বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিশোর অপরাধও বাড়ছে। প্রাথমিকের গণ্ডি না পেরোনো শিশু থেকে শুরু করে উঠতি বয়সী কিশোর প্রায় সবার হাতেই এখন স্মার্টফোন।
ইন্টারনেট হাতের মুঠোয় থাকায় তারা সহজেই নানা ধরনের অনলাইন গেমসে আসক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট দেখার সুযোগও বেড়েছে। এর ফল হিসেবে একটু বড় হলেই অনেকেই মাদক গ্রহণ, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগজনক।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে আসক্ত। এর ফলে তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থী দিনের বড় একটি সময় কম্পিউটার স্ক্রিন, ট্যাব বা মোবাইলে কাটায়। যদিও প্রায় ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করছে, বাকিরা কার্টুন, নাটক-চলচ্চিত্র কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে স্ক্রিনে বন্দি করে রাখছে।
মোবাইল আসক্তি কার্যত এক ধরনের নীরব মহামারি যা মাদকাসক্তির মতোই ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারে চোখ, মস্তিষ্ক ও শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে; বাড়ছে আগ্রাসী আচরণ।
এই সংকট থেকে উত্তরণে পরিবারকেই প্রথম ভূমিকা নিতে হবে। সন্তানের ওপর নজরদারি বাড়ানো, খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিষ্টাচার ও ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা এসবই জরুরি। পাশাপাশি মোবাইল ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা অপরিহার্য।
মোবাইল প্রযুক্তি আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ একে পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সচেতন ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে। নইলে আগামী দিনগুলোয় আমাদের সন্তানেরা বড় হবে হাতে ধরা স্ক্রিনে বন্দি হয়ে যাওয়া এক শৈশবের গল্প নিয়ে।
হুমাইরা সুলতানা মল্লিক