নাজমুল হুদা খান
শারীরিকভাবে রোজার নানাবিধ সুফল রয়েছে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, রমজান মাসে রোজা রাখার ফলে দেহের বহু ইতিবাচক উন্নতি ঘটে, যথা- রক্তের গুকোজ নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন কনিকাসমূহ ইতিবাচক পরিবর্তন, শরীরে ক্ষতিকারক চর্বিসমূহের হ্রাস, ওজন কমানো ও নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি এবং আয়ুষ্কাল বাড়া ইত্যাদি। রোজা থাকার ফলে আমাদের রক্তে চর্বি, ফ্যাটি এসিড, কোলেস্টেরল ইত্যাদির পরিমাণ কমে যায়। ফলে রক্তে চর্বির শতকরা হার ও HBA1c i পরিমাণ হ্রাস পায় এবং দেহে গ্লুকোজ বা সুগারের পরিমাণও কমে । এছাড়া রমজানে আমাদের ঘুমের চক্রের পরিবর্তন ঘটে; ফলশ্রুতিতে রক্তে লেপটিন, নিউরোপেপটাইড, ইনসুলিনের পরিমাণে পরিবর্তন ঘটে এবং আমাদের শরীরের শক্তি উৎপাদন ও ব্যয় হ্রাস পায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। স্থূলতা আমাদের দেহের বহুবিধ অসংক্রামক রোগের কারণ। এছাড়া আমাদের চলাফেরা ও জীবনযাত্রায়ও ব্যাঘাত ঘটায়। রোজা দৈহিক স্থূলতার হ্রাস করে। সাধারণত রোজার ২য়/৩য় সপ্তাহেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শরীরের ওজন কমতে দেখা যায়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, রমজান মাসে আমাদের রক্তের ক্ষতিকারক চর্বির উপাদান যথা- লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন এবং ভেরি লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনের পরিমাণ হ্রাস পায়। অন্যদিকে আমাদের শরীরের সুরক্ষায় কাজ করে এমন চর্বির উপাদান যথা- হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। উপরন্তু রোজা থাকার ফলে দেহের নানাবিধ রোগের কারণ ট্রাইগ্লিসারাইড, প্রদাহ ও জারণ প্রক্রিয়ার হরমোনগুলোও কমে; যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। রোজা রাখার ফলে রক্তের বিভিন্ন কনিকা যথা- লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা, অনুচক্রিকা প্রভৃতির বৃদ্ধি ঘটে; যা আমাদের দেহকে সুরক্ষিত করে। অন্যদিকে প্রদাহ এবং প্রদাহের অনুঘটক রাসায়নিক উপাদান যথা- IL-1, IL-6, Tumor necrosis factor এর পরিমান হ্রাস পায়; যারা প্রকারান্তরে দেহে ক্যানসারের অনুঘটক। সুতরাং রোজা ক্যানসার প্রতিরোধেও কাজ করে। বহু গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, রোজা হৃদযন্ত্রের কোষসমূহের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করে; যাতে আমাদের দেহে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এ সময় রক্তের সুগার, চর্বি, ইনসুলিন, হৃৎকম্পন, নাড়ির গতি লক্ষণীয়ভাবে হ্রাসের কারণে হৃৎপিন্ডের বহুবিধ রোগ কমে এবং রক্তচাপ ও মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়; যা দেহের রক্তনালি, রক্ত ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ প্রশমনে সহায়তা করে। রোজা শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকারক উপাদান কিংবা ক্যান্সার উৎপত্তির অনুঘটক যেমন- সাইটোকাইনসমূহ, লেপটিন, এডিপোনেকাটিন প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্যানসার উৎপত্তির সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। এছাড়া আমাদের রক্তের IL-6, IL-1B, TNF-? কমায়, যা শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি হিসেবে পরিচিত। রোজা শরীরে জাড়িত অক্সিজেনের বিভিন্ন অঙ্গাণু কমাতে সহায়তা করে এবং ক্যানসারের আশঙ্কা কমায়। রোজা একদিকে রক্তের বিভিন্ন রক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে; অপরপক্ষে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান IL-6, IL-IB, TNF-?, লিস্ফোসাইট, মনোসাইট প্রভৃতি কমায় ফলে পরোক্ষভাবে আমাদের দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটে। গবেষণায় দেখা যায় যে, রোজা স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকরী কোষ নিউরনসমূহকে সুরক্ষিত রাখে, ফলে বিভিন্ন ধরনের স্নায়ুতন্ত্রের রোগ যেমন- আলজেহিমারস রোগ, স্ট্রোক প্রভৃতি রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। রমজানের রোজার সময় বিপাক প্রক্রিয়ায় রক্তের কিটোন বডির পরিমাণ বৃদ্ধি ঘটে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে যখন শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ হ্রাস পায়, তখন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যথা- হৃদপিন্ড, মস্তিষ্ক ও মাংসপেশিসমূহে এই কিটোন বডি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। রোজার সময় ঘুমের চক্রের পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার নানা দিক পরিবর্তন ঘটে। গবেষণালব্ধ তথ্যে দেখা যায় যে, এসব পরিবর্তনের ফলে শরীরে বিভিন্ন হরমোন ও এনজাইমেও পরিবর্তন ঘটে; স্টেরয়েড হরমোন, পিটুইটারি হরমোন, থাইরয়েড হরমোন, মেলাটোনিন প্রভৃতি অন্যতম। এদের সবকটি শরীরের বিপাক এবং শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জড়িত। রোজায় এসব হরমোনে পরিবর্তনের ফলে রক্তের সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রেই হ্রাস পায়। ফলে শরীরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। রোজার সময় আমাদের স্বাস্থ্যহানিকর বিভিন্ন কর্মকা- যথা-ধূমপানসহ নানাবিদ বদঅভ্যাস থেকে বিরত থাকি। এসব কারণে শরীরের ক্ষতিকারক বায়োমার্কার উৎপত্তি হ্রাস পায়, ফলে বিভিন্ন অঙ্গসমূহ সুরক্ষিত থাকে। রমজানে আমাদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। দৈহিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক কল্যাণ ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধতার মাধ্যমে আমাদের শারীরিক সুস্থতার উন্নতি ঘটে এবং আমাদের আয়ুষ্কাল বাড়াতে ভূমিকা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যের সংজ্ঞায় মূলত শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক তিনটি উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়, রোজা মানুষের স্বাস্থ্যের সবকটি বিভাগেই ইতিবাচক এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তাই একজন সুস্থ মানুষের জন্য রোজা শুধু নিরাপদই নয়, স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং অধিকতর সুরক্ষিতও করে। তবে যারা বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত এবং সারাদিন না খেয়ে থাকায় স্বাস্থ্যের অবনতি বা চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটতে পারে; তাদের রোজা থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে। এমনকি গর্ভবতী মহিলা বা ভ্রমণে রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও রোজা থেকে অব্যাহতি প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে।
[লেখক: পরিচালক, মেডিকেল সার্ভিসেস, বিআরবি হাসপাতাল, ঢাকা]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
নাজমুল হুদা খান
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শারীরিকভাবে রোজার নানাবিধ সুফল রয়েছে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, রমজান মাসে রোজা রাখার ফলে দেহের বহু ইতিবাচক উন্নতি ঘটে, যথা- রক্তের গুকোজ নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন কনিকাসমূহ ইতিবাচক পরিবর্তন, শরীরে ক্ষতিকারক চর্বিসমূহের হ্রাস, ওজন কমানো ও নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি এবং আয়ুষ্কাল বাড়া ইত্যাদি। রোজা থাকার ফলে আমাদের রক্তে চর্বি, ফ্যাটি এসিড, কোলেস্টেরল ইত্যাদির পরিমাণ কমে যায়। ফলে রক্তে চর্বির শতকরা হার ও HBA1c i পরিমাণ হ্রাস পায় এবং দেহে গ্লুকোজ বা সুগারের পরিমাণও কমে । এছাড়া রমজানে আমাদের ঘুমের চক্রের পরিবর্তন ঘটে; ফলশ্রুতিতে রক্তে লেপটিন, নিউরোপেপটাইড, ইনসুলিনের পরিমাণে পরিবর্তন ঘটে এবং আমাদের শরীরের শক্তি উৎপাদন ও ব্যয় হ্রাস পায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। স্থূলতা আমাদের দেহের বহুবিধ অসংক্রামক রোগের কারণ। এছাড়া আমাদের চলাফেরা ও জীবনযাত্রায়ও ব্যাঘাত ঘটায়। রোজা দৈহিক স্থূলতার হ্রাস করে। সাধারণত রোজার ২য়/৩য় সপ্তাহেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শরীরের ওজন কমতে দেখা যায়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, রমজান মাসে আমাদের রক্তের ক্ষতিকারক চর্বির উপাদান যথা- লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন এবং ভেরি লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনের পরিমাণ হ্রাস পায়। অন্যদিকে আমাদের শরীরের সুরক্ষায় কাজ করে এমন চর্বির উপাদান যথা- হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। উপরন্তু রোজা থাকার ফলে দেহের নানাবিধ রোগের কারণ ট্রাইগ্লিসারাইড, প্রদাহ ও জারণ প্রক্রিয়ার হরমোনগুলোও কমে; যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। রোজা রাখার ফলে রক্তের বিভিন্ন কনিকা যথা- লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা, অনুচক্রিকা প্রভৃতির বৃদ্ধি ঘটে; যা আমাদের দেহকে সুরক্ষিত করে। অন্যদিকে প্রদাহ এবং প্রদাহের অনুঘটক রাসায়নিক উপাদান যথা- IL-1, IL-6, Tumor necrosis factor এর পরিমান হ্রাস পায়; যারা