alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

‘পানিয়ালীর পোলার বইমেলা’

জাঁ-নেসার ওসমান

: বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

‘বইমেলা একটা পবিত্র জ্ঞান-গরিমার ব্যাপার, এইডারে নিয়া ঠাট্টা মশকরা করা মানায় না...’

‘আচ্ছা, তুই বল পয়লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বইমেলা শুরু করলে কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হতো?’

আপনে দেখছেন না, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার ধুলা রুখতে প্রতিদিন গ্যালন কা গ্যালন পানি ঢালতাছি। তো! এই পানি সাপ্লাই দিতাছে কে? আমার মায়ে

‘আপনে স্ত্রীর প্রিয় ছুট্টভাই, আপনে ক্যান এইডা ভুজেন না, ১২ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচন, এর আগে বইমেলা লাগাইলে কুনো হুমুন্দির পুত একটা পটকা ফুটাইতো, ব্যাস লগে লগে মধ্যবিত্তের আফিমখোরগুলা চিল্লাপাল্লা কইরা নির্বাচন বাতিল করনের চান্স পাইতো...’

‘ঠিক আছে বুঝলাম। স্মরণকালের সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তুই বইমেলা পিছালি কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা শুরু করলে দোষের কী ছিল!”

‘উম্মারে, কচি নাদান, উঁ রে আমার গ্যাদা বাচ্চা কিছুই বোজে না! আরে মিয়া ১৯৫৩ সাল, পাকিস্তান আমল থ্যেইক্কা ২১ ফেব্রুয়ারিরে পুজা-মুজা কইয়া বাঙালিরে বুজ দিয়াও কিছু করবার পারি নাই। কিন্তু এইবার বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পিরায় ৫৪ বছর পর, বাঙালিরে লাইনে আইন্না হ্যেরা যে মাছে ভাতে বাঙালি- এই কথাডা ভুলায়া দিতাছি। অহন বাঙালি আর বাঙালি নাই। হ্যারা এখন মধ্যবিত্তের আফিমখোর, হ্যারা আর নিজেরে যাতে বাঙালি কোইতে না পারে, হ্যাতারলাই আমরা জাইন্না বুইজ্ঝা ২১ ফেব্রুয়ারি বাদ দিয়া, একবার কোই ২৫ কিন্তু শুরু করলাম ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এইডা একটা বিরাট পাওনা বুঝছেন। বাঙালির পুত ভুইল্লা যাইব যে, হ্যারা বাঙালি। হুমুন্দির পুত, বাঙালি অহন কোইব, আমি পেরথমে মধ্যবিত্তের আফিমখোর তারপরে আমি বাঙালি। ফইনিরপুত বাঙালির বাঙালিত্ব ঘুঁচায়া দিমু।’

‘কিন্তু তোর ভাষায়, ‘ফইনিরপুত বাঙালির বাঙালিত্ব ঘুঁচায়া দিমু’। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বাঙালির বাঙালিত্ব ঘুঁচিয়ে দিয়ে তোর কী লাভ?’

‘এইডা আপনে কি বলচেন যে, বিগত পিরায় আশি বছর ধইরে আমার বাপ-দাদা, চৌদ্দগুষ্টি চেষ্টা করছে বাঙালির ব্রেন থেইক্কে বেদাৎ সব চিন্তা দূর কোইরে বাঙালিরে সঠিক পথে পরিচালিত করতে, আকাশ বাণীর ওই চোট্টা দেবদুলাল, দেবব্রত, নীল লোহিত- ওই সব মালুগো আগ্রাসনে বাঙালি ভুল পথে, ইবলিশের পথে ম্যেলা দিছিল। তাই বাঙালিরে সঠিক পথে আনার এই সুযোগ আবার কবে পামু তার নাই ঠিক, শুভস্য শীঘ্রম, ভুইল্লা যাও বেদাৎ বাঙালিপনা।’

‘কিন্তু ভাই, তোর ওই মধ্যবিত্তের আফিমখোররা কি পারবে, বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে জিততে?’

