শাহ মো. জিয়াউদ্দিন
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ বলতে সাধারণত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগকে বোঝানো হয়। এই দুই বিভাগে বসবাসকারী আদিবাসীদের সমতলের আদিবাসী বলা হয়। সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে বহু সম্প্রদায় রয়েছে। তাদের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রথায় নানা বৈচিত্র্য দেখা যায়। এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের বিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে ভিন্নতা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের প্রধান কয়েকটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সংক্ষেপে নিচে উল্লেখ করা হলো।
সাঁওতাল : উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় আদিবাসী জনগোষ্ঠী। মূলত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলায় তাদের বসবাস বেশি।
ওঁরাও : বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ জনগোষ্ঠী। তারা কুড়–খ ভাষায় কথা বলে।
মুণ্ডা : রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে এদের বসতি রয়েছে।
মাহাতো : প্রধানত রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলের অধিবাসী।
বোড়ো : উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বসবাস রয়েছে।
রাজবংশী : রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে এদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
কোচ : রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের সমতলভূমিতে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী।
পাহাড়িয়া ও মালপাহাড়িয়া : রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে এদের দেখা যায়।
কোল : উত্তরবঙ্গের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
এই জনগোষ্ঠীগুলো নিজস্ব সংস্কৃতি, সামাজিক ঐতিহ্য ও ভাষা বজায় রেখে বাঙালিদের পাশাপাশি বসবাস করলেও অনেক ক্ষেত্রে মূলধারার সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ও উপেক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তাদের জীবনপ্রণালিতে রয়েছে নানা স্বতন্ত্র প্রথা ও আচার। এই লেখায় তাদের বিবাহের কিছু প্রধান প্রথা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
সাঁওতালদের বিবাহ রীতি : সাঁওতালদের বিবাহকে বলা হয় বাপলা। এটি অত্যন্ত বর্ণিল ও ঐতিহ্যবাহী একটি সামাজিক আয়োজন। সাধারণত ঘটকের মাধ্যমে বিবাহ বেশি প্রচলিত হলেও প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতেও বিবাহ হয়ে থাকে। সমগোত্রে বিবাহ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
সাঁওতাল বিবাহে আইবুড়ো ভাত, গায়ে হলুদ, সিঁদুরদানসহ নানা আচার পালিত হয়। পুরো আয়োজন সাধারণত তিন দিন ধরে চলে। এই সময় নাচ-গান, ভোজ এবং সামাজিক মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হয়। সাঁওতাল বিবাহে সিঁদুরদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রীতি। শালপাতার তৈরি পাত্রে সিঁদুর রাখা হয় এবং স্থানীয় পানীয় ব্যবহার করে এই আচার সম্পন্ন করা হয়।
সাঁওতালদের বিবাহের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে- পারিবারিকভাবে নির্ধারিত বিবাহ এবং প্রেমের ভিত্তিতে পালিয়ে বিয়ে। বিবাহের প্রধান অনুষ্ঠান গ্রামের দেবতার স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পূজা ও সিঁদুরদান করা হয়। শালপাতার ব্যবহার এই অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
সাঁওতাল সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ ও পুনর্বিবাহের সামাজিক স্বীকৃতিও রয়েছে। বর্তমান সময়েও তারা নিজেদের প্রাচীন সংস্কৃতি অনেকাংশে ধরে রেখেছে।
ওঁরাওদের বিবাহ রীতি : ওঁরাও সমাজের বিবাহ মূলত লোকাচার ও দেশাচারভিত্তিক। তাদের সমাজে চুক্তিভিত্তিক বিবাহ বেশি প্রচলিত। বর-কনের সম্মতি, সিঁদুরদান, মণ্ডপ প্রদক্ষিণ এবং ঐতিহ্যবাহী পানীয় পরিবেশন এই বিবাহের প্রধান অংশ।
সমগোত্রে বিবাহ নিষিদ্ধ এবং বিধবা বিবাহেরও প্রচলন রয়েছে। ওঁরাও সমাজে সাধারণত দুই ধরনের বিবাহ দেখা যায়- পরিবারের মাধ্যমে নির্ধারিত বিবাহ এবং প্রেমের ভিত্তিতে বিবাহ।
বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত বাড়ির উঠানে তৈরি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী বর কনের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেয়। বিয়ের সময় নাচ-গান ও ভোজের আয়োজন থাকে। বিশেষ কারণে বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ওঁরাওরা সাধারণত নিজেদের কুড়–খ ভাষা ও সাংস্কৃতিক রীতি মেনে বিবাহ সম্পন্ন করে।
মুণ্ডাদের বিবাহ রীতি : মুণ্ডা সমাজে সমগোত্রে বিবাহ নিষিদ্ধ। সাধারণত বাগদানের মাধ্যমে বিবাহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাগদান চূড়ান্ত করা হয়।
