!! তোর লজ্জা করে না শালা, তুই আবার বলিস পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ!! কোথায় চেংগিস...”
“ভাই না ভালা, উত্তেজিত হয়েন না যে, সোয়ামী বিবেকানন্দ বলেচেন, কারো কাছ থেকে কিছু আশাকরা অন্যায়।
তাই আপনে খামাখায় পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ ইনাদের দোষারোপ করচেন যে। বুজতে পারচেন না, বর্তমান জেন-জি, মানে জেনারেশন জীর যুগ। ওসমান হাদীরে ম্ধাসঢ়;ইরবো, দ্যেহেন সামনে আবার নি কারে ফ্যালায়া দ্যেয়। অহনকার যুগে আন্নেরে এইসব মাইন্নাই চলতে হবে যে।”
“জোর যার মুলুক তার, এই যদি তোর জেন-জি’র নীতি হয়, সেই যদি আবার জাঙ্গাল ল’ মেনে চলিস, তাহলে কী দরকার স্কুল কলেজের!! লেখাপড়া নৈতিকতা, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সব উড়িয়ে দিয়ে চল আবার জঙ্গলে ফিরে যাই। তাহলে কিসের তোর পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ, দাও ফিরে সে অরণ্য...”
“আন্নে খালি ফাঁৎ করি চেতি উডেন। আছিলেন আঁরার কাটার মাস্টার, সাতক্ষীরার চিংড়ি ঘেরের পাশের বাড়ির পোলা মোস্তাফিজ লই, এহান থে আন্নে মুদিজির পলিটিক্স লোই কথা কোইবেন। তা না আন্নে গেছেন বিশ্ব লই টান দিবার লাই। আরে বিশ্ব লোই টান দেওনের শক্তি আন্নের আছেনি?? আন্নে মিয়া আন্নের ঘরের কব্বর থন তুলি আনি লাশ পুড়ার এইগুলা সামলাইতে পারেন না, আন্নে নি মুদিজিরে, সামলাইবেন!! আন্নে বিশ্ব বিবেকরে নাড়া দিবেন!! হিঁ হিঁ.. হাসায়েন না মিয়া।”
“আমি কি বিশ্ব বিবেকের কথা বলেছি, তুই না বললি পৃথিবীর শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ আছেন যারা যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন!! তাহলে এখন তারা কোথায়, কোন গহিনে বাস করছেন!! তাদের আর একবার বেরিয়ে আসতে বল, আর একবার ফরাসী বিপ্লবের গর্জে উঠতে বল...”
“ভাই না ভালা, আন্নে আর বল বল কোইরন না, মোস্তাফিজের বল খেলতে পাওে না বইল্লাই মুদিজি হ্যেতারে বাদ দিছে। হেইডা মাইন্নানেন। ভারত আন্নেরে কত বড় সন্মান দিচে” “ভারত আমাদের সন্মান করছে??”
“সন্মান দিচে না তো কী?? একশ চল্লিশ কুটির ভারত আমাগো কাটার মাস্টার, সাতক্ষীরার চিংড়ি ঘেরের পাশের বাড়ির পোলা মোস্তাফিজের বল খেলনের মতুন কুনো ব্যাটসম্যান নাই, কুনো ব্যাটার, ব্যাটে এ্যতো জোর নাই যে হ্যেরা মুস্তাফিজের বল খেলতে পারে, তাই কোইছে তুমরা আমাগো মাপ করো, প্লিজ মুস্তাফিজরে দলে রাইখো না। আমরা তুমাগো স্বাধীনতার সুময় সাহায্য করছি। আমাগো এই অন্যায় আব্দার মাইন্না নাও। তাছাড়া সামনে ভারতীয় নির্বাচন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এই সব কয়া দুইটা ভুট বেশি পামু। তাই কোই তুমরা মুস্তাফিজরে বাদ দাও।”
“আচ্ছা দ্যেখ ভারতীয় সন্মান পাবার জন্য বিসিবি কী করে?”
“ধৈর্যং শরণং গচ্ছামি... ধৈর্যং শরণং গচ্ছামি... ধৈর্যং শরণং গচ্ছামি...”
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]