সমীর কুমার সাহা
বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে নারীর অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সূচকে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও এই অর্জনের আড়ালে কিছু গভীর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
শিক্ষা ও সচেতনতা: পরিবর্তনের ভিত্তি
বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় মেয়েদের ভর্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে শুধু ভর্তি বাড়লেই চলবে না; শিক্ষার মান, কর্মবাজারের সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের মেয়েদের ডিজিটাল দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে না পারলে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির যুগে তারা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। এছাড়া সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত সামাজিক ধারণা নারীর চলাফেরা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজনেতাদের সম্মিলিত উদ্যোগে এমন ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে নারীকে সমান অংশীদার হিসেবে দেখা হবে।
জনস্বাস্থ্য: অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা
জনস্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, টিকাদান কর্মসূচি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিস্তৃতি আন্তর্জাতিকভাবে
প্রশংসিত। তবে এখনও অনেক ক্ষেত্রে সেবার মান সমান নয়- বিশেষত জরুরি প্রসূতি সেবা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায়। নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকারদের সহায়তার ক্ষেত্রেও শক্তিশালী ব্যবস্থা প্রয়োজন। সামাজিক লজ্জা ও ভয় অনেক সময় নারীদের ন্যায়বিচার ও চিকিৎসা থেকে দূরে রাখে। তাই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও নারী-সংবেদনশীল করতে হবে। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা: জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকার সংকট আইনি সুরক্ষা থাকা ও নারীর প্রতি সহিংসতা এখনও একটি বড় সামাজিক বাস্তবতা।
পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, মানবপাচার ও কর্মক্ষেত্রে হয়রানি অনেক নারীর জীবনকে অনিরাপদ করে তুলছে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; বরং একটি জনস্বাস্থ্য সংকট। এ জন্য আইনের কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি পুলিশ, বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সংবেদনশীল করতে হবে। নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, হেল্পলাইন, আইনি সহায়তা ও মনোসামাজিক সেবা সবার জন্য সহজলভ্য করা জরুরি। অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ: মর্যাদা ও স্বাধীনতার পথ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অবদান ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ কওে তৈরি পোশাক শিল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে নারীর অংশগ্রহণ জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।
তবে অনেক নারী এখনও কম মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষাহীনতায় কাজ করেন। সমান কাজের জন্য সমান মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ আর্থিক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। ডিজিটাল অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপ খাতে নারীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনলাইন হয়রানি, তথ্য অপব্যবহার ও সাইবার ঝুঁকি নারীদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন- বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের জন্য। জলবায়ু পরিবর্তন ও নারী ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরিবারে খাদ্য, পানি ও সেবাযতেœর দায়িত্ব বহন করলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা অনেক সময় সীমিত থাকে। জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে সম্প্রদায়ের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অপরিহার্যতা নারীর ক্ষমতায়ন কেবল সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়; এটি টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। যখন নারীরা সুস্থ, শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় হন, তখন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তব পদক্ষেপ
আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল প্রতীকী উদযাপনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি হতে হবে বাস্তব পরিবর্তনের পথনির্দেশক। আইন প্রয়োগ জোরদার করা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু নীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নারীর কণ্ঠকে শক্তিশালী করা,
বৈষম্যমূলক মানসিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।
সত্যিকার অগ্রগতি তখনই সম্ভব হবে, যখন প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশব পাবে, প্রতিটি তরুণী সমান সুযোগ পাবে এবং প্রতিটি নারী মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের পথেও এই হতে হবে আমাদের অঙ্গীকার।
[লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
সমীর কুমার সাহা
সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে নারীর অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সূচকে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও এই অর্জনের আড়ালে কিছু গভীর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
শিক্ষা ও সচেতনতা: পরিবর্তনের ভিত্তি
বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় মেয়েদের ভর্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে শুধু ভর্তি বাড়লেই চলবে না; শিক্ষার মান, কর্মবাজারের সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের মেয়েদের ডিজিটাল দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে না পারলে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির যুগে তারা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। এছাড়া সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত সামাজিক ধারণা নারীর চলাফেরা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজনেতাদের সম্মিলিত উদ্যোগে এমন ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে নারীকে সমান অংশীদার হিসেবে দেখা হবে।
জনস্বাস্থ্য: অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা
জনস্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, টিকাদান কর্মসূচি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিস্তৃতি আন্তর্জাতিকভাবে
প্রশংসিত। তবে এখনও অনেক ক্ষেত্রে সেবার মান সমান নয়- বিশেষত জরুরি প্রসূতি সেবা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায়। নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকারদের সহায়তার ক্ষেত্রেও শক্তিশালী ব্যবস্থা প্রয়োজন। সামাজিক লজ্জা ও ভয় অনেক সময় নারীদের ন্যায়বিচার ও চিকিৎসা থেকে দূরে রাখে। তাই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও নারী-সংবেদনশীল করতে হবে। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা: জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকার সংকট আইনি সুরক্ষা থাকা ও নারীর প্রতি সহিংসতা এখনও একটি বড় সামাজিক বাস্তবতা।
পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, মানবপাচার ও কর্মক্ষেত্রে হয়রানি অনেক নারীর জীবনকে অনিরাপদ করে তুলছে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; বরং একটি জনস্বাস্থ্য সংকট। এ জন্য আইনের কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি পুলিশ, বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সংবেদনশীল করতে হবে। নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, হেল্পলাইন, আইনি সহায়তা ও মনোসামাজিক সেবা সবার জন্য সহজলভ্য করা জরুরি। অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ: মর্যাদা ও স্বাধীনতার পথ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অবদান ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ কওে তৈরি পোশাক শিল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে নারীর অংশগ্রহণ জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।
তবে অনেক নারী এখনও কম মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষাহীনতায় কাজ করেন। সমান কাজের জন্য সমান মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ আর্থিক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। ডিজিটাল অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপ খাতে নারীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনলাইন হয়রানি, তথ্য অপব্যবহার ও সাইবার ঝুঁকি নারীদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন- বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের জন্য। জলবায়ু পরিবর্তন ও নারী ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরিবারে খাদ্য, পানি ও সেবাযতেœর দায়িত্ব বহন করলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা অনেক সময় সীমিত থাকে। জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে সম্প্রদায়ের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অপরিহার্যতা নারীর ক্ষমতায়ন কেবল সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়; এটি টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। যখন নারীরা সুস্থ, শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় হন, তখন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তব পদক্ষেপ
আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল প্রতীকী উদযাপনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি হতে হবে বাস্তব পরিবর্তনের পথনির্দেশক। আইন প্রয়োগ জোরদার করা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু নীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নারীর কণ্ঠকে শক্তিশালী করা,
বৈষম্যমূলক মানসিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।
সত্যিকার অগ্রগতি তখনই সম্ভব হবে, যখন প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশব পাবে, প্রতিটি তরুণী সমান সুযোগ পাবে এবং প্রতিটি নারী মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের পথেও এই হতে হবে আমাদের অঙ্গীকার।
[লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন]