image

ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ: রোগীর অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি

দেশে উৎপাদিত ওষুধের মাত্র তিন শতাংশের দাম সরকারের প্রতিষ্ঠান ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নির্ধারণ করতে পারে। বাকি ৯৭ শতাংশের মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানীর হাতে। সরকারের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, কাঁচামাল, মার্কেটিং খরচ ও ডলারের দর বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ইচ্ছামতো দাম বৃদ্ধি করছে। এর ফলে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম রোগীর ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও কার্যকর নজরদারি নেই। দেশে ওষুধের বাজার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার, যেখানে ৪ হাজার ১৮০টি জেনেরিকের ৩৫ হাজার ২৯০টি ব্র্যান্ড প্রস্তুত হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পরিচিত ১১৭টি জেনেরিকের দাম অধিদপ্তর নির্ধারণ করে। বাকী ৪ হাজার ৬৩টি ব্র্যান্ডের দাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানই নির্ধারণ করে। কোম্পানিগুলো ভ্যাট প্রদানে অনুমোদনের জন্য অধিদপ্তরে পাঠায়, যা বাজারে দাম বৃদ্ধি কার্যকর করছে।

সমাধান হিসেবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার এক তৃতীয়াংশ ওষুধকে জরুরি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা গেলে সরকারের দাম নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে। প্যাকেজিং খরচ কমাতে বড় আকারের বোতল বা টিন ব্যবহার, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে প্রচার ও জেনেরিক নাম ব্যবহার করলে খরচ হ্রাস সম্ভব। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে সমন্বয় করে স্বাধীন কমিশন গঠন করে দাম নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং নাগরিকদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।

আব্বাসউদ্দিন আহমদ

সম্প্রতি