শীতকালীন বায়ুদূষণ: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি

শীতকালীন বায়ুদূষণ কেবল স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ও নীতিগত সমস্যা। কারণ একজন মানুষ একা চাইলেই দূষিত বাতাস থেকে নিজেকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না। এটি সামগ্রিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই সমস্যার সমাধানও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।

নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজে নিয়ম মানা, শিল্পকারখানার নির্গমন পর্যবেক্ষণ এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। শীত এলেই বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ে এটা জানা থাকা সত্ত্বেও যদি আগাম প্রস্তুতি না নেয়া হয়, তাহলে ক্ষতি অনিবার্য।

একই সঙ্গে নাগরিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনে আবর্জনা পোড়ানো বন্ধ করা, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা এ ধরনের ছোট উদ্যোগও সামগ্রিক দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু এসব উদ্যোগ তখনই কার্যকর হয়, যখন মানুষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

শীতকাল মানেই শুধু ঠান্ডা নয়, এটি একধরনের অদৃশ্য বিপদের সময়ও। বায়ুদূষণ এমন একটি সমস্যা, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শরীরে তার প্রভাব গভীরভাবে অনুভূত হয়। তাই শীত এলেই শুধু গরম কাপড় নয়, আমাদের দরকার পরিষ্কার বাতাসের নিশ্চয়তাও।

সুরাইয়া বিনতে হাসান

সম্প্রতি