গাজী তারেক আজিজ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান বরাবরই বিতর্কিত, দ্বিধাগ্রস্ত এবং কৌশলনির্ভর বলে মনে করা হয়ে থাকে। ’৭১-পরবর্তী সময় থেকে দলটি একটানা রাজনৈতিক সংকট, সামাজিক প্রত্যাখ্যান এবং রাষ্ট্রীয় পর্যবেক্ষণের ভেতর দিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান বরাবরই বিতর্কিত, দ্বিধাগ্রস্ত এবং কৌশলনির্ভর বলে মনে করা হয়ে থাকে। ’৭১-পরবর্তী সময় থেকে দলটি একটানা রাজনৈতিক সংকট, সামাজিক প্রত্যাখ্যান এবং রাষ্ট্রীয় পর্যবেক্ষণের ভেতর দিয়ে গেছে। কখনো ক্ষমতার অংশীজন হয়েছে, কখনো নিষিদ্ধ হয়েছে, আবার কখনো নিষেধাজ্ঞার ছায়াতেই রাজনীতি করেছে। এই দীর্ঘ অভিযাত্রায় জামায়াতের একটি বৈশিষ্ট্য বারবার সামনে এসেছে। নিজেদের সরাসরি উপস্থিতির চেয়ে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেয়া। সাম্প্রতিক সময়ে যাকে ‘অক্টোপাস পলিসি’ নামে চিহ্নিত করা যেতে পারে
কখনো ক্ষমতার অংশীজন হয়েছে, কখনো নিষিদ্ধ হয়েছে, আবার কখনো নিষেধাজ্ঞার ছায়াতেই রাজনীতি করেছে। এই দীর্ঘ অভিযাত্রায় জামায়াতের একটি বৈশিষ্ট্য বারবার সামনে এসেছে। নিজেদের সরাসরি উপস্থিতির চেয়ে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেয়া। সাম্প্রতিক সময়ে যাকে ‘অক্টোপাস পলিসি’ নামে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
অক্টোপাস যেমন একসঙ্গে বহু শুঁড় ছড়িয়ে শিকার ধরে, তেমনি জামায়াতও নানামুখী রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সংগঠনকেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্মে একযোগে উপস্থিত থেকে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ বহুদিনের। প্রশ্ন হলো, এই কৌশল বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটা সহায়ক হবে? নাকি এই কৌশলই দলটিকে আরও বিতর্কের কেন্দ্রে ঠেলে দিচ্ছে?
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে জামায়াত কার্যত এক দীর্ঘ প্রতিরক্ষামূলক রাজনীতির ভেতর দিয়ে গেছে। স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের দায়, যুদ্ধাপরাধের বিচার, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে দলটি কখনোই স্বাভাবিক ধারায় রাজনীতি করতে পারেনি। তবে এটাও সত্য, বিএনপির সঙ্গে জোট রাজনীতির মাধ্যমে জামায়াত একাধিকবার ক্ষমতার ভাগীদার হয়েছে এবং প্রশাসনিক ও সামাজিক কিছু জায়গায় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে পেরেছে, যা ছিল ধারাবাহিক। তবে দলটির নজর জনসমর্থনের চেয়ে কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর ওপরই ছিল, যা বরাবরই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ছেদও পড়েছে। যেমন সাবেক শিবির জামায়াতের সাইলেন্ট সাপোর্টার ও পৃষ্ঠপোষক হলেও, তৎকালীন সময়ে নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা ও সংস্কারের দাবি তুলে বেশ কিছু নেতা পদত্যাগ করেন। যদিও সেই সময় যতটা না আলোচনার জন্ম দিয়েছে, ঠিক ততটাই বিস্মিত করেছে বিশ্লেষকদের। কারণ হিসেবে জানা যায় শিবির থেকে সরাসরি জামায়াতে যোগদান করে রাজনীতি না করলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। সে হিসেবে দেশজুড়ে নতুন আলোচনার ঝড় তুলল রাজনৈতিক মহলে! তবে বিপরীতে দাঁড়িয়ে অনেকেই ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে বলে দিচ্ছিলেন যে, এটা জামায়াতের আরেকটি রাজনৈতিক কৌশলের অংশমাত্র। তখনও অনেকেই নড়েচড়ে বসলেন, আর বলতে লাগলেন, তারা সংস্কারপন্থী। আর তাই সংস্কারের দাবিতে পদত্যাগ করেছেন। তার অব্যবহিত পরেই মজিবুর রহমান মঞ্জু, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তারা দল গড়লেন আমার বাংলাদেশ পার্টি, যা সংক্ষেপে এবি পার্টি নামেই বেশি পরিচিত।
আবার জামায়াত বা সাবেক শিবিরের নেতারা আড়ালে আবডালে দলটির বিরুদ্ধে বলে নিজেদের নিরপেক্ষ হিসেবে প্রমাণ করায় ব্যস্ত হয়ে, অনেকেই জামায়াতে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ত থেকেও অনেক ভূঁইফোড় নামসর্বস্ব দলে যোগ দিয়ে পদ-পদবি বাগিয়ে নিলেন। তেমনটা দেখা যেতে থাকে, জুলাই আন্দোলনের আগে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন। তার বিশেষ কারণ অনুসন্ধান করেও জানা যায়, জামায়াতকে হয়তো নিষিদ্ধ করা হতে পারে। আর তাই পূর্বানুমান করে বিভিন্ন দলে ভিড়ে অবস্থান টিকিয়ে রাখা। এদিকে কিংসপার্টি হিসেবে দলগঠনের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে সেই এনসিপিও জামায়াত জোটে যাওয়ায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। জামায়াত নামক দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা নিজ দলে ফিরতে শুরু করে। দলটির নেতাদের রাজনীতিতে টিকে থাকার এই কৌশল এখন বেশ আলোচনায়। এরই মধ্যে আরও কৌশল হিসেবে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন দল, উপদল (নাম ও ব্যানার সর্বস্ব সংগঠন), জামায়াতের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মী এবং নয়া দল এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব একবার বিএনপি জোট আবার জামায়াত জোটে যোগ দেয়ার কথা বলে বাজার যাচাইয়ের কৌশল নিয়ে শেষমেষ জামায়াতে যোগ দেয়ায় ঘটে মহাবিস্ফোরণ! অথচ জামায়াত ও বিএনপিকে নিয়ে ক্রমশ আপত্তিকর মন্তব্য ও লাগাতার বক্তব্য কিছুটা হলেও দ্বিধায় ফেলে। আসলে নেপথ্যে এদের দিয়ে কেউ বলাচ্ছে না তো! জামায়াত জোটে এনসিপির যোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে এখন সবার মনে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তাহলে কি এসব জামায়াতেরই কৌশল?
জামায়াত জোটে যোগ দেয়ায় এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পদত্যাগ এবং দেশব্যাপী পদত্যাগের হিড়িক! হিমশিম অবস্থায় এনসিপি নেতৃত্ব যত ব্যাখ্যা দিয়েই অবস্থান ও কারণ বলেছে তা খুব একটা রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে নিতে পেরেছে মনে হচ্ছে না।
কিন্তু ২০০৮ পরবর্তী সময় এবং বিশেষ করে আওয়ামী লীগ শাসনামলে জামায়াত সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছে। শীর্ষ নেতৃত্বের বিচার ও দণ্ড, দলীয় কার্যক্রমে বাধা, প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ সংকুচিত হওয়া- সব মিলিয়ে জামায়াত কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা থেকেই দলটির কৌশলগত রূপান্তর শুরু হয়- প্রকাশ্য রাজনীতির বদলে নেটওয়ার্ক রাজনীতি। যদিও তৃণমূলে আওয়ামী লীগ আমলে সবচেয়ে বেনিফিশিয়ারি ছিল জামায়াত। এই অভিযোগ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের।
জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন শিবিরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের একটি অভিযোগ হলো- তারা ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে অনুপ্রবেশ করে গুপ্ত রাজনীতি করেছে। অভিযোগ আছে, ছাত্রলীগের নামে সংঘটিত অনেক সহিংসতা ও বিতর্কিত কর্মকা-ের দায় শেষ পর্যন্ত সঙ্গত কারণেই গিয়ে পড়েছে জামায়াত-শিবিরের ওপর। যদিও জামায়াত বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং একে রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে দাবি করেছে। দলটির এসব দাবি নিয়েও মানুষের বিশ্বাস যে খুব, তা-ও কিন্তু নয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ভেতর থেকে জামায়াত ও শিবিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আত্মপ্রকাশ নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে একজন প্রভাবশালী সাংবাদিকের টেলিভিশন টক-শোতে দেয়া বক্তব্য- বিএনপির ভেতরে গুপ্ত অবস্থায় জামায়াতের প্রায় ১০ শতাংশ নেতাকর্মী থাকতে পারে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সত্য-মিথ্যা যাই হোক, এসব বক্তব্য জামায়াতের ‘অক্টোপাস পলিসি’র ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করছে।
জামায়াতের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় অভিযোগ হলো- তারা সরাসরি দলীয় ব্যানারের বদলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী কিংবা ইস্যুভিত্তিক সংগঠনের নামে রাজপথে সক্রিয় থাকে। কখনো মানবাধিকার, কখনো গণতন্ত্র, কখনো নির্বাচন বর্জনের দাবি- বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে তারা চাপ প্রয়োগ করে। আবার কিছুদিন নীরব থেকে হঠাৎ করে উচ্চকণ্ঠ হয়ে ওঠে।
এই কৌশল একদিকে যেমন দলটিকে টিকে থাকার সুযোগ দিয়েছে, অন্যদিকে এটিই তাদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসের দেয়াল আরও উঁচু করেছে। কারণ, স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের বদলে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে জনআস্থা তৈরি করতে পারে না।
একটি ধারণা রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের সর্বকালের সেরা সময় পার করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে, বিএনপি সাংগঠনিক সংকটে, নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান। এই পরিস্থিতি জামায়াতের জন্য সম্ভাবনার জানালা খুলে দিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।
কিন্তু বিপরীত বিশ্লেষণও আছে। অনেকের মতে, এই সময়টাই জামায়াতের সবচেয়ে দিশাহারা সময়। কারণ, সুযোগের ভিড়ে দিকনির্দেশনা হারিয়ে দলটি কখনো অতিরিক্ত আগ্রাসী, কখনো অতিরিক্ত নীরব হয়ে পড়ছে। কখনো বিএনপির বিরোধিতা, আবার কখনো বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে উসকে দেয়া। এই দ্বৈত অবস্থান জামায়াতের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
জামায়াত-এনসিপি সম্পর্ক সাম্প্রতিক রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। অভিযোগ রয়েছে, এনসিপিকে ব্যবহার করে জামায়াত বড় দল বিএনপি এবং তার নেতৃত্বকে কোণঠাসা করতে চাইছে। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো- এনসিপির মূল নেতৃত্বকে নাকি জামায়াত অনেক আগে থেকেই ‘নার্সিং’ করে বড় করেছে।
যদি এই দাবি সত্য হয়, তাহলে একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়- এনসিপির শীর্ষ নেতারা, যেমন নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ বা নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী, এতদিন যে বক্তব্য দিয়ে জনগণের সামনে নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, তা কি কেবল বিভ্রান্তির কৌশল ছিল? নাকি তারা নিজেরাই এই নেপথ্য রাজনীতির অংশ বুঝে উঠতে পারেননি?
