alt

উপ-সম্পাদকীয়

সামাজিক সংঘের ভূমিকা

জহির চৌধুরী

: বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত আবাসিক এলাকায় এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘ দেখা যায়। এলাকার সমাজ হিতৈষীদের উদ্যোগে গঠিত হয় এসব সামাজিক সংঘ। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলোতে এলাকার মানুষের সম্মিলন ঘটে। এসব সামাজিক সংঘ গড়ে তোলার মূল লক্ষ্য এলাকায় বসবাসকারীদের পারষ্পরিক সম্পর্ক-সৌহার্দ, সহমর্মিতা-সহযোগিতাবৃদ্ধি। এসব সামাজিক সংঘ পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকে। সংঘের সদস্যরা কোথাও কোথাও নির্বাচন, কোথাও কোথাও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সংঘ পরিচালনা জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেন। সদস্যকরণ চাঁদা, সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা, বিত্তশালী সদস্যদের অনুদানে সংঘের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এসব সামাজিক সংঘের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস, ঈদ উৎসব, বাংলা নববর্ষবরণ, বার্ষিক পুনর্মিলনীসহ নানা ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে দেখা যায়। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলোতে এলাকার গণমান্য ব্যক্তি, এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজনের সম্মিলন ঘটে বলে এ সংঘগুলো চেষ্টা করলে এলাকার বহু সমস্যার সহজে সমাধানসহ এলাকায় শান্তি-আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

এলাকাভিত্তিক গড়ে উঠা সামাজিক সংঘগুলো এলাকার কি কি ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারে, এলাকায় শান্তি-আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কীভাবে অবদান রাখতে পারে তা জানা থাকলে ভালো হয়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে আবির্ভূত হয়েছে কিশোর গ্যাং। এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান রোধ, উত্থিত কিশোর গ্যাং নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়েও অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘ। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধ এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে সহজেই করতে পারে।

আবাসিক এলাকায় মাদক বেচাকেনা বর্তমানে আরেকটি বড় সমস্যা। হাতের কাছে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের একটা বড় অংশ মাদকাসক্ত হচ্ছে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এলাকাভিত্তিক সমাজিক সংঘগুলো এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এলাকা মাদকমুক্ত রাখতে পারে। এলাকায় জঙ্গি আস্তানা গড়ে তোলা, জঙ্গি তৎপরতা চালানোর তথ্য পাওয়া যায় প্রায়ই। এ অপকর্ম চালানোও সহজ হবে না এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো সজাগ-সচেতন থাকলে।

ডিশ, ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া এবং বাড়ির ময়লা নেয়া লাভজনক বাণিজ্য। এসব ক্ষেত্রে একচেটিয়া বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব, ফ্যাসাদ, মারামারি, খুনোখুনি লক্ষ্য করা যায়। এতে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটে, একচেটিয়া বাণিজ্যের কারণে এলাকাবাসীকে গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো ডিশ, ইন্টারনেট, বাড়িঘরের ময়লা নেয়ার খরচ কমাতে পারে প্রতিযোগিতামূলক দরে এ সেবাগুলো প্রদানের ব্যবস্থা করে। এলাকাভিত্তিক সামাজিকগুলো নিজ নিজ এলাকায় এ সেবাগুলো প্রদানের জন্য একাধিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সুযোগ করে দিলে এলাকাবাসীর প্রতিযোগিতামূলক দরে এ সেবাগুলো পাওয়া নিশ্চিত হবে। এতে কম খরচে এ সেবাগুলো পাবে এলাকাবাসী। এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায়ও এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘ ভূমিকা রাখতে পারে। এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ দূষণ করে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না দেয়া, এলাকা অসামাজিক কর্মকান্ড মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘের প্রহরীর ভূমিকা পালনের সুযোগ আছে। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো এলাকায় পাঠাগারের ব্যবস্থা করতে পারে। এতে এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের পাঠ অভ্যাস হবে, যা এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের সুমানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক হবে। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো এলাকায় সংঘটিত ছোটখাটো সামাজিক অপরাধের বিচার, এলাকাবাসী কারও কারও মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ থাকলে সেসব বিরোধ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার ব্যবস্থা করে এলাকায় শান্তির আবহ বজায় রাখতে পারে।

সব ধরনের অনাচার, দুরাচার, অপরাধপ্রবণতামুক্ত রেখে এলাকাকে আদর্শ এলাকার রূপ দিতে এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘের ব্যাপক অবদান রাখার সুযোগ আছে। একসময় পুরোনো ঢাকায় এলাকাভিত্তিক পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ছিল। পঞ্চায়েতগুলো এলাকায় সামাজিক বিচার-আচার করাসহ এলাকাবাসীর কল্যাণে ভূমিকা রাখত। এতে এলাকায় অপরাধ কম হতো, এলাকাবাসীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা-সহমর্মিতার মানসিকতা গড়ে উঠত, এলাকায় শান্তিতে বসবাসের নিশ্চয়তা থাকত। এলাকাভিত্তিক সংঘগুলো শুধু বিশেষ দিবস, পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠান ঘটা করে উদ্যাপন, বাৎসরিক পিকনিকে সীমাবদ্ধ না থেকে এলাকা ও এলাকার মানুষের কলাণে ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে পারে।

