ফকর উদ্দিন মানিক
একসময় গণমাধ্যম ছিল সমাজের জীবন্ত নদী। প্রতিটি শব্দ ছিল জলরাশি, প্রতিটি প্রতিবেদন ছিল স্রোতের ঢেউ। মানুষের মনন জাগ্রত হতো, সত্যের বীজ বপন হতো, ন্যায়বিচারের বাতাস বইতো। কিন্তু আজ সেই নদীকে ধরেছে আগুনের শিখা, আর নীরব ধোঁয়া ঢেকে দিয়েছে স্বচ্ছতার জলের স্বচ্ছতা।
ডিসেম্বর ২০২৫-এর এক অন্ধকার রাতে, ঢাকার দুটি শীর্ষ সংবাদপত্র প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে হামলা হয়। কম্পিউটার, ক্যামেরা, প্রিন্টিং প্রেস-সব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাংবাদিকরা ছাদে আটকা পড়ে, ধোঁয়া আর আতঙ্কে দমবন্ধ হয়ে যায়। এটি কোনো সাধারণ আগুন নয়; এটি হলো অজ্ঞতার আগুন, ভীতি ও দমনকামী শক্তির প্রতীক।
স্মরণ করো, গণমাধ্যম যেমন নদী, আগুন যেমন বন্যা। বন্যা নদীকে অচল করতে পারে, কিন্তু নদী তার স্রোত ধরে রাখে। বন্যার পানি যতই উথালপাতাল করুক, নদী ঠিকই তার পথ খুঁজে নেবে। এভাবেই, আগুন যতই ভয়ংকর হোক, কলমের আলো কখনো নেভে না।
সাংবাদিকরা মূলত হলো গাছের মূলে লুকানো শিকড়। আগুন গাছের পাতা ও কাণ্ডকে পুড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু শিকড় অটল থাকে। শিকড় থেকে নতুন কাণ্ড, নতুন পাতা জন্মায়। আগুন-সন্ত্রাসীরা যদি চায় সাংবাদিকদের থমকে দেবে, তারা ভুলে যায়-সত্যের শিকড় কখনো নেভে না।
এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হিংস্র শক্তি কাজ করেছে। তবে তারা বুঝতে পারছে না-মানব মনন, ন্যায়ের আকাক্সক্ষা, এবং সত্যের অনুসন্ধান কোনো আগুনে নিভে যায় না। সাংবাদিকরা দাঁড়িয়ে আছেন কলম হাতে, জনগণের জানার অধিকার রক্ষায়। প্রতিটি প্রতিবেদন হলো আগুনের বিরুদ্ধে একটি ঢেউ, যা ছাইয়ের মধ্যেও আলো জ্বালায়।
এই আগুন শুধু কাঠামো ও কাগজ ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এটি মানুষের বিশ্বাস, নৈতিক চেতনা এবং গণতন্ত্রের আত্মার ওপর আঘাত করে। কিন্তু গণমাধ্যম নিভে না। ধোঁয়া যতই ঘন হোক, কলমের আলো মানুষের মনে প্রশ্ন জাগায়, সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং ন্যায়ের পথকে দৃঢ় করে।
জনগণের চোখে, আগুন সন্ত্রাসীরা হলো অন্ধকারের প্রতীক। তারা সত্যকে আচ্ছন্ন করতে চায়, গণতান্ত্রিক চেতনা দমন করতে চায়। কিন্তু সত্য একটি দ্যুতি, যা ধোঁয়া ও আগুন ভেদ করে মানুষের মনে পৌঁছায়। সাংবাদিকরা কলম ধরে থাকেন, কারণ তারা জানেন-সত্যের আলো কখনো নেভে না।
সত্যিকার অর্থে সাংবাদিকরা হলো বাতিঘরের বাতি। আগুন-সন্ত্রাসীরা যদি দেয়াল ভেঙে দেয়, বাতি নেভাতে চায়, তারপরও বাতির আলো বাইরে পৌঁছায়। দূর থেকে মানুষ দেখবে আলো, পথ খুঁজবে ন্যায়ের পথে। আগুন-সন্ত্রাসীরা হয়তো বাইরে অন্ধকার ছড়াবে, কিন্তু বাতির আলো মানুষের মনকে আলোকিত করবে।
এই আগুন শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে না পারলে, সমাজ অন্ধকারে হারায়। আগুন-সন্ত্রাসীরা যে কলমকে ভাঙতে চায়, তারা ভুলে যায়-মানুষের চেতনা নিভে যায় না। এই হামলা শুধু ভবন ভাঙা নয়, এটি গণতন্ত্র, স্বাধীন সংবাদ পরিবেশ এবং মানুষের জানার অধিকারকে নিছিদ্র আঘাত করেছে।
গণমাধ্যম নিভে যেতে পারে না, কারণ এটি মানুষের অন্তর্দৃষ্টি, নৈতিক বোধ এবং সমাজের রক্তধারায় প্রবাহিত হয়। প্রতিটি শিখা, প্রতিটি ধোঁয়া, প্রতিটি হামলা সাংবাদিকদের দৃঢ় করে। তারা কলম ধরেন-ধোঁয়ার মধ্যেও-কারণ তারা জানেন সত্য মানুষের মনে আলো জ্বালায়।
আগুন-সন্ত্রাসীরা যতই আগুন ছড়াক, গণমাধ্যমের কলম নেভে না। ধোঁয়ায় ঢাকা কলম মানুষের অন্তর্দৃষ্টি, নৈতিক বোধ এবং গণতান্ত্রিক চেতনা জাগ্রত রাখে। আগুনের ছাই থেকে নতুন আলো জন্মায়-প্রতিটি প্রতিবেদন, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি সাংবাদিক একটি নতুন আলো জ্বালায়।
গণমাধ্যমের ওপর আগুনের ছাই শুধুই নিস্তেজ নয়; এটি সত্যের জন্য নতুন লড়াই, ন্যায়ের জন্য নতুন আশা, এবং সমাজের জন্য নতুন আলো। আগুন-সন্ত্রাসীরা ভেবেছে তারা নিভিয়ে দেবে কলমকে, কিন্তু ভুলে গেছে-মানুষের মননে সত্যের আলো কখনো নেভে না।
আগুনের ছাইতে কলম দাঁড়িয়ে। এই কলম কোনো ভয় পায় না। প্রতিটি শিখা তাকে আরও দৃঢ় করে। আগুন পুড়িয়ে দিতে পারে কাগজ, কিন্তু সত্য, ন্যায় ও মানবিক বোধ নিভে যায় না। সাংবাদিকরা জানেনÑকাগজ পুড়ে যেতে পারে, কিন্তু আলো নেভে না।
শেষরেখায়, ধোঁয়ায় ঢাকা কলম হলো অমর আলোর প্রতীক, যা কোনো আগুন, হুমকি বা সহিংসতা দমন করতে পারে না। এটি মানুষের চেতনা, নৈতিক বোধ, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং সত্য অনুসন্ধানের শক্তি রক্ষা করে। আগুন-সন্ত্রাসীরা যতই শিখা ছড়াক, কলম দাঁড়িয়ে আছে এবং দাঁড়িয়ে থাকবে চিরকাল।
[লেখক: প্রাবন্ধিক]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
ফকর উদ্দিন মানিক
মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
একসময় গণমাধ্যম ছিল সমাজের জীবন্ত নদী। প্রতিটি শব্দ ছিল জলরাশি, প্রতিটি প্রতিবেদন ছিল স্রোতের ঢেউ। মানুষের মনন জাগ্রত হতো, সত্যের বীজ বপন হতো, ন্যায়বিচারের বাতাস বইতো। কিন্তু আজ সেই নদীকে ধরেছে আগুনের শিখা, আর নীরব ধোঁয়া ঢেকে দিয়েছে স্বচ্ছতার জলের স্বচ্ছতা।
ডিসেম্বর ২০২৫-এর এক অন্ধকার রাতে, ঢাকার দুটি শীর্ষ সংবাদপত্র প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে হামলা হয়। কম্পিউটার, ক্যামেরা, প্রিন্টিং প্রেস-সব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাংবাদিকরা ছাদে আটকা পড়ে, ধোঁয়া আর আতঙ্কে দমবন্ধ হয়ে যায়। এটি কোনো সাধারণ আগুন নয়; এটি হলো অজ্ঞতার আগুন, ভীতি ও দমনকামী শক্তির প্রতীক।
স্মরণ করো, গণমাধ্যম যেমন নদী, আগুন যেমন বন্যা। বন্যা নদীকে অচল করতে পারে, কিন্তু নদী তার স্রোত ধরে রাখে। বন্যার পানি যতই উথালপাতাল করুক, নদী ঠিকই তার পথ খুঁজে নেবে। এভাবেই, আগুন যতই ভয়ংকর হোক, কলমের আলো কখনো নেভে না।
সাংবাদিকরা মূলত হলো গাছের মূলে লুকানো শিকড়। আগুন গাছের পাতা ও কাণ্ডকে পুড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু শিকড় অটল থাকে। শিকড় থেকে নতুন কাণ্ড, নতুন পাতা জন্মায়। আগুন-সন্ত্রাসীরা যদি চায় সাংবাদিকদের থমকে দেবে, তারা ভুলে যায়-সত্যের শিকড় কখনো নেভে না।
এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হিংস্র শক্তি কাজ করেছে। তবে তারা বুঝতে পারছে না-মানব মনন, ন্যায়ের আকাক্সক্ষা, এবং সত্যের অনুসন্ধান কোনো আগুনে নিভে যায় না। সাংবাদিকরা দাঁড়িয়ে আছেন কলম হাতে, জনগণের জানার অধিকার রক্ষায়। প্রতিটি প্রতিবেদন হলো আগুনের বিরুদ্ধে একটি ঢেউ, যা ছাইয়ের মধ্যেও আলো জ্বালায়।
এই আগুন শুধু কাঠামো ও কাগজ ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এটি মানুষের বিশ্বাস, নৈতিক চেতনা এবং গণতন্ত্রের আত্মার ওপর আঘাত করে। কিন্তু গণমাধ্যম নিভে না। ধোঁয়া যতই ঘন হোক, কলমের আলো মানুষের মনে প্রশ্ন জাগায়, সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং ন্যায়ের পথকে দৃঢ় করে।
জনগণের চোখে, আগুন সন্ত্রাসীরা হলো অন্ধকারের প্রতীক। তারা সত্যকে আচ্ছন্ন করতে চায়, গণতান্ত্রিক চেতনা দমন করতে চায়। কিন্তু সত্য একটি দ্যুতি, যা ধোঁয়া ও আগুন ভেদ করে মানুষের মনে পৌঁছায়। সাংবাদিকরা কলম ধরে থাকেন, কারণ তারা জানেন-সত্যের আলো কখনো নেভে না।
সত্যিকার অর্থে সাংবাদিকরা হলো বাতিঘরের বাতি। আগুন-সন্ত্রাসীরা যদি দেয়াল ভেঙে দেয়, বাতি নেভাতে চায়, তারপরও বাতির আলো বাইরে পৌঁছায়। দূর থেকে মানুষ দেখবে আলো, পথ খুঁজবে ন্যায়ের পথে। আগুন-সন্ত্রাসীরা হয়তো বাইরে অন্ধকার ছড়াবে, কিন্তু বাতির আলো মানুষের মনকে আলোকিত করবে।
এই আগুন শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে না পারলে, সমাজ অন্ধকারে হারায়। আগুন-সন্ত্রাসীরা যে কলমকে ভাঙতে চায়, তারা ভুলে যায়-মানুষের চেতনা নিভে যায় না। এই হামলা শুধু ভবন ভাঙা নয়, এটি গণতন্ত্র, স্বাধীন সংবাদ পরিবেশ এবং মানুষের জানার অধিকারকে নিছিদ্র আঘাত করেছে।
গণমাধ্যম নিভে যেতে পারে না, কারণ এটি মানুষের অন্তর্দৃষ্টি, নৈতিক বোধ এবং সমাজের রক্তধারায় প্রবাহিত হয়। প্রতিটি শিখা, প্রতিটি ধোঁয়া, প্রতিটি হামলা সাংবাদিকদের দৃঢ় করে। তারা কলম ধরেন-ধোঁয়ার মধ্যেও-কারণ তারা জানেন সত্য মানুষের মনে আলো জ্বালায়।
আগুন-সন্ত্রাসীরা যতই আগুন ছড়াক, গণমাধ্যমের কলম নেভে না। ধোঁয়ায় ঢাকা কলম মানুষের অন্তর্দৃষ্টি, নৈতিক বোধ এবং গণতান্ত্রিক চেতনা জাগ্রত রাখে। আগুনের ছাই থেকে নতুন আলো জন্মায়-প্রতিটি প্রতিবেদন, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি সাংবাদিক একটি নতুন আলো জ্বালায়।
গণমাধ্যমের ওপর আগুনের ছাই শুধুই নিস্তেজ নয়; এটি সত্যের জন্য নতুন লড়াই, ন্যায়ের জন্য নতুন আশা, এবং সমাজের জন্য নতুন আলো। আগুন-সন্ত্রাসীরা ভেবেছে তারা নিভিয়ে দেবে কলমকে, কিন্তু ভুলে গেছে-মানুষের মননে সত্যের আলো কখনো নেভে না।
আগুনের ছাইতে কলম দাঁড়িয়ে। এই কলম কোনো ভয় পায় না। প্রতিটি শিখা তাকে আরও দৃঢ় করে। আগুন পুড়িয়ে দিতে পারে কাগজ, কিন্তু সত্য, ন্যায় ও মানবিক বোধ নিভে যায় না। সাংবাদিকরা জানেনÑকাগজ পুড়ে যেতে পারে, কিন্তু আলো নেভে না।
শেষরেখায়, ধোঁয়ায় ঢাকা কলম হলো অমর আলোর প্রতীক, যা কোনো আগুন, হুমকি বা সহিংসতা দমন করতে পারে না। এটি মানুষের চেতনা, নৈতিক বোধ, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং সত্য অনুসন্ধানের শক্তি রক্ষা করে। আগুন-সন্ত্রাসীরা যতই শিখা ছড়াক, কলম দাঁড়িয়ে আছে এবং দাঁড়িয়ে থাকবে চিরকাল।
[লেখক: প্রাবন্ধিক]