ঢাকাবাসীর নিত্যজীবনে গ্যাস সংকট নতুন নয়। তবে গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ। রাজধানীর একাংশে কার্যত রান্না বন্ধ, রেস্টুরেন্টে উপচেপড়া ভিড়, শীতের সকালে গরম পানি না পাওয়ার ভোগান্তিÑসব মিলিয়ে নগরজীবন যেন হঠাৎ থমকে গেছে। বাসাবাড়িতে ঠিকমতো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক রান্না কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলা জ্বালিয়ে রেখেও ভাত কিংবা তরকারি রান্না করা যাচ্ছে না। সকালে সাধারণত চুলায় গ্যাস না থাকায় ফজরের নামাজের পরই সারাদিনের রান্না সেরে নিতে হয়। তবে গত দুই মাস ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একেবারেই গ্যাস না থাকায় তাদের প্রায় হোটেল থেকে সকালের নাস্তা কিনে খেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ, যাদের বড় একটি অংশ বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ বহন করতে পারছেন না।
গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় অবৈধ সংযোগ ও লিকেজের কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈধ গ্রাহকদের ওপর। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও অনেক গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বিভিন্ন সময় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালালেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। অভিযান চলাকালীন কিছু অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার নতুন করে সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারে ভয়াবহ নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে গ্যাস সিলিন্ডার। এতে সাধারণ ভোক্তারা চরম অর্থনৈতিক চাপ ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এর মধ্যেই ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় ভোক্তার নিকট বিক্রি হচ্ছে। যদিও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে নগরবাসীকে অনেক ক্ষেত্রে তিন-চারগুণ দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকার অযুহাতে অতিরিক্ত দাম দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ক্রেতারা। এতে জনসাধারণ চরম অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে পড়েছেন। যদি অবিলম্বে ডিলার ও দোকানে দোকানে তদন্ত, গুদামে তল্লাশি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করা হয় তাহলে এ সিন্ডকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
আরফাতুর রহমান