alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

গ্রেপ্তার করতে হলে তো দু’জনকেই করতে হবে!

আনোয়ারুল হক

: রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের নিকট থেকে ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি চব্বিশের জুলাইয়ে হত্যাকান্ড ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। দেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। জুলাই আন্দোলনের দিনগুলোতে উভয় পক্ষকে সংযম ধারণের পরামর্শ দেয়া ছাড়া তিনি আর কি বা করতে পারতেন?

অবশ্য কিছু করার মত একটি পরিস্থিতি শেষ দিকে সৃষ্টি হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাসীন অবস্থার একেবারে শেষ সময়ের ফাঁস হওয়া একটি টেলিফোন কথোপকথন থেকে জানা যায় তিনি মেয়র তাপসকে বলছেন, ‘ আমি এত মৃত্যুর ওপর দাঁড়িয়ে আর ক্ষমতায় থাকতে চাই না। রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধানকে জানিয়ে দিয়েছি তারা যে ব্যাবস্থা নেয়ার নিক।’ অর্থাৎ তিনি জরুরি আইন বা সামরিক আইন জারি করার বিষয়টিই ইঙ্গিত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির টেলিফোনিক সংলাপকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ বিবেচনা করে যদি রাষ্ট্রপতি সামরিক আইন বা জরুরি আইন জারীর পথে অগ্রসর হতেন সেটা কি নাহিদ ইসলামদের পক্ষে যেতো? সম্ভবত সামরিক নেতৃত্ব এ বিষয়ে একমত ছিলেন না, তাই রাষ্ট্রপতিরও সে সুযোগ ছিল না।

যা হোক রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তিনি সেদিন বিশেষ কোনো ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় জুলাই হত্যাকান্ডের দায়ে তাকে যদি গ্রেপ্তারের দাবি উঠে; একই সঙ্গে বিগত ১৮ মাসে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মূহাম্মদ ইউনূসকে গ্রেপ্তারের দাবিও উঠতে পারে এবং ইতোমধ্যে উঠেছেও। কেউ কেউ এমন দাবিও করছেন তিনি যাতে দেশত্যাগ না করতে পারেন এমন ব্যাবস্থা নিতে। আর ইউনূস আইনের আওতায় আসলে তার ‘নিয়োগ কর্তারা’ তো কেউই বাদ পড়বেন না। এমনিতেই মবস্টারদের কেউই কি শেষ অবধি আইনের আওতার বাইরে থাকতে পারবেন?

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ১৮ মাসে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে মোট ১১৫টি। একটি অস্থায়ী এবং অনির্বাচিত সরকারের আদৌ ১১৫টি অধ্যাদেশ জারি করার প্রয়োজন ছিল কিনা সে প্রশ্ন ইতোমধ্যেই উঠেছে। জারিকৃত অধ্যাদেশগুলোর স্থায়িত্ব ও আইনি বৈধতা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করছে পরবর্তী জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর। সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা বহাল রাখতে হলে, সেগুলোকে সংসদের আইন প্রণয়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়া অতিক্রম করে নতুন আইন হিসেবে সংসদকে পাস করতে হবে। আবার সংসদের অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সব অধ্যাদেশই বিলোপ হয়ে যাবে।

পার্লামেন্টের অনুপস্থিতিতে দেশ পরিচালনার জন্য অধ্যাদেশ জারির প্রয়োজন আছে। তাই বলে ১৮ মাসে ১১৫টি অধ্যাদেশ! অনেকগুলো অধ্যাদেশ এবং আইনের প্রয়োগ মব আয়োজন করে একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারপর জারী করা হয়েছে। যেমন- জুলাই সনদ ও গণভোট

