alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম জরুরি

জয় চৌধুরী

: রোববার, ২২ জানুয়ারী ২০২৩

ক্যারিয়ারের দিকে মনযোগী হওয়ার স্টেজ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। কিন্তু আমরা বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুর দিকে ক্যারিয়ার সচেতন হই না। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত এমনই যেখানে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তক থেকে যা অর্জন করবে সেটা তারা বাস্তবজীবনে প্রয়োগ করতে পারবে, যেখানে পাঠ্যপুস্তক পড়ার চেয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বেশি থাকবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাকে শুধু পড়ালেখার গন্ডির ভেতর না রেখে, আউট নলেজে অর্জনের দিকেও ফোকাস রাখতে হবে। ভার্সিটি জীবন পার করার আগেই প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীরই একজন ভালো টিম লিডার, ভালো কমিউনিকেটর, কুইক আইডিয়া জেনারেটর, ডেডিকেটেড এবং ইনফরমেটিভ হওয়া উচিত। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসে সক্রিয় হওয়া উচিত। এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতাগুলো একজন শিক্ষার্থীকে পেশাগত এবং ব্যক্তিগতজীবনে উপকৃত করবে।

এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস কী?

আমরা সকলেই কমবেশি ‘এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস’ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। এটার বাংলা করলে দাঁড়ায় পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম কিংবা সহশিক্ষা কার্যক্রম। আরেকটু সহজ করে বললে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিষয়ের বাইরের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে যে কাজগুলো করে থাকে তাকে একস্ট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস বলা হয়। ইংরেজিতে এটাকে সংক্ষেপে ‘ইসিএ’ বলা হয়।

উদাহরণস্বরূপ কিছু এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস হচ্ছে- ক্লাবিং, ডিবেটিং, স্কাউটিং, ভোলান্টিয়ারিং, রিসার্চিং, বই পড়া, খেলাধুলা, ছবি আঁকা, নাচ-গান-আবৃত্তি, ব্লগিং, লেখালেখি এবং বিজ্ঞানচর্চা।

এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস একজন শিক্ষার্থীকে কোন কোন দক্ষতাগুলো অর্জনে সহায়তা করে?

দক্ষতাকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। প্রথমটা হচ্ছে হার্ড স্কিল এবং দ্বিতীয়টা হচ্ছে সফট স্কিল। হার্ড স্কিলটা অনেক কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে। হার্ড স্কিলের অংশ হিসেবে কম্পিউটার স্কিলের কথা যদি বলি এটা বর্তমান ডিজিটাল যুগের জন্য খ্বুই গুরুত্বপূর্ণ স্কিল। কিছু কম্পিউটার স্কিলের নাম হচ্ছে- বেসিক শর্টকার্ট অব কম্পিউটার, ইন্টারনেট বেসিকস, মাইক্রোসফট অফিস, গোগল স্যুইট, প্রোডাক্টিভিটি সফটওয়্যার, অপারেটিং সফটওয়্যার, প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং বা ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এবং কমিউনিকেশন ট্যুল। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সফট স্কিল যেগুলো একস্ট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

নেটওয়ার্কিং স্কিল : নেটওয়ার্কিং স্কিলটা বাস্তবজীবনে কত বেশি প্রয়োজন সেটা ‘প্রয়োজন’ সম্মুখে না আসা পর্যন্ত বোঝা অসম্ভব। আমরা বেশির ভাগই মনে করি, মামা-চাচা না থাকলে চাকরি পাওয়া খুব দুষ্কর। কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। এই যুগে নেটওয়ার্কিংটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এবং সেটা যদি চাকরির ক্ষেত্রে হয় তাহলে তো আর কোন কথাই নাই। বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত হলে সিনিয়রদের সঙ্গে ভালো একটা নেটওয়ার্কিং করার সুযোগ থাকে। শুধু যে সিনিয়রদের সঙ্গে হয় তা কিন্তু না। একটা সংগঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা থাকে- সেক্ষেত্রে এক ডিপার্টমেন্টের হয়ে অন্য ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং ক্রিয়েট করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলো অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনের সঙ্গে কোলাবরেটর হয়ে কাজ করে থাকে যার মাধ্যমে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কেও জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলো যে প্রোগ্রাম আয়োজন করে তার স্পন্সর হিসেবে থাকে দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো, যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন প্রমিনেন্ট লিডার এবং কোম্পানির সঙ্গে একটা নেটওয়ার্কিং গড়ে তুলতে পারে যা তাকে ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রে অনেক বেশি উপকৃত করে।

