শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে নদী ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে নদীগুলো ক্রমেই স্বাভাবিক রূপ হারাচ্ছে। দেশের নদীমাতৃক পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় জলজ পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য ও সামগ্রিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ছে। ঢাকাসহ দেশের নদীগুলোতে দূষণের মাত্রা আজ বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, ট্যানারি ও ডাইং কারখানার রাসায়নিক পদার্থ, পলিথিন, প্লাস্টিক, গৃহস্থালি এবং হাসপাতালের বর্জ্য।
দূষিত নদীর পানি ব্যবহার করে মানুষজন চর্মরোগ, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নদীনির্ভর মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হওয়ায় জেলেদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। কৃষিকাজে দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং খাদ্যচক্রে বিষাক্ত উপাদান প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীর জীববৈচিত্র?্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী দূষণের অর্থনৈতিক প্রভাবÑ বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষা জানিয়েছে, নদী দূষণের কারণে বাংলাদেশে বার্ষিক প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী ২০ বছরে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫,১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
নদী দখল ও দূষণ যেন একটি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নদী রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ করা জরুরি। শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, নিয়মিত পরিবেশগত পরীক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা, বর্জ্য শোধনাগারের কার্যকর ব্যবহার ও জনগণকে সচেতন করতে হবে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হবেÑ যার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও থাকবে না।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম