আল শাহারিয়া
খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্য সুরক্ষা দুটি ভিন্ন অথচ গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত ধারণা। খাদ্য নিরাপত্তা মানে হলো প্রতিটি মানুষের জন্য সারাবছর পর্যাপ্ত, সহজলভ্য এবং সামর্থ্যরে মধ্যে খাবারের ব্যবস্থা থাকা। অন্যদিকে খাদ্য সুরক্ষা বলতে বোঝায় সেই খাবারটি সঠিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভারী ধাতু বা রোগজীবাণুমুক্ত হওয়া। গত কয়েক দশকে আমাদের জাতীয় নীতিগুলো মূলত উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাতের ব্যবহার এবং নিবিড় চাষাবাদের ফলে উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু এই বাড়তি উৎপাদনের প্রবল চাপ সামলাতে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে খাদ্যের পরিমাণ বাড়লেও এর গুণগত মান এবং নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমরা ক্ষুধা নিবারণ করেছি বটে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিতে পারিনি।
মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে এই সংকটের গভীরতা খুব সহজেই উপলব্ধি করা যায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, অনিরাপদ খাদ্যের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে অসংখ্য মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয় এবং এর একটি বড় অংশ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাসিন্দা। বাজারে থাকা নিত্যদিনের শাক-সবজি, ফলমূল থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি এখন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফসলকে পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে এবং দ্রুত ফলন পেতে কৃষকরা অনেক সময় অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এমনকি ফসল তোলার ঠিক কয়েকদিন বা কয়েক ঘণ্টা আগেও জমিতে বিষাক্ত রাসায়নিক স্প্রে করা হচ্ছে। এই কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে জলাশয়ে পড়ছে এবং ফসলের কোষের ভেতরেও স্থায়ীভাবে প্রবেশ করছে। রান্নার পরও এই বিষাক্ত উপাদানগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয় না। ফলে প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে এই বিষ সরাসরি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে মানবদেহকে তিলে তিলে ধ্বংস করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান এই খাদ্য সুরক্ষার সংকটকে বহুগুণে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোয় এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা আগ্রাসনের কারণে উপকূলীয় কৃষকরা প্রতিনিয়ত ফসলহানির প্রবল ঝুঁকিতে থাকেন। মাটিতে লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ফলন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এই অপরিমেয় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং বৈরী পরিবেশে ফলন বাড়াতে কৃষকরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক সার ও শক্তিশালী কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন উপকূলের মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা চিরতরে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকে না। স্যাঁতস্যাঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য গুদামজাত করার ফলে চালে বা শস্যে আফলাটক্সিনের মতো অতি বিষাক্ত ছত্রাক জন্মায়। দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রাণের খাবারে বা সংরক্ষিত খাবারে এ ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট ঝুঁকি তৈরি করে।
অনিরাপদ ও ভেজাল খাদ্যের কারণে দেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর যে বিশাল অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ পড়ছে, তা মোটেও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। আজ ঘরে ঘরে কিডনি বিকল, লিভার সিরোসিস, পাকস্থলীর ক্যানসার, হৃদরোগ থেকে শুরু করে শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টির মতো জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দীর্ঘমেয়াদে রাসায়নিকযুক্ত ও ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করা। দেশের হাসপাতালগুলোতে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের যে দীর্ঘ সারি আমরা প্রতিদিন দেখি, তার একটি বড় কারণ এই ত্রুটিপূর্ণ খাদ্য ব্যবস্থা। চিকিৎসার পেছনে সাধারণ মানুষের যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা বহু পরিবারকে রাতারাতি পথে বসাচ্ছে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেই ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আমরা কৃষিতে যে বিপুল ভর্তুকি দিচ্ছি এবং উৎপাদন বাড়িয়ে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছি, জনস্বাস্থ্যের অবনতির কারণে চিকিৎসা খাতে তার চেয়েও অনেক বেশি অর্থ নীরবে বেরিয়ে যাচ্ছে।
খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি কেবল আমাদের অভ্যন্তরীণ জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেই জড়িত নয়। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একটি অত্যন্ত বড় নিয়ামক। বাংলাদেশ এখন কৃষিপণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উন্নত দেশগুলোয় রপ্তানি করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হলে এবং টিকে থাকতে হলে গ্লোবাল গ্যাপ বা অন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। সামান্যতম রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ বা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেলে পুরো চালান বাতিল হয়ে যায়। এটি দেশের ভাবমূর্তির জন্য চরম ক্ষতিকর এবং অর্থনৈতিকভাবেও বড় একটি ধাক্কা। তাই রপ্তানি আয় বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান মজবুত করতে হলে উৎপাদন পর্যায় থেকেই খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
[লেখক: শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়]
