alt

উপ-সম্পাদকীয়

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা : নাগরিকদের দুর্গতি ও দুর্ভোগ

ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ

: শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২

দেশে যতগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে, তার মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এলজিইডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, পাউবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ। দুর্নীতির উৎস সন্ধানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে দুদক। টেন্ডারে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডারের তথ্য ফাঁস, দর-কষাকষির নামে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ, বারবার নির্মাণকাজের নকশা পরিবর্তন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বুঝে না নেয়া, কোন কোন ক্ষেত্রে মেরামত বা সংস্কার কাজের নামে ভুয়া বিলভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির বেনামে অথবা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ এবং ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকে দুর্নীতির উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক। দুদক বলছে, এই সংস্থায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় টেন্ডারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় না।

অধিদপ্তরে বড় পরিসরের কাজ ছাড়াও মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। এ বরাদ্দের বিপরীতে কাজগুলো ছোট ছোট লটে ভাগ করা হয়। এসব কাজ পছন্দের ঠিকাদারদের দেয়ার জন্য ই-জিপিতে না গিয়ে গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ দেয়া হয়। পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তার আত্মীয়স্বজন বা তাদের নামে-বেনামেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থাকার তথ্য পেয়েছে দুদক। গণপূর্তে দুর্নীতির ১০টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে তারা। একই সঙ্গে এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর ২০টি সুপারিশ তুলে ধরে সংস্থাটি।

কৃষিতে বিপ্লব, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও গার্মেন্ট রপ্তানির হাত ধরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিবেচিত। অথচ সর্বব্যাপী দুর্নীতি-লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি দেশ থেকে বছরে প্রায় লক্ষকোটি টাকা পাচার হয়ে যাওয়ার কারণে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেসঙ্গে দেশে আয় বৈষম্যও বেড়ে চলেছে।

একেকটি সড়ক-মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার ও বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় সময়মতো বাস্তবায়ন না হওয়ায় যেমন দেশের মানুষ বছরের পর বছর ধরে বহুবিধ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, তেমনি প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক সময়ক্ষেপণ, বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যয়বৃদ্ধির ফলে জনগণের ট্যাক্সের টাকার বিপুল অপচয় ও লুটপাট হচ্ছে। নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ফেলে রাখার কারণে এমনিতেই অবকাঠামো কাক্সিক্ষত মান বা স্থায়িত্ব অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। তার ওপর নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, অনুন্নত প্রযুক্তি, ত্রুটিপূর্ণ নকশায় অবকাঠামো নির্মিত হলে তার কাক্সিক্ষত মান বা স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করা অসম্ভব। সড়ক ও সেতু বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিকার ও প্রতিবিধানে সরকারের বিদ্যমান মেকানিজমে পরিবর্তন ও ওভারহোলিং আবশ্যক।

