ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ই-ফাইলিং কার্যকর করা গেলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা (২৪ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব আদায় সম্ভব। বর্তমানে রাজস্ব আদায়ের চেয়ে জনগণ অনেক বেশি কর দিচ্ছে, কিন্তু ফাঁকফোকরের কারণে সরকার সেই রাজস্ব পাচ্ছে না। একমাত্র প্রযুক্তির ব্যবহারই রাজস্ব লিকেজ বন্ধ করতে পারে। ই-ফাইলিং কার্যক্রম কেবল আংশিকভাবে বাস্তবায়ন করলেও বছরের মধ্যে ৬৭ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা আদায় সম্ভব। পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব আয় প্রায় ১৯ লাখ কোটি টাকা হতে পারে।

বর্তমানে এনবিআরের ডিজিটালাইজেশন বিক্ষিপ্তভাবে হচ্ছে। কার্যক্রমগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ না থাকলে লিকেজ বন্ধ করা সম্ভব হবে না। ভারতের আধার এবং কেনিয়ার এম-পেসো কার্যক্রম এক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে। প্রথমত, সম্ভাব্য করদাতাদের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি বা ভয়ভীতি কমাতে হবে। এজন্য কর কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা সীমিত করা প্রয়োজন। ডিজিটালাইজেশন এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে, কারণ এটি করদাতা ও আদায়কারীর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক কমিয়ে সেবা উন্নত করতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয়ত, ন্যায়নিষ্ঠা নিশ্চিত করা জরুরি। একই ধরনের আয়ের ওপর ভিন্ন ভিন্ন কর না দিতে পারলে রাজস্ব ন্যায্যভাবে আদায় করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশে অনেক আয় বৈধ না হলেও, ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করে ন্যায্য করের আওতায় আনা সম্ভব। তৃতীয়ত, শুধু আয় নয়, ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। রাজস্ব আহরণের জন্য করদাতাদের সেবার মাধ্যমে উৎসাহিত করতে হবে। রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন সফল করতে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং স্মার্ট পরিকল্পনা থাকা অপরিহার্য।

আব্বাসউদ্দিন আহমদ

সম্প্রতি