alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

‘খাল কেটে কুমির আনা...’

জাঁ-নেসার ওসমান

: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

‘কী রে ভাই, এ-কি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে! নির্বাচনের আগেই কোদাল নিয়া খালকাটার জন্য তৈয়ার! বিষয়টা কী’

‘নারে ভাই এই খালকাটার কথাশুনে পুকুরে, খালে-বিলে, নদীতে নদীতে সব কুম্ভীরাশ্রু ত্যাগ করছে।’

আজ আমরা নিজেরা নিজেরা মারামারি খুনাখুনি করে মরছি, আর আমার দেশের প্রান্তিক ভায়েরা বেঁচে থাকার জন্য অমানবিক পরিশ্রম করছে। আর আমরা বুঝে না বুঝে নিজেদের সাথে, নিজের সাথে, ভাই হয়ে ভায়ের সাথে মারামারি, কাটাকাটি, ঘুষাঘুষি, হামলা মামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করে বেড়াচ্ছি। মাঝে ফায়দা লুটছে তৃতীয় শক্তি! আসুন এবার আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাই এক হয়ে লড়াই করবো।”

রম্যগদ্য

‘কেন কেন কুমিরার, কুম্ভীরাশ্রু ত্যাগ করছে ক্যেন?”

‘খুবই সোজা তোরা যদি খাল কেটে কুমির আনিস তাহলে কুমিরতো বেচারা মরে ভূত, তাই সব কুমিররা কোরাশে কুম্ভীরাশ্রু ত্যাগ করছে আর ফোঁস ফোঁস করে কান্না করছে। ফলে পুকুরে, খালে-বিলে, নদীতে নদীতে পানি বেড়ে যাচ্ছে। আশপাশের গ্রামবাসীরা বন্যার ভয়ে কম্পমান।’

‘বুঝলাম না, খাল কাটলে কুমিরের কী’

‘আরে সব চারশ-পাঁচশ’ বছরের কুমিরার বলাবলি করছে যে, ভেবেছিলাম জুনিয়ার মার্টিনা স্টেফিগ্র্যাফ ঢাকায় এসে বলবেন, “প্রিয় দেশবাসী, আজ বাংলাদেশ এক ক্রান্তিলগ্নে অর্থাৎ পরিবতর্নের দোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে। আজ সুন্দর এক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ রাব্বুল আল আমিন আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ কি এমনি ভায়ে ভায়ে মারামারি করে, ভায়ে ভায়ে খুনা খুনি করে দেশ চালাবেন, নাকি সবাই মিলে মিশে এক সোনারবংলা গড়বেন” তা, না করে দাদা খাল কাটার জন্য কোদাল নিয়া প্রস্তুত থাকতে বলছেন!!’

‘খাল কাটলে তো ভালো। বাংলার জলাবদ্ধতা দূর হবে!’

‘ধাৎ, আমরা ভেবেছিলাম, মানে পাঁচশ’ বছরের অভিজ্ঞ কুমিররা ভেবেছিলাম, দাদা তার প্ল্যানে বলবেন “আজ আপনাদের চিন্তা করে দেখতে হবে যে, বর্তমানে বাংলাদেশে বাঙালি হয়ে বাঙালিকে খুন করার মাঝে, বাঙালি হয়ে বাঙালির মাঝে ভেদাভেদ সৃষ্টিকরে কাদের হীন চক্রান্ত সফল হচ্ছে ! আজ আমরা নিজেরা নিজেরা মারামারি খুনাখুনি করে মরছি, আর আমার দেশের প্রান্তিক ভায়েরা বেঁচে থাকার জন্য অমানবিক পরিশ্রম করছে। আর আমরা বুঝে না বুঝে নিজেদের সাথে, নিজের সাথে, ভাই হয়ে ভায়ের সাথে মারামারি, কাটাকাটি, ঘুষাঘুষি, হামলা মামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করে বেড়াচ্ছি। মাঝে ফায়দা লুটছে তৃতীয় শক্তি! আসুন এবার আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাই এক হয়ে লড়াই করবো।”

