বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষিত যুবসমাজ ক্রমেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও উন্নত জীবনের সন্ধানে পাড়ি জমাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দেশে মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মূল কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা দেশে মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের অভাব বর্ণনা করেছেন।
দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও অধিকাংশে শিক্ষক সংকট ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সরকারের প্রতি শিক্ষার্থীর ব্যয় বিশাল, যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক ব্যয় দুই লাখেরও বেশি। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ এবং ব্যয়ের পরিমাণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা বিদেশে ৬৬ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ শতাংশ বেড়ে ১৭ হাজার ৯৯ জনে পৌঁছেছে।
মেধা-পাচারের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তীব্রতর হবে। সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করে মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক ল্যাব, শ্রেণিকক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। উদ্ভাবন, গবেষণা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় সমর্থন বৃদ্ধি করলে দেশেই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ গড়তে উৎসাহিত হবে।
শ্রীকান্ত দেব আকাশ
শোক ও স্মরন: চিত্রনায়ক জাভেদ মারা গেছেন