মধ্যবিত্তের নীরব পুষ্টিহীনতা: এক অবহেলিত জাতীয় সংকট

বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোতে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে অনেক সময় তুলনামূলকভাবে “নিরাপদ” ও “স্বাবলম্বী” বলে মনে করা হয়। কিন্তু এই ধারণার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর ও নীরব সংকট-পুষ্টিহীনতা ও স্বাস্থ্য অবক্ষয়। শিশু থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও বৃদ্ধ-মধ্যবিত্ত সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষই কোনো না কোনোভাবে অপুষ্টির শিকার, অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা প্রকাশ পায় না কিংবা গুরুত্ব পায় না। মধ্যবিত্ত সমাজ সাধারণত দারিদ্রের কথা প্রকাশ করতে চায় না। সামাজিক মর্যাদা ও লজ্জাবোধের কারণে তারা খাদ্যাভাব, স্বাস্থ্যসমস্যা বা চিকিৎসা ব্যয়ের অক্ষমতা গোপন রাখে। ফলে পুষ্টিহীনতা দীর্ঘদিন ধরে অচিহ্নিত থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে তা শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় রূপ নেয়। অপুষ্টিজনিত দুর্বলতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, মানসিক অবসাদ এবং কর্মক্ষমতার অবনতি-সব মিলিয়ে স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

এই সংকটের পেছনে একাধিক কাঠামোগত কারণ কাজ করছে। দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব, রাষ্ট্রের দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পুষ্টিকর খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সীমিত প্রাপ্যতা-সব মিলিয়ে এটি একটি জাতীয় স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। দুঃখজনকভাবে, জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় মধ্যবিত্ত পুষ্টিহীনতার বিষয়টি খুব কমই গুরুত্ব পায়।পুষ্টি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা, স্বল্পমূল্যে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

মধ্যবিত্তের এই নীরব পুষ্টিহীনতা উপেক্ষা করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। একটি মানবিক, সুস্থ ও কার্যকর সমাজ গড়তে হলে পুষ্টিকে অবশ্যই জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে আনতে হবে।

মাহমুদুল হাসান

সম্প্রতি