alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

যেভাবে আছেন, সেভাবে থাকবেন!

আনোয়ারুল হক

: বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গত ২১ জানুয়ারি পত্রিকায় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার-সংক্রান্ত একটি ছোট সংবাদ বেরিয়েছে, যা হয়তোবা অনেকের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে বা দৃষ্টিতে পড়লেও অনেকে এ ধরনের সংবাদকে আর গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে এই সব সংবাদকে অতি স্বাভাবিক মনে করেন। যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্তির ঠিক তেরো বছর পর ২০২৬ এর ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর রুকন আবুল কালাম আযাদ আত্মসমর্পণ করলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-তিনি এখন ‘যেভাবে আছেন সেভাবে থাকবেন’ এমন একটি আদেশ দিয়েছেন।

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেই রায় দিয়েছিলো। অবশ্য তার আগে থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদ-ের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন নাকি জারি করা হয়েছিলো। কিন্তু রায় স্থগিতের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার আগেই তিনি দেশে ফিরে আসলেও তখন তাকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। আর সাজা স্থগিত করার এক্তিয়ার সরকারের আছে কিনা সে প্রশ্ন উত্থাপন করেও আজ আর কোনো সুরাহা নেই।

কেন জানি মনে হয়, ‘যেমন আছেন, তেমন থাকার’ আদালতের আদেশের ন্যায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও গোটা দেশবাসীর ওপর এ ধরনের এক প্রতীকী আদেশ জারি করেছে। আর সে কারণেই ’২৪-এর জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এত বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও আমরা যেমন ছিলাম তেমনি আছি। কিছু ক্ষেত্রে তো আগের চেয়েও খারাপ। অথচ জুলাই আন্দোলনে আমাদের তরুণ প্রজন্ম দেয়ালে দেয়ালে পরিবর্তনের যে স্বপ্ন এঁকেছিল-তাতো যেমন আছি তেমন থাকার স্বপ্ন ছিল না। বরং ’২৪-এর তারুণ্য আমাদেরকে একটি উদার, গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

সেসব স্বপ্ন শুধু ফিকে হয়ে যায়নি বরং আমরা এক উল্টো যাত্রার পথে আছি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সম্প্রীতির বাংলাদেশে এক বিপজ্জনক সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে-যে রাজনৈতিক শক্তি এ দেশের জন্মযুদ্ধের বিরোধিতা করে সরাসরি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী শক্তি হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। সাম্প্রতিককালে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা সিদ্ধান্ত এবং আদালতের কিছু আদেশে মনে হচ্ছে ’৭১-এ হয়নিকো কোনো অপরাধ! ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের দোসররা আজ একের পর এক দেশবিরোধী বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে নতুন সংযোজন নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য। জামায়াত আমির একেবারে ‘জামা খুলেই’ সরাসরি বলছেন, কোনো নারী কখনও তার দলের আমির হতে পারবেন না। তার ভাষায়, আল্লাহ নারীদের ‘সেভাবে’ সৃষ্টি করেননি এবং এটা ‘পরিবর্তনযোগ্য নয়’।

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা আরো খুলে বলেছেন, নারীরা জামায়াতের শীর্ষ পদে আসতে পারবে না-এটা মেনেই আমরা রাজনীতি করি। ১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থি। নারীদের পরিচালনা করবে পুরুষ। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, পুরুষ হলো নারীর পরিচালক।’ ভয়াবহ সব কথাবার্তা। কল্পনা করা যায়! কাদের সঙ্গে ঐক্য করলেন তরুণদের রাজনৈতিক দল? ভুল করলেন নাকি তারাও ছদ্মবেশী জামায়াত-শিবির ছিলেন? দুঃখ হয় তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, নূসরাত তাবাসুম, সামান্থা শারমিন বা উমামা ফাতেমাদের কথা ভেবে। আরো দুঃখ হয় দেশের লাখো ছাত্রী ও তরুণীদের কথা ভেবে, যারা রাজপথে নেমে তরুণদের সঙ্গে সমান তালে না লড়লে জুলাই আন্দোলন সফল হতো না। তারা আজ শুধু প্রতারিত বোধ করছেন না, নিরাশা আর শূন্যতার গভীরতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন।

