আনোয়ারুল হক
সরকারের দায়িত্ব শেষে উপদেষ্টারা প্রায় সবাই বলেছেন তারা লেখালেখি করবেন। কলাম লিখবেন, গবেষণাপত্র লিখবেন, এই সময়ের অভিজ্ঞতা লিখবেন। উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা মর্যাদার বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারী এবং বিশেষ সাংবাদিক প্রেস সচিব- সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন। কোনো একটি পত্রিকা একা তো এত লেখার জায়গা দিতে পারবে না। সুতরাং, অন্য পত্রিকায়ও তারা লিখবেন। তখন কি আর দৈনিক সংবাদ পত্রিকা আমার মতো আনাড়ি লেখকের কলাম ছাপবে? তাই লেখালেখি থেকে বিদায় নেয়ার প্রস্তুতিতে আছি। এর মধ্যে যমুনা থেকে বিদায় নিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। তবে যাওয়ার আগে ফাঁসিয়ে দিয়ে গেলেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা ফাওজুল কবিরের বাসায় মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মানে ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সাবেক উপদেষ্টাদের অনেকেই পরিবারের সদস্যসহ ছিলেন। আরও যোগ দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানও। অবশ্যই উপস্থিত ছিলেন অতিকথন ও অতি প্রদর্শনপ্রিয় সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি ইফতার ও নৈশভোজের অনেকগুলো ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে পত্রিকায় বড় আকারের সংবাদ নিয়ে আসেন। সভায় উপস্থিত অনেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুদকে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তাদের সঙ্গে দুদক চেয়ারম্যানের ইফতার, নৈশভোজ ও খোশগল্প তার নৈতিক অবস্থানকে নড়বড়ে করে দেয়। ফলে অন্য দুই সদস্যসহ তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। তিনি বিদায় নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তরুণ তুর্কি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দুদক তার র্যাংক হিসাব তলব করেছে। আরও অনেক উপদেষ্টা ও সমন্বয়কদের নামে দুদকে নাকি ভূরিভূরি অভিযোগ জমা পড়ছে।
কিন্তু এমন তো কথা ছিল না! ইউনূস তার প্রিয়ভাজনদের, তার নিয়োগ কর্তাদের এ রকম অসহায় অবস্থায় ফেলে যাবেন- তা তো তারা ভাবেননি। তার নিয়োগকর্তারা এবং একই সঙ্গে তার প্রেস সচিব তো একসময় ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই সরকার শুধু নির্বাচন করার জন্য ক্ষমতায় আসে নাই। সব কিছু করার ম্যান্ডেট তাদের রয়েছে। তাই তারা ঘোষণা করেছিলেন নির্বাচনের পরে পার্লামেন্টের অধিবেশন না বসে প্রথম বসবে ৬ মাসের সংবিধান সংস্কার পরিষদ। যেহেতু পার্লামেন্ট গঠিত হবে না, তাই নতুন সরকারও গঠিত হবে না। মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধানে সংস্কার পরিষদ তার সরকারের সময়কালের ন্যায়-অন্যায় সবকিছুকে দায়মুক্তি দেয়ার পর পার্লামেন্ট সক্রিয় হবে।
সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা তো বলেছিলেন, ‘মানুষ এই সরকারকে আরও পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে দেখতে চাইছে।’ আর এক উপদেষ্টা ছাত্র সমন্বয়ক উপদেষ্টাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘অন্তত পাঁচ-দশ বছর তোমরা আমাদের নেতা থাক।’ আর একজন হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা অনির্বাচিত, এই কথা কে বলল?’ স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন, মানুষ এই সরকারকে ৫ বছর, ১০ বছর এমনকি ৪০ বছর ক্ষমতায় দেখতে চাইছে। কী এমন হলো যে, মানুষের মহান ‘আকাক্সক্ষাকে’ অসম্মান করতে হলো?
