বাংলাদেশের শীত তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের হলেও এর প্রভাব ছিন্নমূল মানুষের জীবনে ভয়াবহ। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা শহর, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত, লঞ্চঘাট সব জায়গাতেই শীতে ভেসে ওঠে অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস। এরা কেউ কাজ হারানো শ্রমিক, কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, কেউবা জীবনের ধাক্কায় পথে নেমে আসা মানুষ। সমাজের মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়া এই মানুষগুলোর জন্য শীতকাল হয়ে ওঠে সবচেয়ে কঠিন সময়। যেখানে তাদের বেঁচে থাকা চ্যালেঞ্জ হয়ে পরে।
ছিন্নমূল মানুষের এই মানবেতর জীবনযাপনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের অভাব। কাজ না থাকলে আয় নেই, আয় না থাকলে বাসস্থান নেই। এ নীতির ফলে তারা বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারে বসবাস করে।সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা। শীত এলেই ত্রাণ কার্যক্রম চোখে পড়ে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয় এবং সবার কাছে পৌঁছায় না। দেখা যায়, ফুটপাতে বসবাসরত মানুষের কিছু সংখ্যক মানুষ ত্রাণের কারণে কিছুটা শীত নিবারণ করতে পারলেও অধিকাংশ শীতে কষ্ট করে। মানসিক ও পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা এর আরেকটি কারণ। অনেক ছিন্নমূল মানুষ পরিবারহীন বা পরিবার থেকে বিতাড়িত, ফলে তাদের দেখভালের কেউ নেই। নগর ব্যবস্থাপনার অমানবিকতাও দায়ী। ফুটপাত, স্টেশন বা উন্মুক্ত স্থানে থাকা মানুষগুলোকে প্রায়ই উচ্ছেদ করা হয়, কিন্তু বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয় না। ফলে শীতে তারা আরও অনিরাপদ হয়ে পড়ে।
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয়ভাবে স্থায়ী শীত আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা জরুরি, যেখানে ছিন্নমূল মানুষ রাত কাটাতে পারবে নিরাপদে। শীতবস্ত্র বিতরণকে হতে হবে পরিকল্পিত ও নিয়মিত। শুধু কম্বল নয় গরম কাপড়, মোজা, শিশুদের জন্য আলাদা পোশাক নিশ্চিত করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা চালু করা দরকার, যাতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা পায়। ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় কাপড় জমিয়ে না রেখে তা ছিন্নমূল মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়া যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই মানুষগুলোকে দয়ার বস্তু নয়, মানুষ হিসেবে দেখা।
নুসরাত জাহান (স্মরনীকা)
অর্থ-বাণিজ্য: এলএনজি কেনার জরুরি নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক: বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে জ্বালানির দাম
আন্তর্জাতিক: খামেনির ছেলে মোজতাবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত