alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

চাপে অর্থনীতি, সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্র

মিহির কুমার রায়

: বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন আরেকটি বছরের শুরু। ঘটনাবহুল সদ্য বিদায়ী বছরে অর্থনীতির নানা বিষয় ছিল আলোচনায়। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। বিভিন্ন কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য আর অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এত বেশি রাজনৈতিক ঘটনার ঘনঘটা বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির গন্তব্য কোন দিকে-সে প্রশ্নটিও আড্ডায়, রেস্তোরাঁয়, পরিবারে, স্বজনসমাবেশে আলোচিত হয়েছে। আলোচনা হয়েছে বৃহৎ পরিসরেও। একটি সফল নির্বাচন এই প্রশ্নটির কতটা মীমাংসা করতে পারে, তা এখনই বলে দেয়া যায় না। তবে এ কথা ঠিক, দেশ এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনটি কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে, তার ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। ২০২৫ সালের আলোচিত ঘটনা নিয়ে এই আয়োজন, যেখানে থাকবে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি।

কৃষি অর্থনীতি: আলু উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম পড়ে যায়। একপর্যায়ে হিমাগারের গেটে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে পারেননি কৃষকেরা। অস্থির পেঁয়াজ বাজার ভোক্তা ও কৃষকের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। হঠাৎ করে দেশের বাজারে এ বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দাম অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, যা কেজিপ্রতি ছাড়ায় ১০০ টাকা। এখন খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। ধান, মাছ, ডিম, সবজি-সব ক্ষেত্রেই উৎপাদনে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এখন পর্যন্ত ৫৪ বছরের বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সম্মানজনক অবস্থানে থাকলেও (যেমন চাল উৎপাদনে তৃতীয়, আলু উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং চাষকৃত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে অবস্থান বিশ্বে একাদশ) গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ফল, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা আমদানিনির্ভর। ডিম উৎপাদনে স্বনির্ভরতার কাছাকাছি পৌঁছালেও তরল দুধ উৎপাদনে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। অথচ মাঠে শস্যভরা থাকলেও কোটি মানুষের হাঁড়ি আধাভরা। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েও কেন ক্ষুধার্ত মুখ?

দারিদ্র্যের প্রকটতা: বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার বছর ধরে দারিদ্রতা বেড়েছে। ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশের কিছু বেশি হয়েছে। দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ। দারিদ্রতা-বহির্ভূত মানব বঞ্চনা আরও তীব্রতর হচ্ছে। প্রায় ১১ কোটি মানুষের নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা নেই। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ৫৭ শতাংশ শিশু দশম শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। গত ছয় বছরে শিশুশ্রম বেড়েছে-২০১৯ সালের ৬ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৯ শতাংশে।

বৈষম্য: বাংলাদেশের ওপরের দিকের ১০ শতাংশ মানুষ দেশের ৫৮ শতাংশ সম্পদের মালিক, আর দেশের নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষ (দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী) মাত্র ৪ শতাংশ সম্পদ ভোগ করে। দেশের উচ্চতম ২০ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছরের শিশুমৃত্যুর হার যেখানে হাজারে ২০, সেখানে নিম্নতম ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তা হাজারে ২০-এর বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ বাংলায় আয় বৈষম্য স্থিতিশীল থাকলেও শহরাঞ্চলে তা বেড়েছে। বৈষম্যের বৈশ্বিক বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান মাঝামাঝি। বাংলাদেশের ১ শতাংশ মানুষের কাছে রয়েছে দেশের মোট সম্পদের ২৪ শতাংশ। আর মোট জাতীয় আয়ের ১৬ শতাংশ রয়েছে তাদের হাতে।

আর্থিক খাত: পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। গত সরকারের মেয়াদে লুটপাট হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে গঠন করা হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। বিদায়ী বছরে রেকর্ড খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করে। গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। গত সরকারের মতো এবারও খেলাপি হওয়া ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতাবলে এই সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঋণ পুনঃতফসিল ও অবলোপনের নীতিমালাও সহজ করা হয়েছে। বছরজুড়ে শেয়ারবাজারে মন্দাভাব ছিল। সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমে গেছে। বিপর্যস্ত ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিগত সরকারের সময় ঋণ অনিয়মের কারণে এসব প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। গত বছর ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। তবে এখনো কাউকে অনুমোদন দেয়া হয়নি।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার বছর ধরে দারিদ্র্য বেড়েছে। ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশের কিছু বেশি হয়েছে। দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ। দারিদ্র্যবহির্ভূত মানববঞ্চনা আরও তীব্রতর হচ্ছে

