জাঁ-নেসার ওসমান
‘বিয়ার রাতে বিড়াল মারেন বা আকিকার রাইতেই বিড়াল মারেন, যখনই বিড়াল মারেন জীবপ্রেমীরা কিন্তু আপনেরে মাইরালবো। কয়া দিলাম ব্যাস!’
‘আরে ভাই তোর জীবপ্রেমী বা জানোয়ার প্রেমিক তারা যতই রাগ করুক, বিয়ের রাতে বিড়াল মারা মানেতো সত্যিকার অর্থে মার্ডার মানে বিড়াল হত্যা না। এইটার একটা রূপক অর্থ আছে।’
‘কোইবেন বিয়ার রাতে বিড়াল মারো বা আকিকার রাইতেই বিড়াল মারো, আবার কোইবেন আক্ষরিক অর্থে বিড়াল মাইর না, এইটার একটা ভিন্ন অর্থ আছে! বাঙলা একাডেমি কি বাংলা ভাষার জেন-জি করেনি? কোইবেন মারো, আসলে এইডার মানে মরণ না, তায়লে পাবলিকে যাইবো কোই?’
‘ঘটনাটা ‘বিয়ার রাতে বিড়াল মারো বা আকিকার রাইতেই বিড়াল মারো, অর্থ হচ্ছে যে যা করতে চাও তা শুরুতেই করা উচিত পরে করতে চাইলে তা হয় না।”
‘ওম্মা এইডাতো ব্যেবাগেই জানে, যে ‘মর্নিং শো’উজ দ্য ডে’ মাইনে সকালেই বোঝা যায় যে সারাদিন কেমন যাইবো। মাইনে শুরুটা দেইখাই বোঝা যায় যে কাজের শেষ ক্যেমন হোইবো। কিন্তু এর মইধ্যে ‘বিয়ার রাতে বিড়াল মারনের কী সম্পর্ক?”
‘শোন গল্পটা হচ্ছে যে, একবার একরাজার তিন মেয়ের বিয়ের জন্য ঘোষণা দিলেন, “যে যুবক বিয়ার পর প্রতিদিন নিজের মাথায় বৌয়ের মখমলের তৈরি একশ জুতার বাড়ি সহ্য করবে তার সাথে রাজকন্যার বিয়ে দিবেন।’
‘বৌয়ের হাতে একশ জুতোর বাড়ি, কোনো পুরুষ আর রাজি হয় না। তখন রাজার পদাতিক সৈনকদের মাঝে ঝাকড়া বাবরি চুলওয়ালা তিন ভাই ঠিক করলো যে, মখমলের তৈরি নরম জুতোর বাড়ি দিলে কি আর হবে ব্যাথাতো লাগবে না, তাহলে রাজকন্যাদের বিয়ে করলেই রাজার জামাই! আর কী চাই। তিন জন তখন রাজার মখমলের তৈরি একশ জুতার বাড়ি সহ্য করার শর্তে তিন ভাই তিন বোনকে বিয়ে করলো।’
‘সৈনিকরা মখমলের তৈরি একশ জুতার বাড়ি সহ্য করার শর্তে বিয়া করলো?’
‘আরে বুঝিস না টাকা আর ক্ষমতার লোভ সব যুগেই সব সময়ই কিছু না কিছ মানুষের মজ্জাগত।’
‘তারপর কী হোইলো? জামাইরা কি বৌ’য়ের মখমলের তৈরি এক’শ জুতার বাড়ি সহ্য করলো?’
‘আরে শোন না। বিয়ের এক বছর পর বিয়ে বার্ষিকীতে তিন ভাই তিন বৌ’ ডিনারে এসে দ্যেখে যে বড় দুই ভাই প্রতিদিন একশ জুতোর বাড়ি খেয়ে মাথায় টাক, আর ছোট ভায়ের মাথা ভর্তি কালো শ্যাম্পুকরা ঘন কুচ কুচে বাহারি বাবরি চুল। দুই ভাই অবাক! কিরে, একশ জুতার বাড়ি খেয়েও ছোটর মাথায় এমনি শ্যাম্পুকরা ঘন কুচ কুচে বাহারি বাবরি চুল! বড় দুই ভাই জিজ্ঞেস করলো বিষয়টা কী?”
