হোসেন আবদুল মান্নান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটা জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছে। ব্যাপকভাবে উৎসব মুখরভাবে প্রচারাভিযান চলছে তা বলা যাবে না। তবে নির্বাচনী জনসংযোগ, প্রতীক বরাদ্দের পর শোভাযাত্রা, মিছিল, মিটিং চলমান আছে। কোথাও কোথাও বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বা উপজেলা পর্যায়ে সাংঘর্ষিক অবস্থারও সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। সহিংসতা, হাঙ্গামা, খুন-খারাবি, অফিস ভাঙচুর হচ্ছে।
নির্বাচনের সঙ্গে এসব লেগেই থাকে। এবার মূলত দুটো দলের বা জোটের দৃশ্যমান তৎপরতা রয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর জোটভুক্ত দলগুলোর গতিবিধি চোখে পড়ছে। বাকিরা খানিকটা আড়ালে পড়ে গিয়েও প্রচারণা চালাচ্ছে। তবু অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করে চলেছে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে তো? এমনকি খোদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দুয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ হলে তিনি পাশ করবেন, না হয় এমনটা হবে ইত্যাদি। দেশে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অতীতে এতটা সংশয়, সন্দেহ দেখা দেয়নি। এর পেছনে নিঃসন্দেহে প্রচার ও অপপ্রচার রয়েছে। আর তা ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশের অলিগলিতে, চায়ের দোকানে, বাসস্ট্যান্ডে, রেলস্টেশনে সর্বত্র। প্রচার কাজে অংশ নিয়ে কতিপয় নেতার বক্তব্যও এর জন্য দায়ী হচ্ছে। তারাই বলছেন, একটা বড় দলের অনুপস্থিতি এবারের নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক ও আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতে দিচ্ছে না। কেউ কেউ ‘স্লিপ অব টাং’-এর ফলে নানা হাসি-তামাশার খোরাক জোগাচ্ছেন। কেউ আবার নেতার নাম ভুল করছেন, বিশেষণ ব্যবহার করতে গিয়ে অনাকাক্সিক্ষত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। মাইক্রোফোন নিয়ে কাড়াকাড়ি হচ্ছে, যুৎসই শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে না। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেবল এগুলোকে ধরে ধরে জনসমক্ষে নিয়ে আসছে।
মনে হয়, এতে সাধারণ মানুষ নির্বাচনী প্রচারের ভালোর চেয়ে মন্দ দিকটাই বেশি দেখছে।
ফেইসবুক, ইউটিউব মাধ্যমগুলো এসব ছড়াচ্ছে। বাণিজ্যিক কারণেই এরা ভালো ক্লিপগুলো প্রকাশ করে না। মনে হয়, এদের কাছে অশোভন সবকিছুই আসল সংবাদ।
২. দেশে জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের ভেতরে ‘হ্যা’ভোট আর ‘না’ ভোটের বিপরীতমুখী প্রচারণা চলমান আছে। সরকারের ‘হ্যা’ আর দ’একটা বিরোধী দলের ‘না’ বলার বিষয়টি প্রকাশ্যে ও পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। সরকার এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে তার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনিক হাতকে ব্যবহার করছে। তারা সংস্কার, পরিবর্তন ও রাষ্ট্রকে গতানুগতিক ধারার বেড়াজাল থেকে বের করে আনার আহ্বান জানাচ্ছে। যা ভবিষ্যতের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টিসহ কটা ছোট দল ‘না’র পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তারা বিসমিল্লাহর অন্তর্ভুক্তি, দেশের স্বাধীনতা, সংবিধান রক্ষা, জনগণকে অন্ধকারে রেখে গণভোট মানে না। তাদের কথা, গণভোট বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট নেয়া পার্লামেন্টই শেষ কথা। তাদের বক্তব্য সোজা ‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়ে সরকার চাপ দিতে পারে না। মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিবে। এদিকে দেরিতে হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রজাতন্ত্রেরের কর্মচারীদের সতর্ক করে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বরাবর পত্র দিয়েছে। হ্যাঁ-না ভোট সম্পর্কে তারা যেন শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন। যদিও কর্মচারীদের অনেকেই ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত। তবে একথা সত্য যে, ‘হ্যাঁ’ ভোট সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষ এখনো বুঝে উঠতে পারছে না, এর মূল সমস্যা কোথায়? তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে দোদুল্যমানতায় ভুগছে।
