বাগেরহাট জেলা পুরাকীর্তি সমৃদ্ধ একটি জেলা। ১৯৮৫ সালে বাগেরহাটের কয়েকটি পুরাকীর্তি ইউনেস্কো কর্তৃক ৩২১ নম্বর বিশ্ব ঐতিহ্য ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাট নামে স্বীকৃতি পায়। বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলার ৭৫টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় প্রায় ১০০০টি প্রতœস্থান রয়েছে। এসব নিদর্শনসমূহের একটি প্রাথমিক দলিল করে রাখা প্রয়োজন।প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর বাগেরহাটের ১৯টি পুরাকীর্তি সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত করেছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরও বাগেরহাট জেলায় প্রতœতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান কাজ করেছে।
সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদের মধ্যে খানজাহান মাজার কমপ্লেক্স, আদিনা প্রত্নঢিবি, দশগম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীরের সমাধি, রেজা খাঁ মসজিদ, ছিলিয়াখানার জরুরি সংস্কার-সংরক্ষণ প্রয়োজন। প্রাকৃতিক, মনুষ্যসৃষ্ট, অর্থ, জনবল, স্থানীয় অসহযোগিতা, মামলা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পুরাকীর্তিগুলো সংরক্ষণে জটিলতাও রয়েছে। বর্তমানে এই পুরাকীর্তিগুলো যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংস ও বিকৃতির দ্বারপ্রান্তে। এর আগেও কয়েকটি সংরক্ষণযোগ্য পুরাকীর্তি সংরক্ষণের জন্য আবেদন করা হলেও, তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
পুরাকীর্তিগুলো সংরক্ষণ না করলে আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুরাকীর্তি হলো অতীত সভ্যতা, মানুষের জীবনধারা ও সংস্কৃতির জীবন্ত নিদর্শন। এগুলো সংরক্ষণ না করা হলে জাতির প্রকৃত ইতিহাস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের শিকড় সম্পর্কে জানতে পারবে না। ফলে জাতীয় পরিচয় ও আত্মমর্যাদা দুর্বল হয়ে পড়বে। পুরাকীর্তিগুলো সংরক্ষণ করলে জাতির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা পাবে। শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটনের উন্নতির ফলে অর্থনৈতিক লাভ হবে একই সঙ্গে অবৈধ দখল ও লুটপাট কমে জাতীয় সম্পদ নিরাপদ থাকবে।
জুম্মান শেখ