কমিউনিকেশন স্কিল : ব্যক্তিগত এবং প্রফেশনাল জীবনে কমিউনিকেশন স্কিলটার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কমিউনিকেশন স্কিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে কোনভাবে কমিউনিকেশন গ্যাপ বা ইনফরমেশন গ্যাপ হতে না দেয়া। এই স্কিলটা তখনই অর্জন করা সম্ভব হবে যদি আপনি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকেন।

নেতৃত্বদানের স্কিল এবং ভালো টিম প্লেয়ার : একস্ট্রা-কারিকুলার এক্টিভিটিসের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কার্যকরীভাবে টিমে কাজ করার সুযোগ পাই যা তাকে একজন টিম প্লেয়ার হতে সহায়তা করে। একজন শিক্ষার্থী টিমে কাজ করে যা শিখতে পারবে তা কখনো বইয়ের পাতা থেকে শেখা সম্ভব নয়। যারা টিমওয়ার্কে অভ্যস্ত না তারা চাকরিজীবনে গিয়ে যখন টিমওয়ার্ক করতে হয় তখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। টিমওয়ার্কের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন মানসিকতার, দক্ষতার, ক্যাটাগরির, এবং সৃজনশীলতার অধিকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করে তখন সে একেকজনের কাজ থেকে একেকরকম ইনফরমেশন পাই এবং নিজেকে আরো ইম্প্রুভ করতে সহায়তা করে। নেতৃত্বদানের দক্ষতা বাড়িয়ে দেয় এবং একজন ভালো টিম প্লেয়ার হতে সহায়তা করে।

প্রেজেন্টেশন এবং পাবলিক স্পিকিং স্কিল : সংগঠন বা ক্লাবিং করার মাধ্যমে প্রেজেন্টেশন এবং পাবলিক স্পিকিং স্কিল ও বৃদ্ধি করা যায়।

মাল্টিটাস্কার এবং টাইম ম্যানেজমেন্ট : চাকরিজীবনের এই স্কিলটাও বেশ প্রয়োজন। কেননা কিছু কিছু সময় নিজের কাজের দায়িত্বের বাইরেও অনেক কাজ চলে আসে তখন নিজের কাছে বেশ চাপ বা কাজের প্রেসার লাগে। কিন্তু একজন মাল্টিটাস্কার এই দায়িত্ব খুব সুনিপুণতার সহিত ম্যানেজ করে নিতে পারবে। মাল্টিটাস্কার হতে পারলে টাইম ম্যানেজমেন্টেও খুব পারদর্শী হয়ে ওঠা যায়। পড়ালেখার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী যখন বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের সঙ্গে সংযুক্ত হয় এবং খুব দায়িত্বের সহিত সবকিছু মেনটেইন করে নিজের পড়ালেখাও বেশ ভালোভাবে চালাতে পারে এটাকেই বলে মাল্টিটাস্কার।

এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস আরও অনেক বিষয়ে সহায়তা করে যেমন- সৃজনশীলতা বাড়ায়, মানিসক চাপ কমাতে সহযোগিতা করে, প্রতিভার বিকাশ করতে সহযোগিতা করে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে সহযোগিতা করে, এবং সর্বোপরি নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং উন্নতি ঘটায়।

উচ্চশিক্ষা এবং প্রফেশনাল জগতে এক্সট্রা-কারিকুলার এক্টিভিটিস কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমানে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার আগ্রহ বেশ প্রবল। কিন্তু এই ইচ্ছা পূরণের জন্য সবসময় ভালো রেজাল্ট একমাত্র হাতিয়ার হতে পারে না। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা জরুরি।

[লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]

ব্যালট থেকে বাস্তবতায় বিএনপি

ছবি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: একুশের ইতিহাস, বিশ্বস্বীকৃতি ও আমাদের দায়িত্ব

ফুলের নিচে চাপা পড়া ভাষার আর্তনাদ

নতুন সরকারের কাছে পার্বত্যবাসীর প্রত্যাশা

ছবি

আন্দ্রে বেতেই : মানবিক সমাজবোধের অনন্য উত্তরাধিকারী

‘নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস’

মহাকাশ অর্থনীতি

কুষ্ঠ : নতুন সরকার ও একটি জাতীয় বিষয়ে প্রত্যাশা

বাংলাদেশের খাদ্যশিল্প

ভাষার রাজনীতি এবং রাজনীতির ভাষা

ছবি

দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী

ছবি

মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষায় সমতা নিশ্চিতের আহ্বান

কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খলে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন

ছবি

নির্বাচনে জোট, নাকি সরকারে

রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার

মানুষ কি বদলেছে, নাকি শুধু রং বদলিয়েছে?

সময় জীবনে চলার পথ দেখিয়ে দেয়

কালো ও সবুজ চা : জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব

বাঙালিরা ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়

অন্তর্বর্তী সরকার জাতিকে কী দিল

ভালোবাসা, সচেতনতা ও জনস্বাস্থ্য বাস্তবতা

ভালোবাসার দিনে সুন্দরবন: উদযাপনের আড়ালে অস্তিত্বের সংকট

ছবি

তিরাশির সেই দিন

অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নতুন সরকারকে

সবুজ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: সম্ভাবনা, সংকট ও করণীয়

গণতন্ত্র: একটি দার্শনিক জিজ্ঞাসা

‘ভোট দিছি ভাই, ছিল দিছি...’

নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান

ক্ষমতার অক্টোপাস: রাষ্ট্র দখল ও আমজনতার নাভিশ্বাস

কার হাতে উঠবে শাসনের রাজদণ্ড

নির্বাচন ও সাধারণ ভোটারের ‘অসাধারণ’ সামাজিক চাপ

মানুষের মাঝেই স্বর্গ-নরক

মহাকাশের ভূত ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি

নির্বাচনী হাওয়ার ভেতরে করুণ মৃত্যুর সংবাদ

দেশকে বধিবে যে গোকুলে বেড়েছে সে!

দক্ষিণপন্থার রাজনীতি: অগ্রগতি নাকি অবনমন?

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম জরুরি

জয় চৌধুরী

রোববার, ২২ জানুয়ারী ২০২৩

ক্যারিয়ারের দিকে মনযোগী হওয়ার স্টেজ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। কিন্তু আমরা বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুর দিকে ক্যারিয়ার সচেতন হই না। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত এমনই যেখানে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তক থেকে যা অর্জন করবে সেটা তারা বাস্তবজীবনে প্রয়োগ করতে পারবে, যেখানে পাঠ্যপুস্তক পড়ার চেয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বেশি থাকবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাকে শুধু পড়ালেখার গন্ডির ভেতর না রেখে, আউট নলেজে অর্জনের দিকেও ফোকাস রাখতে হবে। ভার্সিটি জীবন পার করার আগেই প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীরই একজন ভালো টিম লিডার, ভালো কমিউনিকেটর, কুইক আইডিয়া জেনারেটর, ডেডিকেটেড এবং ইনফরমেটিভ হওয়া উচিত। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসে সক্রিয় হওয়া উচিত। এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতাগুলো একজন শিক্ষার্থীকে পেশাগত এবং ব্যক্তিগতজীবনে উপকৃত করবে।

এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস কী?

আমরা সকলেই কমবেশি ‘এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস’ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। এটার বাংলা করলে দাঁড়ায় পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম কিংবা সহশিক্ষা কার্যক্রম। আরেকটু সহজ করে বললে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিষয়ের বাইরের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে যে কাজগুলো করে থাকে তাকে একস্ট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস বলা হয়। ইংরেজিতে এটাকে সংক্ষেপে ‘ইসিএ’ বলা হয়।

উদাহরণস্বরূপ কিছু এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস হচ্ছে- ক্লাবিং, ডিবেটিং, স্কাউটিং, ভোলান্টিয়ারিং, রিসার্চিং, বই পড়া, খেলাধুলা, ছবি আঁকা, নাচ-গান-আবৃত্তি, ব্লগিং, লেখালেখি এবং বিজ্ঞানচর্চা।

এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস একজন শিক্ষার্থীকে কোন কোন দক্ষতাগুলো অর্জনে সহায়তা করে?

দক্ষতাকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। প্রথমটা হচ্ছে হার্ড স্কিল এবং দ্বিতীয়টা হচ্ছে সফট স্কিল। হার্ড স্কিলটা অনেক কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে। হার্ড স্কিলের অংশ হিসেবে কম্পিউটার স্কিলের কথা যদি বলি এটা বর্তমান ডিজিটাল যুগের জন্য খ্বুই গুরুত্বপূর্ণ স্কিল। কিছু কম্পিউটার স্কিলের নাম হচ্ছে- বেসিক শর্টকার্ট অব কম্পিউটার, ইন্টারনেট বেসিকস, মাইক্রোসফট অফিস, গোগল স্যুইট, প্রোডাক্টিভিটি সফটওয়্যার, অপারেটিং সফটওয়্যার, প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং বা ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এবং কমিউনিকেশন ট্যুল। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সফট স্কিল যেগুলো একস্ট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