৩. ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে ভাষার মাস হিসেবে স্বীকৃত। মাতৃভাষা বাংলা এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে আমাদের গর্বের সীমা নাই। এই গর্ব পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষী সব মানুষের। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনের বটতলায় প্রকাশক চিত্তরঞ্জন সাহার হাত ধরে এই বইমেলার গোড়াপত্তন হয়েছিল। প্রথমে নাম ছিল অমর একুশে গ্রন্থ মেলা। অর্ধশতাব্দীর অধিক সময় পেরিয়ে এখন সে এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে, যা ২১ শে’র বইমেলা নামে অভাবনীয়ভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছে। যুগযুগ ধরে ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী চলেছে উৎসবমুখর এই বইমেলা। কয়েক বছর আগে বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্তে মেলার বিস্ময়কর সম্প্রসারণ হয়। এখন একাডেমির চত্বরের বাইরের বিপরীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল এলাকা নিয়ে জেগে ওঠে বই-সমুদ্রের এক গণজাগরণ। মেলাকে ঘিরে নতুন বইয়ের আগমন, তরুণ লেখকের প্রাণান্ত প্রয়াস, প্রবীণ লেখকের নিভৃত পদচারণা, সঙ্গে সব শ্রেণির পাঠক আর প্রকাশকের মধ্যে দৃশ্যমান সেতুবন্ধন রচিত হয়।
প্রতি বছর হাজার হাজার বইয়ের জন্ম হয়, মাতৃভাষায় লেখক সত্তার বিকাশ ঘটে। আজ এটা কেবল বইয়ের মেলা নয় বরং দেশের লক্ষ-কোটি মানুষের আবেগময় স্পন্দিত মিলনমেলার আরেক নাম। এদেশে বইয়ের প্রচার, প্রসার শিল্পমানের উচ্চতায় আসীন হয়েছে। প্রকাশনা খাতে শতকোটি টাকার পুঁজির বিনিয়োগ হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে।
৪. অমর একুশে বইমেলার যাত্রালগ্ন থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারি মাসের বাইরে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। জানা যায়, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠানের সিডিউল থাকায় বইমেলা চলবে ২০ ফেব্রুয়ারি ’২৬ থেকে ২০ মার্চ ’২৬ তারিখ পর্যন্ত। তবুও ভাষার মাসের আমেজ ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো যায়। উল্লেখ্য যে, তিনদশক আগে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন অবশ্য বইমেলা ফেব্রুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা বলেছেন, এবারের নির্বাচন-পূর্ববর্তী নির্বাচনসমূহের মতো নয়। এই নির্বাচন হবে এক ঐতিহাসিক এবং ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন। এখন দেশবাসীও এমন একটা অভূতপূর্ব নির্বাচনী মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছে।
[লেখক: গল্পকার]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
হোসেন আবদুল মান্নান
রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটা জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছে। ব্যাপকভাবে উৎসব মুখরভাবে প্রচারাভিযান চলছে তা বলা যাবে না। তবে নির্বাচনী জনসংযোগ, প্রতীক বরাদ্দের পর শোভাযাত্রা, মিছিল, মিটিং চলমান আছে। কোথাও কোথাও বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বা উপজেলা পর্যায়ে সাংঘর্ষিক অবস্থারও সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। সহিংসতা, হাঙ্গামা, খুন-খারাবি, অফিস ভাঙচুর হচ্ছে।
নির্বাচনের সঙ্গে এসব লেগেই থাকে। এবার মূলত দুটো দলের বা জোটের দৃশ্যমান তৎপরতা রয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর জোটভুক্ত দলগুলোর গতিবিধি চোখে পড়ছে। বাকিরা খানিকটা আড়ালে পড়ে গিয়েও প্রচারণা চালাচ্ছে। তবু অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করে চলেছে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে তো? এমনকি খোদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দুয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ হলে তিনি পাশ করবেন, না হয় এমনটা হবে ইত্যাদি। দেশে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অতীতে এতটা সংশয়, সন্দেহ দেখা দেয়নি। এর পেছনে নিঃসন্দেহে প্রচার ও অপপ্রচার রয়েছে। আর তা ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশের অলিগলিতে, চায়ের দোকানে, বাসস্ট্যান্ডে, রেলস্টেশনে সর্বত্র। প্রচার কাজে অংশ নিয়ে কতিপয় নেতার বক্তব্যও এর জন্য দায়ী হচ্ছে। তারাই বলছেন, একটা বড় দলের অনুপস্থিতি এবারের নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক ও আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতে দিচ্ছে না। কেউ কেউ ‘স্লিপ অব টাং’-এর ফলে নানা হাসি-তামাশার খোরাক জোগাচ্ছেন। কেউ আবার নেতার নাম ভুল করছেন, বিশেষণ ব্যবহার করতে গিয়ে অনাকাক্সিক্ষত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। মাইক্রোফোন নিয়ে কাড়াকাড়ি হচ্ছে, যুৎসই শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে না। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেবল এগুলোকে ধরে ধরে জনসমক্ষে নিয়ে আসছে।
মনে হয়, এতে সাধারণ মানুষ নির্বাচনী প্রচারের ভালোর চেয়ে মন্দ দিকটাই বেশি দেখছে।
ফেইসবুক, ইউটিউব মাধ্যমগুলো এসব ছড়াচ্ছে। বাণিজ্যিক কারণেই এরা ভালো ক্লিপগুলো প্রকাশ করে না। মনে হয়, এদের কাছে অশোভন সবকিছুই আসল সংবাদ।
২. দেশে জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের ভেতরে ‘হ্যা’ভোট আর ‘না’ ভোটের বিপরীতমুখী প্রচারণা চলমান আছে। সরকারের ‘হ্যা’ আর দ’একটা বিরোধী দলের ‘না’ বলার বিষয়টি প্রকাশ্যে ও পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। সরকার এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে তার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনিক হাতকে ব্যবহার করছে। তারা সংস্কার, পরিবর্তন ও রাষ্ট্রকে গতানুগতিক ধারার বেড়াজাল থেকে বের করে আনার আহ্বান জানাচ্ছে। যা ভবিষ্যতের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টিসহ কটা ছোট দল ‘না’র পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তারা বিসমিল্লাহর অন্তর্ভুক্তি, দেশের স্বাধীনতা, সংবিধান রক্ষা, জনগণকে অন্ধকারে রেখে গণভোট মানে না। তাদের কথা, গণভোট বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট নেয়া পার্লামেন্টই শেষ কথা। তাদের বক্তব্য সোজা ‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়ে সরকার চাপ দিতে পারে না। মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিবে। এদিকে দেরিতে হলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রজাতন্ত্রেরের কর্মচারীদের সতর্ক করে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বরাবর পত্র দিয়েছে। হ্যাঁ-না ভোট সম্পর্কে তারা যেন শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন। যদিও কর্মচারীদের অনেকেই ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত। তবে একথা সত্য যে, ‘হ্যাঁ’ ভোট সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষ এখনো বুঝে উঠতে পারছে না, এর মূল সমস্যা কোথায়? তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে দোদুল্যমানতায় ভুগছে।
৩. ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে ভাষার মাস হিসেবে স্বীকৃত। মাতৃভাষা বাংলা এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে আমাদের গর্বের সীমা নাই। এই গর্ব পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষী সব মানুষের। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনের বটতলায় প্রকাশক চিত্তরঞ্জন সাহার হাত ধরে এই বইমেলার গোড়াপত্তন হয়েছিল। প্রথমে নাম ছিল অমর একুশে গ্রন্থ মেলা। অর্ধশতাব্দীর অধিক সময় পেরিয়ে এখন সে এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে, যা ২১ শে’র বইমেলা নামে অভাবনীয়ভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছে। যুগযুগ ধরে ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী চলেছে উৎসবমুখর এই বইমেলা। কয়েক বছর আগে বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্তে মেলার বিস্ময়কর সম্প্রসারণ হয়। এখন একাডেমির চত্বরের বাইরের বিপরীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল এলাকা নিয়ে জেগে ওঠে বই-সমুদ্রের এক গণজাগরণ। মেলাকে ঘিরে নতুন বইয়ের আগমন, তরুণ লেখকের প্রাণান্ত প্রয়াস, প্রবীণ লেখকের নিভৃত পদচারণা, সঙ্গে সব শ্রেণির পাঠক আর প্রকাশকের মধ্যে দৃশ্যমান সেতুবন্ধন রচিত হয়।
প্রতি বছর হাজার হাজার বইয়ের জন্ম হয়, মাতৃভাষায় লেখক সত্তার বিকাশ ঘটে। আজ এটা কেবল বইয়ের মেলা নয় বরং দেশের লক্ষ-কোটি মানুষের আবেগময় স্পন্দিত মিলনমেলার আরেক নাম। এদেশে বইয়ের প্রচার, প্রসার শিল্পমানের উচ্চতায় আসীন হয়েছে। প্রকাশনা খাতে শতকোটি টাকার পুঁজির বিনিয়োগ হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে।
৪. অমর একুশে বইমেলার যাত্রালগ্ন থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারি মাসের বাইরে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। জানা যায়, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠানের সিডিউল থাকায় বইমেলা চলবে ২০ ফেব্রুয়ারি ’২৬ থেকে ২০ মার্চ ’২৬ তারিখ পর্যন্ত। তবুও ভাষার মাসের আমেজ ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো যায়। উল্লেখ্য যে, তিনদশক আগে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন অবশ্য বইমেলা ফেব্রুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা বলেছেন, এবারের নির্বাচন-পূর্ববর্তী নির্বাচনসমূহের মতো নয়। এই নির্বাচন হবে এক ঐতিহাসিক এবং ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন। এখন দেশবাসীও এমন একটা অভূতপূর্ব নির্বাচনী মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছে।
[লেখক: গল্পকার]