শক্ষা সংকটে চরবাসী

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীবিধৌত চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানুষজন নিম্ন জীবনমান নিয়ে সংগ্রাম করে টিকে আছেন। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা ছাড়াও তাদের অসংখ্য সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত এ দুই ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। ২৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদের অর্ধেকেরও কম শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে।

এমন কিছু স্কুল আছে যেখানে দুই তিনজন শিক্ষক পুরো স্কুল চালাচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আবাসন সমস্যার কারণে শিক্ষকগণ এখানে যোগদান করতে অনাগ্রহী। যোগদান করলেও বদলির জন্য চেষ্টা করেন। চর এলাকায় কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়মিত ভাতা, আবাসন সুবিধা ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষক সংকট ছাড়াও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যেমন সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা তার অর্ধেকও নেই। ভবন ও ক্লাসে বেঞ্চের সংকট তারমধ্যে অন্যতম। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত এলেও পাচ্ছে না কাক্সিক্ষত শিক্ষা। ফলে তারা দারিদ্র্য চক্রের গভীরে পতিত হচ্ছে।

চরাঞ্চলে বসবাসকারী দেশের জনগণের বড় একটি অংশকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রেখে উন্নতি করা কখনোই সম্ভব নয়। আসলে এগুলো শিক্ষার সাথে এক ধরনের প্রহসন। চরাঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের কোন উদ্যোগই নেই। শিক্ষার অভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতা কমে যাচ্ছে, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বেড়ে যাচ্ছে। পরিশেষে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিÑ এ দুই ইউনিয়নের ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব সংকট দূর করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

লোটাস জাহাঙ্গীর

সম্প্রতি