image

গ্যাস সংকট নাগরিক দুর্ভোগ

বর্তমান নগরজীবনে গ্যাস যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। রান্না থেকে কলকারখানা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, এমনকি ছোট দোকানÑসবখানেই গ্যাস অপরিহার্য। কিন্তু আজ গ্যাস আর নিশ্চিত সুবিধা নয়, বরং নাগরিক জীবনের এক বড় অনিশ্চয়তা। প্রতিদিন অনেক মানুষ রান্না, সময় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গ্যাস না থাকলে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী এবং গৃহিণীরা সকালের নাশতা বা রাতের খাবার ঠিকমতো করতে পারছেন না। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খালি পেটে ক্লাসে বসছেন, রাতের পড়াশোনায় বিরক্তি হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষদের জন্য সময় নষ্ট হয়, অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছেন। এর ফলে অর্থনৈতিক চাপ বেড়ে যায়। ছোট হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকান ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত পুরো নগর অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

মানসিক চাপও ব্যাপক। গ্যাস কখন আসবে-এই অনিশ্চয়তায় পরিবারে বিরক্তি ও ঝগড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক জীবনও প্রভাবিত হচ্ছে, অতিথি বা উৎসবের সময় স্বাভাবিক আনন্দ ক্ষুণœ হচ্ছে। সমস্যার মূল কারণ সরবরাহ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ সংযোগ হলেও নাগরিকদের চাওয়া সমাধান। প্রশাসনের উচিত সরবরাহকে পরিকল্পিত ও স্বচ্ছ করা, অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা এবং নাগরিকদের আগে থেকে তথ্য জানানো।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানো, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও আমদানি ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এই সংকট অনেকটা কমাতে সাহায্য করবে। গ্যাস ভোগান্তি কমলে নাগরিক জীবন তার স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পাবে।

লুৎফুন্নাহার

সম্প্রতি