হোসেন আবদুল মান্নান
ভাবসূলভ জিজ্ঞেস করলে জানালেন, —ভাইজান এতদিন ভালোই ছিলাম, ‘তবে এখন ছোট ছেলেটাকে নিয়ে খুব অশান্তিতে পড়ে গেছি’।
—কী করে ছেলে?
—বড়ি খায়।
—বড়ি খায় মানে?
ইয়াবার টেবলেট খায়। একটার দাম নাকি ৩০০ টাকা। টাকার জন্য দোকানে এসে মারধর করে, অত্যাচার করে। ছেলেটা মাদকাসক্ত হয়ে একদল বখাটেদের সাথে চলে। নেশা করে, রাতে কোথায় থাকে, কী করে জানি না। তার সাথের সবাই নেশাখোর।
—বলো কী?
দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অকার্যকর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। তারা বলছে, দেশে ৭৫ লাখের মতো মাদকাসক্ত আছে, যার ৮০% কিশোর ও তরুণ-তরুণী। এমন মাদকাসক্তদের মধ্যে আবার প্রায় ৬০% শিশুকিশোর সঙ্গদোষ ও অসৎ বন্ধুর প্রভাবে পড়ে কৌতূহলবশত হয়ে আসক্ত হয়ে গেছে। তবে এর সংখ্যা যে দাপ্তরিক হিসাবের চেয়ে আরও অনেক অনেক বেশি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা
লোকটা কেঁদে ওঠে। অশ্রুজলে ভিজে যাচ্ছে তার শ্মশ্রুমন্ডিত মুখখানি। চোখে জল নিয়েই বললো, শুধু আমার ছেলে নয়। এলাকার প্রতিটা বাড়িতে আপনি অন্তত একজন পাবেনই। প্রকাশ্যে বাজারে টেবলেট বিক্রি করছে, কারও কিছু করার নেই। পাড়া-মহল্লার ঘরে ঘরে ক্রেতা, মজুদদার সকলেই একসাথে আছে। এদেরকে পেছন থেকে নিরাপত্তা দিচ্ছে প্রভাবশালী অন্যরা। যাদেও কথায় থানা পুলিশ শুনে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এদের কিছু হয়না, তারা প্রত্যেককে চিনে। অভিযোগ করলে আরও ক্ষতি হয়। অথচ কাছেই পুলিশের ইনভেস্টিগেশন সেন্টার (আই সি)। এরা নাকি ইয়াবার গাড়ি চিনে, কালার চিনে, সরবরাহকারীকেও চিনে। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই যেন সকলে মিলে-মিশে সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন।
৩.
দুদিন পর নিজের উদ্যোগে বাড়ির আশপাশে খোঁজ নিতে শুরু করি। শতভাগ সত্যতা মিলল। নিজের নিকটাত্মীয়-স্বজনের দুয়েকটা স্কুল-কলেজপড়ুয়া সন্তানও আসক্ত হয়ে পড়েছে। তবুও কেউ কাউকে বলতে পারছে না, সামাজিকতা, মানসম্মান এটা লজ্জার বিষয়। এমনকি সামলাতে পারছে না বিত্তশালী বাবা তার একমাত্র সন্তানকে। অসহায় হয়ে এদিক-ওদিক দৌড়াচ্ছে। নেশাখোর সন্তান টাকার জন্য প্রথমে ঘড়ি, মোবাইল পরে হোন্ডা বিক্রি করে বা বন্ধক রেখেও ইয়াবার টেবলেট ক্রয় করছে। ১৮/২০ বছর বয়সের ছেলে অভিভাবকের অমতে বিয়ে করে ফেলছে। শ্বশুরালয় থেকে টাকা নিয়ে মাদকদ্রব্য ক্রয় করছে। মধ্যরাত অবধি বাড়ি না ফিরলে মা,বাবা,ভাই খুঁজতে বের হচ্ছে চিহ্নিত মাদকের স্পটে। এ যেন এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে গ্রামীণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির অভিভাবকরা। চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গ্রামের সম্ভাবনাময় মেধাবী তরুণরা। গত কয়েক বছরে ভেতরে ভেতরে মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে গ্রামীণ জনপদ। আজকাল গ্রামের ছোট হাট-বাজারের চায়ের দোকানে ইশারা-ইঙ্গিতে আলাপ হয়। বিশেষ করে আসক্তদের আলাদা ভাষা, আলাদা সংকেত, আলাদা গতিবিধি নজরে পড়ছে। সচেতন অভিভাবকের কেউ কেউ সন্তানকে কিছু দিনের জন্য জেলা শহরের মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। ফেরত এসে পুনরায় মাদকে ডুবে গেছে। এর মূল কারণ সঙ্গদোষ। এসময় তারা বাবা-মাকে অনায়াসে ছেড়ে দিতে পারে কিন্তু বন্ধুকে নয়। বন্ধুর ডাকে মধ্যরাতেও ঘর ছেড়ে বের হয়ে যাচ্ছে। এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে চোখ বুঁজে দিন কাটাচ্ছে গ্রামের একশ্রেণির মানুষ।
৪.
একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অন্তত ৫০টি পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত ঢুকছে ইয়াবা। ইয়াবা টেবলেট পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর কোনো আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে পারছে না। যা হয় সবই গতানুগতিক এবং রুটিনমাফিক। ফলে আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে আসামি ও পাচারকারীরা। দেখা যায়, হঠাৎ করে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ বদলালেও বদলায় না মাদক পাচারের রুট ও তাদের দৈনন্দিন রুটিন। বলাবাহুল্য, বর্তমানে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে মিয়ানমার। লক্ষ লক্ষ টন মাদক উৎপাদন হচ্ছে সেখানে। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মাদক উৎপাদনকারী দেশের নাম মিয়ানমার। আর এই মিয়ানমারই বাংলাদেশের মতো অতি জনবহুল দেশের সীমান্তবর্তী হয়ে আছে।
দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অকার্যকর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। তারা বলছে, দেশে ৭৫ লাখের মতো মাদকাসক্ত আছে, যার ৮০% কিশোর ও তরুণ-তরুণী। এমন মাদকাসক্তদের মধ্যে আবার প্রায় ৬০% শিশুকিশোর সঙ্গদোষ ও অসৎ বন্ধুর প্রভাবে পড়ে কৌতূহলবশত হয়ে আসক্ত হয়ে গেছে। তবে এর সংখ্যা যে দাপ্তরিক হিসাবের চেয়ে আরও অনেক অনেক বেশি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এখনই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এর পরিণতি চড়ামূল্যে সমগ্র জাতিকে দিতে হবে।
৫.
ইয়াবার উৎস সম্পর্কে এখন কমবেশি সবারই জানা যে, এর প্রধান রুট কক্সবাজার। টেকনাফ-উখিয়া-চকরিয়া, চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় উত্তরবঙ্গেও ত্বড়িতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। মাধ্যম গণপরিবহন বা নিজস্ব বাহন। এদের রয়েছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহক। জেলা শহরের পরে এখন উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও এদের নির্ধারিত এজেন্ট নিযুক্ত রয়েছে। সেখান থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য। আবার জেলা পর্যায়ের ডিলার তার নিজস্ব গাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায়ে। এভাবেই অতি নিভৃতে কিন্তু দিবালোকের চলমান এই সর্বনাশা ব্যবসার নাম মাদক ব্যবসা। বড় বড় এজেন্টরা দিব্যি কথা বলছে থানা বা আই,সি’র ইনচার্জের সঙ্গে। কেউ হাতে নাতে ধরা পড়লে বা ধরিয়ে দিলেও কোনো সমস্যা হয়না, নামমাত্র মামলা হলেও এদের বের করে আনার পেছনের খুঁটি অতি মজবুত। তাছাড়া ধরা পড়া জিনিস, এগুলো তো অনেক মূল্যবান, উভয় পক্ষেরই প্রয়োজন পড়ে। এটা শুধু আলামত নয়, সার্বক্ষণিক নিজেদের কাছে রাখতে হয়। আবার যখন খুশি কাউকে মামলায় জড়ানোর জন্য এর চেয়ে উপযোগী আর কোনো ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র দামি জিনিস হাতের কাছে পাওয়া যায় না। এমনি এক অদ্ভুত, দুর্ভাগা, দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে দেশ চলেছে। এর নিয়ন্ত্রণ, প্রতিকার প্রতিরোধ কে করবে? শিশুকিশোর, যুবকদের রক্ষায় সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। নবনির্বাচিত হওয়া, সদ্য গঠিত সরকারের কাছে এই জাতি বিধ্বংসী মরণখেলা বন্ধ করার নিমিত্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
[লেখক: গল্পকার]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
হোসেন আবদুল মান্নান
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ভাবসূলভ জিজ্ঞেস করলে জানালেন, —ভাইজান এতদিন ভালোই ছিলাম, ‘তবে এখন ছোট ছেলেটাকে নিয়ে খুব অশান্তিতে পড়ে গেছি’।
—কী করে ছেলে?