‘সবই তো বুঝলাম, দাদার একতার ডাক দেওয়ার উচিত ছিলো! কিন্তু খাল কাটলে দোষ কী’

‘আরে ভাই আপনি বুঝেননা! খাল কাটলে কুমিরের থাকে কী? মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে সামান্য হাঁটুর খাল চামড়া ছিলে গেলে, দিন পনের বাপ বাপ বলে যন্ত্রণায় কাতরাতে হয়। আর মিয়া যদি কুমিরের পুরো খাল মানে চামড়া কেটে ন্যেয় তাহলে কুমির বাঁচবে’

‘ও রে, গাড়ল এ খাল সে খাল নয়, এ খাল নদ-নদী, খাল-বিলের খাল। এ-খাল কাটলে কুমিরের খাল বা চামড়ার কিছুই হবে না, বরং কুমির এই খালের মাঝে সুমিং করতে পারবে! তাছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে ভায়ে ভায়ে মারামারি নেই বললেই চলে।’

‘কী, বাংলায় ভায়ে ভায়ে মারামারি নেই!! তাহলে ডিম মেরে যে হাত ভেঙে দিলো তার কি হবে? বেচারা ডিমের আঘাতে জর্জরিত! তাও যদি কুমিরের ডিম হতো তাও চলতো। কিন্তু এটাতো সামান্য একটা মুরগির পচা ডিম। তাতেই বাঙালি জখম! আর আপনি বলেন বাঙালি বাঙালি মারামারি হচ্ছে না?”

‘ভাইরে পচা ডিম মারা কালচার, আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, তাই ডিম মারাটা অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে না। এটা অনেকটা শালা-দুলাভাই ঠাট্টা মশকরার মতো আরকি।”

“ডিম মেরে হাত ভাঙা, মাথা ফাটানো, এগুলা ঠাট্টা মশকরা! তাহলে মোসলমান হয়ে মোসলমানকে কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয়া এটা কোন মশকরা, শুনি মরিচের কেজি চারশ’ টাকা এটা কোন মশকরা শুনি”

‘না বলছিলাম এসব ঠাট্টা মশকরা থেকে ছুটকারা পাবার জন্য সামনের ত্রয়োদশ নির্বাচনটা কাজে লাগান। বর্তমান সব ডিজিটাল পাল্লা দিয়ে মেপে সঠিক লোককে ভোটদিন তাহলে সমাজের সকল অনাচার দূর হয়ে যাবে।’

‘ভাই মনে করেন আপনি একটা নতুন গাড়ি কিনেছেন, তাহলে ড্রাইভার কি একদম নতুন এক লোককে নিবেন, নাকি অভিজ্ঞ পুরোনো ড্রাইভার নিবেন’

‘ মশায়, একটা গাড়ির দাম জানেন! নতুন গাড়ির জন্য অবশ্যই অভিজ্ঞ পুরোনো ড্রাইভার নিবো।’

‘সামান্য একটা গাড়ির যাতে ক্ষতি না হয়, সেজন্য আপনি দক্ষ, অভিজ্ঞ পুরোনো ড্রাইভার নিবেন, আর দেশ চালাবার জন্য, যারা সারা জীবন, জানাজা, বিয়ে, তালাক আর খৎনার এক্সপার্ট তাকে নাকি আপনি দেশ চালাবার দায়িত্ব দিতে বলেন?”

‘না বলছিলাম আগের চোর, বদমায়েশ, লোভি, গুণ্ডা-বিধর্মী- সব দেখলেন, এবার নতুন কাউকে দ্যেখেন। তাছাড়া দাদা এখন ইম্পোর্টেড পিপুল নিয়া ব্যাস্ত। বিগত সতের বছর যে সব নেতারা জেল-জুলুম, গুম-খুনের শিকার তাদের দাদা ইকটু বিশ্রাম দিচ্ছেন, পরে কাজে লাগাবেন।”

‘দেখিস ওই কাছিম আর খরগোশের গল্পের মতো, ইকটু বিশ্রাম নিতে যেয়ে না বড্ড দেরী হয়ে যায়। কাছিম না আবার জয়ী হয়ে সরকার গড়ে ফেলে!”

‘না না ভাই দেশ আর আগের মতো নাই। এখন সবের একটাই স্লোগান, “আসুন এবার রেষারেষি ছাড়ি, সবাই মিলে এক হয়ে সোনার বাংলা গড়ি।”

‘তাই যদি হয়, তাহলে আমিও সবাইকে বলবো, “আসুন এবার ভায়ে ভায়ে মিলি, সবাই মিলে এক হয়ে সোনার বাংলা গড়ি।”

“তাহলে চলেন সবাই মিলে কোরাশে বলি, “আসুন এবার ভায়ে ভায়ে মিলি, সবাই মিলে এক হয়ে সোনার বাংলা গড়ি।”

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

বাড়ি ভাড়া নির্দেশিকা: ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সুরক্ষা নাকি দুর্ভোগের নতুন দরজা

ক্ষমতা যখন নিজেকেই তোষামোদ করে

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি

অধিকারহীনতার বৃত্তে আদিবাসী জীবন

স্লোগানে ফ্যাসিবাদ, ভোটের মাঠে আশির্বাদ!

ভাঙা-গড়া সমাজের আমূল পরিবর্তন আনে

শান্তির বৃত্তে বাঁধা বাঘ

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি

চলচ্চিত্র শিল্প : সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনা

ছবি

জলবায়ু পরিবর্তন ও গ্রিনল্যান্ড: নতুন ভূ-রাজনীতির ইঙ্গিত

ব্যাংকিং খাত: সংকট, সংস্কার ও আস্থার সন্ধান

চলচ্চিত্র শিল্প : সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনা

কুষ্ঠ-সম্পর্কিত কুসংস্কার ও বৈষম্য

ব্যাংক ধসের দায় কার?

পশ্চিমবঙ্গে অহেতুক হয়রানির মূল টার্গেট মুসলমানেরাই

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান

নির্বাচনের আগেই জানা গেল আংশিক ফল!

শীতকালীন অসুখ-বিসুখ

দিশাহীন অর্থনীতি, নিষ্ক্রিয় অন্তর্বর্তী সরকার

নরসুন্দরের পোয়াবারো

জামায়াতের ‘অক্টোপাস পলিসি’ কৌশল নাকি রাজনৈতিক বিভ্রান্তি?

ছবি

অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও গোলক ধাঁধা

আগুনের ছাইয়ে কলমের আলো

বিগ বাউন্স শেষে বিগ ক্রাঞ্চের পথে ব্রহ্মাণ্ড

সংস্কৃতি চর্চা: শিকড়, সংকট ও আগ্রাসন

শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত কারাব্যবস্থার প্রত্যাশা

ছবি

প্রসঙ্গ: ডিজিটাল প্রবেশগম্যতা

ছবি

খালেদা জিয়া, কাছে ও দূর থেকে দেখা

মানবসভ্যতা ও প্রাণিকল্যাণ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাবনা

ছবি

ইরানের ধর্মভিত্তিক কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী

ফুল ও মৌমাছির গণিতে কৃষির প্রতিচ্ছবি

দুর্নীতির ঐকিক নিয়ম

‘বিয়ার রাতেই বিড়াল মারো...’

তেল-উত্তর আরব: অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও রাজনৈতিক রূপান্তর

ভোটের মনস্তত্ত্ব: বাংলাদেশে রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ ও ভোটার মানস

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

‘খাল কেটে কুমির আনা...’

জাঁ-নেসার ওসমান

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

‘কী রে ভাই, এ-কি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে! নির্বাচনের আগেই কোদাল নিয়া খালকাটার জন্য তৈয়ার! বিষয়টা কী’

‘নারে ভাই এই খালকাটার কথাশুনে পুকুরে, খালে-বিলে, নদীতে নদীতে সব কুম্ভীরাশ্রু ত্যাগ করছে।’

আজ আমরা নিজেরা নিজেরা মারামারি খুনাখুনি করে মরছি, আর আমার দেশের প্রান্তিক ভায়েরা বেঁচে থাকার জন্য অমানবিক পরিশ্রম করছে। আর আমরা বুঝে না বুঝে নিজেদের সাথে, নিজের সাথে, ভাই হয়ে ভায়ের সাথে মারামারি, কাটাকাটি, ঘুষাঘুষি, হামলা মামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করে বেড়াচ্ছি। মাঝে ফায়দা লুটছে তৃতীয় শক্তি! আসুন এবার আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাই এক হয়ে লড়াই করবো।”

রম্যগদ্য

‘কেন কেন কুমিরার, কুম্ভীরাশ্রু ত্যাগ করছে ক্যেন?”