প্রতারণার নানা কৌশল কিন্তু নতুন নয়। আওয়ামী লীগ আমলে বেপরোয়া ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে ঢুকে তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছেন। সারজিস আলমের কণ্ঠে ছিল অসংখ্যবার ‘আমার বঙ্গবন্ধু ..’ উচ্চারণে উচ্চকিত ভাষণ। হাসনাত আব্দুল্লাহ মুজিব শতবর্ষে মুজিবকে ফ্যাসিস্ট না বলে, পিতা আখ্যায়িত করে পোস্ট দিয়েছিলেন। কোটাবিরোধী আন্দোলনের শুরুতে তাদের মুখে স্লোগান ছিল- ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’। শিবিরের ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম আজ বলছেন হাসিনার নামে স্লোগান দিতে ‘বাধ্য হয়েছি’। ছাত্রলীগে গুপ্ত থাকলে তো বাধ্য হতেই হবে। এদেরকে নীতিনিষ্ঠ বলবেন, না প্রতারক বলবেন। ইসলাম বলে, ‘মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ভঙ্গ করার মতো বড় পাপ এই পৃথিবীতে আর নাই। পাপের একভাগ পৃথিবীতেই ভোগ করে যেতে হবে’। ইসলামী বুলি কপচিয়ে কি এরা পার পাবেন?

কেন জানি মনে হয়, ‘যেমন আছেন, তেমন থাকার’ আদালতের আদেশের ন্যায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও গোটা দেশবাসীর ওপর এ ধরনের এক প্রতীকী আদেশ জারি করেছে। আর সে কারণেই ’২৪-এর জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এত বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও আমরা যেমন ছিলাম তেমনি আছি। কিছু ক্ষেত্রে তো আগের চেয়েও খারাপ। অথচ জুলাই আন্দোলনে আমাদের তরুণ প্রজন্ম দেয়ালে দেয়ালে পরিবর্তনের যে স্বপ্ন এঁকেছিল-তাতো যেমন আছি তেমন থাকার স্বপ্ন ছিল না। বরং ’২৪-এর তারুণ্য আমাদেরকে একটি উদার, গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছিল

দুটি উদাহরণ উল্লেখ না পারছি না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যার যার পছন্দ ও রুচিবোধ অনুযায়ী পোশাক পরে থাকেন। পোশাকে নানা বৈচিত্র্যও দেখতে পাই। আমরা নিজ পরিবারে কিংবা কর্মস্থলে দেখছি নারীরা কেউ শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ অথবা পেন্ট-ফতুয়া পরে চলাফেরা করছেন আবার কেউ তার সঙ্গে হিজাব পরিধান করছেন। এ ধরনের পোশাক বৈচিত্র্যে পরিবারে বা কর্মস্থলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তখনি যখন কেউ নিজের পছন্দ অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। এবারের ডাকসু নির্বাচনের সময়ে দেখলাম, শিবির প্যানেলের প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম জুমা একধরনের পোশাক পরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন। ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে দেখে মনে করলেন শিবির বোধহয় পোশাকের বৈচিত্র এবং পছন্দের পোশাক পরার স্বাধীনতা মেনে নিয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা গেল জুমার পোশাকে পরিবর্তন এসেছে। হিজাবসহ পুরো শরীর আবৃত পোশাক পরছেন। পছন্দের পরিবর্তন হতেই পারে। কিন্তু ছাত্র সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিবর্তন দেখে এটা অনেকের কাছে কাকতালীয় মনে হয়নি, নিজ পছন্দ নয় বাধ্য হয়ে পছন্দে পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ব্রতী’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমরা বহু দিন যাবৎ দেখে আসছি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশ ‘মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’র সদস্য ছিলেন। সাংস্কৃতিক দলটি শরণার্থী শিবিরসহ বিভিন্ন মুক্তাঞ্চলে যেয়ে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের চেতনাকে উজ্জীবিত করত। তার বাবা ছিলেন মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং তাজউদ্দীনের আস্থাভাজন এবং তার মা ছিলেন সংসদ সদস্য। ব্রতীর কার্যক্রমে বা যে কোনো অনুষ্ঠানে তিনি সব সময় তার মতো করে শাড়ি, ব্লাউজ পরতেন। স্টাইলটি তার ‘সিগনেচার’ হয়ে গিয়েছিল। উপদেষ্টা হিসেবে শপথও নিয়েছিলেন সেই একই স্টাইলের সাজ পোশাকে। কিছু দিনের মধ্যে দেখা গেলো সেই পোশাকে পরিবর্তন এসেছে। কী এমন হলো সেই চিরচেনা পোশাক পরিবর্তন করতে তিনি বাধ্য হলেন! আমরা কোন গহ্বরে প্রবেশ করলাম?