অবশ্য মানুষের সেই ‘আকাক্সক্ষাকে’ মর্যাদা না দিতে পারলেও প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে বিদায় নেয়ার আগে নোবেল লরিয়েট নিজেই নিজেকে এক বছরের জন্য ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা দিয়েছেন। ইতোঃপূর্বে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স অর্ডিন্যান্সের গেজেট অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব ছাড়ার পর বাংলাদেশে অবস্থানকালীন সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা পেতেন। তাই অনেকেই এটাকে অভূতপূর্ব ও রীতি ভঙ্গকারী এবং নিজের জন্য সরকারি পদের অপব্যবহার বলে মনে করছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অথচ ১০ ফেব্রুয়ারিতেও প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশনের সরকারি ওয়েবসাইটেও এই গ্যাজেট নোটিফিকেশনটি আপলোড করা হয়নি। এটাকে প্রকাশ্যে আনা হয় যমুনা ছাড়ার আগে আগে। উপদেষ্টা পরিষদে এটি আলোচিত হয়েছে কি না- তাও বোঝার উপায় নেই। ইতোমধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরে ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকার অভিযোগ সামনে এনেছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তার দাবি, সরকারপ্রধানের আস্থাভাজন কয়েকজন সদস্য অনানুষ্ঠানিক পরিসরে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন, যা সব সদস্যের কাছে উন্মুক্ত ছিল না। রীতিমতো ভয়ানক খবর।
জুলাই সনদ ও গণভোটকে কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না- এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের আইনি প্রশ্নের মুখোমুখি যে হতে হবে- তা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইন বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছিলেন। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের কিচেন কেবিনেট একগুঁয়েমি করে এ ধরনের অধ্যাদেশ জারির ব্যাবস্থা করে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার একটি রাস্তা খুলে রেখেছেন। তিনি তো এক বছরের জন্য এসএসএফ প্রহরা নিয়ে নিলেন; কিন্তু ইঁদুর মারার জন্য গত ১৮ মাসে যে কেউটে সাপ পোষা হয়েছে জাতিকে যেন তার ছোবল খেতে না হয়- সে প্রহরা কোথায়?
ইউনূস কৃতী পুরুষ। বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। জনগণ তাকে আরও ৪০ বছর চায়! তাই বলি কি, এসএসএফের আঁধারে বন্দি না থেকে জনগণের কাছেই আসুন। এই তো কয়েকদিন বাদে কয়েকটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একটি আসনে আপনি এবং অন্য একটি আসনে আপনার প্রেস সচিব নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যান। তাতে আপনার দল ৬ আসন থেকে ৮ আসনে উন্নীত হয়ে যেতে পারে। এরপরে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং বদিউল আলম মজুমদারও কোনো এক সুযোগে কোনো উপনির্বাচনে দাঁড়িয়ে তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করে নেবেন।
আর পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চয়ই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। সুতরাং, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের ভোট রিগিং নিয়ে আশঙ্কা করার মতো কিছু থাকছে না। সে নির্বাচনে নিশ্চয়ই গত ১৮ মাসে চাঁদাবাজি, বদলি, পোস্টিং করে বেড়ানো তরুণদের দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে এক এগারোর সময়কালের আপনার রাজনৈতিক গ্লানি মোচন করে দেবে। এই দেশে সব সম্ভব! আর কাজ তো এখনও অনেক বাকি। শুধু বাণিজ্য চুক্তি আর বন্দর চুক্তি করলেই হবে? সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারের আপনার প্রিয় বিশ্ব মোড়লের স্বার্থে আরও কত না চুক্তি অপেক্ষমান! সেসব কাজে এবারের মতো ভবিষ্যতেও ধর্মাশ্রয়ী দলের সমর্থন পাবেন। সমর্থন পেয়ে যেতে পারেন বর্তমান সরকারি দলেরও। দুনিয়াজুড়ে চলছে ট্রাম্প-উল্লম্ফন আর দেশে চলবে মব-উল্লম্ফন। ধুলো পড়েছে দেশের চেহারায়, কিন্তু সবাই মিলে এবারের মতো আরেকবার আপনার নেতৃত্বে আয়না মুছতে লেগে পড়ব। আমাদের পথে হলো দেরি! তাই বলে আমাদের নিরাশ করবেন না। দূরে না যেয়ে, ‘আরও কিছুকাল না হয় রহিতে কাছে। আঠারো মাসের মধু-ক্ষণ আরও মধুময় হয়ে না হয় উঠিত ভরে!’
