ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ
সাধারণত প্রতি ১০০ বছর পর বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে। সবশেষ ১৮২২ এবং ১৯১৮ সালে মধুপুর ফল্টে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। সে হিসেবে আরেকটি বড় ভূমিকম্পের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা। ২০০৯ সালে সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি) ও জাইকার যৌথ জরিপে জানা গেছে, ঢাকায় সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে, শহরের ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে এবং এক লাখ ৩৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৈরি হবে সাত কোটি টন কনক্রিটের স্তূপ। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা শহরের ৭৬ শতাংশ রাস্তা সরু হওয়ায় ভূমিকম্প হলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে যাবে। এছাড়া ৬০ শতাংশ ভবন মূল নকশা পরিবর্তন করে গড়ে ওঠায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের সময় এই অপরিকল্পিত ভবনগুলো সঙ্গে সঙ্গে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বোঝা, নিরাপত্তা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা থাকা জরুরি
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকম্পের প্রস্তুতি বলতে কয়েকটি কাজ হয়েছে; যেমন- সরকারি অর্থায়নে অন্তত একশ কোটি টাকা খরচ করে ফায়ার সার্ভিসের জন্য নানা উপকরণ কেনা। সেই সঙ্গে রাজউকের অধীনে আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প চালু করা, যারা ভবনের ভূমিকম্প সহনশীলতার বিষয়টি নজরদারি করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। সেই প্রকল্প হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, স্কুল ও হাসপাতালের ভূমিকম্প সহনশীলতা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। এর বাইরে অন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা, সংস্কার করা বা ভেঙে ফেলায় কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমদ খান। তিনি বলেন, আমাদের দেশে কোড মেনে বিল্ডিং করা হয় না। এটা কারা নজরদারি করবে সেখানেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তৎপর হওয়া খুব প্রয়োজন, তবে রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ মাহফুজা আক্তার বলছেন, কোন ভবন ভূমিকম্প সহনশীল কিনা সেটা খতিয়ে দেখার কোন সক্ষমতা তাদের নেই। সম্প্রতি ৫.৭ মাত্রার ও পর পর আরো কয়েকটি ছোট কম্পন সংগঠিত হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে এক আতঙ্ক ও ট্রমা বিরাজ করছে। ভূমিকম্পের সময় আমাদের করণীয় প্রথমত, শান্ত থাকা এবং আতঙ্কিত না হওয়া। ঘরে থাকলে দরজা ও জানালা থেকে দূরে থাকুন, যেন ধ্বংসস্তূপ বা আসবাবের নিচে চাপা না পড়েন। দ্রুততর উপায়ে, যদি ঘরের ভেতরে থাকেন, তাহলে সোজা কোণে বা শক্ত স্থানে গিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন ও ঝাঁপিয়ে পড়–ন। বাইরে থাকলে, ভবনের কাছ থেকে দ্রুত দূরে যান, যেন ধ্বংসস্তূপ বা আসবাব পড়ার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পান। ট্রাফিকের মধ্যে থাকলে, গাড়ি থেকে নেমে খোলা জায়গায় যান। ভূমিকম্পের পরে মূল ঝুঁকি হলো ধ্বংসস্তূপের ধসে পড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ও পানির সরবরাহ বন্ধ হওয়া। তাই ভূমিকম্পের পরপরই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে থাকাই উত্তম। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভবন নির্মাণের সময় ঝুঁকি বিবেচনা করে স্থাপত্য ডিজাইন ও নির্মাণকাজ করতে হবে। ভূমিকম্প প্রতিরোধক ভবন ও স্থাপনা নির্মাণে বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় ভবনের স্তর ও শক্তি বাড়াতে হবে। এছাড়া সবার জন্য জরুরি সরঞ্জাম যেমন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, ও জরুরি আলো ও সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া প্রতিটি পরিবারের জন্য ভূমিকম্পের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা জরুরি। পরিবারে সদস্যদের ভূমিকম্পের সময় কী কী করণীয়, কোথায় আশ্রয় নেয়া উচিত, ও জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। অতীতে অনেক বড় ভূমিকম্পের ঘটনা আমাদের শেখায় যে, উপযুক্ত প্রস্তুতি ও সচেতনতা ছাড়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা কঠিন। তাই, আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ দায়িত্বে সচেতন হওয়া, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা, উন্নত নির্মাণ মানদন্ড, দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই দুর্যোগের ক্ষতি কমানো সম্ভব। সবাইকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকম্পের সময় ও পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই সচেতনতা ও প্রস্তুতি আমাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে সহায়তা করবে, এবং একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে। সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থা, ও জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এই ঝুঁকি হ্রাসে সক্ষম। দেশের স্কুল, কলেজ, ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত। এছাড়া জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেন ভূমিকম্পের পর দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয়। সাধারণ জনগণকেও জানতে হবে কীভাবে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে হবে, যেন ঝুঁকি কমে আসে। ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক ক্ষতি, প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং মানসিক আঘাত ঘটে। এই দুর্যোগের সঙ্গে আমাদের জীবনযাত্রা, সম্পদ, ও নিরাপত্তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই, ভূমিকম্পের ঝুঁকি বোঝা, নিরাপত্তা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা থাকা জরুরি। ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার ঝুঁকি থেকে সম্পদ ও জীবন রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সচেতনতা, প্রস্তুতি ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। প্রতিটি পরিবারের উচিত একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করা, নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ রাখা ও নিয়মিত ট্রেনিং গ্রহণ। পাশাপাশি, সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ঝুঁকি হ্রাসের জন্য কাজ করছে। আমাদের উচিত দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত রাখা, যাতে কোন দুর্যোগে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়। এই সচেতনতা ও প্রস্তুতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বেশি জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সহায়ক হবে।
[লেখক: সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ
বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
সাধারণত প্রতি ১০০ বছর পর বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে। সবশেষ ১৮২২ এবং ১৯১৮ সালে মধুপুর ফল্টে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। সে হিসেবে আরেকটি বড় ভূমিকম্পের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা। ২০০৯ সালে সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি) ও জাইকার যৌথ জরিপে জানা গেছে, ঢাকায় সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে, শহরের ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে এবং এক লাখ ৩৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৈরি হবে সাত কোটি টন কনক্রিটের স্তূপ। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা শহরের ৭৬ শতাংশ রাস্তা সরু হওয়ায় ভূমিকম্প হলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে যাবে। এছাড়া ৬০ শতাংশ ভবন মূল নকশা পরিবর্তন করে গড়ে ওঠায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের সময় এই অপরিকল্পিত ভবনগুলো সঙ্গে সঙ্গে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বোঝা, নিরাপত্তা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা থাকা জরুরি
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকম্পের প্রস্তুতি বলতে কয়েকটি কাজ হয়েছে; যেমন- সরকারি অর্থায়নে অন্তত একশ কোটি টাকা খরচ করে ফায়ার সার্ভিসের জন্য নানা উপকরণ কেনা। সেই সঙ্গে রাজউকের অধীনে আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প চালু করা, যারা ভবনের ভূমিকম্প সহনশীলতার বিষয়টি নজরদারি করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। সেই প্রকল্প হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, স্কুল ও হাসপাতালের ভূমিকম্প সহনশীলতা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। এর বাইরে অন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা, সংস্কার করা বা ভেঙে ফেলায় কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমদ খান। তিনি বলেন, আমাদের দেশে কোড মেনে বিল্ডিং করা হয় না। এটা কারা নজরদারি করবে সেখানেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তৎপর হওয়া খুব প্রয়োজন, তবে রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ মাহফুজা আক্তার বলছেন, কোন ভবন ভূমিকম্প সহনশীল কিনা সেটা খতিয়ে দেখার কোন সক্ষমতা তাদের নেই। সম্প্রতি ৫.৭ মাত্রার ও পর পর আরো কয়েকটি ছোট কম্পন সংগঠিত হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে এক আতঙ্ক ও ট্রমা বিরাজ করছে। ভূমিকম্পের সময় আমাদের করণীয় প্রথমত, শান্ত থাকা এবং আতঙ্কিত না হওয়া। ঘরে থাকলে দরজা ও জানালা থেকে দূরে থাকুন, যেন ধ্বংসস্তূপ বা আসবাবের নিচে চাপা না পড়েন। দ্রুততর উপায়ে, যদি ঘরের ভেতরে থাকেন, তাহলে সোজা কোণে বা শক্ত স্থানে গিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন ও ঝাঁপিয়ে পড়–ন। বাইরে থাকলে, ভবনের কাছ থেকে দ্রুত দূরে যান, যেন ধ্বংসস্তূপ বা আসবাব পড়ার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পান। ট্রাফিকের মধ্যে থাকলে, গাড়ি থেকে নেমে খোলা জায়গায় যান। ভূমিকম্পের পরে মূল ঝুঁকি হলো ধ্বংসস্তূপের ধসে পড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ও পানির সরবরাহ বন্ধ হওয়া। তাই ভূমিকম্পের পরপরই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে থাকাই উত্তম। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভবন নির্মাণের সময় ঝুঁকি বিবেচনা করে স্থাপত্য ডিজাইন ও নির্মাণকাজ করতে হবে। ভূমিকম্প প্রতিরোধক ভবন ও স্থাপনা নির্মাণে বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় ভবনের স্তর ও শক্তি বাড়াতে হবে। এছাড়া সবার জন্য জরুরি সরঞ্জাম যেমন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, ও জরুরি আলো ও সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া প্রতিটি পরিবারের জন্য ভূমিকম্পের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা জরুরি। পরিবারে সদস্যদের ভূমিকম্পের সময় কী কী করণীয়, কোথায় আশ্রয় নেয়া উচিত, ও জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। অতীতে অনেক বড় ভূমিকম্পের ঘটনা আমাদের শেখায় যে, উপযুক্ত প্রস্তুতি ও সচেতনতা ছাড়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা কঠিন। তাই, আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ দায়িত্বে সচেতন হওয়া, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা, উন্নত নির্মাণ মানদন্ড, দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই দুর্যোগের ক্ষতি কমানো সম্ভব। সবাইকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকম্পের সময় ও পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই সচেতনতা ও প্রস্তুতি আমাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে সহায়তা করবে, এবং একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে। সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থা, ও জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এই ঝুঁকি হ্রাসে সক্ষম। দেশের স্কুল, কলেজ, ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত। এছাড়া জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেন ভূমিকম্পের পর দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয়। সাধারণ জনগণকেও জানতে হবে কীভাবে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে হবে, যেন ঝুঁকি কমে আসে। ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক ক্ষতি, প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং মানসিক আঘাত ঘটে। এই দুর্যোগের সঙ্গে আমাদের জীবনযাত্রা, সম্পদ, ও নিরাপত্তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই, ভূমিকম্পের ঝুঁকি বোঝা, নিরাপত্তা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা থাকা জরুরি। ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার ঝুঁকি থেকে সম্পদ ও জীবন রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সচেতনতা, প্রস্তুতি ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। প্রতিটি পরিবারের উচিত একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করা, নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ রাখা ও নিয়মিত ট্রেনিং গ্রহণ। পাশাপাশি, সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ঝুঁকি হ্রাসের জন্য কাজ করছে। আমাদের উচিত দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত রাখা, যাতে কোন দুর্যোগে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়। এই সচেতনতা ও প্রস্তুতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বেশি জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সহায়ক হবে।
[লেখক: সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি]