নাজমুল হুদা খান
শীত ঋতুতে তাপমাত্রা হ্রাস, সূর্যের আলোর স্বল্পতার সঙ্গে আমাদের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে কতক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগ তথা- নাক, কান ও গলায় বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি, টনসিলে প্রদাহ, গলাব্যথা ইত্যাদি ছাড়াও ফুসফুসে হাঁপানি, নিউমোনিয়া এবং বিভিন্ন চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
শীতকালে সাধারণত সবারই ঠাণ্ডাজনিত সর্দি-কাশি দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা যায় যে, দুইশর বেশি ভাইরাসের শীতকালে সংক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সর্দি-জ্বরের প্রকোপ ঘটায়। শুরুতে রোগীদের গলাব্যথা, গলায় খুশখুশ ভাব ও শুকনা কাশি দেখা দেয়। এ সময় নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরা এবং ঘন ঘন হাঁচি আসা প্রভৃতি উপসর্গও দেখা দেয়। হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই রোগ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাশি কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে। মধু, কালিজিরা, আদা চা, লেবু চা ইত্যাদি এই সময় উপকারী। গলা ব্যথার জন্য কুসুম গরম পানি পান করা ভালো এবং হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচি করা উচিত। প্রয়োজনে গলায় গরম কাপড় পেঁচিয়ে রাখুন। শিশু ও বয়স্কদের গলায়, বুকে, পিঠে সরিষার তেল হালকাভাবে মালিশ করলে এবং গরম সেঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়। সরিষার তেল শরীর গরম রাখে, যা ঠাণ্ডার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। নাক বন্ধ মনে হলে নাক দিয়ে গরম পানির ভাঁপ নিলে ভালো বোধহয়। গরম পানিতে ফিটকিরিবা মেনথোলের টুকরা দিয়ে ভাঁপ নিলেও বন্ধ হওয়া নাক পরিষ্কার হয়ে যাবে। সমস্যাপ্রকট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।
শীতকালে ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ ঘটে। কারণ, এসময় তাপমাত্রা হ্রাসের কারণে শ্বাসতন্ত্রের ওপরের অংশের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জায় বিভিন্ন ধরনের ঠা-ার উপসর্গ ছাড়াও এই রোগের ক্ষেত্রে জ্বর ও কাশি বেশি হয় এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অন্যদের সঙ্গে, বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে মেলামেশায় সতর্কতা অবলম্বন করুন। এ রোগটি হাঁচি-কাশিবা স্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার অনুসরণ করুন। হাঁচি দেয়ার সময় বা নাকের পানি মুছতে রুমাল বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন। রোগীর ব্যবহৃত রুমাল বা গামছা অন্যদের ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখুন। যেখানে সেখানে কফ, থুথু বা নাকের শ্লেষ্মা ফেলা যাবে না। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরুন, বিশেষ করে তীব্র শীতের সময় কান ঢাকা টুপি এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করুন। মাঝে মধ্যে হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করুন বা হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। এর সবচেয়ে ভালো প্রতিরোধ হলো প্রতি বছর টিকা নেয়া।
শীতকালে নবজাতক, শিশু, বৃদ্ধ ও হাঁপানি রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভুগে থাকে নিউমোনিয়া রোগে। পৃথিবীব্যাপী পাঁচ বছরের নিচের শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। বাংলাদেশেও শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ এই রোগ। যদিও এটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য একটি রোগ, তথাপিও নিউমোনিয়া থেকে জীবনহানিও হতে পারে। নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সঠিকভাবে শিশুর যতœ নিন। শীত উপযোগী হালকা ও নরম গরম কাপড় ব্যবহার করুন। সহনীয় গরম পানিতে শিশুর শরীর ধুয়ে দিন। বেশি মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, বিশেষ করে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত লোকের সামনে শিশুদের যেতে দেবেন না। শিশুর সামনে বড়দের হাঁচি-কাশি না দেয়া বা মুখে রুমাল বা কাপড় ব্যবহার করার অভ্যাস করান।
হাঁপানি বা অ্যাজমা ফুসফুসের একটি অসংক্রামক রোগ। এটি শ্বাসনালির একটি দীর্ঘ স্থায়ী রোগ, যেখানে শ্বাসনালি ফুলে ওঠে, সংকুচিত হয় এবং অতিরিক্ত শ্লেষ্মা তৈরি করে, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং দম বন্ধ হওয়ার মতো অনুভূতি, কাশি, বুকে চাপ ও বাঁশির মতো শব্দ (যিববুরহম) হয়। শীতকালে এ রোগের প্রকোপ অনেকাংশে বেড়ে যায়। অ্যাজমা একবার হলে তা নিয়ন্ত্রণে এর ঝুঁকিসমুহ (যেমন- ধুলাবালি, ফুলের রেণু, ধোঁয়া, ঠাণ্ডাবাতাস, মানসিকচাপ) মোকাবিলা করতে হয়। শীতকালে অ্যাজমার রোগীরা গরম জামা-কাপড় পরিধান করুন। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করুন। বিশেষ করে শোবার ঘর উষ্ণ রাখার চেষ্টা করুন। শীতের আগেই চিকিৎসক দেখিয়ে ইনহেলার বা অন্যান্য ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন।
শীতকালে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়ায় এবং সুবিধাজনক তাপমাত্রার কারণে অনেক দিন বেঁচে থেকে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে যত্নশীল হতে হবে। বাইরে থেকে এসে বা খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।সর্দি বা ফ্লু হলে হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরে যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। যাদের অ্যালার্জি আছে তাদেরকে অবশ্যই ধুলাবালি, ফুলে রেণু ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে। মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা, অ্যালার্জি তৈরি করে এমন বস্তু থেকে দূরে থাকাও আবশ্যক।
শীতকালে অনেককে পানি কম পান করতে দেখা যায়। ঠাণ্ডা আবহাওয়াতেও শরীরকে আর্দ্র রাখা খুব জরুরি। পানিশূন্যতা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই শীতকালে পানির পাশাপাশি গরম স্যুপ, চা ও ফলের রস পান করা যেতে পারে। এতে শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ থাকবে এবং সর্দি-কাশি দূরে থাকবে।
শীতকালে দিন ছোট এবং শৈত্যপ্রবাহ কিংবা কুয়াশার কারণে আমাদের শরীর সূর্যের আলোর সংস্পর্শে কম আসে। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ঘটে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণের জন্য দিনের বেলায় বাইরে সময় কাটান।
আমাদের দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার চাপ, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রা সব মিলে ঋতুভেদে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। শীতকালে এর প্রভাব প্রকট না হলেও, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিশু, বয়স্করা নানা রোগে ভুগতে দেখা যায়। তবে সাধারণ কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমাদের এসব অসুখ-বিসুখ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
[লেখক: পরিচালক, মেডিকেল সার্ভিসেস, বিআরবি হাসপাতাল লি.]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
নাজমুল হুদা খান
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
শীত ঋতুতে তাপমাত্রা হ্রাস, সূর্যের আলোর স্বল্পতার সঙ্গে আমাদের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে কতক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগ তথা- নাক, কান ও গলায় বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি, টনসিলে প্রদাহ, গলাব্যথা ইত্যাদি ছাড়াও ফুসফুসে হাঁপানি, নিউমোনিয়া এবং বিভিন্ন চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
শীতকালে সাধারণত সবারই ঠাণ্ডাজনিত সর্দি-কাশি দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা যায় যে, দুইশর বেশি ভাইরাসের শীতকালে সংক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সর্দি-জ্বরের প্রকোপ ঘটায়। শুরুতে রোগীদের গলাব্যথা, গলায় খুশখুশ ভাব ও শুকনা কাশি দেখা দেয়। এ সময় নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরা এবং ঘন ঘন হাঁচি আসা প্রভৃতি উপসর্গও দেখা দেয়। হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই রোগ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাশি কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে। মধু, কালিজিরা, আদা চা, লেবু চা ইত্যাদি এই সময় উপকারী। গলা ব্যথার জন্য কুসুম গরম পানি পান করা ভালো এবং হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচি করা উচিত। প্রয়োজনে গলায় গরম কাপড় পেঁচিয়ে রাখুন। শিশু ও বয়স্কদের গলায়, বুকে, পিঠে সরিষার তেল হালকাভাবে মালিশ করলে এবং গরম সেঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়। সরিষার তেল শরীর গরম রাখে, যা ঠাণ্ডার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। নাক বন্ধ মনে হলে নাক দিয়ে গরম পানির ভাঁপ নিলে ভালো বোধহয়। গরম পানিতে ফিটকিরিবা মেনথোলের টুকরা দিয়ে ভাঁপ নিলেও বন্ধ হওয়া নাক পরিষ্কার হয়ে যাবে। সমস্যাপ্রকট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।
শীতকালে ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ ঘটে। কারণ, এসময় তাপমাত্রা হ্রাসের কারণে শ্বাসতন্ত্রের ওপরের অংশের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জায় বিভিন্ন ধরনের ঠা-ার উপসর্গ ছাড়াও এই রোগের ক্ষেত্রে জ্বর ও কাশি বেশি হয় এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অন্যদের সঙ্গে, বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে মেলামেশায় সতর্কতা অবলম্বন করুন। এ রোগটি হাঁচি-কাশিবা স্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার অনুসরণ করুন। হাঁচি দেয়ার সময় বা নাকের পানি মুছতে রুমাল বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন। রোগীর ব্যবহৃত রুমাল বা গামছা অন্যদের ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখুন। যেখানে সেখানে কফ, থুথু বা নাকের শ্লেষ্মা ফেলা যাবে না। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরুন, বিশেষ করে তীব্র শীতের সময় কান ঢাকা টুপি এবং গলায় মাফলার ব্যবহার করুন। মাঝে মধ্যে হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করুন বা হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। এর সবচেয়ে ভালো প্রতিরোধ হলো প্রতি বছর টিকা নেয়া।
শীতকালে নবজাতক, শিশু, বৃদ্ধ ও হাঁপানি রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভুগে থাকে নিউমোনিয়া রোগে। পৃথিবীব্যাপী পাঁচ বছরের নিচের শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। বাংলাদেশেও শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ এই রোগ। যদিও এটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য একটি রোগ, তথাপিও নিউমোনিয়া থেকে জীবনহানিও হতে পারে। নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সঠিকভাবে শিশুর যতœ নিন। শীত উপযোগী হালকা ও নরম গরম কাপড় ব্যবহার করুন। সহনীয় গরম পানিতে শিশুর শরীর ধুয়ে দিন। বেশি মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, বিশেষ করে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত লোকের সামনে শিশুদের যেতে দেবেন না। শিশুর সামনে বড়দের হাঁচি-কাশি না দেয়া বা মুখে রুমাল বা কাপড় ব্যবহার করার অভ্যাস করান।
হাঁপানি বা অ্যাজমা ফুসফুসের একটি অসংক্রামক রোগ। এটি শ্বাসনালির একটি দীর্ঘ স্থায়ী রোগ, যেখানে শ্বাসনালি ফুলে ওঠে, সংকুচিত হয় এবং অতিরিক্ত শ্লেষ্মা তৈরি করে, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং দম বন্ধ হওয়ার মতো অনুভূতি, কাশি, বুকে চাপ ও বাঁশির মতো শব্দ (যিববুরহম) হয়। শীতকালে এ রোগের প্রকোপ অনেকাংশে বেড়ে যায়। অ্যাজমা একবার হলে তা নিয়ন্ত্রণে এর ঝুঁকিসমুহ (যেমন- ধুলাবালি, ফুলের রেণু, ধোঁয়া, ঠাণ্ডাবাতাস, মানসিকচাপ) মোকাবিলা করতে হয়। শীতকালে অ্যাজমার রোগীরা গরম জামা-কাপড় পরিধান করুন। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করুন। বিশেষ করে শোবার ঘর উষ্ণ রাখার চেষ্টা করুন। শীতের আগেই চিকিৎসক দেখিয়ে ইনহেলার বা অন্যান্য ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন।
শীতকালে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়ায় এবং সুবিধাজনক তাপমাত্রার কারণে অনেক দিন বেঁচে থেকে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে যত্নশীল হতে হবে। বাইরে থেকে এসে বা খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।সর্দি বা ফ্লু হলে হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরে যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। যাদের অ্যালার্জি আছে তাদেরকে অবশ্যই ধুলাবালি, ফুলে রেণু ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে। মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা, অ্যালার্জি তৈরি করে এমন বস্তু থেকে দূরে থাকাও আবশ্যক।
শীতকালে অনেককে পানি কম পান করতে দেখা যায়। ঠাণ্ডা আবহাওয়াতেও শরীরকে আর্দ্র রাখা খুব জরুরি। পানিশূন্যতা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই শীতকালে পানির পাশাপাশি গরম স্যুপ, চা ও ফলের রস পান করা যেতে পারে। এতে শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ থাকবে এবং সর্দি-কাশি দূরে থাকবে।
শীতকালে দিন ছোট এবং শৈত্যপ্রবাহ কিংবা কুয়াশার কারণে আমাদের শরীর সূর্যের আলোর সংস্পর্শে কম আসে। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ঘটে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণের জন্য দিনের বেলায় বাইরে সময় কাটান।
আমাদের দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার চাপ, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রা সব মিলে ঋতুভেদে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। শীতকালে এর প্রভাব প্রকট না হলেও, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিশু, বয়স্করা নানা রোগে ভুগতে দেখা যায়। তবে সাধারণ কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমাদের এসব অসুখ-বিসুখ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
[লেখক: পরিচালক, মেডিকেল সার্ভিসেস, বিআরবি হাসপাতাল লি.]