নেটওয়ার্কিং স্কিল : নেটওয়ার্কিং স্কিলটা বাস্তবজীবনে কত বেশি প্রয়োজন সেটা ‘প্রয়োজন’ সম্মুখে না আসা পর্যন্ত বোঝা অসম্ভব। আমরা বেশির ভাগই মনে করি, মামা-চাচা না থাকলে চাকরি পাওয়া খুব দুষ্কর। কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। এই যুগে নেটওয়ার্কিংটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এবং সেটা যদি চাকরির ক্ষেত্রে হয় তাহলে তো আর কোন কথাই নাই। বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত হলে সিনিয়রদের সঙ্গে ভালো একটা নেটওয়ার্কিং করার সুযোগ থাকে। শুধু যে সিনিয়রদের সঙ্গে হয় তা কিন্তু না। একটা সংগঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা থাকে- সেক্ষেত্রে এক ডিপার্টমেন্টের হয়ে অন্য ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং ক্রিয়েট করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলো অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনের সঙ্গে কোলাবরেটর হয়ে কাজ করে থাকে যার মাধ্যমে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কেও জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলো যে প্রোগ্রাম আয়োজন করে তার স্পন্সর হিসেবে থাকে দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো, যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন প্রমিনেন্ট লিডার এবং কোম্পানির সঙ্গে একটা নেটওয়ার্কিং গড়ে তুলতে পারে যা তাকে ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রে অনেক বেশি উপকৃত করে।

কমিউনিকেশন স্কিল : ব্যক্তিগত এবং প্রফেশনাল জীবনে কমিউনিকেশন স্কিলটার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কমিউনিকেশন স্কিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে কোনভাবে কমিউনিকেশন গ্যাপ বা ইনফরমেশন গ্যাপ হতে না দেয়া। এই স্কিলটা তখনই অর্জন করা সম্ভব হবে যদি আপনি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকেন।

নেতৃত্বদানের স্কিল এবং ভালো টিম প্লেয়ার : একস্ট্রা-কারিকুলার এক্টিভিটিসের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কার্যকরীভাবে টিমে কাজ করার সুযোগ পাই যা তাকে একজন টিম প্লেয়ার হতে সহায়তা করে। একজন শিক্ষার্থী টিমে কাজ করে যা শিখতে পারবে তা কখনো বইয়ের পাতা থেকে শেখা সম্ভব নয়। যারা টিমওয়ার্কে অভ্যস্ত না তারা চাকরিজীবনে গিয়ে যখন টিমওয়ার্ক করতে হয় তখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। টিমওয়ার্কের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন মানসিকতার, দক্ষতার, ক্যাটাগরির, এবং সৃজনশীলতার অধিকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করে তখন সে একেকজনের কাজ থেকে একেকরকম ইনফরমেশন পাই এবং নিজেকে আরো ইম্প্রুভ করতে সহায়তা করে। নেতৃত্বদানের দক্ষতা বাড়িয়ে দেয় এবং একজন ভালো টিম প্লেয়ার হতে সহায়তা করে।

প্রেজেন্টেশন এবং পাবলিক স্পিকিং স্কিল : সংগঠন বা ক্লাবিং করার মাধ্যমে প্রেজেন্টেশন এবং পাবলিক স্পিকিং স্কিল ও বৃদ্ধি করা যায়।

মাল্টিটাস্কার এবং টাইম ম্যানেজমেন্ট : চাকরিজীবনের এই স্কিলটাও বেশ প্রয়োজন। কেননা কিছু কিছু সময় নিজের কাজের দায়িত্বের বাইরেও অনেক কাজ চলে আসে তখন নিজের কাছে বেশ চাপ বা কাজের প্রেসার লাগে। কিন্তু একজন মাল্টিটাস্কার এই দায়িত্ব খুব সুনিপুণতার সহিত ম্যানেজ করে নিতে পারবে। মাল্টিটাস্কার হতে পারলে টাইম ম্যানেজমেন্টেও খুব পারদর্শী হয়ে ওঠা যায়। পড়ালেখার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী যখন বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের সঙ্গে সংযুক্ত হয় এবং খুব দায়িত্বের সহিত সবকিছু মেনটেইন করে নিজের পড়ালেখাও বেশ ভালোভাবে চালাতে পারে এটাকেই বলে মাল্টিটাস্কার।

এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস আরও অনেক বিষয়ে সহায়তা করে যেমন- সৃজনশীলতা বাড়ায়, মানিসক চাপ কমাতে সহযোগিতা করে, প্রতিভার বিকাশ করতে সহযোগিতা করে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে সহযোগিতা করে, এবং সর্বোপরি নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং উন্নতি ঘটায়।

উচ্চশিক্ষা এবং প্রফেশনাল জগতে এক্সট্রা-কারিকুলার এক্টিভিটিস কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমানে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার আগ্রহ বেশ প্রবল। কিন্তু এই ইচ্ছা পূরণের জন্য সবসময় ভালো রেজাল্ট একমাত্র হাতিয়ার হতে পারে না। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা জরুরি।

[লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]

back to top