(লেখকের নিজস্ব মত)
[লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
আনোয়ারুল হক
শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬
সরকারের দায়িত্ব শেষে উপদেষ্টারা প্রায় সবাই বলেছেন তারা লেখালেখি করবেন। কলাম লিখবেন, গবেষণাপত্র লিখবেন, এই সময়ের অভিজ্ঞতা লিখবেন। উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা মর্যাদার বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারী এবং বিশেষ সাংবাদিক প্রেস সচিব- সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন। কোনো একটি পত্রিকা একা তো এত লেখার জায়গা দিতে পারবে না। সুতরাং, অন্য পত্রিকায়ও তারা লিখবেন। তখন কি আর দৈনিক সংবাদ পত্রিকা আমার মতো আনাড়ি লেখকের কলাম ছাপবে? তাই লেখালেখি থেকে বিদায় নেয়ার প্রস্তুতিতে আছি। এর মধ্যে যমুনা থেকে বিদায় নিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। তবে যাওয়ার আগে ফাঁসিয়ে দিয়ে গেলেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা ফাওজুল কবিরের বাসায় মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মানে ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সাবেক উপদেষ্টাদের অনেকেই পরিবারের সদস্যসহ ছিলেন। আরও যোগ দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানও। অবশ্যই উপস্থিত ছিলেন অতিকথন ও অতি প্রদর্শনপ্রিয় সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি ইফতার ও নৈশভোজের অনেকগুলো ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে পত্রিকায় বড় আকারের সংবাদ নিয়ে আসেন। সভায় উপস্থিত অনেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুদকে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তাদের সঙ্গে দুদক চেয়ারম্যানের ইফতার, নৈশভোজ ও খোশগল্প তার নৈতিক অবস্থানকে নড়বড়ে করে দেয়। ফলে অন্য দুই সদস্যসহ তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। তিনি বিদায় নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তরুণ তুর্কি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দুদক তার র্যাংক হিসাব তলব করেছে। আরও অনেক উপদেষ্টা ও সমন্বয়কদের নামে দুদকে নাকি ভূরিভূরি অভিযোগ জমা পড়ছে।
কিন্তু এমন তো কথা ছিল না! ইউনূস তার প্রিয়ভাজনদের, তার নিয়োগ কর্তাদের এ রকম অসহায় অবস্থায় ফেলে যাবেন- তা তো তারা ভাবেননি। তার নিয়োগকর্তারা এবং একই সঙ্গে তার প্রেস সচিব তো একসময় ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই সরকার শুধু নির্বাচন করার জন্য ক্ষমতায় আসে নাই। সব কিছু করার ম্যান্ডেট তাদের রয়েছে। তাই তারা ঘোষণা করেছিলেন নির্বাচনের পরে পার্লামেন্টের অধিবেশন না বসে প্রথম বসবে ৬ মাসের সংবিধান সংস্কার পরিষদ। যেহেতু পার্লামেন্ট গঠিত হবে না, তাই নতুন সরকারও গঠিত হবে না। মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধানে সংস্কার পরিষদ তার সরকারের সময়কালের ন্যায়-অন্যায় সবকিছুকে দায়মুক্তি দেয়ার পর পার্লামেন্ট সক্রিয় হবে।
সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা তো বলেছিলেন, ‘মানুষ এই সরকারকে আরও পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে দেখতে চাইছে।’ আর এক উপদেষ্টা ছাত্র সমন্বয়ক উপদেষ্টাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘অন্তত পাঁচ-দশ বছর তোমরা আমাদের নেতা থাক।’ আর একজন হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা অনির্বাচিত, এই কথা কে বলল?’ স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন, মানুষ এই সরকারকে ৫ বছর, ১০ বছর এমনকি ৪০ বছর ক্ষমতায় দেখতে চাইছে। কী এমন হলো যে, মানুষের মহান ‘আকাক্সক্ষাকে’ অসম্মান করতে হলো?
