মাহরুফ চৌধুরী
দুনিয়ার তাবৎ ভাষাই নদীর মতো; তার নিজস্ব উৎস, গতিপথ ও মোহনা নিয়ে নানা গ্রহণ, বর্জন ও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সময়ের আবর্তনে এগিয়ে চলে সামনের দিকে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনচর্চা, অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও পারস্পরিক বিনিময়ের মধ্য দিয়েই ভাষা গড়ে ওঠে এবং সমৃদ্ধি লাভ করে। বাস্তবতার আলোকে সামাজিক প্রয়োজনের মুখোমুখি হয়ে তা বাঁক নেয়, প্রয়োজনে বিবর্তিত ও পরিবর্তিত হয়, কখনও স্থিতি খুঁজে পায়। ভাষা কোনো যান্ত্রিক বস্তু নয় যে গবেষণাগারের নকশা অনুযায়ী তাকে নির্মাণ বা প্রতিস্থাপন করা যাবে। ভাষাবিজ্ঞানের ইতিহাসে সুইস ভাষাতাত্ত্বিক ফার্দিনাঁ দ্য সোস্যুর (১৮৫৭-১৯১৩), যিনি আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম পুরোধা, থেকে শুরু করে আধুনিক সমাজভাষাবিদদের (সোসিওলিঙ্গুয়িস্টস) কাজে প্রমাণিত হয়ে যে, ভাষা মূলত সামাজিক চুক্তি ও ব্যবহারের ফল; তার প্রকৃত প্রাণশক্তি মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু ইতিহাসের আরেকটি দিকও আছে যেখানে ক্ষমতাকেন্দ্রিক শক্তিগুলো নিজেদের ক্ষমতাকে নিষ্কন্টক ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বারবার ভাষার এই স্বাভাবিক বিকাশকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে।
ভাষাকে বিশেষ প্রকৌশলের মাধ্যমে ঢালাই করে তারা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে সাংস্কৃতিক আধিপত্য তথা কালচারাল ও বুদ্ধিবৃত্তিক হেজিমনি যার লক্ষ্য কেবল যোগাযোগ নয়, নিজেদের অনুকূলে গণমানুষের চেতনার রূপান্তর। ইতালীয় মার্ক্সবাদী চিন্তক আন্তোনিও গ্রামসি (১৮৯১-১৯৩৭) তার ‘হেজিমনি’ ধারণায় দেখিয়েছিলেন, শাসকগোষ্ঠী কেবল রাষ্ট্রযন্ত্রের বলপ্রয়োগ বা দমননীতির মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে না; বরং আরও গভীর ও স্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করে সংস্কৃতি, শিক্ষা, ধর্ম, গণমাধ্যম এবং সর্বোপরি ভাষার মাধ্যমে। তার বিশ্লেষণে, আধিপত্যের সবচেয়ে কার্যকর রূপ হলো সেই অবস্থা, যখন শাসিতরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শাসকের দৃষ্টিভঙ্গিকে নিজের বলে গ্রহণ করে যখন ক্ষমতার ভাষাই সাধারণ মানুষের ‘সাধারণ বুদ্ধি’ (কমনসেন্স) হয়ে ওঠে। এই নীরব মানসিক পরিকাঠামোই হেজিমনির প্রকৃত শক্তি। গ্রামসির ভাষায়, সমাজে একটি ‘নৈতিক-বৌদ্ধিক নেতৃত্ব’ (মোরাল অ্যান্ড ইন্টাল্যাকচুয়েল লিডারশিপ) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শাসকশ্রেণি নিজেদের অবস্থান স্থায়ী করে। এখানে ভাষা হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় উপাদান এবং সামাজিক প্রকৌশলের (সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) হাতিয়ার। কারণ শব্দচয়ন, পরিভাষা নির্ধারণ, বয়ানের কাঠামো এসবের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হয় কোন বিষয়কে কীভাবে ব্যাখ্যা করা ও দেখা হবে, কোন প্রশ্নকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হবে, আর কোনটিকে প্রান্তে সরিয়ে রাখা হবে। ভাষা তাই কেবল বাস্তবতার প্রতিবিম্ব নয়; বরং সামাজিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার নির্মাতা। উদাহরণস্বরূপ, একটি আন্দোলনকে ‘অধিকার দাবি’ না বলে ‘অরাজকতা’ বলা হলে জনমতের প্রতিক্রিয়াই বদলে যায়। অনুরূপভাবে, একটি প্রতিবাদকে ‘দেশদ্রোহ’ আখ্যা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তার নৈতিক অবস্থান পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ শব্দই ধারণা বা ব্যাখ্যার কাঠামো তৈরি করে, আর সেই কাঠামোই তৈরি করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। এই নির্মাণপ্রক্রিয়াকে যখন সচেতনভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তখন তা আর স্বাভাবিক ভাষাবিকাশ হিসেবে থাকে না; সেটা হয়ে ওঠে ভাষাপ্রকৌশল।