জামায়াত আমির আজ নারী নেতৃত্ব ইসলামবিরোধী ঘোষণা করলেও ১৯৯১ সনে জামায়াত নারী নেতৃত্বে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছিল এবং ২০০১ সালে নারী নেতৃত্বে গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায়ও জায়গা করে নিয়েছিল। জামায়াত ইসলামের এই দ্বিচারিতা প্রতারণার শামিল। জামায়াত আমির কথায় কথায় বলেন, ‘আমরা মা-বোনদের সম্মান করি’। এটা কি কোনো বিশেষ গুন? আর মা বোনেরা তো নারী হিসেবে সম্মান চায় না, মানুষ হিসেবে মানুষের কাছ থেকে সম্মান ও সমমর্যাদা আশা করে। জামায়াতের পক্ষে নারীদের সমমর্যাদা দেয়া ও নারীর সমঅধিকার মেনে নেয়া যখন সম্ভব নয়, তাহলে আর সম্মানইবা দেবে কীভাবে? জামায়াতের আমির বলছেন, ‘যারা ঘরের কাজ করবেন, তাদের রত্নগর্ভা মা হিসেবে সম্মানিত করা হবে’। অর্থাৎ ঘরে বন্দি থেকে গৃহকর্মে নিয়োজিত থাকলে জামায়াত নারীকে বিশেষ সম্মান দেবে। অতীতে এভাবে নারীবিদ্বেষী কথাবার্তা বলার সাহস জামায়াত পায়নি-ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তারা একেবারে খুল্লমখুল্লা ও একতরফা নারী স্বাধীনতা বিরোধী কথাবার্তা বলে চলেছে। দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মর্যাদা এবং নারীর সমঅধিকারের প্রশ্নে আমরা পূর্বাপেক্ষা খারাপ অবস্থা দেখতে পাচ্ছি।

তবে ভোটের ময়দানে আমরা যেভাবে ছিলাম সেভাবেই আছি। বিগত তিনটি নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। মানুষও ভোট দিতে পারেনি। এক যুগেরও বেশি সময় যাবৎ মানুষ একটা ভালো ভোটের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সব দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়ায়, নির্বাচন কমিশনের না সত্ত্বেও সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের ফলে নির্বাচন পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েছে। তরুণদের গঠিত রাজনৈতিক দলের কেউ কেউ নির্বাচিত ও মন্ত্রী হবেন-স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা এ ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনের আংশিক ফলাফল ঘোষণা করে দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারের মাঠে পূর্বের মতোই অর্থের দাপট চলছে। তরুণদের দলের প্রার্থীরাও বলছেন নির্বাচনী ব্যায়ের সীমার মাঝে থেকে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনে মিথ্যা হিসাব দিতে বাধ্য হব। তাহলে কী সংস্কারটা হলো? জোট রাজনীতিতেও সেই পূর্বের অবস্থা। নীতি আদর্শের বালাই নেই। সংসদে আসন লাভের জন্য বা জোট মনোনয়ন না পেয়ে কর্নেল অলি, মেজর আক্তারুজ্জামানরা আগের আমলের মতো মুহূর্তের মধ্যে পল্টি খেয়ে ‘জেনারেল ইব্রাহিম বা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর’ হয়ে পড়ছেন। মান্না ভাই, সাইফুল ভাইদেরও ভোটের মাঠে একেবারে ঠিক ঠিক মেনন ভাই, ইনু ভাইদের মতো অবস্থা। কোনো পরিবর্তনই তো চোখে পড়ছে না। আদালতের আদেশের মতো আগে নির্বাচনে ‘যেভাবে ছিলেন, সেভাবে থাকবেন’। ‘ছেড়েছো তো অনেক কিছুই পুরনো অভ্যেস’- এ গান আমাদের গাওয়া হলো না!

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

[লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা]

ইরান সংকটের শেষ কোথায়?

বিশ্ব রাজনীতির অস্বস্তিকর অধ্যায়

প্লাস্টিকনির্ভর জীবনযাপন ও জনস্বাস্থ্য সংকট

চক্রে চক্রে আন্ধাচক্র

‘বাংলাদেশপন্থী’ এক অস্পষ্ট ধারণা: রাষ্ট্র না মানুষ আগে

গুরু রবিদাস: সমতার বার্তা ও মানবতাবাদী শিক্ষার প্রতিধ্বনি

অপরাধ দমন না অধিকার সুরক্ষা?

ভোটের মাস, ভাষার মাস

ব্যর্থতা নৈতিক নয় কাঠামোগত: দুর্নীতি ও বাংলাদেশের সমাজবাস্তবতা

জমি ভুলে খাস হয়ে গেলে সহজে ফেরত আনবেন কীভাবে?

আমরা কি জালিয়াত জাতি?

মন্ত্রীদের জন্য বিলাসী ফ্ল্যাট

ধর্মান্ধ আর প্রতিযোগিতা: দুই সাম্প্রদায়িকের খেলা

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী: সমাজের নতুন ব্যাধি

ছবি

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্নভঙ্গের বেদনা

বাড়ি ভাড়া নির্দেশিকা: ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সুরক্ষা নাকি দুর্ভোগের নতুন দরজা

ক্ষমতা যখন নিজেকেই তোষামোদ করে

‘খাল কেটে কুমির আনা...’

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি

অধিকারহীনতার বৃত্তে আদিবাসী জীবন

স্লোগানে ফ্যাসিবাদ, ভোটের মাঠে আশির্বাদ!

ভাঙা-গড়া সমাজের আমূল পরিবর্তন আনে

শান্তির বৃত্তে বাঁধা বাঘ

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি

চলচ্চিত্র শিল্প : সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনা

ছবি

জলবায়ু পরিবর্তন ও গ্রিনল্যান্ড: নতুন ভূ-রাজনীতির ইঙ্গিত

ব্যাংকিং খাত: সংকট, সংস্কার ও আস্থার সন্ধান

চলচ্চিত্র শিল্প : সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনা

কুষ্ঠ-সম্পর্কিত কুসংস্কার ও বৈষম্য

ব্যাংক ধসের দায় কার?

পশ্চিমবঙ্গে অহেতুক হয়রানির মূল টার্গেট মুসলমানেরাই

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান

নির্বাচনের আগেই জানা গেল আংশিক ফল!

শীতকালীন অসুখ-বিসুখ

দিশাহীন অর্থনীতি, নিষ্ক্রিয় অন্তর্বর্তী সরকার

নরসুন্দরের পোয়াবারো

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

যেভাবে আছেন, সেভাবে থাকবেন!

