নির্বাচনী প্রচারণা মানেই শুধু মাইকিং, পোস্টার আর স্লোগান নয়, এর সঙ্গে প্রায়শই যুক্ত হয় কিছু চিরচেনা দৃশ্য। হঠাৎ করেই দেখা যায় বহু প্রার্থী টুপি পরছেন, পাঞ্জাবি গায়ে দিচ্ছেন, মসজিদে নিয়মিত যাচ্ছেন, ধর্মীয় ভাষায় কথা বলছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পরিবর্তন কি বিশ্বাসের, নাকি বিশেষ উদ্দেশ্যের।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন দৃশ্য আবারও স্পষ্ট হচ্ছে। বছরের বাকি সময় যাদের ধর্মীয় অনুশীলনে খুব একটা দেখা যায় না, নির্বাচনের সময় তারা হয়ে ওঠেন অতিরিক্ত ধর্মপ্রাণ। ভোটারদের আবেগ, বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতিকে স্পর্শ করাই যেন এই হঠাৎ ধর্মীয় অনুষঙ্গ গ্রহণের মূল লক্ষ্য। টুপি ও পাঞ্জাবি আমাদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয়ের অংশ। যখন এগুলো কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন ব্যাপারটা সংস্কৃতিকে অপমান করার শামিল হয়ে দাঁড়ায়। ভোট শেষ হলেই যদি সেই টুপি আলমারিতে উঠে যায়, পাঞ্জাবি বদলে যায় ক্ষমতার পোশাকে, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে- এই ধর্মীয় পোশাক কতটা সত্য ছিল?
একজন জনপ্রতিনিধির পরিচয় শুধু নির্বাচনের সময় নয় বরং নির্বাচনে জয়লাভের পর পুরো মেয়াদজুড়েই তার আচরণ, নীতি ও অবস্থানের মাধ্যমে ফুটে ওঠা উচিত। ধর্মীয় মূল্যবোধ কেবল পোশাকে নয়, প্রকাশ পায় সততা, ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত মনোভাব এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধে। যে প্রার্থী সত্যিই ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তার আচরণ বছরের বারো মাসেই একই রকম হওয়া উচিত। ভোটারদেরও এখানে বড় দায়িত্ব রয়েছে। বাহ্যিক বেশভূষা দেখে নয় বরং প্রার্থীর অতীত কর্মকান্ড, বক্তব্যের ধারাবাহিকতা ও নৈতিক অবস্থান বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। আবেগের বশে নয়, সচেতন বিবেচনায় দেয়া একটি ভোটই পারে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে।
এই নির্বাচনে আমরা চাই এমন নেতৃত্ব, যারা ধর্মকে ব্যবহার নয়, অনুসরণ করবে। যারা পোশাকে নয়, কর্মে নিজেদের পরিচয় দেবে। তবেই নির্বাচন হবে অর্থবহ, গণতন্ত্র হবে শক্তিশালী আর দেশ হবে সমৃদ্ধশালী।
আব্দুর রশিদ