‘খুবই সোজা তোরা যদি খাল কেটে কুমির আনিস তাহলে কুমিরতো বেচারা মরে ভূত, তাই সব কুমিররা কোরাশে কুম্ভীরাশ্রু ত্যাগ করছে আর ফোঁস ফোঁস করে কান্না করছে। ফলে পুকুরে, খালে-বিলে, নদীতে নদীতে পানি বেড়ে যাচ্ছে। আশপাশের গ্রামবাসীরা বন্যার ভয়ে কম্পমান।’

‘বুঝলাম না, খাল কাটলে কুমিরের কী’

‘আরে সব চারশ-পাঁচশ’ বছরের কুমিরার বলাবলি করছে যে, ভেবেছিলাম জুনিয়ার মার্টিনা স্টেফিগ্র্যাফ ঢাকায় এসে বলবেন, “প্রিয় দেশবাসী, আজ বাংলাদেশ এক ক্রান্তিলগ্নে অর্থাৎ পরিবতর্নের দোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে। আজ সুন্দর এক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ রাব্বুল আল আমিন আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ কি এমনি ভায়ে ভায়ে মারামারি করে, ভায়ে ভায়ে খুনা খুনি করে দেশ চালাবেন, নাকি সবাই মিলে মিশে এক সোনারবংলা গড়বেন” তা, না করে দাদা খাল কাটার জন্য কোদাল নিয়া প্রস্তুত থাকতে বলছেন!!’

‘খাল কাটলে তো ভালো। বাংলার জলাবদ্ধতা দূর হবে!’

‘ধাৎ, আমরা ভেবেছিলাম, মানে পাঁচশ’ বছরের অভিজ্ঞ কুমিররা ভেবেছিলাম, দাদা তার প্ল্যানে বলবেন “আজ আপনাদের চিন্তা করে দেখতে হবে যে, বর্তমানে বাংলাদেশে বাঙালি হয়ে বাঙালিকে খুন করার মাঝে, বাঙালি হয়ে বাঙালির মাঝে ভেদাভেদ সৃষ্টিকরে কাদের হীন চক্রান্ত সফল হচ্ছে ! আজ আমরা নিজেরা নিজেরা মারামারি খুনাখুনি করে মরছি, আর আমার দেশের প্রান্তিক ভায়েরা বেঁচে থাকার জন্য অমানবিক পরিশ্রম করছে। আর আমরা বুঝে না বুঝে নিজেদের সাথে, নিজের সাথে, ভাই হয়ে ভায়ের সাথে মারামারি, কাটাকাটি, ঘুষাঘুষি, হামলা মামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করে বেড়াচ্ছি। মাঝে ফায়দা লুটছে তৃতীয় শক্তি! আসুন এবার আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাই এক হয়ে লড়াই করবো।”

‘সবই তো বুঝলাম, দাদার একতার ডাক দেওয়ার উচিত ছিলো! কিন্তু খাল কাটলে দোষ কী’

‘আরে ভাই আপনি বুঝেননা! খাল কাটলে কুমিরের থাকে কী? মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে সামান্য হাঁটুর খাল চামড়া ছিলে গেলে, দিন পনের বাপ বাপ বলে যন্ত্রণায় কাতরাতে হয়। আর মিয়া যদি কুমিরের পুরো খাল মানে চামড়া কেটে ন্যেয় তাহলে কুমির বাঁচবে’

‘ও রে, গাড়ল এ খাল সে খাল নয়, এ খাল নদ-নদী, খাল-বিলের খাল। এ-খাল কাটলে কুমিরের খাল বা চামড়ার কিছুই হবে না, বরং কুমির এই খালের মাঝে সুমিং করতে পারবে! তাছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে ভায়ে ভায়ে মারামারি নেই বললেই চলে।’

‘কী, বাংলায় ভায়ে ভায়ে মারামারি নেই!! তাহলে ডিম মেরে যে হাত ভেঙে দিলো তার কি হবে? বেচারা ডিমের আঘাতে জর্জরিত! তাও যদি কুমিরের ডিম হতো তাও চলতো। কিন্তু এটাতো সামান্য একটা মুরগির পচা ডিম। তাতেই বাঙালি জখম! আর আপনি বলেন বাঙালি বাঙালি মারামারি হচ্ছে না?”

‘ভাইরে পচা ডিম মারা কালচার, আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, তাই ডিম মারাটা অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে না। এটা অনেকটা শালা-দুলাভাই ঠাট্টা মশকরার মতো আরকি।”

“ডিম মেরে হাত ভাঙা, মাথা ফাটানো, এগুলা ঠাট্টা মশকরা! তাহলে মোসলমান হয়ে মোসলমানকে কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয়া এটা কোন মশকরা, শুনি মরিচের কেজি চারশ’ টাকা এটা কোন মশকরা শুনি”

‘না বলছিলাম এসব ঠাট্টা মশকরা থেকে ছুটকারা পাবার জন্য সামনের ত্রয়োদশ নির্বাচনটা কাজে লাগান। বর্তমান সব ডিজিটাল পাল্লা দিয়ে মেপে সঠিক লোককে ভোটদিন তাহলে সমাজের সকল অনাচার দূর হয়ে যাবে।’

‘ভাই মনে করেন আপনি একটা নতুন গাড়ি কিনেছেন, তাহলে ড্রাইভার কি একদম নতুন এক লোককে নিবেন, নাকি অভিজ্ঞ পুরোনো ড্রাইভার নিবেন’

‘ মশায়, একটা গাড়ির দাম জানেন! নতুন গাড়ির জন্য অবশ্যই অভিজ্ঞ পুরোনো ড্রাইভার নিবো।’

‘সামান্য একটা গাড়ির যাতে ক্ষতি না হয়, সেজন্য আপনি দক্ষ, অভিজ্ঞ পুরোনো ড্রাইভার নিবেন, আর দেশ চালাবার জন্য, যারা সারা জীবন, জানাজা, বিয়ে, তালাক আর খৎনার এক্সপার্ট তাকে নাকি আপনি দেশ চালাবার দায়িত্ব দিতে বলেন?”

‘না বলছিলাম আগের চোর, বদমায়েশ, লোভি, গুণ্ডা-বিধর্মী- সব দেখলেন, এবার নতুন কাউকে দ্যেখেন। তাছাড়া দাদা এখন ইম্পোর্টেড পিপুল নিয়া ব্যাস্ত। বিগত সতের বছর যে সব নেতারা জেল-জুলুম, গুম-খুনের শিকার তাদের দাদা ইকটু বিশ্রাম দিচ্ছেন, পরে কাজে লাগাবেন।”

‘দেখিস ওই কাছিম আর খরগোশের গল্পের মতো, ইকটু বিশ্রাম নিতে যেয়ে না বড্ড দেরী হয়ে যায়। কাছিম না আবার জয়ী হয়ে সরকার গড়ে ফেলে!”

‘না না ভাই দেশ আর আগের মতো নাই। এখন সবের একটাই স্লোগান, “আসুন এবার রেষারেষি ছাড়ি, সবাই মিলে এক হয়ে সোনার বাংলা গড়ি।”

‘তাই যদি হয়, তাহলে আমিও সবাইকে বলবো, “আসুন এবার ভায়ে ভায়ে মিলি, সবাই মিলে এক হয়ে সোনার বাংলা গড়ি।”

“তাহলে চলেন সবাই মিলে কোরাশে বলি, “আসুন এবার ভায়ে ভায়ে মিলি, সবাই মিলে এক হয়ে সোনার বাংলা গড়ি।”

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

back to top