‘ছোট মুচকি হেঁসে বলল, বিয়ের রাতেই বিড়াল মেরেছি।”
‘বিয়ের রাতে বিড়াল! বিয়ের রাতেই বিড়াল মারা মানে কী? বিড়াল মারলো আর বাবরি চুল অক্ষত! আশ্চর্য্য! ভাই কথাটা খুলে বল। বিয়ের রাতেই বিড়াল মারা মানে কী?’
‘ছোট হেসে বলে, সিম্পেল, বিয়ের রাতে আমরা ডিনারে বসেছি, রাজকুমারীর পোষা মেনি বিড়ালটা পায়ের কাছে ঘুরছে আর ম্যাও ম্যাও করছে। একবার খাবারের জন্য আমার পায়ে আঁচড় দিলো। আমি বিরক্ত হয়ে বিড়ালটাকে বললাম, একবার হলো।’
‘তারপর, তারপর...দু ইবড় ভাই অধীর আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করলো।’
‘তারপর বিড়ালটা খাবারের জন্য আমার পায়ে আবার আঁচড় দিলো। আমি বিড়ালকে বললাম দু’বার হলো। বিড়াল কি কিছু বোঝে, ব্যাটা আবার খাবারের জন্য আমার পায়ে আঁচড় দিলো। ব্যাস সাথে সাথে বিড়ালকে বললাম, তিনবার হলো, বলেই কোমর থেকে তলোয়ার বের করে এককোপ, ব্যাস বিড়ালটা ‘ম্যা’ করে, দুই টুকরা। রাজকুমারী তখন আমাকে জীবপ্রেম নিয়ে, এক আস্ত লেকচার দিলো। তারপর রাজকুমারী বলল, হাঁটুগেড়ে বস আমি তোমার মাথায় জুতা মারবো।”
‘তোকে মখমলের তৈরি একশ জুতার বাড়ি মারলো?”
“আরে না, রাজকুমারী যেই বলল, হাঁটুগেড়ে বস আমি তোমার মাথায় জুতা মারবো। আমি তখন শুধু রাজকুমারীর দিকে তাকিয়ে ঠা-া গলায় বললাম, “একবার হলো। সেই থেকে রাজকুমারী আর কোনোদিনও মাথায় জুতা মারর কথা ভুলেও উচ্চারণ করে না।”
‘ আরে হালায় গল্পটা দারুণতো!’
‘তাই বলছিলাম বুঝলি ভাই, বিড়াল মারলে বিয়ের প্রথম রাতেই মারতে হয়। এই যে তোদের নিজেদের মধ্যে বাঙালি গয়ে বাঙালি খুন, এটা যদি তোরা না থামাস তাহলে কী করে চলবে!”
‘তার মানে আপনে কী বলচেন যে, আমরা সব বাঙালিরা যে খানে পামু যখন পামু, খালি ধরি ধরি বিড়াল মারমু?”
‘ধাৎ বাঙাল তুই বিড়াল মারবি কেন? তুই এই যে, নানারকম হেফাজতে নানারকম মুত্যু হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাক, ষ্ট্রোক, সাডেন ডেথ, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এই সব বন্ধ করতে হলে তোদের সবাইকে বিয়ের প্রথম রাতেই বিড়াল মারতে হবে।’
‘কুড়ি কুটি লুক, কুড়ি কুটি দেশবাসী, ব্যেবাগরে যদি বিয়ার প্রেথম রাইতে বিড়াল মারতে হয় তায়লে এ্যতো বিড়াল পাইবো কোই?”
‘তুই থাক তোর আক্ষরিক অর্থের বিড়াল নিয়ে, আমি চললাম।’
‘ভাইনা ভালা, আপনে যাওনের আগে বিড়াল মারনের জন্য আমারে একটা জীবপ্রেমীদের সার্টিফিকেট দিয়ে যাবেন যে।’
‘ধুর নিকুচি করি তোর পরিবেশবাদীদের ছাড়পত্রের...’