এলাকাভিত্তিক সমাজিক সংঘগুলো এলাকার সার্বিক কল্যাণ-উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা-সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে (বার্গেনিং এজেন্টের আদলে) আলাপ-আলোচনা, দরকষাকষির এজেন্ট হতে পারে। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফেডারেশনও গঠন করতে পারে। এতে এলাকার ও এলাকার মানুষের কল্যাণে অধিকতর অবদান রাখার সুযোগ হবে। চেষ্টা করলে এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো হতে পারে এলাকার শান্তি-নিরাপত্তা, এলাকায় নির্বিঘ্নে বসবাসের নিশ্চয়তার গ্যারান্টার। বলা যায়, আদর্শ এলাকা গড়ে তোলার সূতিকাগার হওয়ার সুযোগ আছে এলাকাভিত্তিক সমাজিক সংঘের।

[লেখক : প্রাবন্ধিক]

উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও সম্ভাবনা : একটি অনুভাবনা

জাগো বহ্নিশিখা

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আচরণ প্রসঙ্গে

ছবি

শাকিব খান, দুষ্মন্ত-শকুন্তলা এবং নায়িকা সমাচার

ছোটদের লেখাপড়ায় নিতে হবে মেগা প্রকল্প

ছবি

সার্বজনীন দুর্গাৎসব

বেদিয়া ও কুর্মি জাতিসত্তার হোক স্বতন্ত্র পরিচয়

ডিজিটাল শিল্পযুগ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

ছবি

সর্বজনীন থেকে বিশ্বজনীন হয়ে ওঠা দুর্গোৎসব

যে কারণে শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ প্রয়োজন

সীমান্তে উত্তেজনা, কী চায় মায়ানমার

সত্যি ওরা পেরেছে

শিশু নির্যাতনের প্রতিকারের পথে বাধা কী

আত্মগোপন, নিখোঁজ আর গুম

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস

বাঁচো, বাঁচো এবং বাঁচো

কন্যাশিশুকে শিক্ষায়ও এগিয়ে থাকতে হবে 

বুদ্ধিজীবিতার দায়

আদিবাসীর তালিকা নিয়ে বিতর্ক কেন

সত্য কাজে কেউ নয় রাজি

মেগা প্রকল্প ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে

শেষ আফ্রিকান টিক ওক গাছটি কি মারা গেছে?

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হোক

ছবি

সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাক পাঠ্যবই

ডিজিটাল শিল্পযুগ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্ব

কৃষি ও কম্পিউটার শিক্ষা বাস্তবমুখী হওয়া প্রয়োজন

জনপ্রিয়তা, সম্মান এবং সৃষ্টি সুখের গোপন তরিকা

ছবি

বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার চামড়া রপ্তানি করা সম্ভব

ছবি

স্বপ্নছোঁয়া জয় ও এগিয়ে যাওয়ার পথনকশা

সড়ক দুর্ঘটনার মূল্য কত

ছবি

হার না মানা লাল-সবুজের মেয়েরা

ছবি

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন

সেলিম : ভারতে বামপন্থার পুনর্জাগরণের ঋত্ত্বিক

tab

উপ-সম্পাদকীয়

সামাজিক সংঘের ভূমিকা

জহির চৌধুরী

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত আবাসিক এলাকায় এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘ দেখা যায়। এলাকার সমাজ হিতৈষীদের উদ্যোগে গঠিত হয় এসব সামাজিক সংঘ। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলোতে এলাকার মানুষের সম্মিলন ঘটে। এসব সামাজিক সংঘ গড়ে তোলার মূল লক্ষ্য এলাকায় বসবাসকারীদের পারষ্পরিক সম্পর্ক-সৌহার্দ, সহমর্মিতা-সহযোগিতাবৃদ্ধি। এসব সামাজিক সংঘ পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকে। সংঘের সদস্যরা কোথাও কোথাও নির্বাচন, কোথাও কোথাও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সংঘ পরিচালনা জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেন। সদস্যকরণ চাঁদা, সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা, বিত্তশালী সদস্যদের অনুদানে সংঘের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এসব সামাজিক সংঘের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস, ঈদ উৎসব, বাংলা নববর্ষবরণ, বার্ষিক পুনর্মিলনীসহ নানা ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে দেখা যায়। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলোতে এলাকার গণমান্য ব্যক্তি, এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজনের সম্মিলন ঘটে বলে এ সংঘগুলো চেষ্টা করলে এলাকার বহু সমস্যার সহজে সমাধানসহ এলাকায় শান্তি-আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