প্রকারান্তরে দেহে ক্যানসারের অনুঘটক। সুতরাং রোজা ক্যানসার প্রতিরোধেও কাজ করে। বহু গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, রোজা হৃদযন্ত্রের কোষসমূহের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করে; যাতে আমাদের দেহে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এ সময় রক্তের সুগার, চর্বি, ইনসুলিন, হৃৎকম্পন, নাড়ির গতি লক্ষণীয়ভাবে হ্রাসের কারণে হৃৎপিন্ডের বহুবিধ রোগ কমে এবং রক্তচাপ ও মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়; যা দেহের রক্তনালি, রক্ত ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ প্রশমনে সহায়তা করে। রোজা শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকারক উপাদান কিংবা ক্যান্সার উৎপত্তির অনুঘটক যেমন- সাইটোকাইনসমূহ, লেপটিন, এডিপোনেকাটিন প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্যানসার উৎপত্তির সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। এছাড়া আমাদের রক্তের IL-6, IL-1B, TNF-? কমায়, যা শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি হিসেবে পরিচিত। রোজা শরীরে জাড়িত অক্সিজেনের বিভিন্ন অঙ্গাণু কমাতে সহায়তা করে এবং ক্যানসারের আশঙ্কা কমায়। রোজা একদিকে রক্তের বিভিন্ন রক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে; অপরপক্ষে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান IL-6, IL-IB, TNF-?, লিস্ফোসাইট, মনোসাইট প্রভৃতি কমায় ফলে পরোক্ষভাবে আমাদের দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটে। গবেষণায় দেখা যায় যে, রোজা স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকরী কোষ নিউরনসমূহকে সুরক্ষিত রাখে, ফলে বিভিন্ন ধরনের স্নায়ুতন্ত্রের রোগ যেমন- আলজেহিমারস রোগ, স্ট্রোক প্রভৃতি রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। রমজানের রোজার সময় বিপাক প্রক্রিয়ায় রক্তের কিটোন বডির পরিমাণ বৃদ্ধি ঘটে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে যখন শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ হ্রাস পায়, তখন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যথা- হৃদপিন্ড, মস্তিষ্ক ও মাংসপেশিসমূহে এই কিটোন বডি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। রোজার সময় ঘুমের চক্রের পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার নানা দিক পরিবর্তন ঘটে। গবেষণালব্ধ তথ্যে দেখা যায় যে, এসব পরিবর্তনের ফলে শরীরে বিভিন্ন হরমোন ও এনজাইমেও পরিবর্তন ঘটে; স্টেরয়েড হরমোন, পিটুইটারি হরমোন, থাইরয়েড হরমোন, মেলাটোনিন প্রভৃতি অন্যতম। এদের সবকটি শরীরের বিপাক এবং শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জড়িত। রোজায় এসব হরমোনে পরিবর্তনের ফলে রক্তের সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রেই হ্রাস পায়। ফলে শরীরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। রোজার সময় আমাদের স্বাস্থ্যহানিকর বিভিন্ন কর্মকা- যথা-ধূমপানসহ নানাবিদ বদঅভ্যাস থেকে বিরত থাকি। এসব কারণে শরীরের ক্ষতিকারক বায়োমার্কার উৎপত্তি হ্রাস পায়, ফলে বিভিন্ন অঙ্গসমূহ সুরক্ষিত থাকে। রমজানে আমাদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। দৈহিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক কল্যাণ ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধতার মাধ্যমে আমাদের শারীরিক সুস্থতার উন্নতি ঘটে এবং আমাদের আয়ুষ্কাল বাড়াতে ভূমিকা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যের সংজ্ঞায় মূলত শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক তিনটি উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়, রোজা মানুষের স্বাস্থ্যের সবকটি বিভাগেই ইতিবাচক এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তাই একজন সুস্থ মানুষের জন্য রোজা শুধু নিরাপদই নয়, স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং অধিকতর সুরক্ষিতও করে। তবে যারা বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত এবং সারাদিন না খেয়ে থাকায় স্বাস্থ্যের অবনতি বা চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটতে পারে; তাদের রোজা থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে। এমনকি গর্ভবতী মহিলা বা ভ্রমণে রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও রোজা থেকে অব্যাহতি প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে।
[লেখক: পরিচালক, মেডিকেল সার্ভিসেস, বিআরবি হাসপাতাল, ঢাকা]