অবশ্য মানুষের সেই ‘আকাক্সক্ষাকে’ মর্যাদা না দিতে পারলেও প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে বিদায় নেয়ার আগে নোবেল লরিয়েট নিজেই নিজেকে এক বছরের জন্য ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা দিয়েছেন। ইতোঃপূর্বে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স অর্ডিন্যান্সের গেজেট অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব ছাড়ার পর বাংলাদেশে অবস্থানকালীন সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা পেতেন। তাই অনেকেই এটাকে অভূতপূর্ব ও রীতি ভঙ্গকারী এবং নিজের জন্য সরকারি পদের অপব্যবহার বলে মনে করছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অথচ ১০ ফেব্রুয়ারিতেও প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশনের সরকারি ওয়েবসাইটেও এই গ্যাজেট নোটিফিকেশনটি আপলোড করা হয়নি। এটাকে প্রকাশ্যে আনা হয় যমুনা ছাড়ার আগে আগে। উপদেষ্টা পরিষদে এটি আলোচিত হয়েছে কি না- তাও বোঝার উপায় নেই। ইতোমধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরে ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকার অভিযোগ সামনে এনেছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তার দাবি, সরকারপ্রধানের আস্থাভাজন কয়েকজন সদস্য অনানুষ্ঠানিক পরিসরে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন, যা সব সদস্যের কাছে উন্মুক্ত ছিল না। রীতিমতো ভয়ানক খবর।
জুলাই সনদ ও গণভোটকে কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না- এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের আইনি প্রশ্নের মুখোমুখি যে হতে হবে- তা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইন বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছিলেন। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের কিচেন কেবিনেট একগুঁয়েমি করে এ ধরনের অধ্যাদেশ জারির ব্যাবস্থা করে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার একটি রাস্তা খুলে রেখেছেন। তিনি তো এক বছরের জন্য এসএসএফ প্রহরা নিয়ে নিলেন; কিন্তু ইঁদুর মারার জন্য গত ১৮ মাসে যে কেউটে সাপ পোষা হয়েছে জাতিকে যেন তার ছোবল খেতে না হয়- সে প্রহরা কোথায়?
ইউনূস কৃতী পুরুষ। বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। জনগণ তাকে আরও ৪০ বছর চায়! তাই বলি কি, এসএসএফের আঁধারে বন্দি না থেকে জনগণের কাছেই আসুন। এই তো কয়েকদিন বাদে কয়েকটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একটি আসনে আপনি এবং অন্য একটি আসনে আপনার প্রেস সচিব নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যান। তাতে আপনার দল ৬ আসন থেকে ৮ আসনে উন্নীত হয়ে যেতে পারে। এরপরে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং বদিউল আলম মজুমদারও কোনো এক সুযোগে কোনো উপনির্বাচনে দাঁড়িয়ে তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করে নেবেন।
আর পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চয়ই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। সুতরাং, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের ভোট রিগিং নিয়ে আশঙ্কা করার মতো কিছু থাকছে না। সে নির্বাচনে নিশ্চয়ই গত ১৮ মাসে চাঁদাবাজি, বদলি, পোস্টিং করে বেড়ানো তরুণদের দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে এক এগারোর সময়কালের আপনার রাজনৈতিক গ্লানি মোচন করে দেবে। এই দেশে সব সম্ভব! আর কাজ তো এখনও অনেক বাকি। শুধু বাণিজ্য চুক্তি আর বন্দর চুক্তি করলেই হবে? সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারের আপনার প্রিয় বিশ্ব মোড়লের স্বার্থে আরও কত না চুক্তি অপেক্ষমান! সেসব কাজে এবারের মতো ভবিষ্যতেও ধর্মাশ্রয়ী দলের সমর্থন পাবেন। সমর্থন পেয়ে যেতে পারেন বর্তমান সরকারি দলেরও। দুনিয়াজুড়ে চলছে ট্রাম্প-উল্লম্ফন আর দেশে চলবে মব-উল্লম্ফন। ধুলো পড়েছে দেশের চেহারায়, কিন্তু সবাই মিলে এবারের মতো আরেকবার আপনার নেতৃত্বে আয়না মুছতে লেগে পড়ব। আমাদের পথে হলো দেরি! তাই বলে আমাদের নিরাশ করবেন না। দূরে না যেয়ে, ‘আরও কিছুকাল না হয় রহিতে কাছে। আঠারো মাসের মধু-ক্ষণ আরও মধুময় হয়ে না হয় উঠিত ভরে!’
(লেখকের নিজস্ব মত)
[লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা]