প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে, এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সেই সুবিধার বিনিময়ে আমরা নিজেরাই আমাদের জীবন ও পরিবেশকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে কিংবা আয়োজনে আমরা বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার করছি; আর ভুলেই যাচ্ছি যে এই অভ্যাস একদিন আমাদের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আধুনিক জীবনযাত্রার এই অবিবেচনাপ্রসূত প্রবণতার দৃশ্য এখন শহরের অলিগলি থেকেই স্পষ্ট। রাস্তার পাশের ডাস্টবিন, নর্দমা ও ভাগাড়গুলো আজ প্লাস্টিক পলিথিনে বোঝাই কৃত্রিম পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। এই দৃশ্য শুধু দৃষ্টিকটুই নয়, বরং সরাসরি আঘাত হানছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর।
বাস্তবতা হলো, দেশে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার অস্তিত্ব থাকলেও নাগরিক সচেতনতার অভাবে তা কার্যকর হচ্ছে না। আমরা প্লাস্টিক ব্যবহার করি দায়হীনভাবে, আর ফেলে দিই ভবিষ্যতের কথা না ভেবে। অথচ অচল প্লাস্টিক আলাদা করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, বাজার ও বাসাবাড়িতে আলাদা প্লাস্টিক সংগ্রহের ব্যবস্থা করা, স্থানীয় সংগ্রহকারীদের হাতে তুলে দেওয়া কিংবা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলার মতো ছোট উদ্যোগই এই ক্ষতি অনেকাংশে কমাতে পারে। পরিবেশ রক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার শর্ত। শুধু রাষ্ট্রীয় আইন ও শাসনের ওপর দায় চাপিয়ে নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে কোনো নীতিই কার্যকর হবে না। আজ আমরা যদি সুবিধার মোহে প্লাস্টিকের পাহাড় গড়ে তুলি, আগামী প্রজন্ম সেই পাহাড়ের নিচেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়বে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই দায় নিতে প্রস্তুত?
সাইদুল ইসলাম
শোক ও স্মরন: চিত্রনায়ক জাভেদ মারা গেছেন