ঋণের ফাঁদে বিশ্ব: বিগত কয়েক বছরে ব্যাংকের ওপর ঋণনির্ভরতা বেড়েছে। ২০২২ সালের শেষ থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এই আমানতের ৮৭ শতাংশ সরকার ঋণ হিসেবে নিয়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলারে। প্রশ্ন হলো, সরকার কেন এত বেশি ঋণ নেয় এবং কেন সুদে-আসলে তা পরিশোধ করতে হয়। একজন উপদেষ্টা বলেছেন, সরকার ঋণ নেয় বকেয়া ঋণ পরিশোধের জন্য। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের ৬৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে পূর্বের বকেয়া ঋণ পরিশোধে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেছেন, ২০২৫-২৬ সালের বাজেট হবে ঋণের দুষ্টচক্র ভাঙার বাজেট। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে সরকার দেশি ও বৈদেশিক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ঋণ কর্মসূচির আকার এখন ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার। পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। এরপর ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়া যায়নি।

কর্মবিহীন প্রবৃদ্ধি: দেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপ্রাপ্তদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশ। তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার দেশের সার্বিক বেকারত্বের দ্বিগুণ। অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে নতুন তরুণদের প্রবেশের তুলনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি পিছিয়ে ছিল। কৃষি-সংযুক্ত ভ্যালুচেইন ও ক্ষুদ্র উৎপাদন শিল্পের মতো শ্রমঘন খাতে বিনিয়োগ দুর্বল ছিল। অপর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা জালের সঙ্গে মিলিয়ে এটি দারিদ্র?্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চরম দারিদ্র?্যরে হার ৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বৈদেশিক শ্রমবাজারে প্রবাসী কর্মসংস্থানও পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি। নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, উন্নত প্রশিক্ষণ ও অভিবাসীদের সুরক্ষায় এখনো ঘাটতি রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি: উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যে আমদানি শুল্ক কমানো, এলসি-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা শিথিল এবং খাদ্য ও সার আমদানিকারকদের ঋণ সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে সরবরাহজনিত সমস্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে থাকার পর তা কমতে শুরু করেছে। জুলাই ২০২৪-এ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের জুনে নেমে আসে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে।

রপ্তানি মন্থরতা: রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতির কারণে টানা চার মাস রপ্তানি আয় কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পাঁচ মাসে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ শতাংশেরও কম। রপ্তানি খাতের কাঁচামাল আমদানি কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। ফলে ভবিষ্যতে রপ্তানি আয় আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। তবে শিল্পযন্ত্রপাতি আমদানি বেড়েছে, যা আগামীতে শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এলডিসি উত্তরণে সংশয়: ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের কথা থাকলেও ২০২৫ সালে এসে ব্যবসায়ীরা এই উত্তরণ অন্তত তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সরকার এই উদ্বেগ জাতিসংঘকে জানিয়েছে এবং স্বাধীন মূল্যায়নের অনুরোধ করেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণ পিছিয়ে দেয়ার আবেদন করা হয়নি।

জাল টাকার বিস্তার: জাল টাকার বিস্তার অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। বাজারে নকল টাকা প্রবেশ করলে মুদ্রার প্রতি আস্থা কমে যায়, দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল হয় এবং বৈধ লেনদেন ব্যাহত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি নকল মুদ্রার বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন। এটি একটি সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক চক্রান্ত, যার লক্ষ্য অর্থনীতি বিনাশ ও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি।

এডিপি বাস্তবায়ন মন্থর: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পাঁচ মাসে উন্নয়নব্যয় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৩ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের মাত্র ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় ছিল ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি কমেছে।

বিনিয়োগ স্থবিরতা: বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ আয়োজন করা হলেও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আসেনি। বেসরকারি খাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগও স্থবির। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

২০২৫ সালে অনিশ্চয়তা, সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দুই মাসের কম সময়ে দেশ একটি জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করবে, সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে-এটাই প্রত্যাশা।

[লেখক: সাবেক ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা]

প্রতিবেশী যদি বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা না দেন

মনোনয়নপত্র বাতিলের পরে বৈধতা পাওয়া

চিকিৎসাসেবায় ভেন্টিলেটর ও লাইফ সাপোর্ট

রেশম: এক ঐতিহ্য, এক সম্ভাবনার অবসান

প্রযুক্তিযুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ

যেভাবে বদলেছে উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা

ছবি

খোলা হাওয়া, তেজি বৃষ্টি এবং ঝকঝকে রোদ

কৃষি অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

তেলের বিনিময়ে সার্বভৌমত্ব

নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই

মহাকাশে বিস্ময়কর মহাকাশ

টেংরাটিলা ট্র্যাজেডি : ক্ষতিপূরণহীন এক বিপর্যয়

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ -এর নমুনা

শীতের নীরব আঘাত

ভোটে ইসলামী জোট

আইনের শাসন কি উপেক্ষিতই থাকবে?

মাঠের মাইক নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই নির্ধারিত হচ্ছে নেতৃত্ব

ভূমিকম্প ঝুঁকি, নিরাপত্তা ও আমাদের করণীয়

“ফিজ-না-ফিজ...”

বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা

এলপিজি সংকট

ছবি

তবে কি আমরা প্রতারিত হলাম

প্রযুক্তির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পৃথিবী

ছবি

চারণসাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন ডিজিটাল যুগেও প্রাসঙ্গিক

নতুন বছরে অর্থনীতি ও বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

শীতের নতুন বিষদাঁত: জলবায়ু পরিবর্তন ও আমাদের বৈষম্যের খেরোখাতা

সড়ক হোক নিরাপদ

স্কুল ব্যাংকিং: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

নির্বাচন কি মবোক্রেসি বন্ধ করবে?

ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড: স্বচ্ছতা না নতুন ঝুঁকি?

‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’

খ্রিস্টীয় নববর্ষ প্রচলনের ইতিকথা

২০২৬-এর বাংলাদেশ: স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির সন্ধানে এক নতুন শুরু

ছবি

স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নতুন বছর

পেঁয়াজ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি

মাধ্যমিকে অব্যবস্থাপনা

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

চাপে অর্থনীতি, সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্র

মিহির কুমার রায়

বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন আরেকটি বছরের শুরু। ঘটনাবহুল সদ্য বিদায়ী বছরে অর্থনীতির নানা বিষয় ছিল আলোচনায়। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। বিভিন্ন কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য আর অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এত বেশি রাজনৈতিক ঘটনার ঘনঘটা বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির গন্তব্য কোন দিকে-সে প্রশ্নটিও আড্ডায়, রেস্তোরাঁয়, পরিবারে, স্বজনসমাবেশে আলোচিত হয়েছে। আলোচনা হয়েছে বৃহৎ পরিসরেও। একটি সফল নির্বাচন এই প্রশ্নটির কতটা মীমাংসা করতে পারে, তা এখনই বলে দেয়া যায় না। তবে এ কথা ঠিক, দেশ এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনটি কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে, তার ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। ২০২৫ সালের আলোচিত ঘটনা নিয়ে এই আয়োজন, যেখানে থাকবে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি।

কৃষি অর্থনীতি: আলু উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম পড়ে যায়। একপর্যায়ে হিমাগারের গেটে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে পারেননি কৃষকেরা। অস্থির পেঁয়াজ বাজার ভোক্তা ও কৃষকের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। হঠাৎ করে দেশের বাজারে এ বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দাম অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, যা কেজিপ্রতি ছাড়ায় ১০০ টাকা। এখন খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। ধান, মাছ, ডিম, সবজি-সব ক্ষেত্রেই উৎপাদনে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এখন পর্যন্ত ৫৪ বছরের বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সম্মানজনক অবস্থানে থাকলেও (যেমন চাল উৎপাদনে তৃতীয়, আলু উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং চাষকৃত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে অবস্থান বিশ্বে একাদশ) গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ফল, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা আমদানিনির্ভর। ডিম উৎপাদনে স্বনির্ভরতার কাছাকাছি পৌঁছালেও তরল দুধ উৎপাদনে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। অথচ মাঠে শস্যভরা থাকলেও কোটি মানুষের হাঁড়ি আধাভরা। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েও কেন ক্ষুধার্ত মুখ?

দারিদ্র্যের প্রকটতা: বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার বছর ধরে দারিদ্রতা বেড়েছে। ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশের কিছু বেশি হয়েছে। দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ। দারিদ্রতা-বহির্ভূত মানব বঞ্চনা আরও তীব্রতর হচ্ছে। প্রায় ১১ কোটি মানুষের নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা নেই। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ৫৭ শতাংশ শিশু দশম শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। গত ছয় বছরে শিশুশ্রম বেড়েছে-২০১৯ সালের ৬ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৯ শতাংশে।

বৈষম্য: বাংলাদেশের ওপরের দিকের ১০ শতাংশ মানুষ দেশের ৫৮ শতাংশ সম্পদের মালিক, আর দেশের নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষ (দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী) মাত্র ৪ শতাংশ সম্পদ ভোগ করে। দেশের উচ্চতম ২০ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছরের শিশুমৃত্যুর হার যেখানে হাজারে ২০, সেখানে নিম্নতম ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তা হাজারে ২০-এর বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ বাংলায় আয় বৈষম্য স্থিতিশীল থাকলেও শহরাঞ্চলে তা বেড়েছে। বৈষম্যের বৈশ্বিক বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান মাঝামাঝি। বাংলাদেশের ১ শতাংশ মানুষের কাছে রয়েছে দেশের মোট সম্পদের ২৪ শতাংশ। আর মোট জাতীয় আয়ের ১৬ শতাংশ রয়েছে তাদের হাতে।