এই ধোঁয়াশাই জামায়াতের ‘অক্টোপাস পলিসি’র সবচেয়ে বড় সমস্যা। কারণ, নেপথ্য নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসের সংকট তৈরি করে- শুধু প্রতিপক্ষের মধ্যে নয়, মিত্রদের মধ্যেও।
জামায়াতের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের অতীত এবং বর্তমানের বিতর্ক। কখনো বক্তব্যে স্বাধীনতাবিরোধী ইঙ্গিত, কখনো বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ, আবার কখনো ‘ফ্যাসিস্টকে আশ্রয়’ দেয়ার মতো বক্তব্য- এসবই দলটির রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথে বড় বাধা।
একদিকে তারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের কথা বলে; অন্যদিকে বক্তব্য ও আচরণে সেই অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতি তৈরি হয়। এই দ্বৈততা জামায়াতের কৌশলকে কার্যকর করার বদলে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
রাজনীতিতে কৌশল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কৌশল যদি আদর্শ ও স্বচ্ছতার জায়গা দখল করে নেয়, তাহলে সেটি শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হয়ে ওঠে। জামায়াতের ‘অক্টোপাস পলিসি’ স্বল্পমেয়াদে তাদের টিকে থাকার সুযোগ দিয়েছে। এ কথা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই কৌশল দলটিকে আরও গভীর অবিশ্বাস, বিতর্ক ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন স্পষ্ট অবস্থান ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব চায়। নেপথ্যের রাজনীতি, গুপ্ত অনুপ্রবেশ আর মুখোশের আড়ালে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। এসব কৌশল হয়তো একসময় কাজ করত, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এগুলো ক্রমেই অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়, জামায়াত কি সত্যিই একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে আসতে চায়, নাকি ‘অক্টোপাস পলিসি’ই তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির একমাত্র অবলম্বন? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে। এই কৌশল সহায়ক হবে, নাকি জামায়াতের জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্ত।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
[লেখক: অ্যাডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ফেনী]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
গাজী তারেক আজিজ
বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান বরাবরই বিতর্কিত, দ্বিধাগ্রস্ত এবং কৌশলনির্ভর বলে মনে করা হয়ে থাকে। ’৭১-পরবর্তী সময় থেকে দলটি একটানা রাজনৈতিক সংকট, সামাজিক প্রত্যাখ্যান এবং রাষ্ট্রীয় পর্যবেক্ষণের ভেতর দিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান বরাবরই বিতর্কিত, দ্বিধাগ্রস্ত এবং কৌশলনির্ভর বলে মনে করা হয়ে থাকে। ’৭১-পরবর্তী সময় থেকে দলটি একটানা রাজনৈতিক সংকট, সামাজিক প্রত্যাখ্যান এবং রাষ্ট্রীয় পর্যবেক্ষণের ভেতর দিয়ে গেছে। কখনো ক্ষমতার অংশীজন হয়েছে, কখনো নিষিদ্ধ হয়েছে, আবার কখনো নিষেধাজ্ঞার ছায়াতেই রাজনীতি করেছে। এই দীর্ঘ অভিযাত্রায় জামায়াতের একটি বৈশিষ্ট্য বারবার সামনে এসেছে। নিজেদের সরাসরি উপস্থিতির চেয়ে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেয়া। সাম্প্রতিক সময়ে যাকে ‘অক্টোপাস পলিসি’ নামে চিহ্নিত করা যেতে পারে
কখনো ক্ষমতার অংশীজন হয়েছে, কখনো নিষিদ্ধ হয়েছে, আবার কখনো নিষেধাজ্ঞার ছায়াতেই রাজনীতি করেছে। এই দীর্ঘ অভিযাত্রায় জামায়াতের একটি বৈশিষ্ট্য বারবার সামনে এসেছে। নিজেদের সরাসরি উপস্থিতির চেয়ে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেয়া। সাম্প্রতিক সময়ে যাকে ‘অক্টোপাস পলিসি’ নামে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
অক্টোপাস যেমন একসঙ্গে বহু শুঁড় ছড়িয়ে শিকার ধরে, তেমনি জামায়াতও নানামুখী রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সংগঠনকেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্মে একযোগে উপস্থিত থেকে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ বহুদিনের। প্রশ্ন হলো, এই কৌশল বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটা সহায়ক হবে? নাকি এই কৌশলই দলটিকে আরও বিতর্কের কেন্দ্রে ঠেলে দিচ্ছে?
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে জামায়াত কার্যত এক দীর্ঘ প্রতিরক্ষামূলক রাজনীতির ভেতর দিয়ে গেছে। স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের দায়, যুদ্ধাপরাধের বিচার, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে দলটি কখনোই স্বাভাবিক ধারায় রাজনীতি করতে পারেনি। তবে এটাও সত্য, বিএনপির সঙ্গে জোট রাজনীতির মাধ্যমে জামায়াত একাধিকবার ক্ষমতার ভাগীদার হয়েছে এবং প্রশাসনিক ও সামাজিক কিছু জায়গায় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে পেরেছে, যা ছিল ধারাবাহিক। তবে দলটির নজর জনসমর্থনের চেয়ে কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর ওপরই ছিল, যা বরাবরই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ছেদও পড়েছে। যেমন সাবেক শিবির জামায়াতের সাইলেন্ট সাপোর্টার ও পৃষ্ঠপোষক হলেও, তৎকালীন সময়ে নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা ও সংস্কারের দাবি তুলে বেশ কিছু নেতা পদত্যাগ করেন। যদিও সেই সময় যতটা না আলোচনার জন্ম দিয়েছে, ঠিক ততটাই বিস্মিত করেছে বিশ্লেষকদের। কারণ হিসেবে জানা যায় শিবির থেকে সরাসরি জামায়াতে যোগদান করে রাজনীতি না করলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। সে হিসেবে দেশজুড়ে নতুন আলোচনার ঝড় তুলল রাজনৈতিক মহলে! তবে বিপরীতে দাঁড়িয়ে অনেকেই ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে বলে দিচ্ছিলেন যে, এটা জামায়াতের আরেকটি রাজনৈতিক কৌশলের অংশমাত্র। তখনও অনেকেই নড়েচড়ে বসলেন, আর বলতে লাগলেন, তারা সংস্কারপন্থী। আর তাই সংস্কারের দাবিতে পদত্যাগ করেছেন। তার অব্যবহিত পরেই মজিবুর রহমান মঞ্জু, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তারা দল গড়লেন আমার বাংলাদেশ পার্টি, যা সংক্ষেপে এবি পার্টি নামেই বেশি পরিচিত।
আবার জামায়াত বা সাবেক শিবিরের নেতারা আড়ালে আবডালে দলটির বিরুদ্ধে বলে নিজেদের নিরপেক্ষ হিসেবে প্রমাণ করায় ব্যস্ত হয়ে, অনেকেই জামায়াতে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ত থেকেও অনেক ভূঁইফোড় নামসর্বস্ব দলে যোগ দিয়ে পদ-পদবি বাগিয়ে নিলেন। তেমনটা দেখা যেতে থাকে, জুলাই আন্দোলনের আগে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন। তার বিশেষ কারণ অনুসন্ধান করেও জানা যায়, জামায়াতকে হয়তো নিষিদ্ধ করা হতে পারে। আর তাই পূর্বানুমান করে বিভিন্ন দলে ভিড়ে অবস্থান টিকিয়ে রাখা। এদিকে কিংসপার্টি হিসেবে দলগঠনের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে সেই এনসিপিও জামায়াত জোটে যাওয়ায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। জামায়াত নামক দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা নিজ দলে ফিরতে শুরু করে। দলটির নেতাদের রাজনীতিতে টিকে থাকার এই কৌশল এখন বেশ আলোচনায়। এরই মধ্যে আরও কৌশল হিসেবে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন দল, উপদল (নাম ও ব্যানার সর্বস্ব সংগঠন), জামায়াতের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মী এবং নয়া দল এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব একবার বিএনপি জোট আবার জামায়াত জোটে যোগ দেয়ার কথা বলে বাজার যাচাইয়ের কৌশল নিয়ে শেষমেষ জামায়াতে যোগ দেয়ায় ঘটে মহাবিস্ফোরণ! অথচ জামায়াত ও বিএনপিকে নিয়ে ক্রমশ আপত্তিকর মন্তব্য ও লাগাতার বক্তব্য কিছুটা হলেও দ্বিধায় ফেলে। আসলে নেপথ্যে এদের দিয়ে কেউ বলাচ্ছে না তো! জামায়াত জোটে এনসিপির যোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে এখন সবার মনে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তাহলে কি এসব জামায়াতেরই কৌশল?