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
আল শাহারিয়া
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্য সুরক্ষা দুটি ভিন্ন অথচ গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত ধারণা। খাদ্য নিরাপত্তা মানে হলো প্রতিটি মানুষের জন্য সারাবছর পর্যাপ্ত, সহজলভ্য এবং সামর্থ্যরে মধ্যে খাবারের ব্যবস্থা থাকা। অন্যদিকে খাদ্য সুরক্ষা বলতে বোঝায় সেই খাবারটি সঠিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভারী ধাতু বা রোগজীবাণুমুক্ত হওয়া। গত কয়েক দশকে আমাদের জাতীয় নীতিগুলো মূলত উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাতের ব্যবহার এবং নিবিড় চাষাবাদের ফলে উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু এই বাড়তি উৎপাদনের প্রবল চাপ সামলাতে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে খাদ্যের পরিমাণ বাড়লেও এর গুণগত মান এবং নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমরা ক্ষুধা নিবারণ করেছি বটে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিতে পারিনি।
মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে এই সংকটের গভীরতা খুব সহজেই উপলব্ধি করা যায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, অনিরাপদ খাদ্যের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে অসংখ্য মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয় এবং এর একটি বড় অংশ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাসিন্দা। বাজারে থাকা নিত্যদিনের শাক-সবজি, ফলমূল থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি এখন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফসলকে পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে এবং দ্রুত ফলন পেতে কৃষকরা অনেক সময় অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এমনকি ফসল তোলার ঠিক কয়েকদিন বা কয়েক ঘণ্টা আগেও জমিতে বিষাক্ত রাসায়নিক স্প্রে করা হচ্ছে। এই কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে জলাশয়ে পড়ছে এবং ফসলের কোষের ভেতরেও স্থায়ীভাবে প্রবেশ করছে। রান্নার পরও এই বিষাক্ত উপাদানগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয় না। ফলে প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে এই বিষ সরাসরি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে মানবদেহকে তিলে তিলে ধ্বংস করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান এই খাদ্য সুরক্ষার সংকটকে বহুগুণে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোয় এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা আগ্রাসনের কারণে উপকূলীয় কৃষকরা প্রতিনিয়ত ফসলহানির প্রবল ঝুঁকিতে থাকেন। মাটিতে লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ফলন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এই অপরিমেয় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং বৈরী পরিবেশে ফলন বাড়াতে কৃষকরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক সার ও শক্তিশালী কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন উপকূলের মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা চিরতরে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকে না। স্যাঁতস্যাঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য গুদামজাত করার ফলে চালে বা শস্যে আফলাটক্সিনের মতো অতি বিষাক্ত ছত্রাক জন্মায়। দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রাণের খাবারে বা সংরক্ষিত খাবারে এ ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট ঝুঁকি তৈরি করে।
অনিরাপদ ও ভেজাল খাদ্যের কারণে দেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর যে বিশাল অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ পড়ছে, তা মোটেও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। আজ ঘরে ঘরে কিডনি বিকল, লিভার সিরোসিস, পাকস্থলীর ক্যানসার, হৃদরোগ থেকে শুরু করে শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টির মতো জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দীর্ঘমেয়াদে রাসায়নিকযুক্ত ও ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করা। দেশের হাসপাতালগুলোতে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের যে দীর্ঘ সারি আমরা প্রতিদিন দেখি, তার একটি বড় কারণ এই ত্রুটিপূর্ণ খাদ্য ব্যবস্থা। চিকিৎসার পেছনে সাধারণ মানুষের যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা বহু পরিবারকে রাতারাতি পথে বসাচ্ছে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেই ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আমরা কৃষিতে যে বিপুল ভর্তুকি দিচ্ছি এবং উৎপাদন বাড়িয়ে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছি, জনস্বাস্থ্যের অবনতির কারণে চিকিৎসা খাতে তার চেয়েও অনেক বেশি অর্থ নীরবে বেরিয়ে যাচ্ছে।
খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি কেবল আমাদের অভ্যন্তরীণ জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেই জড়িত নয়। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একটি অত্যন্ত বড় নিয়ামক। বাংলাদেশ এখন কৃষিপণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উন্নত দেশগুলোয় রপ্তানি করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হলে এবং টিকে থাকতে হলে গ্লোবাল গ্যাপ বা অন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। সামান্যতম রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ বা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেলে পুরো চালান বাতিল হয়ে যায়। এটি দেশের ভাবমূর্তির জন্য চরম ক্ষতিকর এবং অর্থনৈতিকভাবেও বড় একটি ধাক্কা। তাই রপ্তানি আয় বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান মজবুত করতে হলে উৎপাদন পর্যায় থেকেই খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
[লেখক: শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়]