‘আলবৎ পারমু, আপনে মিয়া দ্যেখেন না, বিদ্যাসাগরের বিধাব বিবাহ প্রচলন, রাজা রামমোহন রায়ের সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা, এরপর বাঙলায় আর কুনো সামাজিক পরিবর্তন হোইছে? হয় নাই! কারণ যেই ফকিরনীরপুত স্বাধীন হোইল, ব্যাস হুমুন্দির পুতরা খালি ট্যাকা ট্যাকা কোইরা, বাঙালি জাতির বারটা বাজাইল।”

‘আর তুই বুঝি একটা বাজাবার জন্য এমন একটা পবিত্র জ্ঞান-গরিমার বইমেলাকে পানিয়ালীর পোলার বইমেলা বলছিস?’

‘দ্যেখেন, বইমেলা যখন পিছাইল তখন আমরা বইমেলা ক্যেন ঈদের পরে নিলাম না? আমারে জিগান ক্যান আমি বইমেলা ঈদের পরে নিলাম না?’

‘আচ্ছা ক্যেন তুমি বইমেলা ঈদের পরে নিলে না?’

‘কারণ সিম্পেল, আপনে দেখছেন না, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার ধুলা রুখতে প্রতিদিন গ্যালন কা গ্যালন পানি ঢালতাছি। তো! এই পানি সাপ্লাই দিতাছে কে? আমার মায়ে।’

‘তোর মায়ের পানি সাপ্লাইয়ের সঙ্গে ঈদের পরে বইমেলার কি সম্পর্ক?’

‘আছে মিয়াভাই, সম্পর্ক আছে। বইমেলা ঈদের পরে নিলে মার্চ মাসে বৃষ্টি হোইবো, আর বৃষ্টি হোইলে আমার মায়ের ধুলা মারার পানি সাপ্লাই বন্ধ। তখন কন আমরা যারা পানিয়ালীর পোলারা যারা পানিয়ালী প্রজন্মের জেনারেশন-জী, তাগো মায়ের ব্যবসা বন্ধ, আর লগে লগে আমরা না খায়া মরুম!’

‘ওরে ব্বাবারে, এই পানিয়ালীর পানি সাপ্লাইয়ের সঙ্গে পবিত্র জ্ঞান-গরিমার বইমেলাও জড়িত!’

‘শুধু পানি সাপ্লাই দেখলেন! আর কিছু দেখলেন না?’

‘আরে ভাই, তোর পানিয়ালীর পোলার বইমেলা শুনেই আমার চক্ষু চড়কগাছ, আবার নতুন কী আছে?’

‘ক্যান মিয়াভাই, আপনে দ্যেখেন নাই বইমেলায় ঢুকতে গেলেই এক হাট্টাগোট্টা ব্যাডা আইসা আপনের বুকে ব্যাজ পরায়া চান্দা চায়। আর চান্দা না দিলে ব্যাজ খুইল্লা ন্যেয়!’

‘হ্যাঁ হ্যাঁ, শুনেছি ‘মাছের রাজা ইলিশ আর বাত্তির রাজা ফিলিপস’- সেই বিজ্ঞাপন চলচ্চিত্র পরিচালকের বুকে ব্যাজ পরিয়ে টাকা চাইল, আর টাকা না দেয়াতে বুক থেকে ব্যাজ খুলে নিল!”

‘জ্বী! এটাই হচ্ছে বর্তমান এআই যুগের বইমেলা। কিছু লইলে কিছু দিতে হয়। আর হুনেন বাংলা একাডেমি ২৭ বছর হোইল, কথাশিল্পী শওকত ওসমানের রচনাবলী ছাপে নাই। কিন্তু পানিয়ালীর পানি সাপ্লাইয়ের ব্যবসা ঠিকই দিছে। তাই কোই অযথা বাংলা একাডেমিরে দোষারোপ কোইরেন না, বেদাৎ লাইন থুয়া, দিনের আলোয় সব ঠিকমতো দ্যেইখ্যা- দিনের পথে আসেন আর বাংলাভাষারে পবিত্রতম ভাষার মর্যাদা দ্যেন।’

‘সেই ভালো খামাখা বাংলা একাডেমিকে দোষারোপ করে লাভ নেই, তার চেয়ে বরং চল সবাই কোরাশে বলি, ‘আমরা সবাই পানিয়ালীর পোলা, সবাই মিলে সফল করি ২৬-এর বইমেলা!’

‘ঠিক ঠিক! এক্কেবারে আমার দিলের কথা কোইছেন, লন ব্যেবাগতে মিল্লা কোরাশে কোই, ‘আমরা সবাই পানিয়ালীর পোলা, সবাই মিলে সফল করি পবিত্র বইমেলা!’

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ভূমি কমিশন কেন জরুরি?

উৎসবে মূল্যবৃদ্ধির চিত্র

জোর যার, মুল্লুক তার: সাম্রাজ্যের নতুন পোশাক

আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট

নিঃশব্দ আর্তনাদ শোনার সময় এখনই

ইরান ইস্যুতে মহাশক্তির পরীক্ষা

ক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও জনআস্থা: রাজনীতির নতুন পরীক্ষা

এলডিসি থেকে উত্তরণে কেন এত সংশয়

আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট

প্রসঙ্গ: পরশ্রীকাতরতা ও আমিত্ব

চাঁদাবাজি কি ‘সমঝোতা’?

গ্রেপ্তার করতে হলে তো দু’জনকেই করতে হবে!

উড়াল দিচ্ছি চাঁদে

আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অস্বস্তি

নেশার কবলে গ্রামবাংলা

পুরনো সঞ্চয় নিয়ে ফিরে ফিরে শুধু বেচাকেনা আর চলিবে না!

ভাষাপ্রকৌশল ও কালচারাল হেজিমনি: শব্দের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি

ক্ষমতার ছায়া ও সমাজের আয়না

বই মেলার বোল কুমড়া

প্রসঙ্গ: খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল

নতুন সরকারের কঠিন সমীকরণ

ভাষাপ্রকৌশল ও কালচারাল হেজিমনি: শব্দের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি

মানবদেহে রোজার সুফল

নিরাপদ সড়কের দাবি

ভাষা, স্বাধীনতা ও সাহিত্য : ইতিহাস থেকে সমকাল

অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী ও শান্তিচুক্তি

ছবি

মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন!

চেকের মামলায় ভুল ঠিকানায় নোটিস

শান্তির স্বপ্ন বনাম বাস্তবের দোলাচল

ছবি

ভাষা আন্দোলন বাঙালির বিপ্লব ও আন্দোলনের ভ্যানগার্ড

বিয়ে রেজিস্ট্রি কেন জরুরি

ভাষা নিয়ে ভাসাভাসা কথা

বিএনপি পাস, জামায়াতও পাস

ব্যালট থেকে বাস্তবতায় বিএনপি

ছবি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: একুশের ইতিহাস, বিশ্বস্বীকৃতি ও আমাদের দায়িত্ব

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

‘পানিয়ালীর পোলার বইমেলা’

জাঁ-নেসার ওসমান

বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

‘বইমেলা একটা পবিত্র জ্ঞান-গরিমার ব্যাপার, এইডারে নিয়া ঠাট্টা মশকরা করা মানায় না...’

‘আচ্ছা, তুই বল পয়লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বইমেলা শুরু করলে কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হতো?’

আপনে দেখছেন না, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার ধুলা রুখতে প্রতিদিন গ্যালন কা গ্যালন পানি ঢালতাছি। তো! এই পানি সাপ্লাই দিতাছে কে? আমার মায়ে

‘আপনে স্ত্রীর প্রিয় ছুট্টভাই, আপনে ক্যান এইডা ভুজেন না, ১২ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচন, এর আগে বইমেলা লাগাইলে কুনো হুমুন্দির পুত একটা পটকা ফুটাইতো, ব্যাস লগে লগে মধ্যবিত্তের আফিমখোরগুলা চিল্লাপাল্লা কইরা নির্বাচন বাতিল করনের চান্স পাইতো...’

‘ঠিক আছে বুঝলাম। স্মরণকালের সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তুই বইমেলা পিছালি কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা শুরু করলে দোষের কী ছিল!”

‘উম্মারে, কচি নাদান, উঁ রে আমার গ্যাদা বাচ্চা কিছুই বোজে না! আরে মিয়া ১৯৫৩ সাল, পাকিস্তান আমল থ্যেইক্কা ২১ ফেব্রুয়ারিরে পুজা-মুজা কইয়া বাঙালিরে বুজ দিয়াও কিছু করবার পারি নাই। কিন্তু এইবার বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পিরায় ৫৪ বছর পর, বাঙালিরে লাইনে আইন্না হ্যেরা যে মাছে ভাতে বাঙালি- এই কথাডা ভুলায়া দিতাছি। অহন বাঙালি আর বাঙালি নাই। হ্যারা এখন মধ্যবিত্তের আফিমখোর, হ্যারা আর নিজেরে যাতে বাঙালি কোইতে না পারে, হ্যাতারলাই আমরা জাইন্না বুইজ্ঝা ২১ ফেব্রুয়ারি বাদ দিয়া, একবার কোই ২৫ কিন্তু শুরু করলাম ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এইডা একটা বিরাট পাওনা বুঝছেন। বাঙালির পুত ভুইল্লা যাইব যে, হ্যারা বাঙালি। হুমুন্দির পুত, বাঙালি অহন কোইব, আমি পেরথমে মধ্যবিত্তের আফিমখোর তারপরে আমি বাঙালি। ফইনিরপুত বাঙালির বাঙালিত্ব ঘুঁচায়া দিমু।’

‘কিন্তু তোর ভাষায়, ‘ফইনিরপুত বাঙালির বাঙালিত্ব ঘুঁচায়া দিমু’। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বাঙালির বাঙালিত্ব ঘুঁচিয়ে দিয়ে তোর কী লাভ?’

‘এইডা আপনে কি বলচেন যে, বিগত পিরায় আশি বছর ধইরে আমার বাপ-দাদা, চৌদ্দগুষ্টি চেষ্টা করছে বাঙালির ব্রেন থেইক্কে বেদাৎ সব চিন্তা দূর কোইরে বাঙালিরে সঠিক পথে পরিচালিত করতে, আকাশ বাণীর ওই চোট্টা দেবদুলাল, দেবব্রত, নীল লোহিত- ওই সব মালুগো আগ্রাসনে বাঙালি ভুল পথে, ইবলিশের পথে ম্যেলা দিছিল। তাই বাঙালিরে সঠিক পথে আনার এই সুযোগ আবার কবে পামু তার নাই ঠিক, শুভস্য শীঘ্রম, ভুইল্লা যাও বেদাৎ বাঙালিপনা।’

‘কিন্তু ভাই, তোর ওই মধ্যবিত্তের আফিমখোররা কি পারবে, বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে জিততে?’

‘আলবৎ পারমু, আপনে মিয়া দ্যেখেন না, বিদ্যাসাগরের বিধাব বিবাহ প্রচলন, রাজা রামমোহন রায়ের সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা, এরপর বাঙলায় আর কুনো সামাজিক পরিবর্তন হোইছে? হয় নাই! কারণ যেই ফকিরনীরপুত স্বাধীন হোইল, ব্যাস হুমুন্দির পুতরা খালি ট্যাকা ট্যাকা কোইরা, বাঙালি জাতির বারটা বাজাইল।”

‘আর তুই বুঝি একটা বাজাবার জন্য এমন একটা পবিত্র জ্ঞান-গরিমার বইমেলাকে পানিয়ালীর পোলার বইমেলা বলছিস?’

‘দ্যেখেন, বইমেলা যখন পিছাইল তখন আমরা বইমেলা ক্যেন ঈদের পরে নিলাম না? আমারে জিগান ক্যান আমি বইমেলা ঈদের পরে নিলাম না?’

‘আচ্ছা ক্যেন তুমি বইমেলা ঈদের পরে নিলে না?’

‘কারণ সিম্পেল, আপনে দেখছেন না, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার ধুলা রুখতে প্রতিদিন গ্যালন কা গ্যালন পানি ঢালতাছি। তো! এই পানি সাপ্লাই দিতাছে কে? আমার মায়ে।’

‘তোর মায়ের পানি সাপ্লাইয়ের সঙ্গে ঈদের পরে বইমেলার কি সম্পর্ক?’

‘আছে মিয়াভাই, সম্পর্ক আছে। বইমেলা ঈদের পরে নিলে মার্চ মাসে বৃষ্টি হোইবো, আর বৃষ্টি হোইলে আমার মায়ের ধুলা মারার পানি সাপ্লাই বন্ধ। তখন কন আমরা যারা পানিয়ালীর পোলারা যারা পানিয়ালী প্রজন্মের জেনারেশন-জী, তাগো মায়ের ব্যবসা বন্ধ, আর লগে লগে আমরা না খায়া মরুম!’

‘ওরে ব্বাবারে, এই পানিয়ালীর পানি সাপ্লাইয়ের সঙ্গে পবিত্র জ্ঞান-গরিমার বইমেলাও জড়িত!’

‘শুধু পানি সাপ্লাই দেখলেন! আর কিছু দেখলেন না?’

‘আরে ভাই, তোর পানিয়ালীর পোলার বইমেলা শুনেই আমার চক্ষু চড়কগাছ, আবার নতুন কী আছে?’

‘ক্যান মিয়াভাই, আপনে দ্যেখেন নাই বইমেলায় ঢুকতে গেলেই এক হাট্টাগোট্টা ব্যাডা আইসা আপনের বুকে ব্যাজ পরায়া চান্দা চায়। আর চান্দা না দিলে ব্যাজ খুইল্লা ন্যেয়!’

‘হ্যাঁ হ্যাঁ, শুনেছি ‘মাছের রাজা ইলিশ আর বাত্তির রাজা ফিলিপস’- সেই বিজ্ঞাপন চলচ্চিত্র পরিচালকের বুকে ব্যাজ পরিয়ে টাকা চাইল, আর টাকা না দেয়াতে বুক থেকে ব্যাজ খুলে নিল!”

‘জ্বী! এটাই হচ্ছে বর্তমান এআই যুগের বইমেলা। কিছু লইলে কিছু দিতে হয়। আর হুনেন বাংলা একাডেমি ২৭ বছর হোইল, কথাশিল্পী শওকত ওসমানের রচনাবলী ছাপে নাই। কিন্তু পানিয়ালীর পানি সাপ্লাইয়ের ব্যবসা ঠিকই দিছে। তাই কোই অযথা বাংলা একাডেমিরে দোষারোপ কোইরেন না, বেদাৎ লাইন থুয়া, দিনের আলোয় সব ঠিকমতো দ্যেইখ্যা- দিনের পথে আসেন আর বাংলাভাষারে পবিত্রতম ভাষার মর্যাদা দ্যেন।’

‘সেই ভালো খামাখা বাংলা একাডেমিকে দোষারোপ করে লাভ নেই, তার চেয়ে বরং চল সবাই কোরাশে বলি, ‘আমরা সবাই পানিয়ালীর পোলা, সবাই মিলে সফল করি ২৬-এর বইমেলা!’

‘ঠিক ঠিক! এক্কেবারে আমার দিলের কথা কোইছেন, লন ব্যেবাগতে মিল্লা কোরাশে কোই, ‘আমরা সবাই পানিয়ালীর পোলা, সবাই মিলে সফল করি পবিত্র বইমেলা!’

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

back to top