আর্থিক খাত: পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। গত সরকারের মেয়াদে লুটপাট হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে গঠন করা হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। বিদায়ী বছরে রেকর্ড খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করে। গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। গত সরকারের মতো এবারও খেলাপি হওয়া ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতাবলে এই সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঋণ পুনঃতফসিল ও অবলোপনের নীতিমালাও সহজ করা হয়েছে। বছরজুড়ে শেয়ারবাজারে মন্দাভাব ছিল। সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমে গেছে। বিপর্যস্ত ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিগত সরকারের সময় ঋণ অনিয়মের কারণে এসব প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। গত বছর ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। তবে এখনো কাউকে অনুমোদন দেয়া হয়নি।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার বছর ধরে দারিদ্র্য বেড়েছে। ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশের কিছু বেশি হয়েছে। দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ। দারিদ্র্যবহির্ভূত মানববঞ্চনা আরও তীব্রতর হচ্ছে

ঋণের ফাঁদে বিশ্ব: বিগত কয়েক বছরে ব্যাংকের ওপর ঋণনির্ভরতা বেড়েছে। ২০২২ সালের শেষ থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এই আমানতের ৮৭ শতাংশ সরকার ঋণ হিসেবে নিয়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলারে। প্রশ্ন হলো, সরকার কেন এত বেশি ঋণ নেয় এবং কেন সুদে-আসলে তা পরিশোধ করতে হয়। একজন উপদেষ্টা বলেছেন, সরকার ঋণ নেয় বকেয়া ঋণ পরিশোধের জন্য। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের ৬৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে পূর্বের বকেয়া ঋণ পরিশোধে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেছেন, ২০২৫-২৬ সালের বাজেট হবে ঋণের দুষ্টচক্র ভাঙার বাজেট। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে সরকার দেশি ও বৈদেশিক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ঋণ কর্মসূচির আকার এখন ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার। পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। এরপর ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়া যায়নি।

কর্মবিহীন প্রবৃদ্ধি: দেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপ্রাপ্তদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশ। তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার দেশের সার্বিক বেকারত্বের দ্বিগুণ। অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে নতুন তরুণদের প্রবেশের তুলনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি পিছিয়ে ছিল। কৃষি-সংযুক্ত ভ্যালুচেইন ও ক্ষুদ্র উৎপাদন শিল্পের মতো শ্রমঘন খাতে বিনিয়োগ দুর্বল ছিল। অপর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা জালের সঙ্গে মিলিয়ে এটি দারিদ্র?্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চরম দারিদ্র?্যরে হার ৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বৈদেশিক শ্রমবাজারে প্রবাসী কর্মসংস্থানও পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি। নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, উন্নত প্রশিক্ষণ ও অভিবাসীদের সুরক্ষায় এখনো ঘাটতি রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি: উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যে আমদানি শুল্ক কমানো, এলসি-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা শিথিল এবং খাদ্য ও সার আমদানিকারকদের ঋণ সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে সরবরাহজনিত সমস্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে থাকার পর তা কমতে শুরু করেছে। জুলাই ২০২৪-এ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের জুনে নেমে আসে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে।

রপ্তানি মন্থরতা: রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতির কারণে টানা চার মাস রপ্তানি আয় কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পাঁচ মাসে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ শতাংশেরও কম। রপ্তানি খাতের কাঁচামাল আমদানি কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। ফলে ভবিষ্যতে রপ্তানি আয় আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। তবে শিল্পযন্ত্রপাতি আমদানি বেড়েছে, যা আগামীতে শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এলডিসি উত্তরণে সংশয়: ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের কথা থাকলেও ২০২৫ সালে এসে ব্যবসায়ীরা এই উত্তরণ অন্তত তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সরকার এই উদ্বেগ জাতিসংঘকে জানিয়েছে এবং স্বাধীন মূল্যায়নের অনুরোধ করেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণ পিছিয়ে দেয়ার আবেদন করা হয়নি।

জাল টাকার বিস্তার: জাল টাকার বিস্তার অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। বাজারে নকল টাকা প্রবেশ করলে মুদ্রার প্রতি আস্থা কমে যায়, দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল হয় এবং বৈধ লেনদেন ব্যাহত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি নকল মুদ্রার বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন। এটি একটি সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক চক্রান্ত, যার লক্ষ্য অর্থনীতি বিনাশ ও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি।

এডিপি বাস্তবায়ন মন্থর: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পাঁচ মাসে উন্নয়নব্যয় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৩ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের মাত্র ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় ছিল ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি কমেছে।

বিনিয়োগ স্থবিরতা: বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ আয়োজন করা হলেও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আসেনি। বেসরকারি খাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগও স্থবির। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

২০২৫ সালে অনিশ্চয়তা, সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দুই মাসের কম সময়ে দেশ একটি জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করবে, সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে-এটাই প্রত্যাশা।

[লেখক: সাবেক ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা]

back to top