ভাষাপ্রকৌশলের মাধ্যমে তখন শব্দের অভিধানগত অর্থই কেবল বদলায় না, বরং সেটা শব্দের প্রয়োগের সামাজিক অর্থবিন্যাসকেও পুনর্গঠন করে। কোন শব্দ গ্রহণযোগ্য, কোনটি সন্দেহজনক, কোনটি নিষিদ্ধ এই সীমারেখা টেনে দিয়ে ক্ষমতা চিন্তার ক্ষেত্রকে সংকুচিত ও নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে সমাজের ভাবনা, ইতিহাসের পাঠ এবং ভবিষ্যতের কল্পনাও সেই নির্ধারিত ভাষিক সীমানার ভেতর বন্দি হয়ে পড়ে। গ্রামসির তত্ত্ব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সমাজে ভাষা নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়, সেখানে আসলে ক্ষমতার লড়াইই চলছে। কারণ ভাষা নিয়ন্ত্রণ মানে চেতনা নিয়ন্ত্রণ; চেতনা নিয়ন্ত্রণ মানে ইতিহাস ও সম্ভাবনার দিকনির্দেশ নিয়ন্ত্রণ। তাই ভাষার স্বাভাবিক প্রবাহে হস্তক্ষেপ কেবল সাংস্কৃতিক ঘটনা নয়; এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিংবা অভিসন্ধিযুক্ত গভীর রাজনৈতিক প্রকল্প। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলা ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক ভাষাপ্রকৌশলের প্রথম বড় প্রয়াসের সূত্রপাত ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ১৮০০ সালে স্থাপিত এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের প্রয়োজন মেটাতেই গড়ে ওঠে ভারতীয় ভাষাগুলোয় দক্ষ কর্মচারী তৈরি এবং শাসনকে কার্যকর করা ছিল এর উদ্দেশ্য। বাংলা বিভাগ গঠনের পর সংস্কৃতজ্ঞ পন্ডিতদের তত্ত্বাবধানে যে গদ্যরীতি নির্মিত হতে থাকে, তা বাংলা ভাষার আধুনিকীকরণে অবশ্যই ভূমিকা রাখে; কিন্তু সেই মান নির্ধারণ ছিল নিরপেক্ষ কোনো ভাষাবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং ক্ষমতার কাঠামোর ভেতর থেকে পরিচালিত একটি ব্রাহ্মন্যবাদী সাংস্কৃতিক বিন্যাস।
এই পর্বে যে গদ্যরূপ প্রাধান্য পায়, তা ছিল সংস্কৃতনির্ভর, অলংকারমন্ডিত এবং কৃত্রিমভাবে উচ্চকিত যা জনসাধারণের কথ্যভাষার সাথে সম্পূর্ণরূপে সম্পর্কহীন হয়ে গড়ে ওঠে। উপনিবেশিক শাসন ও ব্রাহ্মণ্যবাদী পান্ডিত্য একত্রে এমন এক ভাষারূপ নির্মাণ করে, যা প্রশাসনিক প্রয়োজন ও নতুনভাবে গড়ে ওঠা ‘বাবু কালচার’-এর এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজাত্যের মানদন্ড পূরণে সক্ষম হয়েছিল। ভাষাবিজ্ঞানী ও সমাজতাত্ত্বিকদের দৃষ্টিতে এটি ছিল ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারার বাইরে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রূপায়ণ যেখানে ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অভিজাত শ্রেণী (এলিট ক্লাশ) তৈরির প্রক্রিয়ায় সামাজিক শ্রেণী বিন্যাসের চিহ্নে পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে সাহিত্যিক ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সক্রিয় অনুসরণে বাংলা ভাষার এই সংস্কৃতায়ন প্রক্রিয়া আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। যাই হোক, এর ফলাফল ছিল দ্বিমুখী। সংস্কৃতপ্রধান