তাই নাহিদ ইসলামদের উচিত হবে হুমকি ধামকি পরিহার করে সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে কিভাবে এ বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা যায় সে জন্য সরকারি দলকে সহযোগিতা করা। তবে তাদের এটাও মনে রাখা প্রয়োজন সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ যে আইন সংবিধান অনুযায়ী প্রণয়ন করতে পারে না, সেই রকম আইন রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ রূপে জারি করতে পারবেন না এবং অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের কোনো বিধানকে সংশোধন অথবা বিলুপ্ত করা যাবে না। সেক্ষেত্রে যতগুলো ব্যতয় হয়েছে তার দায়ভার কি সংসদ নেবে? বরং সেই ব্যতয় যে উপদেষ্টারা করেছেন এবং রাষ্ট্রপতিকে বাধ্য করেছেন অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করতে তাদেরকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

ইতোমধ্যেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার পরিষদ ও তার সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার বিষয়ে সংবিধানে কোনো বিধান নেই বিধায় বিএনপির সংসদ সদস্যগন ‘জুলাই আদেশ’ মোতাবেক সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন নি। এটা তো খুবই স্পষ্ট জুলাই সনদ কোনো আইন নয় বা সংবিধান নয়। একটি অনির্বাচিত সরকারের পরিকল্পনা মাত্র। নির্বাচিত সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এবং দুই তৃতীয়াংশেরও অধিক আসন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। নির্বাচিত সরকার অনির্বাচিত সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধ্য নয়। পার্লামেন্টকে কোনো কিছু করতে বাধ্য করলে তা আর পার্লামেন্ট থাকে না, গণতন্ত্রের এক বিকৃত রূপ নিয়ে তা উগ্র ফ্যাসিবাদের আখড়ায় পরিণত হয়।

রাষ্ট্রপতিকে অনেকটা গৃহবন্দী করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরামর্শক্রমে বা সিদ্ধান্তে যে এত এত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল তার আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের মতামত চাইলে অধ্যাদেশগুলো আইনি জটিলতার মধ্যে পড়বে। জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলনকারীদের দ্বারা সংঘটিত সব ফৌজদারি অপরাধ থেকে আইনি সুরক্ষা দেয়া হয় দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে। অধ্যাদেশটিতে দায়মুক্তির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। আন্দোলনটি কার্যত জুলাইয়ের শেষ ১৫ দিন থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ৫ আগস্টের পরে সমন্বয়ক নামে, নানা মনেচর নামে যে অসংখ্য ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে তার দায়মমুক্তি নিয়ে গোটা অধ্যদেশটিই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সারাদেশে মব উল্লম্ফনের মাধ্যমে যে হত্যাকান্ড, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং থানা আক্রমণ করে পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র লুট করে ফৌজদারি অপরাধ করা হয়েছে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাগ অনুরাগের বশবর্তী হয়ে ৩২নং এর ঐতিহাসিক বাড়িটি মবস্টারদের নেতৃত্বে একেবারে গুড়িয়ে দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, এজন্য কি তিনি আইনের আওতায় আসবেন না? যথাযথভাবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ তথা এই আদেশের ভিত্তিতে হওয়া গণভোট নিশ্চিতভাবেই আইনি জটিলতায় পড়তে যাচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পরে ইউনূস দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছিলেন। তিনি একাধারে নোবেল লরিয়েট আবার কথা বার্তা হাসিতে তার সারল্য সবাইকে আকৃষ্ট করতো। কিন্তু তার মনের মাঝে যে জিঘাংসা ও প্রতিশোধ পরায়ণতা তা শান্তিতে নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায় না। এক এগারো সরকারের সময়ে তার ভূমিকা কিংবা পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকাকে প্রভাবিত করার অভিযোগে শেখ হাসিনা তার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন সেটি সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু এর বিপরীতে তিনি ক্ষমতা হাতে পেয়েই জামায়াত ইসলামকে বুকে টেনে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতির বিরুদ্ধে কামান দেগে দিলেন, গরেহরে খুনের মামলা দায়ের করে রাজনীতির মাঠ থেকে তার অপছন্দের সবাইকে দূরে সরিয়ে দিলেন- এর কাফ্ফারা কি নোবেল লরিয়েটকে দিতে হবে না?