কয়েক যুগ ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে অস্বস্তিকর এবং বিশৃঙ্খল অবস্থায় বিরাজমান। জনগণের মাঝেও ভয়-ভীতি, ক্ষোভ, চিকিৎসক এবং চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার কমতি নেই। ২০২০ সালের মার্চ থেকে করোনায় একদিকে যেমন চলেছে ধ্বংসের তান্ডবলীলা, অন্যদিকে উন্মোচিত হয়েছে স্বাস্থ্য খাতের বেহাল অবস্থা। দিনের শুরুতে সংবাদপত্রের পাতা খুললেই দেখা যায়-স্বাস্থ্য-সুরক্ষাসামগ্রীর সংকট, হাসপাতালে হাই-ফ্লো অক্সিজেন এবং আইসিইউর অভাব, পর্যাপ্ত বেড নেই, বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে ভর্তি হতে না পেরে রাস্তাতেই করোনা রোগীর মৃত্যু, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে জনসমাগম, স্বাস্থ্য খাতে ও ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্নীতি ইত্যাদি। বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা খরচ আকাশচুম্বী, সেখানে চিকিৎসা নেয়া অনেকেরই সামর্থ্যরে বাইরে। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ছড়াছড়ি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মানহীনতা, মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্টের ব্যবহার, প্রায়ই অনেক ল্যাবরেটরির বিরুদ্ধে ভুল রিপোর্টের অভিযোগ, অদক্ষ টেকনিশিয়ান আর ভুয়া ডাক্তারের আধিক্য, এমনকি দালালদের দৌরাত্ম্যে রোগীরা দিশাহারা। এ ছাড়া প্রায়ই রোগী বা তার আত্মীয়-স্বজন চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুলজনিত কারণে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে রোগীর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গোলযোগ, হাতাহাতি, এমনকি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তাসহ অনেকের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে দেখা যায়। অধিকাংশ ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দৈন্য অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। সব মিলিয়ে সারা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হতাশাজনক চিত্রটাই ফুটে ওঠে সর্বত্র। চিকিৎসকের প্রতি রোগীরা অসন্তুষ্ট ও আস্থা রাখতে পারছেন না। সামর্থ্যবান রোগীরা চলে যাচ্ছেন বিদেশে। বর্ণিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবিধানে সরকারকে কঠোর হতে হবে। দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থেকে তার প্রতিবিধানে আমলাতান্ত্রিক গতিকে সহজতর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় আড়াই কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। নিম্নাঞ্চল হওয়ায় দুর্যোগ-দুর্বিপাক প্রতি বছরই আঘাত হানে হাওরে। ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ঠেকাতে ৭ জেলার এই হাওরে অসংখ্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর এসব বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও ভেঙে যাওয়া বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের বরাদ্দের অর্থ তুলে নেয়া হলেও বাঁধ সংস্কার হয় না। ফলে এবার অসময়ে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে সুনামগঞ্চ, নেত্রকোনাও কিশোরগঞ্জের হাওরের হাজার হাজার একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। সঠিক তদারকির অভাবে কাজে অনিয়ম ও গাফিলতি হয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জড়িত বলে দাবি করেন প্রতিবাদকারীরা। অপরিকল্পিত ও যেখানে সেখানে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের ফলে উল্টো হাওরের প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। হাওরের ব্যাপক ফসলহানির পুনরাবৃত্তি যে কোন উপায়ে ঠেকাতে হবে। সেজন্য বাঁধ নির্মাণ-মেরামতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দুর্নীতি-অনিয়ম-অবহেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাউবোর দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী-কর্মকর্তাদের বদলি বা বরখাস্ত যথেষ্ট নয়; তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা উচিত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত, যেন ভবিষ্যতে কেউ বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি-অনিয়ম করার সাহস না পায়।

ঢাকা শহরে বাসাবাড়িতে যে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, তাতে ৪০ শতাংশ গ্যাস চুরি হচ্ছে, অপচয় তো আছেই। এ চুরি ও অপচয় বন্ধ করতে প্রিপেইড মিটার চালু করা হলো। এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িতে সেই মিটার বসানো হয়নি। সেই মিটার দেয় বিতরণ কোম্পানি। তারা ভোক্তাদের ১০ ডলার মূল্যের নিম্নমানের মিটার সরবরাহ করে দাম নেয় ২৫ ডলার। বিপরীতে বিলের সঙ্গে মাসে ভাড়া নেয় ১০০ টাকা। আইনানুযায়ী জ্বালানি খাতের আপস্ট্রিম রেগুলেটর বিধায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা লাইসেন্সিদের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান বা পরিচালক কোন পদই গ্রহণ করতে পারেন না। অর্থাৎ তারা লাইসেন্সি বা লাইসেন্সির প্রতিনিধি হতে পারেন না। অথচ তারা লাইসেন্সিদের পরিচালনা বোর্ডে কেউ চেয়ারম্যান ও কেউ পরিচালক, অর্থাৎ লাইসেন্সি প্রশাসন পরিচালনায় শীর্ষ ব্যক্তিরা। ফলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ স্বার্থের সংঘাতে যুক্ত এবং লাইসেন্সিদের আপস্ট্রিম রেগুলেটর হিসেবে অকার্যকর। ভোক্তাস্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণে তাদের ভূমিকা সাংঘর্ষিক। সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ব্যতিরেকে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

সর্বব্যাপী দুর্নীতি-লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি দেশ থেকে বছরে প্রায় লক্ষ-কোটি টাকা পাচার হয়ে যাওয়ার কারণে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সে সঙ্গে দেশে আয় বৈষম্যও বেড়ে চলেছে

ভুক্তভোগীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, সকালে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। এর একটি বড় কারণ যে, কালোবাজারিদের হাতে টিকিট চলে যাওয়া, সেটা এখন স্পষ্ট। দেখা গেছে, টিকিট কালোবাজারি চক্রের সঙ্গে রেলের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশের কারণেই সাধারণ মানুষের টিকিট পেতে সমস্যা হয়। টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত অসৎ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের প্রত্যেককে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করি আমরা। তাই এই কালোবাজারি চক্রের মূলোৎপাটনের বিকল্প নেই। যে কোনো পরিবহন মাধ্যমের নির্বিঘ্নে টিকিটপ্রাপ্তি জনগণের নাগরিক অধিকার। যারা এ ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের দমন করা সরকারের দায়িত্ব। যে প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে টিকিট বিক্রির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানকেও সততা ও দক্ষতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দিতে হবে। সম্প্রতি অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি সহজ ডট কম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিদপ্তর জরিমানা করেছে। রেলে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা দূর করা না হলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ যে ক্রমেই বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে ৬ দফা দাবিতে গণস্বাক্ষর ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মহিউদ্দিন রনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন-যেটা দেশের আপামর জনসাধারণ সমর্থন করেছেন।

সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরসমূহের অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হতে চলেছে। এ অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিবিধানে সরকারকে কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আমাদের জন্য বাস্তবিকই একটা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আমরা জানি যে, সব অনিয়ম, অব্যবস্থাপনায় হচ্ছে দুর্নীতির মূল উৎস। তাই কোনভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে আপোস নয়। বরং নিয়মতান্ত্রিকতা প্রতিষ্ঠায় সরকারকে কঠোর ও কঠিন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে-এটাই দেশবাসী প্রত্যাশা করে। দুর্নীতিগ্রস্ত বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরসমূহের কার্যক্রমকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সেবামুখীও গতিশীল করতে হবে।

[লেখক : সাবেক উপ-মহাপরিচালক,

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি]

যুবসমাজ : সমস্যা ও সম্ভাবনা

বিচারকের সঙ্গে পুলিশের অসদাচরণ এবং জাস্টিস অব দ্য পিস

ছবি

বাংলা সিনেমার সুদিন কি ফিরছে

সামাজিক সংঘের ভূমিকা

সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ

আলোর ভেতর যত কালো

বাড়াতে হবে খাদ্য উৎপাদন

সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা ও যুদ্ধবিরোধিতার গুরুত্ব

পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি : কৃষিপণ্যে প্রভাব

সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় ইসি কতটা সক্ষম

ছবি

সোশ্যাল মিডিয়া কি একাকিত্ব ও অহংবোধ বাড়িয়ে দিচ্ছে?

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা : স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

আদিবাসী বিতর্ক

অনগ্রসর আদিবাসী জাতি

সাক্ষরতা ও শিক্ষা

সম্প্রীতির বাঁধন কি আলগা হয়ে আসছে?

অর্থনৈতিক সংকট : মুক্তি কোন পথে

গাড়িতে চাই শিশু আসন

ডলার সংকটের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও উত্তরণের উপায়

ছবি

পরিবহন খাতে জ্বালানির ব্যবহার

বিশ্ব মন্দায় বাংলাদেশের শক্তি

দাগ তো চেহারার, আয়না মুছে কি হবে

টেকসই উন্নয়নে সাশ্রয়ী দৃষ্টিভঙ্গি

ছবি

ডলার সংকটের শেষ কোথায়?

পাবলিক পরীক্ষায় অপরাধ

মানব পাচারে প্রযুক্তির অপব্যবহার

ছবি

বাংলাদেশের কেন শ্রীলঙ্কা হওয়ার আশঙ্কা কম

শিক্ষকের মর্যাদা

ধেয়ে আসছে বৈশ্বিক ঋণসংকট, শ্রীলঙ্কাতেই শেষ নয়

সব ফিউজ বাল্বের মূল্য সমান

মাঙ্কিপক্সে আতঙ্ক নয়

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট : বাংলাদেশের উপায় কী

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা : স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

ছবি

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে

কাগজ সংকট সভ্যতারও সংকট

শিশুদের পঠনদক্ষতা বাড়াতে পারে ‘ডাকপড়া’

tab

উপ-সম্পাদকীয়

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা : নাগরিকদের দুর্গতি ও দুর্ভোগ

ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ

শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২

দেশে যতগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে, তার মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এলজিইডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, পাউবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ। দুর্নীতির উৎস সন্ধানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে দুদক। টেন্ডারে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডারের তথ্য ফাঁস, দর-কষাকষির নামে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ, বারবার নির্মাণকাজের নকশা পরিবর্তন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বুঝে না নেয়া, কোন কোন ক্ষেত্রে মেরামত বা সংস্কার কাজের নামে ভুয়া বিলভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির বেনামে অথবা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ এবং ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকে দুর্নীতির উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক। দুদক বলছে, এই সংস্থায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় টেন্ডারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় না।

অধিদপ্তরে বড় পরিসরের কাজ ছাড়াও মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। এ বরাদ্দের বিপরীতে কাজগুলো ছোট ছোট লটে ভাগ করা হয়। এসব কাজ পছন্দের ঠিকাদারদের দেয়ার জন্য ই-জিপিতে না গিয়ে গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ দেয়া হয়। পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তার আত্মীয়স্বজন বা তাদের নামে-বেনামেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থাকার তথ্য পেয়েছে দুদক। গণপূর্তে দুর্নীতির ১০টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে তারা। একই সঙ্গে এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর ২০টি সুপারিশ তুলে ধরে সংস্থাটি।