গদ্যরীতির প্রচলনের মাধ্যমে একদিকে ‘শুদ্ধ’ ও ‘অশুদ্ধ’ ভাষার বিভাজন তৈরি হয় যা ভাষাকে নৈতিকতার মানদন্ডে বিচার করার প্রবণতা সৃষ্টি করে; অন্যদিকে গড়ে ওঠে এক নতুন ভাষাগত অভিজাত সমাজ (এলিট সোসাইটি), যারা ভাষার ‘অধিকার’ নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করার দাবি তোলে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী যাদের কথ্যভাষা ছিল ফারসি-আরবি-উর্দু প্রভাবিত, সহজ ও প্রাকৃতিক ব্যবহারে বিকশিত ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক প্রান্তিকতায় (কালচারাল মার্জিনালাইজেশন) ঠেলে দেওয়া হয়। ভাষা হয়ে ওঠে শ্রেণী ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভাজনের সূক্ষ্ম কিন্তু কার্যকর প্রাচীর। এই ভাষাগত বৈষম্য কেবল রুচি বা রীতির প্রশ্ন ছিল না; এটি ছিল সামাজিক স্বীকৃতি ও মর্যাদার প্রশ্ন। যারা সংস্কৃতঘেঁষা সাধুভাষা ব্যবহারে অদক্ষ, তাদেরকে ‘গেঁয়ো’ বা ‘গাইয়্যা’ তকমা দিয়ে অবমূল্যায়ন করা হতো যা আসলে ভাষার আড়ালে সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করে। ফলে ভাষাপ্রকৌশল এখানে নিরীহ সাহিত্যিক উৎকর্ষের প্রয়াস ছিল না; বরং তা হয়ে ওঠে এক ধরনের সাংস্কৃতিক বাছাইপ্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্র নিজের উপযোগী ভাষাকে মানদ-ে পরিণত করে এবং বাকিদের প্রান্তে ঠেলে দেয়। উপনিবেশিক শাসনের অবসানে বাংলামুলুকে, বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বাংলা ভাষায় দ্বিতীয় দফা ভাষাপ্রকৌশল আরও স্পষ্ট রাজনৈতিক রূপ নিয়ে হাজির হয়।
এবারের ভাষাপ্রকৌশলের প্রবণতা ছিল দ্বিমুখী। একদিকে ছিল ভারতকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আধিপত্যের ধারক ও বাহক একদল বুদ্ধিজীবী, যারা উপমহাদেশীয় ‘উচ্চ’ সংস্কৃতির নির্দিষ্ট মানদন্ডে বাংলা ভাষাকে ঢালাই করতে আগ্রহী; অন্যদিকে ছিল পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী, যারা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় একতার উপকরণ হিসেবে পুনর্গঠন করতে চেয়েছিল। ফলে ভাষা আর কেবল সাহিত্যিক রীতি বা ব্যাকরণগত মানের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা সরাসরি ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করে। পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্রভাষা বিতর্ক এই ভাষাপ্রকৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সালের পরপরই উর্দুকে একক রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ এবং ১৯৪৮ সালে গভর্নর জেনারেল হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঢাকায় দেওয়া বক্তব্য, যেখানে তিনি ঘোষণা করেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, ভাষাকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতীকে রূপ দেয়। তুলনামূলক দৃষ্টিতে দেখা যায়, ভারতসহ দুনিয়ার বহু রাষ্ট্রেই একটি ভাষা ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে প্রশাসনিক সুবিধার্থে; কিন্তু পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে উর্দুকে আরোপের প্রচেষ্টাকে সেই সময়কার বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করে এ অঞ্চলে কেন্দ্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস হিসেবে প্রতিভাত হয়। ফলে এ রাষ্ট্রভাষা ভাষানীতিকে একটি সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ-কৌশল হিসেবে যুক্তি দাঁড় করানো সহজ হয়েছিল।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন যার বেদনাদায়ক চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখি ২১ ফেব্রুয়ারির শহীদদের আত্মদানে। ভাষার অধিকার আদায়ে আত্মাহুতি প্রমাণ করে যে ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; তা আত্মপরিচয়, মর্যাদা ও রাজনৈতিক অধিকারবোধের কেন্দ্র। মাতৃভাষার দাবি রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রূপান্তরিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যে স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়, তা ছিল সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম। ভাষা এখানে প্রতীকে পরিণত হয় অধিকারবঞ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মিলিত চেতনার প্রতীক হিসেবে। উনিশ শতকের শুরু থেকে এই ভূখন্ডে ভাষা ক্রমশ রাজনীতির মোক্ষম অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। কখনো মানবিকীকরণের নামে, কখনোবা আধুনিকীকরণের নামে ভাষাকে ‘শুদ্ধ’ করার প্রচেষ্টা, কখনো রাষ্ট্রীয় একত্রীকরণের নামে একভাষিকতার আরোপ, আবার কখনো জাতীয়তাবাদের মোড়কে ভাষাকে আবেগীয় সমাবেশের কেন্দ্রে স্থাপন প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে। ফলে প্রশ্নটি কেবল কোন শব্দ গ্রহণযোগ্য বা ভাষার প্রকরণে কোন রীতি মান্য এতটুকু নয়; প্রশ্নটি হচ্ছে, কে ভাষার মান নির্ধারণ করবে এবং সেই মান নির্ধারণের মাধ্যমে কাদের কণ্ঠকে কেন্দ্রে আর কাদের কণ্ঠকে প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হবে। (বাকি অংশ আগামীকাল)
(লেখকের নিজস্ব মত)
[লেখক: ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মাহরুফ চৌধুরী
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
দুনিয়ার তাবৎ ভাষাই নদীর মতো; তার নিজস্ব উৎস, গতিপথ ও মোহনা নিয়ে নানা গ্রহণ, বর্জন ও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সময়ের আবর্তনে এগিয়ে চলে সামনের দিকে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনচর্চা, অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও পারস্পরিক বিনিময়ের মধ্য দিয়েই ভাষা গড়ে ওঠে এবং সমৃদ্ধি লাভ করে। বাস্তবতার আলোকে সামাজিক প্রয়োজনের মুখোমুখি হয়ে তা বাঁক নেয়, প্রয়োজনে বিবর্তিত ও পরিবর্তিত হয়, কখনও স্থিতি খুঁজে পায়। ভাষা কোনো যান্ত্রিক বস্তু নয় যে গবেষণাগারের নকশা অনুযায়ী তাকে নির্মাণ বা প্রতিস্থাপন করা যাবে। ভাষাবিজ্ঞানের ইতিহাসে সুইস ভাষাতাত্ত্বিক ফার্দিনাঁ দ্য সোস্যুর (১৮৫৭-১৯১৩), যিনি আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম পুরোধা, থেকে শুরু করে আধুনিক সমাজভাষাবিদদের (সোসিওলিঙ্গুয়িস্টস) কাজে প্রমাণিত হয়ে যে, ভাষা মূলত সামাজিক চুক্তি ও ব্যবহারের ফল; তার প্রকৃত প্রাণশক্তি মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু ইতিহাসের আরেকটি দিকও আছে যেখানে ক্ষমতাকেন্দ্রিক শক্তিগুলো নিজেদের ক্ষমতাকে নিষ্কন্টক ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বারবার ভাষার এই স্বাভাবিক বিকাশকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে।
