চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থী পরিচয়ে সংঘবদ্ধভাবে যে আচরণ করা হয়েছে, তা শুধু একটি ব্যক্তির মর্যাদাহানিই নয় -এটি পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক শালীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। একজন চবিয়ান হিসেবে এমন দৃশ্য লজ্জাজনক, বেদনাদায়ক এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে যুক্তি, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠার কথা, সেখানে যদি বলপ্রয়োগ, টেনেহিঁচড়ে আনা এবং প্রকাশ্য হেনস্তা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, তবে সেটি কোনোভাবেই সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না।
ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি বা কোনো শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর দায়িত্ব কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নয়। শিক্ষক অপরাধী হলে তার বিচার করবে আইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছাত্র কি তাহলে বিচারক? যদি তাই হয়, তবে সেই যুক্তিতে সন্তানরা কি তাদের মা-বাবার বিচার করবে? এই ধরনের বিকৃত চিন্তা সমাজকে এক ভয়ংকর পশ্চাৎপদতার দিকে ঠেলে দেয়, যেখানে ন্যায়বিচারের বদলে শক্তির প্রদর্শনই শেষ কথা হয়ে দাঁড়ায়।
আরও ভয়ের বিষয় হলো, রাষ্ট্র যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবর্তে শিক্ষার্থী ও মবকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ দমনের কৌশল গ্রহণ করে, তবে তা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি। স্বৈরাচারী আমলে যে সংস্কৃতিগুলো আমরা প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছিলাম, সেগুলো যদি নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসে, তবে ভবিষ্যৎ যে আরও অস্থির হবে, তা বলাই বাহুল্য। এখনই সময় স্পষ্টভাবে অবস্থান নেওয়ার। শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষক হেনস্তাকে unequivocally‘না’ বলতে হবে। শিক্ষক অপরাধী হলে অবশ্যই তার বিচার হবে কিন্তু সেই বিচার হবে আইন অনুযায়ী, মবের হাতে নয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে হলে আগে আমাদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। নচেৎ আজকের দর্শক সারিই কালকের ভিক্টিম হয়ে উঠবে আর তখন প্রতিবাদ করার সুযোগও হয়তো আর থাকবে না।
হাফিজ আল আসাদ