বিয়ের সময় বর-কনে একে অন্যের কপালে সিঁদুর পরিয়ে সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করে। বিয়েতে কনেকে উপহার বা পণ দেয়ার প্রথা রয়েছে। বিবাহের আগে বর-কনেকে হলুদ ও সুগন্ধি তেল মাখানো হয়।
মুণ্ডা সমাজে সাধারণত একবিবাহ প্রচলিত হলেও কিছু ক্ষেত্রে একাধিক বিবাহের উদাহরণও দেখা যায়। বিধবা নারী বা বিবাহবিচ্ছিন্ন নারীর পুনর্বিবাহেরও সুযোগ রয়েছে।
মুণ্ডা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক হওয়ায় বিবাহের পর কনে সাধারণত বরের বাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
মাহাতো সম্প্রদায়ের বিবাহ রীতি : মাহাতো বা কুড়মি মাহাতো সম্প্রদায়ের বিবাহ রীতি প্রকৃতিনির্ভর ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তাদের সমাজে সমগোত্রে বিবাহ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
বিবাহের আগে বর ও কনের সঙ্গে আম বা মহুয়া গাছকে ঘিরে প্রতীকী আচার পালিত হয়। এই আচারকে বিবাহের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ধরা হয়।
বিয়ের ক্ষেত্রে কন্যাপণের প্রথা রয়েছে। অতীতে অভিভাবকের মাধ্যমেই অধিকাংশ বিবাহ নির্ধারিত হতো। বর্তমানে পারস্পরিক পছন্দের ভিত্তিতেও বিবাহ হচ্ছে।
বিবাহে সাধারণত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক আচার পালিত হয়। সামাজিক নেতা ও মাতুল বা মামা বিবাহ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বোড়ো জনগোষ্ঠীর বিবাহ রীতি : বোড়ো জনগোষ্ঠীর বিবাহ রীতি প্রকৃতিনির্ভর এবং ঐতিহ্যবাহী সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাদের সমাজে সাধারণত দুই ধরনের বিবাহ দেখা যায়- সরলভাবে ঘরোয়া বিবাহ এবং উৎসবমুখর আনুষ্ঠানিক বিবাহ।
বিবাহের আগে দুই পরিবারের আলোচনার মাধ্যমে বিয়ে ঠিক করা হয়। পরে বাগদানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের দিন কনেকে হলুদ মাখানো হয় এবং বর-কনেকে পৃথকভাবে স্নান করানো হয়।
এরপর সম্প্রদায়ের প্রবীণদের উপস্থিতিতে নিজস্ব রীতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বর কনের কপালে সিঁদুর বা চন্দনের তিলক পরিয়ে দেয়। বিয়ের পর ভোজ ও নাচ-গানের মাধ্যমে সামাজিক আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
[লেখক : উন্নয়নকর্মী]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
শাহ মো. জিয়াউদ্দিন
শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ বলতে সাধারণত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগকে বোঝানো হয়। এই দুই বিভাগে বসবাসকারী আদিবাসীদের সমতলের আদিবাসী বলা হয়। সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে বহু সম্প্রদায় রয়েছে। তাদের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রথায় নানা বৈচিত্র্য দেখা যায়। এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের বিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে ভিন্নতা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের প্রধান কয়েকটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সংক্ষেপে নিচে উল্লেখ করা হলো।
সাঁওতাল : উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় আদিবাসী জনগোষ্ঠী। মূলত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলায় তাদের বসবাস বেশি।
ওঁরাও : বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ জনগোষ্ঠী। তারা কুড়–খ ভাষায় কথা বলে।
মুণ্ডা : রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে এদের বসতি রয়েছে।
মাহাতো : প্রধানত রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলের অধিবাসী।
বোড়ো : উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বসবাস রয়েছে।
রাজবংশী : রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে এদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
কোচ : রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের সমতলভূমিতে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী।
পাহাড়িয়া ও মালপাহাড়িয়া : রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে এদের দেখা যায়।
কোল : উত্তরবঙ্গের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
এই জনগোষ্ঠীগুলো নিজস্ব সংস্কৃতি, সামাজিক ঐতিহ্য ও ভাষা বজায় রেখে বাঙালিদের পাশাপাশি বসবাস করলেও অনেক ক্ষেত্রে মূলধারার সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ও উপেক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তাদের জীবনপ্রণালিতে রয়েছে নানা স্বতন্ত্র প্রথা ও আচার। এই লেখায় তাদের বিবাহের কিছু প্রধান প্রথা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