পার্লামেন্টের অনুপস্থিতিতে দেশ পরিচালনার জন্য অধ্যাদেশ জারীর প্রয়োজন আছে। তাই বলে ১৮ মাসে ১১৫টি অধ্যাদেশ! অনেকগুলো অধ্যাদেশ এবং আইনের প্রয়োগ মব আয়োজন করে একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারপর জারী করা হয়েছে। যেমন- জুলাই সনদ ও গণভোট। রাজনৈতিক দলগুলো একমত না হলেও ড. ইউনূসের পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্ট তরুণদের দল এবং তাদের আদর্শিক দল জামাত-হেফাজতকে মাঠে নামিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে অতঃপর বিএনপির নোট অব ডিসেন্টকে অগ্রাহ্য করে জুলাই সনদ অধ্যদেশ জারী করা হয়েছে। জমায়েত নিষিদ্ধ স্থান যমুনার সামনে মব জমায়েত করিয়ে অতঃপর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ভবনে শ’দুয়েক লোক ‘নারায়ে তকবীর’ শ্লোগান দিয়ে হামলা অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চুপ থাকলো। আর উদিচী অফিসে তো রাতের আঁধারে গোপনে তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থেকেই অগ্নিসংযোগ করা হলো।

প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ তাদের পোড়া ভবনে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দেয়া আগুনে দগ্ধ ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি শিল্পকর্ম ‘আলো’র প্রদর্শনী আয়োজন করেছেন। সে প্রদর্শনী দেখার পরে ভবনের নীচে প্রথম আলোর একজন সিনিয়র সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন বুঝছেন? আমি উত্তর দেয়ার আগেই তিনি বললেন, আগের থেকে অনেক ভালো। ইউনূস সাহেব যদি ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচনটা দিতেন ভালো হতো, ৩ মাসের মধ্যে দিলে আরও ভালো হতো। এই পোড়া ভবন দেখতে হতো না। আমি বললাম আপনি শুধু আপনাদের ভবনটাই দেখলেন। এই ১৮ মাসে পুরো দেশ দগ্ধ করে, তারপরে উনি বিদায় হলেন। আর আপনাদের পত্রিকা তো শুধু ওনাকেই প্রোমোট করে নাই, ওনার নিয়োগ কর্তা মবস্টারদেরও প্রমোট করেছে। আপনাদের প্রকাশনী ঘটা করে তাদের বই প্রকাশ করেছে। আজও প্রদর্শনী দেখাতে তাদের তাত্বিক গুরু জামাত নেতাদেরকে আমন্ত্রণ করে ডেকে এনেছেন। ওরা সর্প হয়ে দংশন করেছে এখন ওঝা হয়ে ঝাড়তে এসেছে। আমার কথা না শোনার ভান করে উনি সরে গেলেন। আমি অবশ্য নিজেও মনে মনে লজ্জিত হয়েছি এই ভেবে যে, আমিও তো দৈনিক সংবাদ পত্রিকার পাতায় ইউনূসের প্রশংসা করে এবং তাকে নিয়ে ও তরুণ নেতাদের নিয়ে অনেক আশাবাদ ব্যক্ত করে একসময় কলাম লিখেছি।

আজ যখন মূল্যায়ন করছি তখন বুঝতে পারছি ইউনূস এবং তার পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্ট তরুণদের দল দেশের বুকে উগ্রবাদী ধর্মীয় শক্তির উত্থান ঘটিয়ে এবং তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এই জাতির কত বড় ক্ষতি করে গেলেন। নাহিদ ইসলাম আজ রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি করছেন। পারলে করেন। কিন্তু ইউনূস সংবিধান বিরোধী যত কাজ

করেছেন তার জন্য তো তাকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেয়ার কয়েকদিনের মধ্যে উপদেষ্টা আর মবস্টারদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সে সবের বিচার হতে হবে না? আজ ৬ আসনের জয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। কিন্তু দেশের জন্মযুদ্ধ বিরোধী জামাতের কোলে বসে এ জয় জুলাইয়ের তরুনদের রাজনৈতিক পরাজয়, জুলাইয়ের রাজপথে যে লাখো তরুণীরা নেমে এসেছিলেন তাদের পরাজয়, যে শ্রমজীবী মানুষ ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন তাদের পরাজয়। তরুণদের সঙ্গে, জুলাইয়ের আকাক্সক্ষার সঙ্গে, দেশবাসীর সঙ্গে ইউনূস এবং আপনারা এনসিপি প্রতারণা করেছেন। কাঠগড়ায় আপনাদেরও দাঁড়াতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, রাজনীতির মাঠ যেমন বৈচিত্র্যময় তেমনি কখনো তা নির্মম ক্ষেত্রও বটে!

(লেখকের নিজস্ব মত) [লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা]

প্রসঙ্গ: পরশ্রীকাতরতা ও আমিত্ব

চাঁদাবাজি কি ‘সমঝোতা’?

উড়াল দিচ্ছি চাঁদে

আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অস্বস্তি

নেশার কবলে গ্রামবাংলা

পুরনো সঞ্চয় নিয়ে ফিরে ফিরে শুধু বেচাকেনা আর চলিবে না!

ভাষাপ্রকৌশল ও কালচারাল হেজিমনি: শব্দের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি

ক্ষমতার ছায়া ও সমাজের আয়না

বই মেলার বোল কুমড়া

প্রসঙ্গ: খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল

নতুন সরকারের কঠিন সমীকরণ

ভাষাপ্রকৌশল ও কালচারাল হেজিমনি: শব্দের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি

মানবদেহে রোজার সুফল

নিরাপদ সড়কের দাবি

ভাষা, স্বাধীনতা ও সাহিত্য : ইতিহাস থেকে সমকাল

অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী ও শান্তিচুক্তি

ছবি

মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন!

চেকের মামলায় ভুল ঠিকানায় নোটিস

শান্তির স্বপ্ন বনাম বাস্তবের দোলাচল

ছবি

ভাষা আন্দোলন বাঙালির বিপ্লব ও আন্দোলনের ভ্যানগার্ড

বিয়ে রেজিস্ট্রি কেন জরুরি

ভাষা নিয়ে ভাসাভাসা কথা

বিএনপি পাস, জামায়াতও পাস

ব্যালট থেকে বাস্তবতায় বিএনপি

ছবি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: একুশের ইতিহাস, বিশ্বস্বীকৃতি ও আমাদের দায়িত্ব

ফুলের নিচে চাপা পড়া ভাষার আর্তনাদ

নতুন সরকারের কাছে পার্বত্যবাসীর প্রত্যাশা

ছবি

আন্দ্রে বেতেই : মানবিক সমাজবোধের অনন্য উত্তরাধিকারী

‘নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস’

মহাকাশ অর্থনীতি

কুষ্ঠ : নতুন সরকার ও একটি জাতীয় বিষয়ে প্রত্যাশা

বাংলাদেশের খাদ্যশিল্প

ভাষার রাজনীতি এবং রাজনীতির ভাষা

ছবি

দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী

ছবি

মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষায় সমতা নিশ্চিতের আহ্বান

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

গ্রেপ্তার করতে হলে তো দু’জনকেই করতে হবে!

আনোয়ারুল হক

রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের নিকট থেকে ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি চব্বিশের জুলাইয়ে হত্যাকান্ড ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। দেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। জুলাই আন্দোলনের দিনগুলোতে উভয় পক্ষকে সংযম ধারণের পরামর্শ দেয়া ছাড়া তিনি আর কি বা করতে পারতেন?