এলাকাভিত্তিক গড়ে উঠা সামাজিক সংঘগুলো এলাকার কি কি ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারে, এলাকায় শান্তি-আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কীভাবে অবদান রাখতে পারে তা জানা থাকলে ভালো হয়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে আবির্ভূত হয়েছে কিশোর গ্যাং। এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান রোধ, উত্থিত কিশোর গ্যাং নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়েও অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘ। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধ এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে সহজেই করতে পারে।

আবাসিক এলাকায় মাদক বেচাকেনা বর্তমানে আরেকটি বড় সমস্যা। হাতের কাছে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের একটা বড় অংশ মাদকাসক্ত হচ্ছে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এলাকাভিত্তিক সমাজিক সংঘগুলো এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এলাকা মাদকমুক্ত রাখতে পারে। এলাকায় জঙ্গি আস্তানা গড়ে তোলা, জঙ্গি তৎপরতা চালানোর তথ্য পাওয়া যায় প্রায়ই। এ অপকর্ম চালানোও সহজ হবে না এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো সজাগ-সচেতন থাকলে।

ডিশ, ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া এবং বাড়ির ময়লা নেয়া লাভজনক বাণিজ্য। এসব ক্ষেত্রে একচেটিয়া বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব, ফ্যাসাদ, মারামারি, খুনোখুনি লক্ষ্য করা যায়। এতে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটে, একচেটিয়া বাণিজ্যের কারণে এলাকাবাসীকে গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো ডিশ, ইন্টারনেট, বাড়িঘরের ময়লা নেয়ার খরচ কমাতে পারে প্রতিযোগিতামূলক দরে এ সেবাগুলো প্রদানের ব্যবস্থা করে। এলাকাভিত্তিক সামাজিকগুলো নিজ নিজ এলাকায় এ সেবাগুলো প্রদানের জন্য একাধিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সুযোগ করে দিলে এলাকাবাসীর প্রতিযোগিতামূলক দরে এ সেবাগুলো পাওয়া নিশ্চিত হবে। এতে কম খরচে এ সেবাগুলো পাবে এলাকাবাসী। এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায়ও এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘ ভূমিকা রাখতে পারে। এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ দূষণ করে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না দেয়া, এলাকা অসামাজিক কর্মকান্ড মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘের প্রহরীর ভূমিকা পালনের সুযোগ আছে। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো এলাকায় পাঠাগারের ব্যবস্থা করতে পারে। এতে এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের পাঠ অভ্যাস হবে, যা এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের সুমানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক হবে। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো এলাকায় সংঘটিত ছোটখাটো সামাজিক অপরাধের বিচার, এলাকাবাসী কারও কারও মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ থাকলে সেসব বিরোধ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার ব্যবস্থা করে এলাকায় শান্তির আবহ বজায় রাখতে পারে।

সব ধরনের অনাচার, দুরাচার, অপরাধপ্রবণতামুক্ত রেখে এলাকাকে আদর্শ এলাকার রূপ দিতে এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘের ব্যাপক অবদান রাখার সুযোগ আছে। একসময় পুরোনো ঢাকায় এলাকাভিত্তিক পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ছিল। পঞ্চায়েতগুলো এলাকায় সামাজিক বিচার-আচার করাসহ এলাকাবাসীর কল্যাণে ভূমিকা রাখত। এতে এলাকায় অপরাধ কম হতো, এলাকাবাসীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা-সহমর্মিতার মানসিকতা গড়ে উঠত, এলাকায় শান্তিতে বসবাসের নিশ্চয়তা থাকত। এলাকাভিত্তিক সংঘগুলো শুধু বিশেষ দিবস, পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠান ঘটা করে উদ্যাপন, বাৎসরিক পিকনিকে সীমাবদ্ধ না থেকে এলাকা ও এলাকার মানুষের কলাণে ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে পারে।

এলাকাভিত্তিক সমাজিক সংঘগুলো এলাকার সার্বিক কল্যাণ-উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা-সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে (বার্গেনিং এজেন্টের আদলে) আলাপ-আলোচনা, দরকষাকষির এজেন্ট হতে পারে। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফেডারেশনও গঠন করতে পারে। এতে এলাকার ও এলাকার মানুষের কল্যাণে অধিকতর অবদান রাখার সুযোগ হবে। চেষ্টা করলে এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংঘগুলো হতে পারে এলাকার শান্তি-নিরাপত্তা, এলাকায় নির্বিঘ্নে বসবাসের নিশ্চয়তার গ্যারান্টার। বলা যায়, আদর্শ এলাকা গড়ে তোলার সূতিকাগার হওয়ার সুযোগ আছে এলাকাভিত্তিক সমাজিক সংঘের।

[লেখক : প্রাবন্ধিক]

back to top