হাইওয়েতে ভয়ের রাজত্ব

একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম হলো তার উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু বাংলাদেশের মহাসড়কগুলো এখন সাধারণ যাত্রীদের কাছে এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সূর্য ডোবার পর হাইওয়েগুলোতে শুরু হয়েছে এক অন্ধকার ও ভয়ের রাজত্ব। বর্তমানে ডাকাতির নতুন কৌশল হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘পাথর আতঙ্ক’। চলন্ত গাড়ির উইন্ডশিল্ড লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে চালককে অপ্রস্তুত করা এবং গাড়ি থামলেই সর্বস্ব লুটে নেয়ার মতো ঘটনাগুলো এখন নিত্য নৈমিত্তিক।

বিগত কয়েক মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট এবং উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পাথর ছুড়ে ও রাস্তায় গাছ ফেলে গাড়ি থামানোর মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। এধরনের ঘটনায় গাড়ির চালক এবং যাত্রীরা যে শুধু ছিনতাই বা ডাকাতির শিকার হচ্ছেন তা নয়, বরং পাথরের আঘাতে চালক গুরুতর আহত এমনকি মৃত্যু কিংবা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এসব দেখে অবচেতন মনে প্রশ্ন জাগে, এই দীর্ঘ জনশূন্য পথে মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

ফলে এখন জনমনে হাইওয়ে পুলিশের টহল এবং নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে। মহাসড়কের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাতে অপর্যাপ্ত আলোর কারণে ঘুটঘুটে অন্ধকারে থাকে যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরার অস্তিত্ব তো কল্পনাও করা যায় না। অপরাধীরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের কাজ করেই যাচ্ছে।

নিরাপদ ভ্রমণের নিশ্চয়তা ছাড়া উন্নয়ন অর্থহীন। এভাবে মহাসড়কগুলো ভয়ের রাজ্যে পরিণত হতে থাকলে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। তাই প্রশাসনের উচিত অনতিবিলম্বে এই ‘পাথর চক্র’ এবং হাইওয়ে ডাকাতদের মূলোৎপাটন করে যাত্রী মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। কেবল পুলিশি টহল বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। এরসঙ্গে প্রয়োজন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারি। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত আলো ও জরুরি রেসপন্স টিম থাকা এখন সময়ের দাবি।

ফাহমিদা ইয়াসমিন মায়েদা

সম্প্রতি