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
জাঁ-নেসার ওসমান
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
‘বিয়ার রাতে বিড়াল মারেন বা আকিকার রাইতেই বিড়াল মারেন, যখনই বিড়াল মারেন জীবপ্রেমীরা কিন্তু আপনেরে মাইরালবো। কয়া দিলাম ব্যাস!’
‘আরে ভাই তোর জীবপ্রেমী বা জানোয়ার প্রেমিক তারা যতই রাগ করুক, বিয়ের রাতে বিড়াল মারা মানেতো সত্যিকার অর্থে মার্ডার মানে বিড়াল হত্যা না। এইটার একটা রূপক অর্থ আছে।’
‘কোইবেন বিয়ার রাতে বিড়াল মারো বা আকিকার রাইতেই বিড়াল মারো, আবার কোইবেন আক্ষরিক অর্থে বিড়াল মাইর না, এইটার একটা ভিন্ন অর্থ আছে! বাঙলা একাডেমি কি বাংলা ভাষার জেন-জি করেনি? কোইবেন মারো, আসলে এইডার মানে মরণ না, তায়লে পাবলিকে যাইবো কোই?’
‘ঘটনাটা ‘বিয়ার রাতে বিড়াল মারো বা আকিকার রাইতেই বিড়াল মারো, অর্থ হচ্ছে যে যা করতে চাও তা শুরুতেই করা উচিত পরে করতে চাইলে তা হয় না।”
‘ওম্মা এইডাতো ব্যেবাগেই জানে, যে ‘মর্নিং শো’উজ দ্য ডে’ মাইনে সকালেই বোঝা যায় যে সারাদিন কেমন যাইবো। মাইনে শুরুটা দেইখাই বোঝা যায় যে কাজের শেষ ক্যেমন হোইবো। কিন্তু এর মইধ্যে ‘বিয়ার রাতে বিড়াল মারনের কী সম্পর্ক?”
‘শোন গল্পটা হচ্ছে যে, একবার একরাজার তিন মেয়ের বিয়ের জন্য ঘোষণা দিলেন, “যে যুবক বিয়ার পর প্রতিদিন নিজের মাথায় বৌয়ের মখমলের তৈরি একশ জুতার বাড়ি সহ্য করবে তার সাথে রাজকন্যার বিয়ে দিবেন।’
‘বৌয়ের হাতে একশ জুতোর বাড়ি, কোনো পুরুষ আর রাজি হয় না। তখন রাজার পদাতিক সৈনকদের মাঝে ঝাকড়া বাবরি চুলওয়ালা তিন ভাই ঠিক করলো যে, মখমলের তৈরি নরম জুতোর বাড়ি দিলে কি আর হবে ব্যাথাতো লাগবে না, তাহলে রাজকন্যাদের বিয়ে করলেই রাজার জামাই! আর কী চাই। তিন জন তখন রাজার মখমলের তৈরি একশ জুতার বাড়ি সহ্য করার শর্তে তিন ভাই তিন বোনকে বিয়ে করলো।’
‘সৈনিকরা মখমলের তৈরি একশ জুতার বাড়ি সহ্য করার শর্তে বিয়া করলো?’
‘আরে বুঝিস না টাকা আর ক্ষমতার লোভ সব যুগেই সব সময়ই কিছু না কিছ মানুষের মজ্জাগত।’
‘তারপর কী হোইলো? জামাইরা কি বৌ’য়ের মখমলের তৈরি এক’শ জুতার বাড়ি সহ্য করলো?’
‘আরে শোন না। বিয়ের এক বছর পর বিয়ে বার্ষিকীতে তিন ভাই তিন বৌ’ ডিনারে এসে দ্যেখে যে বড় দুই ভাই প্রতিদিন একশ জুতোর বাড়ি খেয়ে মাথায় টাক, আর ছোট ভায়ের মাথা ভর্তি কালো শ্যাম্পুকরা ঘন কুচ কুচে বাহারি বাবরি চুল। দুই ভাই অবাক! কিরে, একশ জুতার বাড়ি খেয়েও ছোটর মাথায় এমনি শ্যাম্পুকরা ঘন কুচ কুচে বাহারি বাবরি চুল! বড় দুই ভাই জিজ্ঞেস করলো বিষয়টা কী?”
