ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাতটি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মানোন্নয়ন, একাডেমিক সমন্বয় এবং উন্নত কারিকুলামের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রেরণায় নয়, বরং শিক্ষার মান এবং সিন্ডিকেট ভাঙার এক স্বতঃস্ফূর্ত লড়াই। শিক্ষার্থীরা চায় তাদের মেধা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হোক, পড়াশোনা সুষ্ঠু পরিবেশে হোক এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হোক।
অত্যন্ত দুঃখজনক যে এই আন্দোলনের মাঝে সম্প্রতি ঢাকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এটি শিক্ষাঙ্গনের জন্য বড় ধরনের সংকেত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা গড়ে তোলা এখন আগের চেয়ে আরও জরুরি। শিক্ষাঙ্গনের শান্তি রক্ষা কেবল রাষ্ট্রের নয়, শিক্ষার্থীদেরও নৈতিক দায়িত্ব।
সংঘর্ষ কখনো সমাধানের পথ হতে পারে না। বরং সংলাপ, পরস্পরের দাবির শ্রবণ এবং সংযমী আলোচনাই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দিতে এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। অতএব, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘর্ষ নয়, সংলাপকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, কর্তৃপক্ষ যদি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়Ñতাহলে ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই হয়ে উঠতে পারে শিক্ষার আদর্শ ক্ষেত্র।
শিক্ষার্থীদের সংগ্রামই হবে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির মাপকাঠি। কিন্তু এই সংগ্রাম কখনোই সহিংসতার মাধ্যমে নয়, বরং সংলাপ, সমঝোতা এবং নৈতিক শিক্ষার পথে পরিচালিত হতে হবে।
মাহমুদুল হাসান