যৌতুক প্রথা বাংলাদেশের সমাজে যুগ যুগ ধরে চলে আসা এক গভীর সামাজিক ব্যাধি। এটি এখনো বহু নারীর নির্যাতন, বিচ্ছেদ এবং মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক যুগে অনেক কিছু বদলালেও নারীর অবস্থানে তেমন পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষিত নারীর বিয়েতেও বাবাকে বিপুল অর্থ গুনতে হয়, নইলে কন্যার জীবন বিপন্ন হয়। যৌতুকের চাপে কন্যার বাবা নুয়ে পড়েন, ঋণ করে, জমি-বাড়ি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেন। তবু সুখ আসে না। লোভ আরও বাড়ে, প্রতিনিয়ত নতুন দাবি ওঠে। নিরুপায় হয়ে কেউ আত্মহত্যা করেন, কেউ বিচ্ছেদ বেছে নেন, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীর জীবনই বলিদান হয়। শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী, দেবর-ননদের লোভ এত তীব্র হয় যে তারা হত্যা বা আগুনে পোড়ানোর মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটাতে দ্বিধা করেন না।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুসারে, ২০১৪ সালে যৌতুকের কারণে ২৩৬ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছেন এবং ১৯৫ জন নির্যাতিত হয়েছেন। পুলিশের পরিসংখ্যানে ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এ প্রথা রোধ না করলে নারী নির্যাতন স্বাভাবিক হয়ে উঠবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যে সমাজ নারীকে সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত। যৌতুক দমনে কঠোর আইন প্রয়োগ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, গণমাধ্যমে প্রচারণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কর্মসূচি, পরিবার থেকে পুত্রসন্তানকে নারী-সম্মানের শিক্ষা দেওয়া এবং প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন জরুরি। সর্বোপরি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ অভিশাপ থেকে মুক্তি অসম্ভব।
জান্নাতুল মাওয়া (রিফাত)