‘ছোট মুচকি হেঁসে বলল, বিয়ের রাতেই বিড়াল মেরেছি।”
‘বিয়ের রাতে বিড়াল! বিয়ের রাতেই বিড়াল মারা মানে কী? বিড়াল মারলো আর বাবরি চুল অক্ষত! আশ্চর্য্য! ভাই কথাটা খুলে বল। বিয়ের রাতেই বিড়াল মারা মানে কী?’
‘ছোট হেসে বলে, সিম্পেল, বিয়ের রাতে আমরা ডিনারে বসেছি, রাজকুমারীর পোষা মেনি বিড়ালটা পায়ের কাছে ঘুরছে আর ম্যাও ম্যাও করছে। একবার খাবারের জন্য আমার পায়ে আঁচড় দিলো। আমি বিরক্ত হয়ে বিড়ালটাকে বললাম, একবার হলো।’
‘তারপর, তারপর...দু ইবড় ভাই অধীর আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করলো।’
‘তারপর বিড়ালটা খাবারের জন্য আমার পায়ে আবার আঁচড় দিলো। আমি বিড়ালকে বললাম দু’বার হলো। বিড়াল কি কিছু বোঝে, ব্যাটা আবার খাবারের জন্য আমার পায়ে আঁচড় দিলো। ব্যাস সাথে সাথে বিড়ালকে বললাম, তিনবার হলো, বলেই কোমর থেকে তলোয়ার বের করে এককোপ, ব্যাস বিড়ালটা ‘ম্যা’ করে, দুই টুকরা। রাজকুমারী তখন আমাকে জীবপ্রেম নিয়ে, এক আস্ত লেকচার দিলো। তারপর রাজকুমারী বলল, হাঁটুগেড়ে বস আমি তোমার মাথায় জুতা মারবো।”
‘তোকে মখমলের তৈরি একশ জুতার বাড়ি মারলো?”
“আরে না, রাজকুমারী যেই বলল, হাঁটুগেড়ে বস আমি তোমার মাথায় জুতা মারবো। আমি তখন শুধু রাজকুমারীর দিকে তাকিয়ে ঠা-া গলায় বললাম, “একবার হলো। সেই থেকে রাজকুমারী আর কোনোদিনও মাথায় জুতা মারর কথা ভুলেও উচ্চারণ করে না।”
‘ আরে হালায় গল্পটা দারুণতো!’
‘তাই বলছিলাম বুঝলি ভাই, বিড়াল মারলে বিয়ের প্রথম রাতেই মারতে হয়। এই যে তোদের নিজেদের মধ্যে বাঙালি গয়ে বাঙালি খুন, এটা যদি তোরা না থামাস তাহলে কী করে চলবে!”
‘তার মানে আপনে কী বলচেন যে, আমরা সব বাঙালিরা যে খানে পামু যখন পামু, খালি ধরি ধরি বিড়াল মারমু?”
‘ধাৎ বাঙাল তুই বিড়াল মারবি কেন? তুই এই যে, নানারকম হেফাজতে নানারকম মুত্যু হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাক, ষ্ট্রোক, সাডেন ডেথ, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এই সব বন্ধ করতে হলে তোদের সবাইকে বিয়ের প্রথম রাতেই বিড়াল মারতে হবে।’
‘কুড়ি কুটি লুক, কুড়ি কুটি দেশবাসী, ব্যেবাগরে যদি বিয়ার প্রেথম রাইতে বিড়াল মারতে হয় তায়লে এ্যতো বিড়াল পাইবো কোই?”
‘তুই থাক তোর আক্ষরিক অর্থের বিড়াল নিয়ে, আমি চললাম।’
‘ভাইনা ভালা, আপনে যাওনের আগে বিড়াল মারনের জন্য আমারে একটা জীবপ্রেমীদের সার্টিফিকেট দিয়ে যাবেন যে।’
‘ধুর নিকুচি করি তোর পরিবেশবাদীদের ছাড়পত্রের...’
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]