আমাদের সমাজে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলা হয়। কিন্তু হিজড়া জনগোষ্ঠীকে এই সমতার বাইরে রাখা হয়। তারা সমাজের নাগরিক হিসেবে বাঁচার অধিকার রাখে, কিন্তু প্রায়ই বৈষম্য, অপমান ও সামাজিক অবহেলার শিকার হন। হিজড়া বলতে বোঝানো হয় এমন ব্যক্তিকে, যাদের লিঙ্গ পরিচয় পুরুষ বা নারীর মধ্যে পড়ে না; কেউ নিজেকে নন-বাইনারী বা অন্তঃলিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বাংলাদেশে ২০১৩ সালে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, ভোটদান ও সামাজিক নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন নাগরিক অধিকারে অংশগ্রহণের যোগ্য। তবু পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনসাধারণের মধ্যে তারা প্রায়শই বৈষম্য, অপমান ও নির্যাতনের শিকার হন। তাদের লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে মানুষ নানা রকম উপহাস করে, ফলে শিক্ষার সুযোগ, কাজ এবং জীবিকার পথ বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেকেই চাঁদাবাজি বা অস্থায়ী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হন।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুল ধারণা দূর করা অত্যন্ত জরুরি। হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীর মতো পড়াশোনা করে সমাজে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কর্মক্ষেত্রের ব্যবস্থা করা, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং আইনের আওতায় সহিংসতা ও বৈষম্যের শাস্তি কার্যকর করা প্রয়োজন। তাদের পারিবারিক সম্পত্তি, ভোটদান, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। এতে তারা অবহেলা ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।
মির্জা ফারিহা ইয়াসমিন