সাঁওতালদের বিবাহ রীতি : সাঁওতালদের বিবাহকে বলা হয় বাপলা। এটি অত্যন্ত বর্ণিল ও ঐতিহ্যবাহী একটি সামাজিক আয়োজন। সাধারণত ঘটকের মাধ্যমে বিবাহ বেশি প্রচলিত হলেও প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতেও বিবাহ হয়ে থাকে। সমগোত্রে বিবাহ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
সাঁওতাল বিবাহে আইবুড়ো ভাত, গায়ে হলুদ, সিঁদুরদানসহ নানা আচার পালিত হয়। পুরো আয়োজন সাধারণত তিন দিন ধরে চলে। এই সময় নাচ-গান, ভোজ এবং সামাজিক মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হয়। সাঁওতাল বিবাহে সিঁদুরদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রীতি। শালপাতার তৈরি পাত্রে সিঁদুর রাখা হয় এবং স্থানীয় পানীয় ব্যবহার করে এই আচার সম্পন্ন করা হয়।
সাঁওতালদের বিবাহের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে- পারিবারিকভাবে নির্ধারিত বিবাহ এবং প্রেমের ভিত্তিতে পালিয়ে বিয়ে। বিবাহের প্রধান অনুষ্ঠান গ্রামের দেবতার স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পূজা ও সিঁদুরদান করা হয়। শালপাতার ব্যবহার এই অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
সাঁওতাল সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ ও পুনর্বিবাহের সামাজিক স্বীকৃতিও রয়েছে। বর্তমান সময়েও তারা নিজেদের প্রাচীন সংস্কৃতি অনেকাংশে ধরে রেখেছে।
ওঁরাওদের বিবাহ রীতি : ওঁরাও সমাজের বিবাহ মূলত লোকাচার ও দেশাচারভিত্তিক। তাদের সমাজে চুক্তিভিত্তিক বিবাহ বেশি প্রচলিত। বর-কনের সম্মতি, সিঁদুরদান, মণ্ডপ প্রদক্ষিণ এবং ঐতিহ্যবাহী পানীয় পরিবেশন এই বিবাহের প্রধান অংশ।
সমগোত্রে বিবাহ নিষিদ্ধ এবং বিধবা বিবাহেরও প্রচলন রয়েছে। ওঁরাও সমাজে সাধারণত দুই ধরনের বিবাহ দেখা যায়- পরিবারের মাধ্যমে নির্ধারিত বিবাহ এবং প্রেমের ভিত্তিতে বিবাহ।
বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত বাড়ির উঠানে তৈরি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী বর কনের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেয়। বিয়ের সময় নাচ-গান ও ভোজের আয়োজন থাকে। বিশেষ কারণে বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ওঁরাওরা সাধারণত নিজেদের কুড়–খ ভাষা ও সাংস্কৃতিক রীতি মেনে বিবাহ সম্পন্ন করে।
মুণ্ডাদের বিবাহ রীতি : মুণ্ডা সমাজে সমগোত্রে বিবাহ নিষিদ্ধ। সাধারণত বাগদানের মাধ্যমে বিবাহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাগদান চূড়ান্ত করা হয়।
বিয়ের সময় বর-কনে একে অন্যের কপালে সিঁদুর পরিয়ে সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করে। বিয়েতে কনেকে উপহার বা পণ দেয়ার প্রথা রয়েছে। বিবাহের আগে বর-কনেকে হলুদ ও সুগন্ধি তেল মাখানো হয়।
মুণ্ডা সমাজে সাধারণত একবিবাহ প্রচলিত হলেও কিছু ক্ষেত্রে একাধিক বিবাহের উদাহরণও দেখা যায়। বিধবা নারী বা বিবাহবিচ্ছিন্ন নারীর পুনর্বিবাহেরও সুযোগ রয়েছে।
মুণ্ডা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক হওয়ায় বিবাহের পর কনে সাধারণত বরের বাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
মাহাতো সম্প্রদায়ের বিবাহ রীতি : মাহাতো বা কুড়মি মাহাতো সম্প্রদায়ের বিবাহ রীতি প্রকৃতিনির্ভর ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তাদের সমাজে সমগোত্রে বিবাহ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
বিবাহের আগে বর ও কনের সঙ্গে আম বা মহুয়া গাছকে ঘিরে প্রতীকী আচার পালিত হয়। এই আচারকে বিবাহের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ধরা হয়।
বিয়ের ক্ষেত্রে কন্যাপণের প্রথা রয়েছে। অতীতে অভিভাবকের মাধ্যমেই অধিকাংশ বিবাহ নির্ধারিত হতো। বর্তমানে পারস্পরিক পছন্দের ভিত্তিতেও বিবাহ হচ্ছে।
বিবাহে সাধারণত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক আচার পালিত হয়। সামাজিক নেতা ও মাতুল বা মামা বিবাহ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বোড়ো জনগোষ্ঠীর বিবাহ রীতি : বোড়ো জনগোষ্ঠীর বিবাহ রীতি প্রকৃতিনির্ভর এবং ঐতিহ্যবাহী সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাদের সমাজে সাধারণত দুই ধরনের বিবাহ দেখা যায়- সরলভাবে ঘরোয়া বিবাহ এবং উৎসবমুখর আনুষ্ঠানিক বিবাহ।
বিবাহের আগে দুই পরিবারের আলোচনার মাধ্যমে বিয়ে ঠিক করা হয়। পরে বাগদানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের দিন কনেকে হলুদ মাখানো হয় এবং বর-কনেকে পৃথকভাবে স্নান করানো হয়।
এরপর সম্প্রদায়ের প্রবীণদের উপস্থিতিতে নিজস্ব রীতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বর কনের কপালে সিঁদুর বা চন্দনের তিলক পরিয়ে দেয়। বিয়ের পর ভোজ ও নাচ-গানের মাধ্যমে সামাজিক আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
[লেখক : উন্নয়নকর্মী]