অবশ্য কিছু করার মত একটি পরিস্থিতি শেষ দিকে সৃষ্টি হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাসীন অবস্থার একেবারে শেষ সময়ের ফাঁস হওয়া একটি টেলিফোন কথোপকথন থেকে জানা যায় তিনি মেয়র তাপসকে বলছেন, ‘ আমি এত মৃত্যুর ওপর দাঁড়িয়ে আর ক্ষমতায় থাকতে চাই না। রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধানকে জানিয়ে দিয়েছি তারা যে ব্যাবস্থা নেয়ার নিক।’ অর্থাৎ তিনি জরুরি আইন বা সামরিক আইন জারি করার বিষয়টিই ইঙ্গিত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির টেলিফোনিক সংলাপকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ বিবেচনা করে যদি রাষ্ট্রপতি সামরিক আইন বা জরুরি আইন জারীর পথে অগ্রসর হতেন সেটা কি নাহিদ ইসলামদের পক্ষে যেতো? সম্ভবত সামরিক নেতৃত্ব এ বিষয়ে একমত ছিলেন না, তাই রাষ্ট্রপতিরও সে সুযোগ ছিল না।

যা হোক রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তিনি সেদিন বিশেষ কোনো ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় জুলাই হত্যাকান্ডের দায়ে তাকে যদি গ্রেপ্তারের দাবি উঠে; একই সঙ্গে বিগত ১৮ মাসে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মূহাম্মদ ইউনূসকে গ্রেপ্তারের দাবিও উঠতে পারে এবং ইতোমধ্যে উঠেছেও। কেউ কেউ এমন দাবিও করছেন তিনি যাতে দেশত্যাগ না করতে পারেন এমন ব্যাবস্থা নিতে। আর ইউনূস আইনের আওতায় আসলে তার ‘নিয়োগ কর্তারা’ তো কেউই বাদ পড়বেন না। এমনিতেই মবস্টারদের কেউই কি শেষ অবধি আইনের আওতার বাইরে থাকতে পারবেন?

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ১৮ মাসে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে মোট ১১৫টি। একটি অস্থায়ী এবং অনির্বাচিত সরকারের আদৌ ১১৫টি অধ্যাদেশ জারি করার প্রয়োজন ছিল কিনা সে প্রশ্ন ইতোমধ্যেই উঠেছে। জারিকৃত অধ্যাদেশগুলোর স্থায়িত্ব ও আইনি বৈধতা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করছে পরবর্তী জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর। সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা বহাল রাখতে হলে, সেগুলোকে সংসদের আইন প্রণয়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়া অতিক্রম করে নতুন আইন হিসেবে সংসদকে পাস করতে হবে। আবার সংসদের অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সব অধ্যাদেশই বিলোপ হয়ে যাবে।

পার্লামেন্টের অনুপস্থিতিতে দেশ পরিচালনার জন্য অধ্যাদেশ জারির প্রয়োজন আছে। তাই বলে ১৮ মাসে ১১৫টি অধ্যাদেশ! অনেকগুলো অধ্যাদেশ এবং আইনের প্রয়োগ মব আয়োজন করে একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারপর জারী করা হয়েছে। যেমন- জুলাই সনদ ও গণভোট

তাই নাহিদ ইসলামদের উচিত হবে হুমকি ধামকি পরিহার করে সংসদ অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে কিভাবে এ বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা যায় সে জন্য সরকারি দলকে সহযোগিতা করা। তবে তাদের এটাও মনে রাখা প্রয়োজন সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ যে আইন সংবিধান অনুযায়ী প্রণয়ন করতে পারে না, সেই রকম আইন রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ রূপে জারি করতে পারবেন না এবং অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের কোনো বিধানকে সংশোধন অথবা বিলুপ্ত করা যাবে না। সেক্ষেত্রে যতগুলো ব্যতয় হয়েছে তার দায়ভার কি সংসদ নেবে? বরং সেই ব্যতয় যে উপদেষ্টারা করেছেন এবং রাষ্ট্রপতিকে বাধ্য করেছেন অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করতে তাদেরকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