কৃষিতে বিপ্লব, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও গার্মেন্ট রপ্তানির হাত ধরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিবেচিত। অথচ সর্বব্যাপী দুর্নীতি-লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি দেশ থেকে বছরে প্রায় লক্ষকোটি টাকা পাচার হয়ে যাওয়ার কারণে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেসঙ্গে দেশে আয় বৈষম্যও বেড়ে চলেছে।

একেকটি সড়ক-মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার ও বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় সময়মতো বাস্তবায়ন না হওয়ায় যেমন দেশের মানুষ বছরের পর বছর ধরে বহুবিধ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, তেমনি প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক সময়ক্ষেপণ, বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যয়বৃদ্ধির ফলে জনগণের ট্যাক্সের টাকার বিপুল অপচয় ও লুটপাট হচ্ছে। নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ফেলে রাখার কারণে এমনিতেই অবকাঠামো কাক্সিক্ষত মান বা স্থায়িত্ব অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। তার ওপর নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, অনুন্নত প্রযুক্তি, ত্রুটিপূর্ণ নকশায় অবকাঠামো নির্মিত হলে তার কাক্সিক্ষত মান বা স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করা অসম্ভব। সড়ক ও সেতু বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিকার ও প্রতিবিধানে সরকারের বিদ্যমান মেকানিজমে পরিবর্তন ও ওভারহোলিং আবশ্যক।

কয়েক যুগ ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে অস্বস্তিকর এবং বিশৃঙ্খল অবস্থায় বিরাজমান। জনগণের মাঝেও ভয়-ভীতি, ক্ষোভ, চিকিৎসক এবং চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার কমতি নেই। ২০২০ সালের মার্চ থেকে করোনায় একদিকে যেমন চলেছে ধ্বংসের তান্ডবলীলা, অন্যদিকে উন্মোচিত হয়েছে স্বাস্থ্য খাতের বেহাল অবস্থা। দিনের শুরুতে সংবাদপত্রের পাতা খুললেই দেখা যায়-স্বাস্থ্য-সুরক্ষাসামগ্রীর সংকট, হাসপাতালে হাই-ফ্লো অক্সিজেন এবং আইসিইউর অভাব, পর্যাপ্ত বেড নেই, বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে ভর্তি হতে না পেরে রাস্তাতেই করোনা রোগীর মৃত্যু, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে জনসমাগম, স্বাস্থ্য খাতে ও ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্নীতি ইত্যাদি। বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা খরচ আকাশচুম্বী, সেখানে চিকিৎসা নেয়া অনেকেরই সামর্থ্যরে বাইরে। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ছড়াছড়ি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মানহীনতা, মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্টের ব্যবহার, প্রায়ই অনেক ল্যাবরেটরির বিরুদ্ধে ভুল রিপোর্টের অভিযোগ, অদক্ষ টেকনিশিয়ান আর ভুয়া ডাক্তারের আধিক্য, এমনকি দালালদের দৌরাত্ম্যে রোগীরা দিশাহারা। এ ছাড়া প্রায়ই রোগী বা তার আত্মীয়-স্বজন চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুলজনিত কারণে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে রোগীর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গোলযোগ, হাতাহাতি, এমনকি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তাসহ অনেকের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে দেখা যায়। অধিকাংশ ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দৈন্য অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। সব মিলিয়ে সারা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হতাশাজনক চিত্রটাই ফুটে ওঠে সর্বত্র। চিকিৎসকের প্রতি রোগীরা অসন্তুষ্ট ও আস্থা রাখতে পারছেন না। সামর্থ্যবান রোগীরা চলে যাচ্ছেন বিদেশে। বর্ণিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবিধানে সরকারকে কঠোর হতে হবে। দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থেকে তার প্রতিবিধানে আমলাতান্ত্রিক গতিকে সহজতর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় আড়াই কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। নিম্নাঞ্চল হওয়ায় দুর্যোগ-দুর্বিপাক প্রতি বছরই আঘাত হানে হাওরে। ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ঠেকাতে ৭ জেলার এই হাওরে অসংখ্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর এসব বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও ভেঙে যাওয়া বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের বরাদ্দের অর্থ তুলে নেয়া হলেও বাঁধ সংস্কার হয় না। ফলে এবার অসময়ে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে সুনামগঞ্চ, নেত্রকোনাও কিশোরগঞ্জের হাওরের হাজার হাজার একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। সঠিক তদারকির অভাবে কাজে অনিয়ম ও গাফিলতি হয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জড়িত বলে দাবি করেন প্রতিবাদকারীরা। অপরিকল্পিত ও যেখানে সেখানে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের ফলে উল্টো হাওরের প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। হাওরের ব্যাপক ফসলহানির পুনরাবৃত্তি যে কোন উপায়ে ঠেকাতে হবে। সেজন্য বাঁধ নির্মাণ-মেরামতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দুর্নীতি-অনিয়ম-অবহেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাউবোর দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী-কর্মকর্তাদের বদলি বা বরখাস্ত যথেষ্ট নয়; তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা উচিত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত, যেন ভবিষ্যতে কেউ বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি-অনিয়ম করার সাহস না পায়।

