দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ভিড়ে এবার নতুন করে সাধারণ মানুষের জীবনে চাপ হয়ে এসেছে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি। যে গ্যাস রান্নাঘরের নিত্যসঙ্গী, আজ সেটিই হয়ে উঠেছে মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি ঘরে এলপিজি সিলিন্ডার এখন অপরিহার্য, কিন্তু তার দাম বাড়তে বাড়তে সাধারণ মানুষের সহনসীমা ছুঁয়ে ফেলছে। চুলা জ্বালাতে গিয়ে মানুষ এখন শুধু আগুন নয়, দুশ্চিন্তাও জ্বালাচ্ছে।
বর্তমান বাস্তবতায় গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি সামগ্রিক দ্রব্যমূল্য সংকটেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চাল, ডাল, তেল, সবজির পর এবার রান্নার জ্বালানির খরচ বাড়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করছে পরিবারগুলোকে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ যারা না সরকারি সহায়তার তালিকায়, না স্বচ্ছলতার নিরাপত্তায় তাদের জন্য এই চাপ সবচেয়ে বেশি। মাসের শুরুতে যে বাজেট করা হয়, মাসের মাঝামাঝিতেই তা ভেঙে পড়ছে। পাইপলাইন গ্যাস সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে এই সংকট আরও প্রকট। শহরের কিছু এলাকায় বিকল্প জ্বালানির সুযোগ থাকলেও গ্রামাঞ্চলে এলপিজি ছাড়া বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প নেই। ফলে দাম যতই বাড়–ক, মানুষ বাধ্য হয়েই কিনছে। এই বাধ্যবাধকতাই সুযোগ তৈরি করছে অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য। সংকট বাস্তব হোক বা কৃত্রিম ভোক্তার কাঁধে চাপটা একইভাবে এসে পড়ে।
গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ার আরেকটি নীরব প্রভাব পড়ছে নারীদের দৈনন্দিন জীবনে। রান্নাঘরে এখন শুধু খাবারের মেনু নয়, গ্যাসের ব্যবহারও হিসাব করে করতে হচ্ছে। কতক্ষণ চুলা জ্বলবে, কোন রান্নায় গ্যাস কম লাগবে এই সাশ্রয়ী চিন্তা জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে দিচ্ছে। রান্নাঘর যেন ধীরে ধীরে হিসাবের খাতায় পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেবল ঘোষণা নয়, কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারে নিয়মিত ও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে বাজার কখনোই নিয়ন্ত্রণে আসবে না। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে কৃত্রিম সংকটের সুযোগ না থাকে। দীর্ঘমেয়াদে পাইপলাইন গ্যাস সম্প্রসারণ ও বিকল্প জ্বালানির দিকে জোর দেয়া ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
ভোক্তা সচেতনতাও এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মানুষ জানেন না, সরকারি নির্ধারিত দাম কত ফলে অতিরিক্ত দাম দিয়েও তারা প্রতিবাদ করতে পারছেন না। তথ্যের স্বচ্ছতা ও অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে বাজারে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরতে পারে। সবশেষে বলা যায়, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি শুধু একটি জ্বালানি সমস্যার কথা বলে না; এটি বলে দেয় সাধারণ মানুষের জীবন কতটা চাপের মধ্যে আছে। উন্নয়ন আর প্রবৃদ্ধির আলোচনার মাঝেও যদি মানুষের চুলার আগুন জ্বালানো কঠিন হয়ে পড়ে, তবে সেই উন্নয়নের অর্থ নতুন করে ভাবতে হয়। গ্যাসের দামে লাগাম টানা মানে কেবল একটি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ নয়-এটি সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরানোর এক জরুরি প্রয়াস।
সায়মা আক্তার
অর্থ-বাণিজ্য: ২০২৫ সালে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফায় রেকর্ড
সংস্কৃতি: মুঠোফোনের আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: দেশজুড়ে ওয়াই-ফাই কলিং সেবা চালু করল বাংলালিংক