আনোয়ারুল হক

বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গত ২১ জানুয়ারি পত্রিকায় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার-সংক্রান্ত একটি ছোট সংবাদ বেরিয়েছে, যা হয়তোবা অনেকের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে বা দৃষ্টিতে পড়লেও অনেকে এ ধরনের সংবাদকে আর গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে এই সব সংবাদকে অতি স্বাভাবিক মনে করেন। যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্তির ঠিক তেরো বছর পর ২০২৬ এর ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর রুকন আবুল কালাম আযাদ আত্মসমর্পণ করলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-তিনি এখন ‘যেভাবে আছেন সেভাবে থাকবেন’ এমন একটি আদেশ দিয়েছেন।

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেই রায় দিয়েছিলো। অবশ্য তার আগে থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদ-ের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন নাকি জারি করা হয়েছিলো। কিন্তু রায় স্থগিতের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার আগেই তিনি দেশে ফিরে আসলেও তখন তাকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। আর সাজা স্থগিত করার এক্তিয়ার সরকারের আছে কিনা সে প্রশ্ন উত্থাপন করেও আজ আর কোনো সুরাহা নেই।

কেন জানি মনে হয়, ‘যেমন আছেন, তেমন থাকার’ আদালতের আদেশের ন্যায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও গোটা দেশবাসীর ওপর এ ধরনের এক প্রতীকী আদেশ জারি করেছে। আর সে কারণেই ’২৪-এর জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এত বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও আমরা যেমন ছিলাম তেমনি আছি। কিছু ক্ষেত্রে তো আগের চেয়েও খারাপ। অথচ জুলাই আন্দোলনে আমাদের তরুণ প্রজন্ম দেয়ালে দেয়ালে পরিবর্তনের যে স্বপ্ন এঁকেছিল-তাতো যেমন আছি তেমন থাকার স্বপ্ন ছিল না। বরং ’২৪-এর তারুণ্য আমাদেরকে একটি উদার, গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

সেসব স্বপ্ন শুধু ফিকে হয়ে যায়নি বরং আমরা এক উল্টো যাত্রার পথে আছি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সম্প্রীতির বাংলাদেশে এক বিপজ্জনক সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে-যে রাজনৈতিক শক্তি এ দেশের জন্মযুদ্ধের বিরোধিতা করে সরাসরি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী শক্তি হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। সাম্প্রতিককালে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা সিদ্ধান্ত এবং আদালতের কিছু আদেশে মনে হচ্ছে ’৭১-এ হয়নিকো কোনো অপরাধ! ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের দোসররা আজ একের পর এক দেশবিরোধী বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে নতুন সংযোজন নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য। জামায়াত আমির একেবারে ‘জামা খুলেই’ সরাসরি বলছেন, কোনো নারী কখনও তার দলের আমির হতে পারবেন না। তার ভাষায়, আল্লাহ নারীদের ‘সেভাবে’ সৃষ্টি করেননি এবং এটা ‘পরিবর্তনযোগ্য নয়’।

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা আরো খুলে বলেছেন, নারীরা জামায়াতের শীর্ষ পদে আসতে পারবে না-এটা মেনেই আমরা রাজনীতি করি। ১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থি। নারীদের পরিচালনা করবে পুরুষ। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, পুরুষ হলো নারীর পরিচালক।’ ভয়াবহ সব কথাবার্তা। কল্পনা করা যায়! কাদের সঙ্গে ঐক্য করলেন তরুণদের রাজনৈতিক দল? ভুল করলেন নাকি তারাও ছদ্মবেশী জামায়াত-শিবির ছিলেন? দুঃখ হয় তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, নূসরাত তাবাসুম, সামান্থা শারমিন বা উমামা ফাতেমাদের কথা ভেবে। আরো দুঃখ হয় দেশের লাখো ছাত্রী ও তরুণীদের কথা ভেবে, যারা রাজপথে নেমে তরুণদের সঙ্গে সমান তালে না লড়লে জুলাই আন্দোলন সফল হতো না। তারা আজ শুধু প্রতারিত বোধ করছেন না, নিরাশা আর শূন্যতার গভীরতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন।