ঢাকা শহরে বাসাবাড়িতে যে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, তাতে ৪০ শতাংশ গ্যাস চুরি হচ্ছে, অপচয় তো আছেই। এ চুরি ও অপচয় বন্ধ করতে প্রিপেইড মিটার চালু করা হলো। এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িতে সেই মিটার বসানো হয়নি। সেই মিটার দেয় বিতরণ কোম্পানি। তারা ভোক্তাদের ১০ ডলার মূল্যের নিম্নমানের মিটার সরবরাহ করে দাম নেয় ২৫ ডলার। বিপরীতে বিলের সঙ্গে মাসে ভাড়া নেয় ১০০ টাকা। আইনানুযায়ী জ্বালানি খাতের আপস্ট্রিম রেগুলেটর বিধায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা লাইসেন্সিদের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান বা পরিচালক কোন পদই গ্রহণ করতে পারেন না। অর্থাৎ তারা লাইসেন্সি বা লাইসেন্সির প্রতিনিধি হতে পারেন না। অথচ তারা লাইসেন্সিদের পরিচালনা বোর্ডে কেউ চেয়ারম্যান ও কেউ পরিচালক, অর্থাৎ লাইসেন্সি প্রশাসন পরিচালনায় শীর্ষ ব্যক্তিরা। ফলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ স্বার্থের সংঘাতে যুক্ত এবং লাইসেন্সিদের আপস্ট্রিম রেগুলেটর হিসেবে অকার্যকর। ভোক্তাস্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণে তাদের ভূমিকা সাংঘর্ষিক। সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ব্যতিরেকে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

সর্বব্যাপী দুর্নীতি-লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি দেশ থেকে বছরে প্রায় লক্ষ-কোটি টাকা পাচার হয়ে যাওয়ার কারণে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সে সঙ্গে দেশে আয় বৈষম্যও বেড়ে চলেছে

ভুক্তভোগীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, সকালে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। এর একটি বড় কারণ যে, কালোবাজারিদের হাতে টিকিট চলে যাওয়া, সেটা এখন স্পষ্ট। দেখা গেছে, টিকিট কালোবাজারি চক্রের সঙ্গে রেলের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশের কারণেই সাধারণ মানুষের টিকিট পেতে সমস্যা হয়। টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত অসৎ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের প্রত্যেককে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করি আমরা। তাই এই কালোবাজারি চক্রের মূলোৎপাটনের বিকল্প নেই। যে কোনো পরিবহন মাধ্যমের নির্বিঘ্নে টিকিটপ্রাপ্তি জনগণের নাগরিক অধিকার। যারা এ ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের দমন করা সরকারের দায়িত্ব। যে প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে টিকিট বিক্রির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানকেও সততা ও দক্ষতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দিতে হবে। সম্প্রতি অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি সহজ ডট কম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিদপ্তর জরিমানা করেছে। রেলে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা দূর করা না হলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ যে ক্রমেই বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে ৬ দফা দাবিতে গণস্বাক্ষর ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মহিউদ্দিন রনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন-যেটা দেশের আপামর জনসাধারণ সমর্থন করেছেন।

সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরসমূহের অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হতে চলেছে। এ অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিবিধানে সরকারকে কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আমাদের জন্য বাস্তবিকই একটা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আমরা জানি যে, সব অনিয়ম, অব্যবস্থাপনায় হচ্ছে দুর্নীতির মূল উৎস। তাই কোনভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে আপোস নয়। বরং নিয়মতান্ত্রিকতা প্রতিষ্ঠায় সরকারকে কঠোর ও কঠিন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে-এটাই দেশবাসী প্রত্যাশা করে। দুর্নীতিগ্রস্ত বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরসমূহের কার্যক্রমকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সেবামুখীও গতিশীল করতে হবে।

[লেখক : সাবেক উপ-মহাপরিচালক,

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি]

back to top