জামায়াত জোটে যোগ দেয়ায় এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পদত্যাগ এবং দেশব্যাপী পদত্যাগের হিড়িক! হিমশিম অবস্থায় এনসিপি নেতৃত্ব যত ব্যাখ্যা দিয়েই অবস্থান ও কারণ বলেছে তা খুব একটা রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে নিতে পেরেছে মনে হচ্ছে না।
কিন্তু ২০০৮ পরবর্তী সময় এবং বিশেষ করে আওয়ামী লীগ শাসনামলে জামায়াত সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছে। শীর্ষ নেতৃত্বের বিচার ও দণ্ড, দলীয় কার্যক্রমে বাধা, প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ সংকুচিত হওয়া- সব মিলিয়ে জামায়াত কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা থেকেই দলটির কৌশলগত রূপান্তর শুরু হয়- প্রকাশ্য রাজনীতির বদলে নেটওয়ার্ক রাজনীতি। যদিও তৃণমূলে আওয়ামী লীগ আমলে সবচেয়ে বেনিফিশিয়ারি ছিল জামায়াত। এই অভিযোগ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের।
জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন শিবিরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের একটি অভিযোগ হলো- তারা ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে অনুপ্রবেশ করে গুপ্ত রাজনীতি করেছে। অভিযোগ আছে, ছাত্রলীগের নামে সংঘটিত অনেক সহিংসতা ও বিতর্কিত কর্মকা-ের দায় শেষ পর্যন্ত সঙ্গত কারণেই গিয়ে পড়েছে জামায়াত-শিবিরের ওপর। যদিও জামায়াত বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং একে রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে দাবি করেছে। দলটির এসব দাবি নিয়েও মানুষের বিশ্বাস যে খুব, তা-ও কিন্তু নয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ভেতর থেকে জামায়াত ও শিবিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আত্মপ্রকাশ নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে একজন প্রভাবশালী সাংবাদিকের টেলিভিশন টক-শোতে দেয়া বক্তব্য- বিএনপির ভেতরে গুপ্ত অবস্থায় জামায়াতের প্রায় ১০ শতাংশ নেতাকর্মী থাকতে পারে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সত্য-মিথ্যা যাই হোক, এসব বক্তব্য জামায়াতের ‘অক্টোপাস পলিসি’র ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করছে।
জামায়াতের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় অভিযোগ হলো- তারা সরাসরি দলীয় ব্যানারের বদলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী কিংবা ইস্যুভিত্তিক সংগঠনের নামে রাজপথে সক্রিয় থাকে। কখনো মানবাধিকার, কখনো গণতন্ত্র, কখনো নির্বাচন বর্জনের দাবি- বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে তারা চাপ প্রয়োগ করে। আবার কিছুদিন নীরব থেকে হঠাৎ করে উচ্চকণ্ঠ হয়ে ওঠে।
এই কৌশল একদিকে যেমন দলটিকে টিকে থাকার সুযোগ দিয়েছে, অন্যদিকে এটিই তাদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসের দেয়াল আরও উঁচু করেছে। কারণ, স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের বদলে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে জনআস্থা তৈরি করতে পারে না।
একটি ধারণা রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের সর্বকালের সেরা সময় পার করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে, বিএনপি সাংগঠনিক সংকটে, নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান। এই পরিস্থিতি জামায়াতের জন্য সম্ভাবনার জানালা খুলে দিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।
