দেশের হাজারো চাকরিপ্রার্থী আজ গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আসন্ন ৫০তম বিসিএস পরীক্ষা ৩০ জানুয়ারি এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি-এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মাঝামাঝি সময়ে তৈরি হয়েছে এক অযৌক্তিক সংকট। বিশেষ করে যারা ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষা ও অন্যান্য চাকরিতে কর্মরত, তাদের জন্য, নির্বাচনী প্রশিক্ষণের সময়েই বিসিএস পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় অনেকেরই কার্যত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারানোর আশঙ্কায় আছেন।
এ বিষয়ে কি কোথাও কোনো দায়িত্বশীল আলোচনা হচ্ছে? নীতিনির্ধারকদের কি এই বাস্তবতা চোখে পড়ছে না?
আরও উদ্বেগজনক হলো- ৪৪, ৪৫, ৪৮ ও ৪৯তম বিসিএসের রেজাল্ট হলেও চূড়ান্ত নিয়োগ এখনো শেষ হয়নি। ফলে একই প্রার্থীরা বারবার বিসিএসে অংশ নিচ্ছেন, আর নতুন প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা দিন দিন অসম হয়ে উঠছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা প্রার্থীদের হতাশা ও আস্থার সংকট বাড়াচ্ছে। নির্বাচনের মতো একটি জাতীয় ব্যস্ততার ঠিক আগে তাড়াহুড়ো করে বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? এতে প্রশাসনিক চাপ বাড়ে, ন্যায্য অংশগ্রহণও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
চাকরিপ্রার্থীরা রাষ্ট্রের বোঝা নয়, তারা রাষ্ট্রের শক্তি। তাই সময়সূচি পুনর্বিবেচনা ও দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা অনুগ্রহ নয়, কর্তব্য। কারণ ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে-দীর্ঘদিনের অবহেলা নীরব থাকে না; ভুলে যাবেন না ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সূচনাও হয়েছিল চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদ থেকেই।
ফারহানা আফরিন