প্রতারণার নানা কৌশল কিন্তু নতুন নয়। আওয়ামী লীগ আমলে বেপরোয়া ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে ঢুকে তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছেন। সারজিস আলমের কণ্ঠে ছিল অসংখ্যবার ‘আমার বঙ্গবন্ধু ..’ উচ্চারণে উচ্চকিত ভাষণ। হাসনাত আব্দুল্লাহ মুজিব শতবর্ষে মুজিবকে ফ্যাসিস্ট না বলে, পিতা আখ্যায়িত করে পোস্ট দিয়েছিলেন। কোটাবিরোধী আন্দোলনের শুরুতে তাদের মুখে স্লোগান ছিল- ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’। শিবিরের ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম আজ বলছেন হাসিনার নামে স্লোগান দিতে ‘বাধ্য হয়েছি’। ছাত্রলীগে গুপ্ত থাকলে তো বাধ্য হতেই হবে। এদেরকে নীতিনিষ্ঠ বলবেন, না প্রতারক বলবেন। ইসলাম বলে, ‘মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ভঙ্গ করার মতো বড় পাপ এই পৃথিবীতে আর নাই। পাপের একভাগ পৃথিবীতেই ভোগ করে যেতে হবে’। ইসলামী বুলি কপচিয়ে কি এরা পার পাবেন?

কেন জানি মনে হয়, ‘যেমন আছেন, তেমন থাকার’ আদালতের আদেশের ন্যায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও গোটা দেশবাসীর ওপর এ ধরনের এক প্রতীকী আদেশ জারি করেছে। আর সে কারণেই ’২৪-এর জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এত বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও আমরা যেমন ছিলাম তেমনি আছি। কিছু ক্ষেত্রে তো আগের চেয়েও খারাপ। অথচ জুলাই আন্দোলনে আমাদের তরুণ প্রজন্ম দেয়ালে দেয়ালে পরিবর্তনের যে স্বপ্ন এঁকেছিল-তাতো যেমন আছি তেমন থাকার স্বপ্ন ছিল না। বরং ’২৪-এর তারুণ্য আমাদেরকে একটি উদার, গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছিল

দুটি উদাহরণ উল্লেখ না পারছি না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যার যার পছন্দ ও রুচিবোধ অনুযায়ী পোশাক পরে থাকেন। পোশাকে নানা বৈচিত্র্যও দেখতে পাই। আমরা নিজ পরিবারে কিংবা কর্মস্থলে দেখছি নারীরা কেউ শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ অথবা পেন্ট-ফতুয়া পরে চলাফেরা করছেন আবার কেউ তার সঙ্গে হিজাব পরিধান করছেন। এ ধরনের পোশাক বৈচিত্র্যে পরিবারে বা কর্মস্থলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তখনি যখন কেউ নিজের পছন্দ অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। এবারের ডাকসু নির্বাচনের সময়ে দেখলাম, শিবির প্যানেলের প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম জুমা একধরনের পোশাক পরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন। ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে দেখে মনে করলেন শিবির বোধহয় পোশাকের বৈচিত্র এবং পছন্দের পোশাক পরার স্বাধীনতা মেনে নিয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা গেল জুমার পোশাকে পরিবর্তন এসেছে। হিজাবসহ পুরো শরীর আবৃত পোশাক পরছেন। পছন্দের পরিবর্তন হতেই পারে। কিন্তু ছাত্র সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিবর্তন দেখে এটা অনেকের কাছে কাকতালীয় মনে হয়নি, নিজ পছন্দ নয় বাধ্য হয়ে পছন্দে পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ব্রতী’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমরা বহু দিন যাবৎ দেখে আসছি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশ ‘মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’র সদস্য ছিলেন। সাংস্কৃতিক দলটি শরণার্থী শিবিরসহ বিভিন্ন মুক্তাঞ্চলে যেয়ে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের চেতনাকে উজ্জীবিত করত। তার বাবা ছিলেন মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং তাজউদ্দীনের আস্থাভাজন এবং তার মা ছিলেন সংসদ সদস্য। ব্রতীর কার্যক্রমে বা যে কোনো অনুষ্ঠানে তিনি সব সময় তার মতো করে শাড়ি, ব্লাউজ পরতেন। স্টাইলটি তার ‘সিগনেচার’ হয়ে গিয়েছিল। উপদেষ্টা হিসেবে শপথও নিয়েছিলেন সেই একই স্টাইলের সাজ পোশাকে। কিছু দিনের মধ্যে দেখা গেলো সেই পোশাকে পরিবর্তন এসেছে। কী এমন হলো সেই চিরচেনা পোশাক পরিবর্তন করতে তিনি বাধ্য হলেন! আমরা কোন গহ্বরে প্রবেশ করলাম?