কিন্তু বিপরীত বিশ্লেষণও আছে। অনেকের মতে, এই সময়টাই জামায়াতের সবচেয়ে দিশাহারা সময়। কারণ, সুযোগের ভিড়ে দিকনির্দেশনা হারিয়ে দলটি কখনো অতিরিক্ত আগ্রাসী, কখনো অতিরিক্ত নীরব হয়ে পড়ছে। কখনো বিএনপির বিরোধিতা, আবার কখনো বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে উসকে দেয়া। এই দ্বৈত অবস্থান জামায়াতের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
জামায়াত-এনসিপি সম্পর্ক সাম্প্রতিক রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। অভিযোগ রয়েছে, এনসিপিকে ব্যবহার করে জামায়াত বড় দল বিএনপি এবং তার নেতৃত্বকে কোণঠাসা করতে চাইছে। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো- এনসিপির মূল নেতৃত্বকে নাকি জামায়াত অনেক আগে থেকেই ‘নার্সিং’ করে বড় করেছে।
যদি এই দাবি সত্য হয়, তাহলে একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়- এনসিপির শীর্ষ নেতারা, যেমন নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ বা নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী, এতদিন যে বক্তব্য দিয়ে জনগণের সামনে নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, তা কি কেবল বিভ্রান্তির কৌশল ছিল? নাকি তারা নিজেরাই এই নেপথ্য রাজনীতির অংশ বুঝে উঠতে পারেননি?
এই ধোঁয়াশাই জামায়াতের ‘অক্টোপাস পলিসি’র সবচেয়ে বড় সমস্যা। কারণ, নেপথ্য নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসের সংকট তৈরি করে- শুধু প্রতিপক্ষের মধ্যে নয়, মিত্রদের মধ্যেও।
জামায়াতের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের অতীত এবং বর্তমানের বিতর্ক। কখনো বক্তব্যে স্বাধীনতাবিরোধী ইঙ্গিত, কখনো বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ, আবার কখনো ‘ফ্যাসিস্টকে আশ্রয়’ দেয়ার মতো বক্তব্য- এসবই দলটির রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথে বড় বাধা।
একদিকে তারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের কথা বলে; অন্যদিকে বক্তব্য ও আচরণে সেই অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতি তৈরি হয়। এই দ্বৈততা জামায়াতের কৌশলকে কার্যকর করার বদলে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
রাজনীতিতে কৌশল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কৌশল যদি আদর্শ ও স্বচ্ছতার জায়গা দখল করে নেয়, তাহলে সেটি শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হয়ে ওঠে। জামায়াতের ‘অক্টোপাস পলিসি’ স্বল্পমেয়াদে তাদের টিকে থাকার সুযোগ দিয়েছে। এ কথা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই কৌশল দলটিকে আরও গভীর অবিশ্বাস, বিতর্ক ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন স্পষ্ট অবস্থান ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব চায়। নেপথ্যের রাজনীতি, গুপ্ত অনুপ্রবেশ আর মুখোশের আড়ালে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। এসব কৌশল হয়তো একসময় কাজ করত, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এগুলো ক্রমেই অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়, জামায়াত কি সত্যিই একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে আসতে চায়, নাকি ‘অক্টোপাস পলিসি’ই তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির একমাত্র অবলম্বন? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে। এই কৌশল সহায়ক হবে, নাকি জামায়াতের জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্ত।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
[লেখক: অ্যাডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ফেনী]