পৃথিবী আজ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সংকটের মুখোমুখি। শিল্পায়ন, বন উজাড় ও অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে জল এবং বাতাসের পরিবেশ বদলে গেছে, যার প্রভাব মাছসহ জলজ জীববৈচিত্রের ওপর পড়ছে। মাছ নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও অক্সিজেনের মাত্রায় বাঁচতে অভ্যস্ত; এই মানদ- পরিবর্তিত হলে তারা নতুন অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়। পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অক্সিজেনের ঘাটতি, খাদ্যের অভাব ও নদী-জলাশয়ের শুকিয়ে যাওয়া -সবই মাছকে নীরবভাবে অভিবাসন করতে বাধ্য করছে।
বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চোখে পড়ছে। ইলিশ ও মিঠাপানির মাছ আগে যেসব নদীতে পাওয়া যেত, এখন সেগুলো গভীর সমুদ্র বা নিরাপদ অঞ্চলে চলে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ জেলেদের আয় কমছে, স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাছের অভিবাসন প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্রকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কার্বন নিঃসরণ কমানো, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, নদী ও জলাশয় রক্ষা, টেকসই মৎস্য চাষ, স্থানীয় জেলেদের প্রশিক্ষণ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন মানবিক সংকট হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত। এখনই সচেতন হলে মাছের স্বাভাবিক অভিবাসন রক্ষা সম্ভব, যা খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে।
লুৎফুন্নাহার
অর্থ-বাণিজ্য: ২০২৫ সালে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফায় রেকর্ড
সংস্কৃতি: মুঠোফোনের আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: দেশজুড়ে ওয়াই-ফাই কলিং সেবা চালু করল বাংলালিংক