alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি

ফরিদুল আলম

: বুধবার, ২৮ এপ্রিল ২০২১

ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই রাতে উপকূলে আঘাত হেনেছিল মহা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। স্বজন হারানোর স্মৃতি নিয়ে প্রতি বছরই এই রাত ফিরে আসে উপকূলবাসীর কাছে। বছর ঘুরে দিনটি ফিরে এলে এখনও স্বজনরা হারানোর বেদনায় কাতর হয়ে উঠে। কিন্তু আজও পুরোপুরি অরক্ষিত উপকূলীয় এলাকার লোকজন। এখনও ঝড় জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে তাদের চালিয়ে যেতে হয় অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। ওই কাল রাতের পরে লাশের পর লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিক। বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।

মহা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে বিলিন হয়ে গিয়েছিল চট্টগ্রাম কক্সবাজারসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। পরদিন বিশ্ববাসী অবাক হয়ে গিয়েছিল এই ধ্বংসলীলা দেখে। কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব বিবেক। সহায় সম্বল ও স্বজনহারা উপকূলের কিছু মানুষ পেয়েছিল নবজন্ম। আজ এত বছর পর কেমন আছেন তারা? এত বছর পর দুর্যোগ মোকাবিলার কি অবস্থা এখন উপকূলের?

দেশের অন্যতম সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রামের বন্দর নগরীর পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম জেলায় বাঁশখালী, আনোয়ারা, সীতাকুন্ড, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালীসহ উপকূলীয় এলাকার লোকজন এখনও রয়েছে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্কে। সেই ভয়াল রাতে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের এসব এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও এখনও পর্যন্ত নির্মিত হয়নি স্থায়ী বেড়িবাঁধ।

অতীতে লক্ষ্য করা গেছে, বাঁধ নির্মাণ ঘোর বর্ষাকালে জোয়ারের পানি ঠেকানোর নামে রিংবাঁধ, মেরামত, সংস্কার ইত্যাদি নানা নামে প্রতি বছরই নেয়া হয় বিভিন্ন প্রকল্প। কিন্তু এসব প্রকল্পে ঘটে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের নয়-ছয় এর ঘটনা। বর্ষা আসলে ভেঙে যায় বাঁধ। আবারও নতুন নতুন প্রকল্পের নামে নতুন বরাদ্দ। এভাবে বছরের পর বছর উপকূলীয় বাঁধের সংস্কারের নামে চলে আসছে সরকারি অর্থের অপচয়।

একটি টেকসই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি থাকলেও আজও পূরণ হয়নি। তবে কিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ নতুনভাবে সংস্কার হওয়াতে পানি উঠেনি। যেখানে এখনও বিধ্বস্থ বাঁধ রয়েছে সে এলাকার উপকূলের মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত শুনলেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে হয় উপকূলের নিরীহ লোকজনদের।

ছবি

মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষায় সমতা নিশ্চিতের আহ্বান

কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খলে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন

ছবি

নির্বাচনে জোট, নাকি সরকারে

রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার

মানুষ কি বদলেছে, নাকি শুধু রং বদলিয়েছে?

সময় জীবনে চলার পথ দেখিয়ে দেয়

কালো ও সবুজ চা : জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব

বাঙালিরা ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়

অন্তর্বর্তী সরকার জাতিকে কী দিল

ভালোবাসা, সচেতনতা ও জনস্বাস্থ্য বাস্তবতা

ভালোবাসার দিনে সুন্দরবন: উদযাপনের আড়ালে অস্তিত্বের সংকট

ছবি

তিরাশির সেই দিন

অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নতুন সরকারকে

সবুজ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: সম্ভাবনা, সংকট ও করণীয়

গণতন্ত্র: একটি দার্শনিক জিজ্ঞাসা

‘ভোট দিছি ভাই, ছিল দিছি...’

নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান

ক্ষমতার অক্টোপাস: রাষ্ট্র দখল ও আমজনতার নাভিশ্বাস

কার হাতে উঠবে শাসনের রাজদণ্ড

নির্বাচন ও সাধারণ ভোটারের ‘অসাধারণ’ সামাজিক চাপ

মানুষের মাঝেই স্বর্গ-নরক

মহাকাশের ভূত ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি

নির্বাচনী হাওয়ার ভেতরে করুণ মৃত্যুর সংবাদ

দেশকে বধিবে যে গোকুলে বেড়েছে সে!

দক্ষিণপন্থার রাজনীতি: অগ্রগতি নাকি অবনমন?

সামাজিক সাম্য ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার পুনর্নির্ধারণ

ছবি

নির্বাচনের স্বপ্ন ও স্বপ্নের নির্বাচন

সরিষার চাষে সমৃদ্ধি ও ভোজ্যতেলের নিরাপত্তা

জমি কেনার আইনি অধিকার ও বাস্তবতা

‘ঐতিহাসিক’ নির্বাচনে জামায়াত

‘মাউশি’ বিভাজন : শিক্ষা প্রশাসন সংস্কার, না অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি?

নির্বাচনের ফুলের বাগানে আদিবাসী ফুল কোথায়!

ডিজিটাল থেকে এআই বাংলাদেশ: অন্তর্ভুক্তির নতুন চ্যালেঞ্জ ও বৈষম্যের ঝুঁকি

ক্যানসার সেবা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

বহুমুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার

রহমান ভার্সেস রহমান

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি

ফরিদুল আলম

বুধবার, ২৮ এপ্রিল ২০২১

ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই রাতে উপকূলে আঘাত হেনেছিল মহা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। স্বজন হারানোর স্মৃতি নিয়ে প্রতি বছরই এই রাত ফিরে আসে উপকূলবাসীর কাছে। বছর ঘুরে দিনটি ফিরে এলে এখনও স্বজনরা হারানোর বেদনায় কাতর হয়ে উঠে। কিন্তু আজও পুরোপুরি অরক্ষিত উপকূলীয় এলাকার লোকজন। এখনও ঝড় জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে তাদের চালিয়ে যেতে হয় অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। ওই কাল রাতের পরে লাশের পর লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিক। বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।

মহা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে বিলিন হয়ে গিয়েছিল চট্টগ্রাম কক্সবাজারসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। পরদিন বিশ্ববাসী অবাক হয়ে গিয়েছিল এই ধ্বংসলীলা দেখে। কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব বিবেক। সহায় সম্বল ও স্বজনহারা উপকূলের কিছু মানুষ পেয়েছিল নবজন্ম। আজ এত বছর পর কেমন আছেন তারা? এত বছর পর দুর্যোগ মোকাবিলার কি অবস্থা এখন উপকূলের?

দেশের অন্যতম সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রামের বন্দর নগরীর পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম জেলায় বাঁশখালী, আনোয়ারা, সীতাকুন্ড, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালীসহ উপকূলীয় এলাকার লোকজন এখনও রয়েছে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্কে। সেই ভয়াল রাতে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের এসব এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও এখনও পর্যন্ত নির্মিত হয়নি স্থায়ী বেড়িবাঁধ।

অতীতে লক্ষ্য করা গেছে, বাঁধ নির্মাণ ঘোর বর্ষাকালে জোয়ারের পানি ঠেকানোর নামে রিংবাঁধ, মেরামত, সংস্কার ইত্যাদি নানা নামে প্রতি বছরই নেয়া হয় বিভিন্ন প্রকল্প। কিন্তু এসব প্রকল্পে ঘটে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের নয়-ছয় এর ঘটনা। বর্ষা আসলে ভেঙে যায় বাঁধ। আবারও নতুন নতুন প্রকল্পের নামে নতুন বরাদ্দ। এভাবে বছরের পর বছর উপকূলীয় বাঁধের সংস্কারের নামে চলে আসছে সরকারি অর্থের অপচয়।

একটি টেকসই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি থাকলেও আজও পূরণ হয়নি। তবে কিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ নতুনভাবে সংস্কার হওয়াতে পানি উঠেনি। যেখানে এখনও বিধ্বস্থ বাঁধ রয়েছে সে এলাকার উপকূলের মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত শুনলেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে হয় উপকূলের নিরীহ লোকজনদের।

back to top