ইতোমধ্যেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার পরিষদ ও তার সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার বিষয়ে সংবিধানে কোনো বিধান নেই বিধায় বিএনপির সংসদ সদস্যগন ‘জুলাই আদেশ’ মোতাবেক সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন নি। এটা তো খুবই স্পষ্ট জুলাই সনদ কোনো আইন নয় বা সংবিধান নয়। একটি অনির্বাচিত সরকারের পরিকল্পনা মাত্র। নির্বাচিত সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এবং দুই তৃতীয়াংশেরও অধিক আসন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। নির্বাচিত সরকার অনির্বাচিত সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধ্য নয়। পার্লামেন্টকে কোনো কিছু করতে বাধ্য করলে তা আর পার্লামেন্ট থাকে না, গণতন্ত্রের এক বিকৃত রূপ নিয়ে তা উগ্র ফ্যাসিবাদের আখড়ায় পরিণত হয়।

রাষ্ট্রপতিকে অনেকটা গৃহবন্দী করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরামর্শক্রমে বা সিদ্ধান্তে যে এত এত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল তার আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের মতামত চাইলে অধ্যাদেশগুলো আইনি জটিলতার মধ্যে পড়বে। জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলনকারীদের দ্বারা সংঘটিত সব ফৌজদারি অপরাধ থেকে আইনি সুরক্ষা দেয়া হয় দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে। অধ্যাদেশটিতে দায়মুক্তির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। আন্দোলনটি কার্যত জুলাইয়ের শেষ ১৫ দিন থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ৫ আগস্টের পরে সমন্বয়ক নামে, নানা মনেচর নামে যে অসংখ্য ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে তার দায়মমুক্তি নিয়ে গোটা অধ্যদেশটিই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সারাদেশে মব উল্লম্ফনের মাধ্যমে যে হত্যাকান্ড, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং থানা আক্রমণ করে পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র লুট করে ফৌজদারি অপরাধ করা হয়েছে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাগ অনুরাগের বশবর্তী হয়ে ৩২নং এর ঐতিহাসিক বাড়িটি মবস্টারদের নেতৃত্বে একেবারে গুড়িয়ে দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, এজন্য কি তিনি আইনের আওতায় আসবেন না? যথাযথভাবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ তথা এই আদেশের ভিত্তিতে হওয়া গণভোট নিশ্চিতভাবেই আইনি জটিলতায় পড়তে যাচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পরে ইউনূস দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছিলেন। তিনি একাধারে নোবেল লরিয়েট আবার কথা বার্তা হাসিতে তার সারল্য সবাইকে আকৃষ্ট করতো। কিন্তু তার মনের মাঝে যে জিঘাংসা ও প্রতিশোধ পরায়ণতা তা শান্তিতে নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায় না। এক এগারো সরকারের সময়ে তার ভূমিকা কিংবা পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকাকে প্রভাবিত করার অভিযোগে শেখ হাসিনা তার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন সেটি সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু এর বিপরীতে তিনি ক্ষমতা হাতে পেয়েই জামায়াত ইসলামকে বুকে টেনে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতির বিরুদ্ধে কামান দেগে দিলেন, গরেহরে খুনের মামলা দায়ের করে রাজনীতির মাঠ থেকে তার অপছন্দের সবাইকে দূরে সরিয়ে দিলেন- এর কাফ্ফারা কি নোবেল লরিয়েটকে দিতে হবে না?

পার্লামেন্টের অনুপস্থিতিতে দেশ পরিচালনার জন্য অধ্যাদেশ জারীর প্রয়োজন আছে। তাই বলে ১৮ মাসে ১১৫টি অধ্যাদেশ! অনেকগুলো অধ্যাদেশ এবং আইনের প্রয়োগ মব আয়োজন করে একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারপর জারী করা হয়েছে। যেমন- জুলাই সনদ ও গণভোট। রাজনৈতিক দলগুলো একমত না হলেও ড. ইউনূসের পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্ট তরুণদের দল এবং তাদের আদর্শিক দল জামাত-হেফাজতকে মাঠে নামিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে অতঃপর বিএনপির নোট অব ডিসেন্টকে অগ্রাহ্য করে জুলাই সনদ অধ্যদেশ জারী করা হয়েছে। জমায়েত নিষিদ্ধ স্থান যমুনার সামনে মব জমায়েত করিয়ে অতঃপর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ভবনে শ’দুয়েক লোক ‘নারায়ে তকবীর’ শ্লোগান দিয়ে হামলা অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চুপ থাকলো। আর উদিচী অফিসে তো রাতের আঁধারে গোপনে তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থেকেই অগ্নিসংযোগ করা হলো।

প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ তাদের পোড়া ভবনে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দেয়া আগুনে দগ্ধ ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি শিল্পকর্ম ‘আলো’র প্রদর্শনী আয়োজন করেছেন। সে প্রদর্শনী দেখার পরে ভবনের নীচে প্রথম আলোর একজন সিনিয়র সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন বুঝছেন? আমি উত্তর দেয়ার আগেই তিনি বললেন, আগের থেকে অনেক ভালো। ইউনূস সাহেব যদি ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচনটা দিতেন ভালো হতো, ৩ মাসের মধ্যে দিলে আরও ভালো হতো। এই পোড়া ভবন দেখতে হতো না। আমি বললাম আপনি শুধু আপনাদের ভবনটাই দেখলেন। এই ১৮ মাসে পুরো দেশ দগ্ধ করে, তারপরে উনি বিদায় হলেন। আর আপনাদের পত্রিকা তো শুধু ওনাকেই প্রোমোট করে নাই, ওনার নিয়োগ কর্তা মবস্টারদেরও প্রমোট করেছে। আপনাদের প্রকাশনী ঘটা করে তাদের বই প্রকাশ করেছে। আজও প্রদর্শনী দেখাতে তাদের তাত্বিক গুরু জামাত নেতাদেরকে আমন্ত্রণ করে ডেকে এনেছেন। ওরা সর্প হয়ে দংশন করেছে এখন ওঝা হয়ে ঝাড়তে এসেছে। আমার কথা না শোনার ভান করে উনি সরে গেলেন। আমি অবশ্য নিজেও মনে মনে লজ্জিত হয়েছি এই ভেবে যে, আমিও তো দৈনিক সংবাদ পত্রিকার পাতায় ইউনূসের প্রশংসা করে এবং তাকে নিয়ে ও তরুণ নেতাদের নিয়ে অনেক আশাবাদ ব্যক্ত করে একসময় কলাম লিখেছি।

আজ যখন মূল্যায়ন করছি তখন বুঝতে পারছি ইউনূস এবং তার পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্ট তরুণদের দল দেশের বুকে উগ্রবাদী ধর্মীয় শক্তির উত্থান ঘটিয়ে এবং তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এই জাতির কত বড় ক্ষতি করে গেলেন। নাহিদ ইসলাম আজ রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি করছেন। পারলে করেন। কিন্তু ইউনূস সংবিধান বিরোধী যত কাজ

করেছেন তার জন্য তো তাকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেয়ার কয়েকদিনের মধ্যে উপদেষ্টা আর মবস্টারদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সে সবের বিচার হতে হবে না? আজ ৬ আসনের জয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। কিন্তু দেশের জন্মযুদ্ধ বিরোধী জামাতের কোলে বসে এ জয় জুলাইয়ের তরুনদের রাজনৈতিক পরাজয়, জুলাইয়ের রাজপথে যে লাখো তরুণীরা নেমে এসেছিলেন তাদের পরাজয়, যে শ্রমজীবী মানুষ ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন তাদের পরাজয়। তরুণদের সঙ্গে, জুলাইয়ের আকাক্সক্ষার সঙ্গে, দেশবাসীর সঙ্গে ইউনূস এবং আপনারা এনসিপি প্রতারণা করেছেন। কাঠগড়ায় আপনাদেরও দাঁড়াতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, রাজনীতির মাঠ যেমন বৈচিত্র্যময় তেমনি কখনো তা নির্মম ক্ষেত্রও বটে!

(লেখকের নিজস্ব মত) [লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা]

back to top