নারী শ্রম আমাদের সমাজের এমন একটি বাস্তবতা, যা প্রতিদিন চোখের সামনে থাকলেও আমরা অনেক সময় তা দেখেও না দেখার ভান করি। একজন নারী দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিবার ও সমাজের জন্য নীরবে কাজ করে যান। ঘরের রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সন্তান লালন-পালন, অসুস্থ সদস্যদের সেবা-এই সবকিছুই শ্রম, কিন্তু এই শ্রমের কোনো হিসাব নেই, কোনো মজুরি নেই, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে স্বীকৃতিও নেই। অথচ এই কাজগুলো ছাড়া একটি পরিবার, এমনকি একটি সমাজও সঠিকভাবে চলতে পারে না।
শুধু ঘরেই নয়, আজ নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, পোশাক কারখানা, অফিস-আদালতসহ নানা খাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবুও কর্মক্ষেত্রে নারীরা প্রায়ই বৈষম্যের শিকার হন। সমান কাজ করেও অনেক সময় কম বেতন পান, পদোন্নতির সুযোগ কম পান, আবার নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপও সহ্য করতে হয়। এসব কারণে বহু নারী নিজেদের শ্রমের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন।
নারী শ্রমের স্বীকৃতি মানে শুধু অর্থনৈতিক মূল্য নয়, সামাজিক সম্মানও। পরিবারে নারীর কাজকে গুরুত্ব দেওয়া, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, এবং সমাজে নারীর অবদানকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা-এসবই নারী শ্রমের স্বীকৃতির অংশ। একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতার সমাজ গড়তে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। নারীকে কেবল ত্যাগী বা সহনশীল হিসেবে নয়, একজন পরিশ্রমী মানুষ ও সমাজ গঠনের সমান অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারলেই নারী শ্রমের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।
কাজী মাধুর্য রহমান