—বড়ি খায়।
—বড়ি খায় মানে?
ইয়াবার টেবলেট খায়। একটার দাম নাকি ৩০০ টাকা। টাকার জন্য দোকানে এসে মারধর করে, অত্যাচার করে। ছেলেটা মাদকাসক্ত হয়ে একদল বখাটেদের সাথে চলে। নেশা করে, রাতে কোথায় থাকে, কী করে জানি না। তার সাথের সবাই নেশাখোর।
—বলো কী?
দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অকার্যকর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। তারা বলছে, দেশে ৭৫ লাখের মতো মাদকাসক্ত আছে, যার ৮০% কিশোর ও তরুণ-তরুণী। এমন মাদকাসক্তদের মধ্যে আবার প্রায় ৬০% শিশুকিশোর সঙ্গদোষ ও অসৎ বন্ধুর প্রভাবে পড়ে কৌতূহলবশত হয়ে আসক্ত হয়ে গেছে। তবে এর সংখ্যা যে দাপ্তরিক হিসাবের চেয়ে আরও অনেক অনেক বেশি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা
লোকটা কেঁদে ওঠে। অশ্রুজলে ভিজে যাচ্ছে তার শ্মশ্রুমন্ডিত মুখখানি। চোখে জল নিয়েই বললো, শুধু আমার ছেলে নয়। এলাকার প্রতিটা বাড়িতে আপনি অন্তত একজন পাবেনই। প্রকাশ্যে বাজারে টেবলেট বিক্রি করছে, কারও কিছু করার নেই। পাড়া-মহল্লার ঘরে ঘরে ক্রেতা, মজুদদার সকলেই একসাথে আছে। এদেরকে পেছন থেকে নিরাপত্তা দিচ্ছে প্রভাবশালী অন্যরা। যাদেও কথায় থানা পুলিশ শুনে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এদের কিছু হয়না, তারা প্রত্যেককে চিনে। অভিযোগ করলে আরও ক্ষতি হয়। অথচ কাছেই পুলিশের ইনভেস্টিগেশন সেন্টার (আই সি)। এরা নাকি ইয়াবার গাড়ি চিনে, কালার চিনে, সরবরাহকারীকেও চিনে। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই যেন সকলে মিলে-মিশে সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন।
৩.
দুদিন পর নিজের উদ্যোগে বাড়ির আশপাশে খোঁজ নিতে শুরু করি। শতভাগ সত্যতা মিলল। নিজের নিকটাত্মীয়-স্বজনের দুয়েকটা স্কুল-কলেজপড়ুয়া সন্তানও আসক্ত হয়ে পড়েছে। তবুও কেউ কাউকে বলতে পারছে না, সামাজিকতা, মানসম্মান এটা লজ্জার বিষয়। এমনকি সামলাতে পারছে না বিত্তশালী বাবা তার একমাত্র সন্তানকে। অসহায় হয়ে এদিক-ওদিক দৌড়াচ্ছে। নেশাখোর সন্তান টাকার জন্য প্রথমে ঘড়ি, মোবাইল পরে হোন্ডা বিক্রি করে বা বন্ধক রেখেও ইয়াবার টেবলেট ক্রয় করছে। ১৮/২০ বছর বয়সের ছেলে অভিভাবকের অমতে বিয়ে করে ফেলছে। শ্বশুরালয় থেকে টাকা নিয়ে মাদকদ্রব্য ক্রয় করছে। মধ্যরাত অবধি বাড়ি না ফিরলে মা,বাবা,ভাই খুঁজতে বের হচ্ছে চিহ্নিত মাদকের স্পটে। এ যেন এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে গ্রামীণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির অভিভাবকরা। চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গ্রামের সম্ভাবনাময় মেধাবী তরুণরা। গত কয়েক বছরে ভেতরে ভেতরে মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে গ্রামীণ জনপদ। আজকাল গ্রামের ছোট হাট-বাজারের চায়ের দোকানে ইশারা-ইঙ্গিতে আলাপ হয়। বিশেষ করে আসক্তদের আলাদা ভাষা, আলাদা সংকেত, আলাদা গতিবিধি নজরে পড়ছে। সচেতন অভিভাবকের কেউ কেউ সন্তানকে কিছু দিনের জন্য জেলা শহরের মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। ফেরত এসে পুনরায় মাদকে ডুবে গেছে। এর মূল কারণ সঙ্গদোষ। এসময় তারা বাবা-মাকে অনায়াসে ছেড়ে দিতে পারে কিন্তু বন্ধুকে নয়। বন্ধুর ডাকে মধ্যরাতেও ঘর ছেড়ে বের হয়ে যাচ্ছে। এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে চোখ বুঁজে দিন কাটাচ্ছে গ্রামের একশ্রেণির মানুষ।
৪.
একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অন্তত ৫০টি পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত ঢুকছে ইয়াবা। ইয়াবা টেবলেট পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর কোনো আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে পারছে না। যা হয় সবই গতানুগতিক এবং রুটিনমাফিক। ফলে আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে আসামি ও পাচারকারীরা। দেখা যায়, হঠাৎ করে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ বদলালেও বদলায় না মাদক পাচারের রুট ও তাদের দৈনন্দিন রুটিন। বলাবাহুল্য, বর্তমানে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে মিয়ানমার। লক্ষ লক্ষ টন মাদক উৎপাদন হচ্ছে সেখানে। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মাদক উৎপাদনকারী দেশের নাম মিয়ানমার। আর এই মিয়ানমারই বাংলাদেশের মতো অতি জনবহুল দেশের সীমান্তবর্তী হয়ে আছে।
দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অকার্যকর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। তারা বলছে, দেশে ৭৫ লাখের মতো মাদকাসক্ত আছে, যার ৮০% কিশোর ও তরুণ-তরুণী। এমন মাদকাসক্তদের মধ্যে আবার প্রায় ৬০% শিশুকিশোর সঙ্গদোষ ও অসৎ বন্ধুর প্রভাবে পড়ে কৌতূহলবশত হয়ে আসক্ত হয়ে গেছে। তবে এর সংখ্যা যে দাপ্তরিক হিসাবের চেয়ে আরও অনেক অনেক বেশি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এখনই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এর পরিণতি চড়ামূল্যে সমগ্র জাতিকে দিতে হবে।
৫.
ইয়াবার উৎস সম্পর্কে এখন কমবেশি সবারই জানা যে, এর প্রধান রুট কক্সবাজার। টেকনাফ-উখিয়া-চকরিয়া, চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় উত্তরবঙ্গেও ত্বড়িতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। মাধ্যম গণপরিবহন বা নিজস্ব বাহন। এদের রয়েছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহক। জেলা শহরের পরে এখন উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও এদের নির্ধারিত এজেন্ট নিযুক্ত রয়েছে। সেখান থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য। আবার জেলা পর্যায়ের ডিলার তার নিজস্ব গাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায়ে। এভাবেই অতি নিভৃতে কিন্তু দিবালোকের চলমান এই সর্বনাশা ব্যবসার নাম মাদক ব্যবসা। বড় বড় এজেন্টরা দিব্যি কথা বলছে থানা বা আই,সি’র ইনচার্জের সঙ্গে। কেউ হাতে নাতে ধরা পড়লে বা ধরিয়ে দিলেও কোনো সমস্যা হয়না, নামমাত্র মামলা হলেও এদের বের করে আনার পেছনের খুঁটি অতি মজবুত। তাছাড়া ধরা পড়া জিনিস, এগুলো তো অনেক মূল্যবান, উভয় পক্ষেরই প্রয়োজন পড়ে। এটা শুধু আলামত নয়, সার্বক্ষণিক নিজেদের কাছে রাখতে হয়। আবার যখন খুশি কাউকে মামলায় জড়ানোর জন্য এর চেয়ে উপযোগী আর কোনো ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র দামি জিনিস হাতের কাছে পাওয়া যায় না। এমনি এক অদ্ভুত, দুর্ভাগা, দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে দেশ চলেছে। এর নিয়ন্ত্রণ, প্রতিকার প্রতিরোধ কে করবে? শিশুকিশোর, যুবকদের রক্ষায় সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। নবনির্বাচিত হওয়া, সদ্য গঠিত সরকারের কাছে এই জাতি বিধ্বংসী মরণখেলা বন্ধ করার নিমিত্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
[লেখক: গল্পকার]