জামায়াত আমির আজ নারী নেতৃত্ব ইসলামবিরোধী ঘোষণা করলেও ১৯৯১ সনে জামায়াত নারী নেতৃত্বে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছিল এবং ২০০১ সালে নারী নেতৃত্বে গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায়ও জায়গা করে নিয়েছিল। জামায়াত ইসলামের এই দ্বিচারিতা প্রতারণার শামিল। জামায়াত আমির কথায় কথায় বলেন, ‘আমরা মা-বোনদের সম্মান করি’। এটা কি কোনো বিশেষ গুন? আর মা বোনেরা তো নারী হিসেবে সম্মান চায় না, মানুষ হিসেবে মানুষের কাছ থেকে সম্মান ও সমমর্যাদা আশা করে। জামায়াতের পক্ষে নারীদের সমমর্যাদা দেয়া ও নারীর সমঅধিকার মেনে নেয়া যখন সম্ভব নয়, তাহলে আর সম্মানইবা দেবে কীভাবে? জামায়াতের আমির বলছেন, ‘যারা ঘরের কাজ করবেন, তাদের রত্নগর্ভা মা হিসেবে সম্মানিত করা হবে’। অর্থাৎ ঘরে বন্দি থেকে গৃহকর্মে নিয়োজিত থাকলে জামায়াত নারীকে বিশেষ সম্মান দেবে। অতীতে এভাবে নারীবিদ্বেষী কথাবার্তা বলার সাহস জামায়াত পায়নি-ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তারা একেবারে খুল্লমখুল্লা ও একতরফা নারী স্বাধীনতা বিরোধী কথাবার্তা বলে চলেছে। দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মর্যাদা এবং নারীর সমঅধিকারের প্রশ্নে আমরা পূর্বাপেক্ষা খারাপ অবস্থা দেখতে পাচ্ছি।

তবে ভোটের ময়দানে আমরা যেভাবে ছিলাম সেভাবেই আছি। বিগত তিনটি নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। মানুষও ভোট দিতে পারেনি। এক যুগেরও বেশি সময় যাবৎ মানুষ একটা ভালো ভোটের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সব দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়ায়, নির্বাচন কমিশনের না সত্ত্বেও সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের ফলে নির্বাচন পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েছে। তরুণদের গঠিত রাজনৈতিক দলের কেউ কেউ নির্বাচিত ও মন্ত্রী হবেন-স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা এ ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনের আংশিক ফলাফল ঘোষণা করে দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারের মাঠে পূর্বের মতোই অর্থের দাপট চলছে। তরুণদের দলের প্রার্থীরাও বলছেন নির্বাচনী ব্যায়ের সীমার মাঝে থেকে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনে মিথ্যা হিসাব দিতে বাধ্য হব। তাহলে কী সংস্কারটা হলো? জোট রাজনীতিতেও সেই পূর্বের অবস্থা। নীতি আদর্শের বালাই নেই। সংসদে আসন লাভের জন্য বা জোট মনোনয়ন না পেয়ে কর্নেল অলি, মেজর আক্তারুজ্জামানরা আগের আমলের মতো মুহূর্তের মধ্যে পল্টি খেয়ে ‘জেনারেল ইব্রাহিম বা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর’ হয়ে পড়ছেন। মান্না ভাই, সাইফুল ভাইদেরও ভোটের মাঠে একেবারে ঠিক ঠিক মেনন ভাই, ইনু ভাইদের মতো অবস্থা। কোনো পরিবর্তনই তো চোখে পড়ছে না। আদালতের আদেশের মতো আগে নির্বাচনে ‘যেভাবে ছিলেন, সেভাবে থাকবেন’। ‘ছেড়েছো তো অনেক কিছুই পুরনো অভ্যেস’- এ গান আমাদের গাওয়া হলো না!

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

[লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা]

back to top