ভাষাকে বিশেষ প্রকৌশলের মাধ্যমে ঢালাই করে তারা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে সাংস্কৃতিক আধিপত্য তথা কালচারাল ও বুদ্ধিবৃত্তিক হেজিমনি যার লক্ষ্য কেবল যোগাযোগ নয়, নিজেদের অনুকূলে গণমানুষের চেতনার রূপান্তর। ইতালীয় মার্ক্সবাদী চিন্তক আন্তোনিও গ্রামসি (১৮৯১-১৯৩৭) তার ‘হেজিমনি’ ধারণায় দেখিয়েছিলেন, শাসকগোষ্ঠী কেবল রাষ্ট্রযন্ত্রের বলপ্রয়োগ বা দমননীতির মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে না; বরং আরও গভীর ও স্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করে সংস্কৃতি, শিক্ষা, ধর্ম, গণমাধ্যম এবং সর্বোপরি ভাষার মাধ্যমে। তার বিশ্লেষণে, আধিপত্যের সবচেয়ে কার্যকর রূপ হলো সেই অবস্থা, যখন শাসিতরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শাসকের দৃষ্টিভঙ্গিকে নিজের বলে গ্রহণ করে যখন ক্ষমতার ভাষাই সাধারণ মানুষের ‘সাধারণ বুদ্ধি’ (কমনসেন্স) হয়ে ওঠে। এই নীরব মানসিক পরিকাঠামোই হেজিমনির প্রকৃত শক্তি। গ্রামসির ভাষায়, সমাজে একটি ‘নৈতিক-বৌদ্ধিক নেতৃত্ব’ (মোরাল অ্যান্ড ইন্টাল্যাকচুয়েল লিডারশিপ) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শাসকশ্রেণি নিজেদের অবস্থান স্থায়ী করে। এখানে ভাষা হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় উপাদান এবং সামাজিক প্রকৌশলের (সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) হাতিয়ার। কারণ শব্দচয়ন, পরিভাষা নির্ধারণ, বয়ানের কাঠামো এসবের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হয় কোন বিষয়কে কীভাবে ব্যাখ্যা করা ও দেখা হবে, কোন প্রশ্নকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হবে, আর কোনটিকে প্রান্তে সরিয়ে রাখা হবে। ভাষা তাই কেবল বাস্তবতার প্রতিবিম্ব নয়; বরং সামাজিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার নির্মাতা। উদাহরণস্বরূপ, একটি আন্দোলনকে ‘অধিকার দাবি’ না বলে ‘অরাজকতা’ বলা হলে জনমতের প্রতিক্রিয়াই বদলে যায়। অনুরূপভাবে, একটি প্রতিবাদকে ‘দেশদ্রোহ’ আখ্যা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তার নৈতিক অবস্থান পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ শব্দই ধারণা বা ব্যাখ্যার কাঠামো তৈরি করে, আর সেই কাঠামোই তৈরি করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। এই নির্মাণপ্রক্রিয়াকে যখন সচেতনভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তখন তা আর স্বাভাবিক ভাষাবিকাশ হিসেবে থাকে না; সেটা হয়ে ওঠে ভাষাপ্রকৌশল।
ভাষাপ্রকৌশলের মাধ্যমে তখন শব্দের অভিধানগত অর্থই কেবল বদলায় না, বরং সেটা শব্দের প্রয়োগের সামাজিক অর্থবিন্যাসকেও পুনর্গঠন করে। কোন শব্দ গ্রহণযোগ্য, কোনটি সন্দেহজনক, কোনটি নিষিদ্ধ এই সীমারেখা টেনে দিয়ে ক্ষমতা চিন্তার ক্ষেত্রকে সংকুচিত ও নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে সমাজের ভাবনা, ইতিহাসের পাঠ এবং ভবিষ্যতের কল্পনাও সেই নির্ধারিত ভাষিক সীমানার ভেতর বন্দি হয়ে পড়ে। গ্রামসির তত্ত্ব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সমাজে ভাষা নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়, সেখানে আসলে ক্ষমতার লড়াইই চলছে। কারণ ভাষা নিয়ন্ত্রণ মানে চেতনা নিয়ন্ত্রণ; চেতনা নিয়ন্ত্রণ মানে ইতিহাস ও সম্ভাবনার দিকনির্দেশ নিয়ন্ত্রণ। তাই ভাষার স্বাভাবিক প্রবাহে হস্তক্ষেপ কেবল সাংস্কৃতিক ঘটনা নয়; এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিংবা অভিসন্ধিযুক্ত গভীর রাজনৈতিক প্রকল্প। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলা ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক ভাষাপ্রকৌশলের প্রথম বড় প্রয়াসের সূত্রপাত ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ১৮০০ সালে স্থাপিত এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের প্রয়োজন মেটাতেই গড়ে ওঠে ভারতীয় ভাষাগুলোয় দক্ষ কর্মচারী তৈরি এবং শাসনকে কার্যকর করা ছিল এর উদ্দেশ্য। বাংলা বিভাগ গঠনের পর সংস্কৃতজ্ঞ পন্ডিতদের তত্ত্বাবধানে যে গদ্যরীতি নির্মিত হতে থাকে, তা বাংলা ভাষার আধুনিকীকরণে অবশ্যই ভূমিকা রাখে; কিন্তু সেই মান নির্ধারণ ছিল নিরপেক্ষ কোনো ভাষাবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং ক্ষমতার কাঠামোর ভেতর থেকে পরিচালিত একটি ব্রাহ্মন্যবাদী সাংস্কৃতিক বিন্যাস।
এই পর্বে যে গদ্যরূপ প্রাধান্য পায়, তা ছিল সংস্কৃতনির্ভর, অলংকারমন্ডিত এবং কৃত্রিমভাবে উচ্চকিত যা জনসাধারণের কথ্যভাষার সাথে সম্পূর্ণরূপে সম্পর্কহীন হয়ে গড়ে ওঠে। উপনিবেশিক শাসন ও ব্রাহ্মণ্যবাদী পান্ডিত্য একত্রে এমন এক ভাষারূপ নির্মাণ করে, যা প্রশাসনিক প্রয়োজন ও নতুনভাবে গড়ে ওঠা ‘বাবু কালচার’-এর এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজাত্যের মানদন্ড পূরণে সক্ষম হয়েছিল। ভাষাবিজ্ঞানী ও সমাজতাত্ত্বিকদের দৃষ্টিতে এটি ছিল ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারার বাইরে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রূপায়ণ যেখানে ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অভিজাত শ্রেণী (এলিট ক্লাশ) তৈরির প্রক্রিয়ায় সামাজিক শ্রেণী বিন্যাসের চিহ্নে পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে সাহিত্যিক ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সক্রিয় অনুসরণে বাংলা ভাষার এই সংস্কৃতায়ন প্রক্রিয়া আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। যাই হোক, এর ফলাফল ছিল দ্বিমুখী। সংস্কৃতপ্রধান গদ্যরীতির প্রচলনের মাধ্যমে একদিকে ‘শুদ্ধ’ ও ‘অশুদ্ধ’ ভাষার বিভাজন তৈরি হয় যা ভাষাকে নৈতিকতার মানদন্ডে বিচার করার প্রবণতা সৃষ্টি করে; অন্যদিকে গড়ে ওঠে এক নতুন ভাষাগত অভিজাত সমাজ (এলিট সোসাইটি), যারা ভাষার ‘অধিকার’ নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করার দাবি তোলে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী যাদের কথ্যভাষা ছিল ফারসি-আরবি-উর্দু প্রভাবিত, সহজ ও প্রাকৃতিক ব্যবহারে বিকশিত ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক প্রান্তিকতায় (কালচারাল মার্জিনালাইজেশন) ঠেলে দেওয়া হয়। ভাষা হয়ে ওঠে শ্রেণী ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভাজনের সূক্ষ্ম কিন্তু কার্যকর প্রাচীর। এই ভাষাগত বৈষম্য কেবল রুচি বা রীতির প্রশ্ন ছিল না; এটি ছিল সামাজিক স্বীকৃতি ও মর্যাদার প্রশ্ন। যারা সংস্কৃতঘেঁষা সাধুভাষা ব্যবহারে অদক্ষ, তাদেরকে ‘গেঁয়ো’ বা ‘গাইয়্যা’ তকমা দিয়ে অবমূল্যায়ন করা হতো যা আসলে ভাষার আড়ালে সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করে। ফলে ভাষাপ্রকৌশল এখানে নিরীহ সাহিত্যিক উৎকর্ষের প্রয়াস ছিল না; বরং তা হয়ে ওঠে এক ধরনের সাংস্কৃতিক বাছাইপ্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্র নিজের উপযোগী ভাষাকে মানদ-ে পরিণত করে এবং বাকিদের প্রান্তে ঠেলে দেয়। উপনিবেশিক শাসনের অবসানে বাংলামুলুকে, বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বাংলা ভাষায় দ্বিতীয় দফা ভাষাপ্রকৌশল আরও স্পষ্ট রাজনৈতিক রূপ নিয়ে হাজির হয়।
এবারের ভাষাপ্রকৌশলের প্রবণতা ছিল দ্বিমুখী। একদিকে ছিল ভারতকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আধিপত্যের ধারক ও বাহক একদল বুদ্ধিজীবী, যারা উপমহাদেশীয় ‘উচ্চ’ সংস্কৃতির নির্দিষ্ট মানদন্ডে বাংলা ভাষাকে ঢালাই করতে আগ্রহী; অন্যদিকে ছিল পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী, যারা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় একতার উপকরণ হিসেবে পুনর্গঠন করতে চেয়েছিল। ফলে ভাষা আর কেবল সাহিত্যিক রীতি বা ব্যাকরণগত মানের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা সরাসরি ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করে। পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্রভাষা বিতর্ক এই ভাষাপ্রকৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সালের পরপরই উর্দুকে একক রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ এবং ১৯৪৮ সালে গভর্নর জেনারেল হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঢাকায় দেওয়া বক্তব্য, যেখানে তিনি ঘোষণা করেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, ভাষাকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতীকে রূপ দেয়। তুলনামূলক দৃষ্টিতে দেখা যায়, ভারতসহ দুনিয়ার বহু রাষ্ট্রেই একটি ভাষা ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে প্রশাসনিক সুবিধার্থে; কিন্তু পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে উর্দুকে আরোপের প্রচেষ্টাকে সেই সময়কার বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করে এ অঞ্চলে কেন্দ্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস হিসেবে প্রতিভাত হয়। ফলে এ রাষ্ট্রভাষা ভাষানীতিকে একটি সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ-কৌশল হিসেবে যুক্তি দাঁড় করানো সহজ হয়েছিল।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন যার বেদনাদায়ক চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখি ২১ ফেব্রুয়ারির শহীদদের আত্মদানে। ভাষার অধিকার আদায়ে আত্মাহুতি প্রমাণ করে যে ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; তা আত্মপরিচয়, মর্যাদা ও রাজনৈতিক অধিকারবোধের কেন্দ্র। মাতৃভাষার দাবি রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রূপান্তরিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যে স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়, তা ছিল সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম। ভাষা এখানে প্রতীকে পরিণত হয় অধিকারবঞ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মিলিত চেতনার প্রতীক হিসেবে। উনিশ শতকের শুরু থেকে এই ভূখন্ডে ভাষা ক্রমশ রাজনীতির মোক্ষম অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। কখনো মানবিকীকরণের নামে, কখনোবা আধুনিকীকরণের নামে ভাষাকে ‘শুদ্ধ’ করার প্রচেষ্টা, কখনো রাষ্ট্রীয় একত্রীকরণের নামে একভাষিকতার আরোপ, আবার কখনো জাতীয়তাবাদের মোড়কে ভাষাকে আবেগীয় সমাবেশের কেন্দ্রে স্থাপন প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে। ফলে প্রশ্নটি কেবল কোন শব্দ গ্রহণযোগ্য বা ভাষার প্রকরণে কোন রীতি মান্য এতটুকু নয়; প্রশ্নটি হচ্ছে, কে ভাষার মান নির্ধারণ করবে এবং সেই মান নির্ধারণের মাধ্যমে কাদের কণ্ঠকে কেন্দ্রে আর কাদের কণ্ঠকে প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হবে। (বাকি অংশ আগামীকাল)
(লেখকের নিজস্ব মত)
[লেখক: ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য]