image

শীতবস্ত্র মানে শুধু কম্বল নয়

শীত কোনো আকস্মিক দুর্যোগ নয়, প্রতি বছরই আসে। তবু শীত এলেই আমরা যেন নতুন করে বিস্মিত হই। কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি কম্বল বিতরণে এগিয়ে আসেন, যা নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই উদ্যোগগুলো অধিকাংশ সময়ই সাময়িক এবং সীমিত। যারা উদ্যোগ নেন তাদের অনেকের কাছেই সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যের এই কম্বলই যেন একমাত্র শীতবস্ত্র। শীতের পুরো মৌসুমজুড়ে যারা অসহায় অবস্থায় দিন কাটায়, তাদের জন্য কার্যকর ও ধারাবাহিক সহায়তা খুব কমই দেখা যায়।

অনেকে সাহায্যের আশায় লাইনে দাঁড়াতে লজ্জাবোধ করে থাকে। ফলে পরিচয় বা সুপারিশের অভাবে বঞ্চিত হয় অনেক শীতার্ত মানুষ। অনেক সময় সাহায্য দেওয়া হয় লোক দেখানোভাবে ক্যামেরার সামনে, অথচ প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই করা হয় না। এতে সাহায্যের উদ্দেশ্য পূরণ না হয়ে মানবিকতার জায়গাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এই দায় শুধু ব্যক্তি বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নয়; রাষ্ট্রেরও। শীতপ্রবণ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করা, আগাম প্রস্তুতি নেয়া, পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র মজুত রাখা এবং সঠিক মানুষের হাতে তা পৌঁছে দেয়া, এসব রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ। যারা শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহন করেন তাদের উচিত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার শীতবস্ত্র বিতরণ করা। এক্ষেত্রে হতে পারে একটি সুয়েটার, চাদর, মোজা, শীতের টুপি, কম্বল কিংবা বাচ্চাদের শীতের পোশাক।

এসব বৃহৎ উদ্দ্যোগ ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের আরো দায় রয়েছে। পাশের ঘরে কেউ শীতে কষ্ট পাচ্ছে কিনা, তা খোঁজ রাখতে হবে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়ানো, অন্তত সহমর্মিতার আচরণ করা, এগুলোই সমাজকে মানবিক করে তোলে। বড় কোনো উদ্যোগ নিতে না পারলেও একটি পুরোনো শীতবস্ত্র, একটি উষ্ণ কাঁথা বা সামান্য সহযোগিতাও অনেকের জন্য আশার আলো হতে পারে।

আব্দুর রশিদ

সম্প্রতি